সব খাতে অর্থের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ
jugantor
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নতুন মুদ্রানীতি
সব খাতে অর্থের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ
অপব্যবহার রোধে কোনো পদক্ষেপ নেই -ড. জাহিদ হোসেন * লক্ষ্য অর্জনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকে কিছু ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা রয়েছে -গভর্নর

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সরকারের নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) মুদ্রানীতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশেরও নিচে। তবে সরকারি খাতে তা প্রায় সাড়ে ৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া অর্থের জোগান বাড়াতে রেপো (বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংক ধার করলে যে হারে সুদ দিতে হয় সেটিকে ‘রেপো রেট’ বলে) হার কমানো হয়েছে।

অর্থাৎ সব খাতে অর্থের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ আছে নতুন মুদ্রানীতিতে। বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার ২০২০-২১ অর্থবছরের এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করেছে। প্রতিবার সংবাদ সম্মেলন করে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলেও এবার মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত মুদ্রানীতির ওপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঘোষিত মুদ্রানীতি সম্প্রসারণমূলক ও সময়োপযোগী, তবে টাকার অপব্যবহার রোধে কোনো পদক্ষেপ নেই।

অর্থনীতি গবেষক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করার নেই। সরকার বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তারই একটি চিত্র-মুদ্রানীতি। বাজেটে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার। মুদ্রানীতিতে সেটাই উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাড়ে ৪৪ শতাংশের কাছাকাছি। ব্যক্তি খাতে কী হবে, তা সময় বলে দেবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ সরবরাহ করছে, তারল্য সংকট হবে না-এটা ভালো। করোনা অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে সার্বিকভাবে এটা একটা ভালো মুদ্রানীতি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, অর্থের সংকট হবে না, তারল্যে জোগান দেয়া হবে-মুদ্রানীতিতে সে বার্তা দেয়া হয়েছে। মূলত করোনার শুরুতেই সংকুলান থেকে সম্প্রসারণে ঢুকে পড়ে মুদ্রানীতি। সে বিবেচনায় ঘোষিত মুদ্রানীতি সময়োপযোগী। কিন্তু এই অর্থ সঠিক জায়গায় না পৌঁছালে আরও যে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিরোধ, প্রতিকার বা অর্থের দুর্ব্যবহার-অপব্যবহার রোধে শক্ত কোনো পদক্ষেপের কথা মুদ্রানীতিতে উল্লেখ নেই।

নতুন মুদ্রানীতিতে করোনাভাইরাস সংকটে অর্থের জোগান বাড়াতে রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদহার আরও এক দফা কমানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে, তখন তার সুদহার ঠিক হয় রেপোর মাধ্যমে। মুদ্রানীতিতে রেপোর হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। রিভার্স রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ জমা রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এ ক্ষেত্রে সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। আর সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ ও রিজার্ভ মানি ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিট ফরেন অ্যাসেট ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, নিট অভ্যন্তরীণ অ্যাসেট ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্য ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, করোনাভাইরাস মহামারী, বন্যা, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এ মুদ্রানীতি করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে- চলমান মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আর্থিক খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা। যার মূল কাজ মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক, অর্থাৎ কোভিড-১৯ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

লিখিত বক্তব্যে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি লক্ষ্য অর্জনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকেই কিছু ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে চারটি ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কথা বলেন তিনি। এগুলো হল : কোভিড-১৯-এর দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পুনরুদ্ধারের গতি-প্রকৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়া; করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যেসব প্রণোদনা, ঋণ ও বিনিয়োগ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে উৎপাদন ও কর্মসৃষ্টি সহায়ক উপায়ে বাস্তবায়িত না হলে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিসহ অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যস্ফীতি সৃষ্টির আশঙ্কা; বৈশ্বিক চলমান অর্থনৈতিক মন্দার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের রফতানি আয় ও রেমিটেন্সে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা এবং চলমান বন্যার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা।

রেপোর সুদ কমলে ব্যাংকগুলো কম খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাবে। তাতে তারা কম সুদে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিতে পারবে। অন্যদিকে রিভার্স রেপোর সুদহার কমানোর অর্থ হল- ব্যাংকগুলোকে চাপ দেয়া, যাতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা ফেলে রেখে মুনাফা না তুলে ব্যবসা ও উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়ায়।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে রাখতে চেয়েছে সরকার। গত মুদ্রানীতিতেও (২০১৯-২০) বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। কিন্তু মহামারীর ধাক্কায় এই প্রবৃদ্ধি এ যাবতকালের সর্বনিু-৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে গত ১০ বছরের বেসরকারি খাতে ঋণের তথ্য পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, গত অর্থবছরের মতো এত কম প্রবৃদ্ধি এক দশকে হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসেই সর্বনিু।
 

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নতুন মুদ্রানীতি

সব খাতে অর্থের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ

অপব্যবহার রোধে কোনো পদক্ষেপ নেই -ড. জাহিদ হোসেন * লক্ষ্য অর্জনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকে কিছু ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা রয়েছে -গভর্নর
 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সরকারের নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) মুদ্রানীতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশেরও নিচে। তবে সরকারি খাতে তা প্রায় সাড়ে ৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া অর্থের জোগান বাড়াতে রেপো (বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংক ধার করলে যে হারে সুদ দিতে হয় সেটিকে ‘রেপো রেট’ বলে) হার কমানো হয়েছে।

অর্থাৎ সব খাতে অর্থের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ আছে নতুন মুদ্রানীতিতে। বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার ২০২০-২১ অর্থবছরের এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করেছে। প্রতিবার সংবাদ সম্মেলন করে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলেও এবার মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত মুদ্রানীতির ওপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঘোষিত মুদ্রানীতি সম্প্রসারণমূলক ও সময়োপযোগী, তবে টাকার অপব্যবহার রোধে কোনো পদক্ষেপ নেই।

অর্থনীতি গবেষক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করার নেই। সরকার বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তারই একটি চিত্র-মুদ্রানীতি। বাজেটে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার। মুদ্রানীতিতে সেটাই উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাড়ে ৪৪ শতাংশের কাছাকাছি। ব্যক্তি খাতে কী হবে, তা সময় বলে দেবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ সরবরাহ করছে, তারল্য সংকট হবে না-এটা ভালো। করোনা অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে সার্বিকভাবে এটা একটা ভালো মুদ্রানীতি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, অর্থের সংকট হবে না, তারল্যে জোগান দেয়া হবে-মুদ্রানীতিতে সে বার্তা দেয়া হয়েছে। মূলত করোনার শুরুতেই সংকুলান থেকে সম্প্রসারণে ঢুকে পড়ে মুদ্রানীতি। সে বিবেচনায় ঘোষিত মুদ্রানীতি সময়োপযোগী। কিন্তু এই অর্থ সঠিক জায়গায় না পৌঁছালে আরও যে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিরোধ, প্রতিকার বা অর্থের দুর্ব্যবহার-অপব্যবহার রোধে শক্ত কোনো পদক্ষেপের কথা মুদ্রানীতিতে উল্লেখ নেই।

নতুন মুদ্রানীতিতে করোনাভাইরাস সংকটে অর্থের জোগান বাড়াতে রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদহার আরও এক দফা কমানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে, তখন তার সুদহার ঠিক হয় রেপোর মাধ্যমে। মুদ্রানীতিতে রেপোর হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। রিভার্স রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ জমা রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এ ক্ষেত্রে সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। আর সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ ও রিজার্ভ মানি ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিট ফরেন অ্যাসেট ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, নিট অভ্যন্তরীণ অ্যাসেট ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্য ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, করোনাভাইরাস মহামারী, বন্যা, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এ মুদ্রানীতি করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে- চলমান মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আর্থিক খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা। যার মূল কাজ মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক, অর্থাৎ কোভিড-১৯ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

লিখিত বক্তব্যে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি লক্ষ্য অর্জনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকেই কিছু ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে চারটি ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কথা বলেন তিনি। এগুলো হল : কোভিড-১৯-এর দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পুনরুদ্ধারের গতি-প্রকৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়া; করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যেসব প্রণোদনা, ঋণ ও বিনিয়োগ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে উৎপাদন ও কর্মসৃষ্টি সহায়ক উপায়ে বাস্তবায়িত না হলে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিসহ অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যস্ফীতি সৃষ্টির আশঙ্কা; বৈশ্বিক চলমান অর্থনৈতিক মন্দার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের রফতানি আয় ও রেমিটেন্সে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা এবং চলমান বন্যার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা।

রেপোর সুদ কমলে ব্যাংকগুলো কম খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাবে। তাতে তারা কম সুদে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিতে পারবে। অন্যদিকে রিভার্স রেপোর সুদহার কমানোর অর্থ হল- ব্যাংকগুলোকে চাপ দেয়া, যাতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা ফেলে রেখে মুনাফা না তুলে ব্যবসা ও উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়ায়।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে রাখতে চেয়েছে সরকার। গত মুদ্রানীতিতেও (২০১৯-২০) বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। কিন্তু মহামারীর ধাক্কায় এই প্রবৃদ্ধি এ যাবতকালের সর্বনিু-৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে গত ১০ বছরের বেসরকারি খাতে ঋণের তথ্য পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, গত অর্থবছরের মতো এত কম প্রবৃদ্ধি এক দশকে হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসেই সর্বনিু।