এ মাসেই অনুমোদন পাচ্ছে রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন

  যুগান্তর ডেস্ক ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এ মাসেই অনুমোদন পাচ্ছে রাশিয়ায় উৎপাদিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন। রুশ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ডেনিস জানান, ১০ আগস্টের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অনুমোদন পেতে পারে তাদের ভ্যাকসিন।

সেক্ষেত্রে রুশ নাগরিকরাই শুধু এটি গ্রহণ করবেন। ভ্যাকসিনটির গণউৎপাদন শুরু হবে সেপ্টেম্বর থেকে। তবে চীন ও রাশিয়ার তৈরি করোনা ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন শীর্ষ সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি।

ভারতে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের অনুমোদন পেল পুনের সেরাম ইন্সটিটিউট। এদিকে করোনাভাইরাসের টিকা অনুসন্ধানে অগ্রগতির কথা বললেও এ নিয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের মতে, এমন টিকার খোঁজ কখনও নাও মিলতে পারে।

জানা গেছে, করোনা মহামারী কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাপী দেড়শ’র বেশি ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এরমধ্যে প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আছে ১৪২টি, প্রথম ধাপের পরীক্ষা চলছে ১৭টির। দ্বিতীয় ধাপে ১৩টি আর তৃতীয় ধাপে ৫টির পরীক্ষা চলমান। রাশিয়ার গামালেই ইন্সটিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে। রুশ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুসারে চলতি বছর আমরা হাজার হাজার ডোজ ভ্যাকসিন তৈরিতে সক্ষম হব, যা আগামী বছরের শুরুতে লাখ লাখ হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাব। দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের আশা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেলে বাংলাদেশও পাবে এর সুবিধা।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, কোভিড-১৯-এর টিকা পাওয়ার বিষয়ে আশা থাকলেও এ নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। কখনও এর খোঁজ নাও মিলতে পারে। সোমবার জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তেদরোস বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। বিশ্বজুড়ে কয়েকটি টিকা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আশা করছি, একাধিক কার্যকর টিকা এ রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করবে। তবে এ মুহূর্তে কোনো আলোক রেখা নেই। কখনও নাও থাকতে পারে। এ মুহূর্তে মহামারী ঠেকাতে সাধারণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মগুলো মানতে হবে। করোনা পরীক্ষা, আইসোলেশন ও রোগীর চিকিৎসা, রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা ও তাদের পৃথক রাখতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান আরও বলেন, চীন থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানবদেহে ছড়িয়েছিল এবং সেটি উহানের একটি বাজার থেকে শুরু হয়েছিল।

চীন-রাশিয়ার ভ্যাকসিন ব্যবহার করবে না যুক্তরাষ্ট্র -ফাউসি : চীন-রাশিয়ার তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি। তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়ার তৈরি কোনো ভ্যাকসিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। কারণ এ দুই দেশের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা পশ্চিমের তুলনায় অনেক বেশি অস্বচ্ছ। মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি আশা করছি, কাউকে ভ্যাকসিন দেয়ার আগে চীন ও রাশিয়া এর প্রকৃত পরীক্ষা চালাবে। পরীক্ষার আগেই ভ্যাকসিন বিতরণ করার জন্য প্রস্তুতির দাবি করা, আমার মতে- সবচেয়ে বড় সমস্যা।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে পাওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন ফাউসি। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এ সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন চলে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুতগতিতে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ এগিয়ে চললেও সুরক্ষা মান এবং বৈজ্ঞানিক শর্তাবলির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

করোনা রুখতে সফল শৈশবের বিসিজি টিকা : করোনার গবেষণায় আরও এক নতুন তথ্য হাতে পেলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। সায়েন্স অ্যাডভান্স নামে একটি মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বিসিজি টিকা করোনা সংক্রমণের গতি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। যক্ষ্মাসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শিশুর জন্মের ১৫ দিনের মধ্যে তাদের বিসিজি টিকা দেয়া হয়। এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকায় শিশুদের এ টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক। গবেষণায় বলা হয়, যে দেশগুলোতে বিসিজি টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেই দেশগুলোতে করোনা হানা দেয়ার পর অন্তত প্রথম ২০ দিন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কম থাকে।

অক্সফোর্ড টিকা ট্রায়ালের ছাড়পত্র সেরাম : ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটকে অক্সফোর্ডের টিকা দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে হিউম্যান ট্রায়াল চালিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। সেরাম ইন্সটিটিউটের দেয়া নানা প্রস্তাব খতিয়ে দেখার পরেই শুক্রবার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি হিউম্যান ট্রায়াল চালানোর জন্য অনুমোদন দেয়। এরপর রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে পুনের ওই প্রতিষ্ঠানটিকে হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত