এভারেস্ট চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন সড়কে শেষ
jugantor
মাইক্রোবাস কেড়ে নিল রেশমার প্রাণ
এভারেস্ট চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন সড়কে শেষ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনে লেক রোডে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন পর্বতারোহী রেশমা নাহার রত্না। শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান রত্না। সড়কে নিঃশেষ হয়ে যায় রত্নার এভারেস্ট চূড়ায় ওঠার স্বপ্নও।

শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, রত্না সংসদ ভবন এলাকার চন্দ্রিমা উদ্যানের লেক রোড ধরে গণভবনমুখী সড়ক দিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে এগোচ্ছিলেন। চন্দ্রিমা উদ্যানে ঢোকার ব্রিজের সামনের সড়কে একটি মাইক্রোবাস তার বাইসাইকেলটিতে চাপা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে তার মাথায় আঘাত লাগে। পথচারীরা উদ্ধার করে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যে মাইক্রোবাসটি রত্নাকে চাপা দিয়েছে, সেই গাড়িটি চিহ্নিত করতে আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফুটেজ দেখে গাড়ি শনাক্ত করা হবে।

রত্না রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার আইয়ুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তার বাড়ি নড়াইলে। তিনি ঢাকায় মিরপুর এলাকায় থাকতেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাতর হয়ে পড়েন রত্নার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের আশপাশ তাদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে।

রত্নার ভগ্নিপতি মনিরুজ্জামান বলেন, রত্না আগে তার বড় বোনের সঙ্গে পুরান ঢাকায় থাকতেন। পরে কর্মস্থল পরিবর্তন হলে তিনি মিরপুরে চলে যান। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ছুটে আসেন। মনিরুজ্জামান জানান, মাইক্রোবাসটি চিহ্নিত করা যায়নি। তবে তারা এ বিষয়ে থানায় মামলা করবেন। তিনি বলেন, রত্নার স্বপ্ন ছিল এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের। কিন্তু ঘাতক মাইক্রোবাস তার স্বপ্ন পূরণ করতে দিল না। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেওকারাডংয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে রত্নার পর্বত অভিযান শুরু। এরপর তিনি ভারতের নেহরু ইন্সটিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে প্রশিক্ষণ নেয়ার সময় তিনি আহত হন। এরপর নিজ প্রচেষ্টায় তার স্বপ্ন পূরণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ২০১৯ সালে উচ্চতর পর্বতারোহণ কোর্স সম্পন্নের পর ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লাদাখে অবস্থিত স্টক কাঙরি পর্বত ও ৩০ আগস্ট কাং ইয়াতসে-২ পর্বতে সফলভাবে আরোহণ করেন তিনি। দুটি পর্বতই ছয় হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার। রত্না সাইক্লিংও করতেন।

রত্নার বন্ধু সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আবৃত্তি, গান, পাঠচক্রে নিয়মিত অংশ নিতেন রত্না। তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন। খুবই উদ্যমী ছিলেন রত্না। ভালোবাসতেন সাইকেল চালাতে। সকালে মিরপুর থেকে সাইকেল চালিয়ে রমনায় গিয়ে শরীরচর্চা করতেন রত্না। এরপর হাতিরঝিলে গিয়ে কয়েক চক্কর দেয়ার পর আবার বাসায় ফিরতেন সাইকেল চালিয়ে। তিনি বলেন, রত্নার স্বপ্ন ছিল পর্বতারোহী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। রত্না এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন দেখছিলেন। সেজন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

অনু তারেক নাকে রত্নার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, রত্না দেশে ও বিদেশে বেশ কয়েকটি হাফ মেরাথন দৌড়ানোর পর নিজেকে ফুল ম্যারাথনে দৌড়ানোর জন্য প্রস্তুত করছিলেন। রত্না ভারতের উত্তরকাশিতে অবস্থিত নেহরু মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে ৩ বার পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ নিয়ে বেসিক ও এডভান্স কোর্স সম্পন্ন করে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন। বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে আফ্রিকার সবচেয়ে উঁচু দুই পর্বত কিলিমাঞ্জারো ও মাউন্ট কেনিয়া জয়ের লক্ষ্যে যান রত্না। এরপর মাউন্ট কেনিয়া জয়ের পর কিলিমাঞ্জারো অভিযানের জন্য তাঞ্জানিয়া সীমান্তে গেলে তাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট এন্ট্রিজনিত সমস্যার কারণে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। দৌড়বিদ বন্ধুদের সঙ্গে রত্নার দেখাও হয় হাতিরঝিলে।

মাইক্রোবাস কেড়ে নিল রেশমার প্রাণ

এভারেস্ট চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন সড়কে শেষ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৮ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনে লেক রোডে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন পর্বতারোহী রেশমা নাহার রত্না। শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান রত্না। সড়কে নিঃশেষ হয়ে যায় রত্নার এভারেস্ট চূড়ায় ওঠার স্বপ্নও।

শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, রত্না সংসদ ভবন এলাকার চন্দ্রিমা উদ্যানের লেক রোড ধরে গণভবনমুখী সড়ক দিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে এগোচ্ছিলেন। চন্দ্রিমা উদ্যানে ঢোকার ব্রিজের সামনের সড়কে একটি মাইক্রোবাস তার বাইসাইকেলটিতে চাপা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে তার মাথায় আঘাত লাগে। পথচারীরা উদ্ধার করে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যে মাইক্রোবাসটি রত্নাকে চাপা দিয়েছে, সেই গাড়িটি চিহ্নিত করতে আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফুটেজ দেখে গাড়ি শনাক্ত করা হবে।

রত্না রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার আইয়ুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তার বাড়ি নড়াইলে। তিনি ঢাকায় মিরপুর এলাকায় থাকতেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাতর হয়ে পড়েন রত্নার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের আশপাশ তাদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে।

রত্নার ভগ্নিপতি মনিরুজ্জামান বলেন, রত্না আগে তার বড় বোনের সঙ্গে পুরান ঢাকায় থাকতেন। পরে কর্মস্থল পরিবর্তন হলে তিনি মিরপুরে চলে যান। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ছুটে আসেন। মনিরুজ্জামান জানান, মাইক্রোবাসটি চিহ্নিত করা যায়নি। তবে তারা এ বিষয়ে থানায় মামলা করবেন। তিনি বলেন, রত্নার স্বপ্ন ছিল এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের। কিন্তু ঘাতক মাইক্রোবাস তার স্বপ্ন পূরণ করতে দিল না। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেওকারাডংয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে রত্নার পর্বত অভিযান শুরু। এরপর তিনি ভারতের নেহরু ইন্সটিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে প্রশিক্ষণ নেয়ার সময় তিনি আহত হন। এরপর নিজ প্রচেষ্টায় তার স্বপ্ন পূরণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ২০১৯ সালে উচ্চতর পর্বতারোহণ কোর্স সম্পন্নের পর ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লাদাখে অবস্থিত স্টক কাঙরি পর্বত ও ৩০ আগস্ট কাং ইয়াতসে-২ পর্বতে সফলভাবে আরোহণ করেন তিনি। দুটি পর্বতই ছয় হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার। রত্না সাইক্লিংও করতেন।

রত্নার বন্ধু সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আবৃত্তি, গান, পাঠচক্রে নিয়মিত অংশ নিতেন রত্না। তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন। খুবই উদ্যমী ছিলেন রত্না। ভালোবাসতেন সাইকেল চালাতে। সকালে মিরপুর থেকে সাইকেল চালিয়ে রমনায় গিয়ে শরীরচর্চা করতেন রত্না। এরপর হাতিরঝিলে গিয়ে কয়েক চক্কর দেয়ার পর আবার বাসায় ফিরতেন সাইকেল চালিয়ে। তিনি বলেন, রত্নার স্বপ্ন ছিল পর্বতারোহী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। রত্না এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন দেখছিলেন। সেজন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

অনু তারেক নাকে রত্নার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, রত্না দেশে ও বিদেশে বেশ কয়েকটি হাফ মেরাথন দৌড়ানোর পর নিজেকে ফুল ম্যারাথনে দৌড়ানোর জন্য প্রস্তুত করছিলেন। রত্না ভারতের উত্তরকাশিতে অবস্থিত নেহরু মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে ৩ বার পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ নিয়ে বেসিক ও এডভান্স কোর্স সম্পন্ন করে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন। বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে আফ্রিকার সবচেয়ে উঁচু দুই পর্বত কিলিমাঞ্জারো ও মাউন্ট কেনিয়া জয়ের লক্ষ্যে যান রত্না। এরপর মাউন্ট কেনিয়া জয়ের পর কিলিমাঞ্জারো অভিযানের জন্য তাঞ্জানিয়া সীমান্তে গেলে তাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট এন্ট্রিজনিত সমস্যার কারণে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। দৌড়বিদ বন্ধুদের সঙ্গে রত্নার দেখাও হয় হাতিরঝিলে।