কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ কমেছে ৩০ ভাগ
jugantor
বন্যা ও করোনার প্রভাব
কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ কমেছে ৩০ ভাগ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যা ও করোনার কারণে এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ কম হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। সংগ্রহকৃত চামড়ার ৩০ লাখ পিস এখনও বিভিন্ন জেলায় রয়েছে। আর প্রায় ৪ লাখ পিস সংগ্রহ করেছে পোস্তার আড়ত মালিকরা।

এছাড়া সাভারে অস্থায়ী গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার পিস। ধারণা করা হচ্ছে, ট্যানারির মালিকরা এর বাইরে আরও ১৫ লাখ পিস নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পোস্তার আড়ত মালিক সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র মতে, আগামী শনিবার থেকে পোস্তার পাইকারদের কাছ থেকে লবণ মিশ্রিত চামড়া কেনাকাটা শুরু করবেন ট্যানারির মালিকরা। আর পরবর্তী ১০ থেকে ১২ দিন পর ঢাকার বাইরের চামড়া আসা শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া চামড়ার বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এ বছর ৫০ থেকে ৬০ লাখ পিস চামড়া কোরবানিতে সংগ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পোস্তায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আগামী শনিবার থেকে ট্যানারির মালিকরা পোস্তার চামড়া কেনাকাটা শুরু করবে। তবে ঢাকার বাইরের চামড়া আরও দেরিতে আসবে। তিনি আরও বলেন, এ বছর দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া চামড়া নষ্ট হয়নি। যখন দেশে চামড়া প্রতি পিস আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে ওই সময়ও ১০ থেকে ২০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে প্রক্রিয়াজাতকরণকালে।

জানা গেছে, রাজধানীতে গরুর চামড়া আকারভেদে প্রতিটি ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছাগলের চামড়া ২ থেকে ১০ টাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। আর পোস্তার আড়ত মালিকরা ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় এসব চামড়া ক্রয় করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। ঢাকার বাইরেও ছিল একই ধরনের চিত্র। হিসাব অনুযায়ী এসব চামড়া ট্যানারির মালিকদের ক্রয় করতে হবে সরকার ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী।

সূত্র জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে চামড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। জুমের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে জানায়, সরকারি ঘোষিত মূল্য না মানলে ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে ভোক্তা আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, এ বছর চামড়ার বাজারে কাজ করবে ভোক্তা অধিকার অধিদফতর। মূল্য অনুযায়ী কেনাকাটা না করলে ভোক্তা আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, ঢাকার বাইরের লবণ মিশ্রিত ৩০ লাখ চামড়া রয়েছে। এর মধ্যে সাভারে অস্থায়ী কয়েকটি গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার পিস। তবে পোস্তার বাইরে এই চামড়া সংরক্ষণ করায় এসব মৌসুমি ব্যবসায়ীদের এক ধরনের হুমকি দিয়েছে পোস্তার ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানের এক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে চামড়া আনার পর ন্যায্য মূল্য দিয়ে তা কেনা হয়েছে। এসব চামড়া কেনা না হলে অনেক চামড়া নষ্ট হতো। কেউ ফেলে রেখে যেত। এজন্য চামড়াগুলো ক্রয় করে লবণ মিশিয়ে রাখা হয়। সেখানকার মৌসুমি ব্যবসায়ী সেন্টু জানান, আমি নিজেই ৮ হাজার পিস মাল সংরক্ষণ করেছি। আশা করছি ট্যানারির মালিকরা সরকার ঘোষিত মূল্য দিয়ে এসব চামড়া ক্রয় করবেন।

বন্যা ও করোনার প্রভাব

কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ কমেছে ৩০ ভাগ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৬ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যা ও করোনার কারণে এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ কম হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। সংগ্রহকৃত চামড়ার ৩০ লাখ পিস এখনও বিভিন্ন জেলায় রয়েছে। আর প্রায় ৪ লাখ পিস সংগ্রহ করেছে পোস্তার আড়ত মালিকরা।

এছাড়া সাভারে অস্থায়ী গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার পিস। ধারণা করা হচ্ছে, ট্যানারির মালিকরা এর বাইরে আরও ১৫ লাখ পিস নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পোস্তার আড়ত মালিক সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র মতে, আগামী শনিবার থেকে পোস্তার পাইকারদের কাছ থেকে লবণ মিশ্রিত চামড়া কেনাকাটা শুরু করবেন ট্যানারির মালিকরা। আর পরবর্তী ১০ থেকে ১২ দিন পর ঢাকার বাইরের চামড়া আসা শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া চামড়ার বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এ বছর ৫০ থেকে ৬০ লাখ পিস চামড়া কোরবানিতে সংগ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পোস্তায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আগামী শনিবার থেকে ট্যানারির মালিকরা পোস্তার চামড়া কেনাকাটা শুরু করবে। তবে ঢাকার বাইরের চামড়া আরও দেরিতে আসবে। তিনি আরও বলেন, এ বছর দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া চামড়া নষ্ট হয়নি। যখন দেশে চামড়া প্রতি পিস আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে ওই সময়ও ১০ থেকে ২০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে প্রক্রিয়াজাতকরণকালে।

জানা গেছে, রাজধানীতে গরুর চামড়া আকারভেদে প্রতিটি ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছাগলের চামড়া ২ থেকে ১০ টাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। আর পোস্তার আড়ত মালিকরা ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় এসব চামড়া ক্রয় করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। ঢাকার বাইরেও ছিল একই ধরনের চিত্র। হিসাব অনুযায়ী এসব চামড়া ট্যানারির মালিকদের ক্রয় করতে হবে সরকার ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী।

সূত্র জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে চামড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। জুমের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে জানায়, সরকারি ঘোষিত মূল্য না মানলে ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে ভোক্তা আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, এ বছর চামড়ার বাজারে কাজ করবে ভোক্তা অধিকার অধিদফতর। মূল্য অনুযায়ী কেনাকাটা না করলে ভোক্তা আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, ঢাকার বাইরের লবণ মিশ্রিত ৩০ লাখ চামড়া রয়েছে। এর মধ্যে সাভারে অস্থায়ী কয়েকটি গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার পিস। তবে পোস্তার বাইরে এই চামড়া সংরক্ষণ করায় এসব মৌসুমি ব্যবসায়ীদের এক ধরনের হুমকি দিয়েছে পোস্তার ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানের এক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে চামড়া আনার পর ন্যায্য মূল্য দিয়ে তা কেনা হয়েছে। এসব চামড়া কেনা না হলে অনেক চামড়া নষ্ট হতো। কেউ ফেলে রেখে যেত। এজন্য চামড়াগুলো ক্রয় করে লবণ মিশিয়ে রাখা হয়। সেখানকার মৌসুমি ব্যবসায়ী সেন্টু জানান, আমি নিজেই ৮ হাজার পিস মাল সংরক্ষণ করেছি। আশা করছি ট্যানারির মালিকরা সরকার ঘোষিত মূল্য দিয়ে এসব চামড়া ক্রয় করবেন।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস