ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

১৩ হাট বাতিল বসছে ৫টি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্ত : রাস্তাঘাটে পশুর হাট বসবে না * ১টি ডিজিটাল হাট বসাতে চায় ডিএসসিসি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আসন্ন ঈদুল আজহায় ১৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। তবে মুসলমানদের ধর্মীয় রীতি পালন এবং খামারি, চামড়া ব্যবসায়ী, কসাইসহ সংশ্লিষ্টদের জীবিকার কথা বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আদলে একটি ডিজিটাল হাট বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিএসসিসিও। ই-ক্যাবের সঙ্গে এ বিষয়ে ডিএসসিসির আলোচনা চলছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে ডিজিটাল হাট থেকেও নগরবাসী কোরবানির পশু কিনতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন যুগান্তরকে বলেন, ‘এবারের কোরবানিতে ডিএসসিসি এলাকায় ৫টি হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছেন মেয়র। অন্য হাটগুলো বসানো হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ ৫টি হাটের বাইরে একটি ডিজিটাল হাট বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

ডিএসসিসির অস্থায়ী পশুর হাট : উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, আফতাবনগর ব্লক-ই, এফ, জি-এর সেকশন ১ ও ২ নম্বর এলাকার খালি জায়গা, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জীবন ও জীবিকা-এ দুয়ের মধ্যে সমন্বয় করে দেশের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সে কারণে বেশিসংখ্যক হাট বসিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হাট পরিচালনা করলে সেটা ভালো হতো। কিন্তু, কী কারণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন কোরবানি পশুর অস্থায়ী হাটের সংখ্যা কমাচ্ছে, সেটা বলতে পারব না।

এ বিষয়ে নগর বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাট পরিচালনা করা উচিত। এ পরিস্থিতিতে কোরবানি পশুর অস্থায়ী হাটের সংখ্যা কমানোর কোনো কারণ নেই।’

রাস্তাঘাটের ওপর পশুর হাট দেয়া যাবে না : আসন্ন কোরবানির ঈদে রাস্তাঘাটের ওপর কোনো কোরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পশুর হাটের বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করছে। এই গাইডলাইন বাস্তবায়নের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। ঢাকা শহরের বাইরে পশুর হাট বসানোর জন্য ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বছর অনলাইন কেনাকাটার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোরবানির হাটের ইজারাদারদের ব্যবস্থায় হাটের প্রবেশপথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা (বেসিনসহ) হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। ক্রেতাদের মাস্ক পরিধান করে হাটে প্রবেশ করতে হবে। কোনো ক্রেতা মাস্ক পরে না এলে ইজারাদারদের কাছে সংরক্ষিত মাস্ক কিনে হাটে প্রবেশ করতে হবে। হাটের কাছে ব্যাংক বুথ থাকবে।

রাস্তাঘাটের পের পশুর হাট বসানো যাবে না। পশু ট্রাক কোন হাটে যাবে পশু-ট্রাকের সামনে এরকম একটি ব্যানার লেখা থাকবে। পশুর ট্রাক অন্য কোথাও থামানো যাবে না। পশুবাহী কোনো গাড়ি রাস্তায় থামানো যাবে না। নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিবারের মতো, জাল নোট, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান-মলম পার্টি হতে নিরাপত্তা দেবে।

এ ছাড়া নদীপথে ফেরি, লঞ্চ ও জাহাজে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করলে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। নদীপথে পশুবাহী ট্রলার যাতে অতিরিক্ত বোঝাই (ওভারলোড) না হয়, সে ব্যাপারে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ লক্ষ রাখবে।

আর পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ ও যথাযথভাবে বিপণনের বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এর বাইরে আলোচনা হয়, গার্র্মেন্টস ফ্যাক্টরি অন্যান্যবারের চেয়ে কম সময়ের জন্য বন্ধ রাখা যেতে পারে। শ্রমিকদের বেতন-বোনাস যথাসময়ে পরিশোধে বিজিএমইএ এবং কারখানা মালিকগণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এবারের ঈদুল আজহার জামাত মসজিদে আদায়ের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান, আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত