অবশেষে টেকনাফ থানার প্রবেশ গেট খুলল
jugantor
অবশেষে টেকনাফ থানার প্রবেশ গেট খুলল

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার  

১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আট দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার রাতে টেকনাফ মডেল থানার প্রধান গেট খুলে দেয়া হয়েছে। থানার নবাগত ওসি আবুল ফয়সল গেট খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহতের পর এতদিন এ গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল।

স্থানীয়দের মতে, সিনহা হত্যার ঘটনার আগে ওসি প্রদীপের আমলে থানার শুধু ‘পকেট গেটটি’ খোলা ছিল। আর পকেট গেটে সব সময় বসা থাকতেন একজন কনস্টেবল। তাকে টপকে বা অনুরোধ করে ভেতরে ঢোকার সাহস কিংবা সুযোগ ছিল না কারও।

এমনকি কাউকে ধরে নিয়ে এলে তার আত্মীয়স্বজন কিংবা আপনজন থানায় ঢোকার কোনো সুযোগ পেতেন না। যারা ওসি প্রদীপের ‘সবুজ সংকেত’ পেতেন শুধু তারাই থানায় প্রবেশের সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি প্রদীপের চিহ্নিত দালালের দৌরাত্ম্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

সর্বশেষ ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়ার ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীর গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় পকেট গেটটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। তৎকালীন ওসির নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয় থানার প্রধান ফটক।

সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ জেলে যাওয়ার পর ৮ আগস্ট নতুন ওসি হিসেবে টেকনাফ থানায় যোগ দেন কুমিল্লা চান্দিনার সাবেক ওসি আবুল ফয়সল। তিনি যোগ দেয়ার দু’দিনের মাথায় থানার প্রধান ফটক খুলে দেন।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর বলেন, সাবেক ওসি প্রদীপের আমলে ২২ মাস থানা ছিল মৃত্যুকূপের মতো। কেউ ভয়ে ঢোকার সাহস পেত না। পাশাপাশি কাউকে ঢুকতে দেয়া হতো না।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও থানায় আইনি সহায়তা পায়নি সাধারণ মানুষ। এই কথা প্রকাশ করলে বা সিনিয়র অফিসারদের বললে তার ওপর চলে আসত ইয়াবার তকমা। শুরু হতো নির্যাতন ও নিপীড়ন।

এদিকে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস আটক হওয়ার পর থেকে উঠছে তার ও তার প্রধান সহযোগীদের বিরুদ্ধে অমানুষিক নির্যাতন ও মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

অনেকে থানার সামনে গিয়ে প্রতিবাদ ও টাকা ফেরত এবং ওসি প্রদীপসহ তার অত্যাচারী বাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি দাবি করে স্লোগান দেন।

দীর্ঘদিন পর থানার মেইন গেট খুলে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার নবাগত ওসি আবুল ফয়সল বলেন, নিরাপত্তার বিষয় ছিল, যেহেতু ওসি ছিল না।

হঠাৎ সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে কারণে হয়তো থানার মেইন গেট বন্ধ ছিল। আমি আসার পরেই যারা অভিযোগকারী বা সেবাপ্রত্যাশী তাদের আইনগতভাবে সেবা দেয়ার জন্য গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে এবং নির্যাতিত সাধারণ মানুষের পক্ষে অতীতেও কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করে যাব।
 

অবশেষে টেকনাফ থানার প্রবেশ গেট খুলল

 শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার 
১২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আট দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার রাতে টেকনাফ মডেল থানার প্রধান গেট খুলে দেয়া হয়েছে। থানার নবাগত ওসি আবুল ফয়সল গেট খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহতের পর এতদিন এ গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল।

স্থানীয়দের মতে, সিনহা হত্যার ঘটনার আগে ওসি প্রদীপের আমলে থানার শুধু ‘পকেট গেটটি’ খোলা ছিল। আর পকেট গেটে সব সময় বসা থাকতেন একজন কনস্টেবল। তাকে টপকে বা অনুরোধ করে ভেতরে ঢোকার সাহস কিংবা সুযোগ ছিল না কারও।

এমনকি কাউকে ধরে নিয়ে এলে তার আত্মীয়স্বজন কিংবা আপনজন থানায় ঢোকার কোনো সুযোগ পেতেন না। যারা ওসি প্রদীপের ‘সবুজ সংকেত’ পেতেন শুধু তারাই থানায় প্রবেশের সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি প্রদীপের চিহ্নিত দালালের দৌরাত্ম্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

সর্বশেষ ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়ার ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীর গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় পকেট গেটটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। তৎকালীন ওসির নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয় থানার প্রধান ফটক।

সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ জেলে যাওয়ার পর ৮ আগস্ট নতুন ওসি হিসেবে টেকনাফ থানায় যোগ দেন কুমিল্লা চান্দিনার সাবেক ওসি আবুল ফয়সল। তিনি যোগ দেয়ার দু’দিনের মাথায় থানার প্রধান ফটক খুলে দেন।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর বলেন, সাবেক ওসি প্রদীপের আমলে ২২ মাস থানা ছিল মৃত্যুকূপের মতো। কেউ ভয়ে ঢোকার সাহস পেত না। পাশাপাশি কাউকে ঢুকতে দেয়া হতো না।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও থানায় আইনি সহায়তা পায়নি সাধারণ মানুষ। এই কথা প্রকাশ করলে বা সিনিয়র অফিসারদের বললে তার ওপর চলে আসত ইয়াবার তকমা। শুরু হতো নির্যাতন ও নিপীড়ন।

এদিকে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস আটক হওয়ার পর থেকে উঠছে তার ও তার প্রধান সহযোগীদের বিরুদ্ধে অমানুষিক নির্যাতন ও মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

অনেকে থানার সামনে গিয়ে প্রতিবাদ ও টাকা ফেরত এবং ওসি প্রদীপসহ তার অত্যাচারী বাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি দাবি করে স্লোগান দেন।

দীর্ঘদিন পর থানার মেইন গেট খুলে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার নবাগত ওসি আবুল ফয়সল বলেন, নিরাপত্তার বিষয় ছিল, যেহেতু ওসি ছিল না।

হঠাৎ সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে কারণে হয়তো থানার মেইন গেট বন্ধ ছিল। আমি আসার পরেই যারা অভিযোগকারী বা সেবাপ্রত্যাশী তাদের আইনগতভাবে সেবা দেয়ার জন্য গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে এবং নির্যাতিত সাধারণ মানুষের পক্ষে অতীতেও কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করে যাব।