২৪ ঘণ্টায় ৫০সহ মৃত্যু ছাড়াল ৩২শ’

ঈদে বেড়েছে শনাক্তের হার কমেছে মৃত্যু

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থামছে না। গত কয়েক মাসের তুলনায় ঈদের ছুটিতে কমেছে নমুনা পরীক্ষা। পরীক্ষা কম হওয়ায় শনাক্তের সংখ্যাও ছিল কম। ঈদের সময় গড়ে মৃত্যুও কমেছে। তবে বেড়েছে শনাক্তের হার। সোমবার দেশে রেকর্ড ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়।

ঈদের পরদিন রোববার ৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পরীক্ষা ও শনাক্তের ঘটনা ঘটে। ওইদিন মাত্র ৩ হাজার ৬৮৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়। আর আড়াই মাসের মধ্যে ওইদিন সর্বনিম্ন ৮৮৬ জনের নতুন করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার নমুনা পরীক্ষা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

ঈদে পশুর হাট ও ঘরে ফেরা মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা ছিল কম। ঈদের ছুটি কাটিয়ে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। বাস, লঞ্চ কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। ফলে সামনের দিনগুলোতে করোনা সংক্রমণ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা করোনার সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশে ৫০ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩২৩৪ জন। গত ১ দিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ৯১৮ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। দেশে এখন চিহ্নিত করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ২০ জন। ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৯৫৫ জনসহ সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬০ জন।

করোনার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঈদের ছুটির মধ্যে গত ৫ দিনে ৩৭ হাজার ৬১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে নতুন করোনা শনাক্ত হন ৯ হাজার ১৩১ জন। এ ৫ দিনে শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ সময় মারা যান ১৫১ জন। ৫ দিনে গড়ে ৩০ জন করে করোনা রোগী মারা যান। ঈদের ছুটির আগের ৫ দিনে পরীক্ষা হয়েছিল ৬২ হাজার ৭০৫টি। আর এতে নতুন রোগী শনাক্ত হন ১৩ হাজার ৭২২ জন। পরীক্ষা বিবেচনায় এ সময়ে শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৯ শতাংশ। আর ওই ৫ দিনে দেশে মারা যান ২০৯ জন। গড়ে ৪২ জন করে রোগী মারা গিয়েছিলেন।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা স্বাস্থ্যবিদ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, করোনা শনাক্ত হওযার পর যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তাতে শিথিলতা ছিল। পরীক্ষা বাড়ানোর কথা বলা হলেও উল্টো আরও কমছে। পরীক্ষা কম হওয়ায় শনাক্তের সংখ্যা কমছে। কিন্তু শনাক্তের হার উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ঈদে কোরবানির হাট ও মানুষের বাড়িতে যাওয়াকে শক্ত হাতে সামাল দেয়া সম্ভব হয়নি। তাই সামনের দিনগুলোতে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে সব ধরনের ছুটির দিনে কোভিড-১৯ পরীক্ষার আরটিপিসিআর ল্যাব চালু রাখার নির্দেশ দেয়। চিঠিতে বলা হয়েছিল, বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঈদের দিন, সরকারি যে কোনো ছুটি এবং সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য দেশের সব পিসিআর ল্যাবরেটরি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। অর্থাৎ, ছুটির সময়ও নমুন সংগ্রহ, নমুনা গবেষণাগারে পাঠানো এবং পরীক্ষার কাজ চালাতে হবে। কিন্তু ঈদের সময় নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কেন এত কমে গেল, তার কোনো ব্যাখ্যা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার বুলেটিনে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩টি পরীক্ষাগারে ৮ হাজার ১২৩টি নমুনা সংগ্রহ এবং ৭ হাজার ৭১২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হল ১২ লাখ এক হাজার ২৫৬ জনের। শনাক্তের হার গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং মৃত্যুও হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৪৪ জন এবং নারী ছয়জন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন হাসপাতালে এবং পাঁচজন বাড়িতে মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৪৯ জন পুরুষ এবং ৬৮৫ জন নারী মারা গেছেন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৯ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ৫ জন করে, খুলনা ও রংপুরে ৪ জন করে এবং বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে রয়েছেন।

এর আগে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হন ১ হাজার ৩৫৬ জন। সারা দেশে ৭৭টি পরীক্ষাগারে মাত্র ৪ হাজার ২৪৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। ওইদিন আরও ৩০ জন মৃত্যুবরণ করেন। আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৬৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন। এদিন পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

রোববার সারা দেশে ৭৭টি পরীক্ষাগারে ৩ হাজার ৬৮৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাতে আরও ৮৮৬ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ে। ওইদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৫৮৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন। রোববার পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২৪ দশমিক ০৫, সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৮৪ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

ঈদের দিন শনিবার দেশে করোনাভাইরাসে ২১ জনের মৃত্যু হয়। ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৬৬৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আর সারা দেশে ৮২টি পরীক্ষাগারে ৮ হাজার ৮০২টি নমুনা পরীক্ষায় আর ২ হাজার ১৯৯ নতুন রোগী শনাক্ত হন। ওইদিন নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২৪ দশমিক ৯৮, সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৮১ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ১১৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন ওইদিন। ঈদের আগের দিন শুক্রবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়। ওইদিন ১২ হাজার ৬১৪টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন রোগী শনাক্ত হন ২ হাজার ৭৭২ জন। আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ১৭৬ রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন। ওইদিন নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত