অক্টোবরেই আসছে বায়ো এন টেকের করোনা ভ্যাকসিন!

১৫ আগস্ট আসছে না ভারতের ভ্যাকসিন

  যুগান্তর ডেস্ক ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের বহুল প্রতীক্ষিত ভ্যাকসিন আসছে এ বছরের অক্টোবরেই। এমনটাই বলছে জার্মান জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়ো এন টেক ও নিউইয়র্কের ওষুধ উৎপাদনকারী ফাইজার ইন কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠান দুটি করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করছে। এদিকে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে ভারতের ভ্যাকসিন আসার কথা শোনা গেলেও আগামী বছরের আগে তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকতারা।

টাইম ম্যাগাজিনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাইজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালবার্ট বোরলা জানান, তারা আশা করছেন, আগামী অক্টোবর নাগাদ তাদের ভ্যাকসিনের জন্য ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়ে যাবে। সেপ্টেম্বরে তারা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার ফল জেনে যাবেন।

অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বায়ো এন টেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউগুর শাহিন জানিয়েছেন, তাদের ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ধাপ বা তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা এ মাসের শেষেই শুরু হচ্ছে। এ পরীক্ষায় ৩০ হাজার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ পরীক্ষার ফল চলতি বছরের মধ্যেই জানা যাবে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিনটির অনুমোদন চাওয়া হবে।

১ জুলাই ফাইজারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভ্যাকসিন প্রয়োগের ফল ইতিবাচক। এটি স্বাস্থ্যবান মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। তবে বেশি মাত্রায় দেয়া হলে জ্বরসহ অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফাইজারের তৈরি ভ্যাকসিনের প্রথম ক্লিনিক্যাল তথ্য ‘মেডআরএক্সআইভি’ সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়। ইতিবাচক ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বার্ষিক ভ্যাকসিন ডোজ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১০ কোটি করা হয়েছে।

ফাইজারের সিইও বোরলা বলেন, চূড়ান্ত গবেষণার ফল পাওয়ার পরে আমরা আরও জোর দিয়ে সাফল্য দাবি করতে পারব। তবে এটি যে কার্যকর হবে, তার অনেক চিহ্ন আমি দেখেছি। ভ্যাকসিনটি কার্যকর হবে কি না, তা বলার জন্য যথেষ্ট তথ্য আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আমাদের হাতে চলে আসবে। এ তথ্য এফডিএর অনুমোদনের জন্য জমা দেয়া হবে। আমাদের ভাগ্য ভালো হলে আগামী অক্টোবরে অনুমোদন পেয়ে যেতে পারি। এটা সম্ভব।’

বোরলা আরও বলেন, ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মজার অংশ হচ্ছে আমরা যদি এর কার্যকারিতা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারি এবং এফডিএর অনুমোদন পাওয়া যায়, তবে তখন ভ্যাকসিন প্রস্তুত থাকবে।

এটা আগে কখনও হয়নি। অনুমোদনের আগেই ভ্যাকসিন তৈরি করে রাখা হচ্ছে। শিগগিরই প্রকৃত ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে। ভ্যাকসিন বোতলজাত করার আগে বেশ কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়। এর জন্য ১০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে ফাইজার।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে গত সাত মাসে বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৫ লাখের বেশি। এর অর্থ, ভ্যাকসিন দৌড়ে যে কোম্পানি প্রথম হবে, তাদের সামনে কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্য অপেক্ষা করছে।

ভ্যাকসিনের দৌড়ে এগিয়ে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ক্যানসিনো (চীন), মডার্না (যুক্তরাষ্ট্র), উহান ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস (চীন), বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস (চীন), সিনোভ্যাক্স (চীন), নোভাভ্যাক্স (যুক্তরাষ্ট্র), ইনোভিও (যুক্তরাষ্ট্র)। এসব প্রতিষ্ঠান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ভ্যাকসিনের ফল জানাতে পারে।

কবে আসছে ভারতের ভ্যাকসিন : ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) প্রধান জানিয়েছিলেন, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে ভারতের করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে আসবে। তবে দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটিকে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছরের আগে করোনার প্রতিষেধক আসা সম্ভব নয়।

দীর্ঘ লকডাউনের পর ভারতের পার্লামেন্টের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি শুক্রবার আলোচনায় বসে। আলোচনায় নেতৃত্ব দেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য জয়রাম রমেশ। ওই বৈঠকে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বায়োটেকনোলজি মন্ত্রণালয়, কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের (সিএসআইআর) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেঠকে পার্লামেন্টারি কমিটিকে জানানো হয়েছে, আগামী বছরের আগে করোনা ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনা নেই।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত