জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের সব সম্ভাবনা হারিয়ে গিয়েছিল

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন। যারা এই স্বাধীনতা চায়নি ও এতে বিশ্বাসও করে না এবং যারা দেশের ভেতরে-বাইরে থেকে স্বাধীনতার জন্য কোনো সহায়তাই করেনি তারাই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। ওই সময়ে বিদেশে থাকায় তিনি ও তার ছোট বোন ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যান। আর নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশের জনগণের সব সম্ভাবনা হারিয়ে গিয়েছিল।

জাতীয় শোক দিবসের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইনে যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে এমন এক সময় হত্যা করা হয় যখন স্বাধীনতার পর তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। আমরা যদি বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তবেই জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য জনগণের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করে তাদের একটি সুন্দর জীবন উপহার দেয়া। জনগণ যাতে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বসবাসের জায়গা পায় সে লক্ষ্যে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশ এক অন্ধকার যুগে আচ্ছন্ন ছিল। আমরা ২০০৯ সালে জনগণের বিশাল রায়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসি। এরপর থেকে কৃষক-শ্রমিকসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। মহামারীর সময় সরকার জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। মানুষ যাতে উন্নত জীবন পায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘এই মহামারীর সময় গরিব, এতিম ও অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দেয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়ার এবং তার আদর্শ বাস্তবায়নে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা সম্পর্কে সবাইকে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়লে তার আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করতে পারবেন।’

দুঃসময়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় আওয়ামী লীগ এবং এর সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘করোনার এই সময়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোও ভালো কাজ করছে।’

শোকের মাসে পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মাসে আমি আমার সবাইকে হারিয়েছি, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

এ সময় তিনি বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিও উদাত্ত আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ভিডিও কলের মাধ্যমে যুক্ত হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সমগ্র জাতি যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সফলতা দেখাচ্ছে। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মতলবি মহল সরকার ও জনগণের দুর্ভেদ্য ঐক্যের দুর্গে ফাটল ধরানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময় শোকের মাস আগস্টের কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে কৃষক লীগ স্বেচ্ছায় প্লাজমা-রক্তদান কর্মসূচি, এতিম ও অনাথদের মাঝে ঈদ উপহার, মৌসুমি ফল ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পালন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়া হয়। এরপর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম। কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা : প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনভি রোডে অবস্থিত শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) অবস্থানরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুল, ফল ও মিষ্টি উপহার পাঠান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, উপ-প্রেস সচিব কেএম সাখাওয়াত মুন এবং সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সারওয়ার-ই-আলম সরকার সকালে তাদের হাতে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মতো প্রতিটি জাতীয় দিবস ও উৎসবে তাদের স্মরণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট হত্যাযজ্ঞের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত