যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ মর্যাদা পেল দুই ভ্যাকসিন

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও জার্মানির বায়োএনটেক করোনার সম্ভাব্য যে দুটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে, সেগুলোকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক স্ট্যাটাস’ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন। এর ফলে ভ্যাকসিন দুটির রেগুলেটরি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া দ্রুত করা হবে।

সোমবার কোম্পানি দুটি যৌথভাবে এমন কথা জানায়।

এদিকে উটজাতীয় প্রাণীর অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাস ধ্বংসে কার্যকর বলে জানিয়েছে একদল গবেষক। মানবদেহে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি চলছে মেডিকেল গ্রেড কাচের বোতল ও সিরিঞ্জ তৈরির কাজ। খবর রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশ ভ্যাকসিন প্রকল্পে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। ফলে সবাই চাইছে তাদের তৈরি ভ্যাকসিনটি যেন সবার আগে কার্যকর হয়। বিশ্বে যে দশটিরও বেশি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন মানবেদেহে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না ও ব্রিটিশ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার পাশাপাশি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে ফাইজার-বায়োএনটেকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি দুটি ভ্যাকসিন।

ফাস্ট ট্র্যাক স্ট্যাটাস পাওয়ায় বিএনটি১৬২বি১ ও বিএনটি১৬২বি২ নামে ফাইজার ও বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন দুটির উন্নতি পর্যালোচনা এখন থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রাশাসন (এফডিএ)।

এর আওতায় সংস্থাটি ৬ মাসের মধ্যে ভ্যাকসিনটি বাজারে আনার অনুমোদনের লক্ষ্যে কাজ করবে। ফাইজার ও বায়োএনটেকের মতো একই প্রযুক্তির মাধ্যমে করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরি করেছে মডার্না। মে মাসেই তাদের ফাস্ট ট্র্যাক স্ট্যাটাস দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে গবেষণায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে এমন অন্তত চারটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিনে একটি ফাইজার-বায়োএনটেকের।

উটজাতীয় প্রাণীর অ্যান্টিবডি কার্যকর : নভেল করোনাভাইরাসের জীবাণু নিষ্ক্রিয় করতে পারে, এমন দুটি অ্যান্টিবডির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এদের সাহায্যে সম্ভবত করোনার ওষুধও তৈরি করা সম্ভব। একদল বিজ্ঞানী এমনটাই দাবি করেছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার উটজাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণী লামার শরীরে এমন দুটি ক্ষুদ্র অথচ স্থায়ী অ্যান্টিবডি মিলেছে, যা নভেল করোনাভাইরাসের জীবাণু নিষ্ক্রিয় করতে পারে। গবেষকদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের দ্য রোসালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী জেমস নাইস্মিথ ও রেমন্ড ওয়েন্স। এ নিয়ে তাদের একটি গবেষণাপত্র নেচার স্ট্রাকচারাল অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, লামার শরীর থেকে পাওয়া দুটি ন্যানোবডি প্রোটিন এসিই২-র সঙ্গে করোনাভাইরাস সার্স-কোভিড২ জীবাণুর যোগাযোগ ছিন্ন করে সংক্রমণ রুখে দিতে পারে। এই এসিই২ প্রোটিনের মাধ্যমে করোনা জীবাণু শরীরে ঢুকে কোষগুলোকে আক্রমণ করে।

মানবদেহে ভ্যাকসিন পরীক্ষা আরব আমিরাতের : সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরব আমিরাতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আব্দুল রাহমান আল ওয়াইস বলেন, দুটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে এবং এগুলো মানবদেহে পরীক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা ১৫ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক এ পরীক্ষার জন্য বাছাই করেছি। যদি ভ্যাকসিন এ পর্যায়ে নিরাপদ এবং কার্যকর বলে প্রমাণিত হয় তাহলে আমরা এ পরীক্ষা সফল বলে বিবেচনা করব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দুটি ভ্যাকসিন পরীক্ষার তৃতীয় ধাপে রয়েছে। আর ভ্যাকসিন পরীক্ষায় সফল হলে এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হবে বলেও জানান আরব আমিরাতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

চলছে কাচের বোতল তৈরির কর্মযজ্ঞ : একদিকে একদল বিজ্ঞানী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার নিয়ে দৌড়ের মধ্যে আছে। আরেক দল আছে কোটি কোটি মেডিকেল গ্রেড বোতল ও সিরিঞ্জ তৈরির দৌড়ে। বিশ্ববাসীর কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেয়ার কাজে যার দরকার পড়বে।

বেশিরভাগ জনগণের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেয়ার কাজটি এত বিস্তৃত যে, আগামী ২ বছরে ফার্মাসিউটিক্যাল বোতলের প্রয়োজন বাড়বে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিগুলো বলছে, এখনই এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে হবে, বাড়াতে হবে উৎপাদন। বিশ্বের অনেক অনেক সরকার ও ওষুধ কোম্পানি কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলারের অর্ডার দিচ্ছে বোতল ও সিরিঞ্জ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত