সিনহা হত্যার ঘটনা দেখেননি শোনেননি অথচ সাক্ষী!
jugantor
সাদা কাগজে দু’জনের সই
সিনহা হত্যার ঘটনা দেখেননি শোনেননি অথচ সাক্ষী!

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার  

০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের নিহতের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে করা অস্ত্র ও মাদক মামলায় দুই এলাকাবাসীকে সাক্ষী করা হয়েছে। অথচ এ ঘটনা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। এ ঘটনা তারা দেখেননি ও শোনেননি। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের ডেকে নিয়ে সাদা কাগজে সই নিয়েছে। তবে কিসের জন্য সই নেয়া হচ্ছে পুলিশ তখন তাদের কিছুই বলেনি। ভয়ে তারা জিজ্ঞাসা করেননি। বর্তমানেও তারা ভয়ের মধ্যে আছেন।

সাক্ষীদের দাবি, এক প্রকার ভয় পেয়েই তারা পুলিশের কথামতো সাদা কাগজে সই করেছেন। তখন তারা কিছুই বুঝতে পারেননি। পরে তারা জানতে পারেন- পুলিশের করা অস্ত্র ও মাদক মামলায় তাদের সাক্ষী করা হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশের উল্লিখিত তিন সাক্ষীর মধ্যে দু’জনই এমন তথ্য দিয়েছেন।

জানা গেছে, মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ নিহতের ঘটনায় টেকনাফ থানায় অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার নিয়ে দুটি মামলা করে পুলিশ। সেখানে পুলিশ সদস্য ছাড়াও স্থানীয় তিনজনকে সাক্ষী করা হয়। তারা হলেন- টেকনাফের মারিশবুনিয়ার নুরুল আমিন, মো. আইয়াস ও মোহাম্মদ হামিদ।

সাংবাদিকদের কাছে এক নম্বর সাক্ষী নুরুল আমিন বলেন, সিনহা হত্যার ঘটনা তিনি নিজের চোখে দেখেননি। ঘটনাটিও শুনেছেন অনেক পরে। যখন তিনি শুনেছেন তখন ওই ঘটনার কোনো আলামতও ঘটনাস্থলে ছিল না।

একইভাবে মামলার আরেক সাক্ষী আইয়াস সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে আমিনসহ তাকে ডেকে নেয়া হয়। এরপর ঘটনার পরদিন সকালে টেকনাফ থানায় নিয়ে সাদা কাগজে তার সই নেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় সাক্ষী হইনি। জোর করে অনেক কাগজে সই করাইছে পুলিশ।’ আইয়াস আরও বলেন, প্রতিবাদ বা জিজ্ঞেস করার সাহস ছিল না। কারণ জানতে চাইলেই হয়তো আসামি করে দিত। তাই কথা না বাড়িয়ে কাগজে সই করেছি। থানা পুলিশ অনেকটা জোর করেই অনেক কাগজে তার সই নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুপুরের দিকে পুলিশের অনুমতি নিয়ে বাড়ি চলে এসেছি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, সিনহা নিহতের ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও তার পরিবারের করা মামলায় তদন্ত চলছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত উচ্চতর টিমও তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সব অভিযোগ-অনুযোগ শুনেই তদন্তকারী কর্মকর্তারা সঠিক ব্যবস্থা নেবেন।

বর্তমান টেকনাফ থানার দায়িত্বে থাকা (ওসি তদন্ত) এবিএমএস দোহাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সাদা কাগজে দু’জনের সই

সিনহা হত্যার ঘটনা দেখেননি শোনেননি অথচ সাক্ষী!

 শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার 
০৮ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের নিহতের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে করা অস্ত্র ও মাদক মামলায় দুই এলাকাবাসীকে সাক্ষী করা হয়েছে। অথচ এ ঘটনা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। এ ঘটনা তারা দেখেননি ও শোনেননি। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের ডেকে নিয়ে সাদা কাগজে সই নিয়েছে। তবে কিসের জন্য সই নেয়া হচ্ছে পুলিশ তখন তাদের কিছুই বলেনি। ভয়ে তারা জিজ্ঞাসা করেননি। বর্তমানেও তারা ভয়ের মধ্যে আছেন।

সাক্ষীদের দাবি, এক প্রকার ভয় পেয়েই তারা পুলিশের কথামতো সাদা কাগজে সই করেছেন। তখন তারা কিছুই বুঝতে পারেননি। পরে তারা জানতে পারেন- পুলিশের করা অস্ত্র ও মাদক মামলায় তাদের সাক্ষী করা হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশের উল্লিখিত তিন সাক্ষীর মধ্যে দু’জনই এমন তথ্য দিয়েছেন।

জানা গেছে, মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ নিহতের ঘটনায় টেকনাফ থানায় অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার নিয়ে দুটি মামলা করে পুলিশ। সেখানে পুলিশ সদস্য ছাড়াও স্থানীয় তিনজনকে সাক্ষী করা হয়। তারা হলেন- টেকনাফের মারিশবুনিয়ার নুরুল আমিন, মো. আইয়াস ও মোহাম্মদ হামিদ।

সাংবাদিকদের কাছে এক নম্বর সাক্ষী নুরুল আমিন বলেন, সিনহা হত্যার ঘটনা তিনি নিজের চোখে দেখেননি। ঘটনাটিও শুনেছেন অনেক পরে। যখন তিনি শুনেছেন তখন ওই ঘটনার কোনো আলামতও ঘটনাস্থলে ছিল না।

একইভাবে মামলার আরেক সাক্ষী আইয়াস সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে আমিনসহ তাকে ডেকে নেয়া হয়। এরপর ঘটনার পরদিন সকালে টেকনাফ থানায় নিয়ে সাদা কাগজে তার সই নেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় সাক্ষী হইনি। জোর করে অনেক কাগজে সই করাইছে পুলিশ।’ আইয়াস আরও বলেন, প্রতিবাদ বা জিজ্ঞেস করার সাহস ছিল না। কারণ জানতে চাইলেই হয়তো আসামি করে দিত। তাই কথা না বাড়িয়ে কাগজে সই করেছি। থানা পুলিশ অনেকটা জোর করেই অনেক কাগজে তার সই নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুপুরের দিকে পুলিশের অনুমতি নিয়ে বাড়ি চলে এসেছি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, সিনহা নিহতের ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও তার পরিবারের করা মামলায় তদন্ত চলছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত উচ্চতর টিমও তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সব অভিযোগ-অনুযোগ শুনেই তদন্তকারী কর্মকর্তারা সঠিক ব্যবস্থা নেবেন।

বর্তমান টেকনাফ থানার দায়িত্বে থাকা (ওসি তদন্ত) এবিএমএস দোহাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।