লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার যারা
jugantor
লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার যারা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার যারা
ছবি: সংগৃহীত

১৫ আগস্ট ঘাতকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে নয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

আরও দুটি বাড়ি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে উদ্ধার করা হয় অন্যদের লাশ। বঙ্গবন্ধুকে তার জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দাফন করা হয়।

১৭ জনকে কবর দেয়া হয় বনানী গোরস্থানে। এই কবরস্থানের সাত নম্বর সারিতে ঘুমিয়ে আছেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব, শেখ নাসের, শেখ কামাল, সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজি জামাল, শিশু শেখ রাসেল, শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, আবদুর রব সেরনিয়াবাত, গৃহপরিচারিকা, অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচজন এবং ১০ বছর বয়সী এক বালিকা, তার পরিচয়ও পাওয়া যায়নি। তৎকালীন এক সেনা কর্মকর্তার প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সেই প্রতিবেদনেই হত্যাকাণ্ডের খণ্ডচিত্র উঠে এসেছে।

এতে দেখা যায় ঘাতকরা সেদিন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির বাসিন্দাদের খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে।

শেখ মুজিব : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার তলপেট ও বুক বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল।

প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে যে সমতল জায়গা, তার তিন-চার ধাপ উপরে তিনি পড়েছিলেন।

তার চশমা ও তামাকের পাইপটা পড়েছিল সিঁড়িতে।

পরনে চেক লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি। চশমার একটি গ্লাস ভাঙা। রক্তে পাঞ্জাবির রং ছিল গাঢ় লাল। একটি বুলেট তার ডান হাতের তর্জনীতে লাগে এবং আঙুলটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বেগম মুজিব : বেগম মুজিবের মৃতদেহ মূল বেডরুমের সামনে পাওয়া যায়। তার বুকে ও মুখমণ্ডলে গুলি করা হয়। তার পরনে ছিল সুতির শাড়ি এবং কালো রঙের ব্লাউজ। কনিষ্ঠা আঙুলে ছোট্ট একটি আংটি। তার পায়ে ছিল বাথরুম স্লিপার।

শেখ নাসের : শেখ নাসেরকে হত্যা করা হয় নিচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমের কাছে। গুলিতে তার দেহের বেশকিছু স্থান ছিল ক্ষতবিক্ষত। তার লাশ বিছানার চাদরে মোড়ানো ছিল।

শেখ কামাল : কামালের বুক ও তলপেটে তিন থেকে চারটি বুলেট বিদ্ধ হয়। তার পরনে ছিল ট্রাউজার। নিচতলায় অভ্যর্থনা কক্ষে তাকে হত্যা করা হয়।

সুলতানা কামাল : সুলতানা কামালের মৃতদেহ পাওয়া যায় মূল বেডরুমে। সেখানে তার বুকে ও তলপেটে গুলি লাগে। পরনে ছিল শাড়ি ও ব্লাউজ।

শেখ জামাল : শেখ জামালের মৃতদেহ মূল বেডরুমে পাওয়া যায়। পরনে ছিল ট্রাউজার। ডান হাতের মধ্যমায় ছিল একটি মুক্তার আংটি। সম্ভবত এটি ছিল তার বিয়ের আংটি। 

রোজি জামাল : তার মুখটি দেখাচ্ছিল বিবর্ণ, মলিন। তার তলপেট, বুক ও মাথায় গুলি করা হয়। পরনে ছিল শাড়ি ও ব্লাউজ। তার মৃতদেহও মূল বেডরুম থেকেই উদ্ধার করা হয়।

শিশু রাসেল : সম্ভবত আগুনে তার পা ঝলসে গিয়েছিল। তার পরনে ছিল হাফপ্যান্ট। শিশু রাসেলকে মূল বেডরুমে তার দুই ভাবির মাঝখানে পাওয়া যায়। 

টেলিফোন অপারেটর : তাকে নিচতলায় হত্যা করা হয়। সেখানে তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
 

লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার যারা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৫ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার যারা
ছবি: সংগৃহীত

১৫ আগস্ট ঘাতকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে নয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

আরও দুটি বাড়ি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে উদ্ধার করা হয় অন্যদের লাশ। বঙ্গবন্ধুকে তার জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দাফন করা হয়।

১৭ জনকে কবর দেয়া হয় বনানী গোরস্থানে। এই কবরস্থানের সাত নম্বর সারিতে ঘুমিয়ে আছেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব, শেখ নাসের, শেখ কামাল, সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজি জামাল, শিশু শেখ রাসেল, শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, আবদুর রব সেরনিয়াবাত, গৃহপরিচারিকা, অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচজন এবং ১০ বছর বয়সী এক বালিকা, তার পরিচয়ও পাওয়া যায়নি। তৎকালীন এক সেনা কর্মকর্তার প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সেই প্রতিবেদনেই হত্যাকাণ্ডের খণ্ডচিত্র উঠে এসেছে।

এতে দেখা যায় ঘাতকরা সেদিন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির বাসিন্দাদের খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে।

শেখ মুজিব : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার তলপেট ও বুক বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল।

প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে যে সমতল জায়গা, তার তিন-চার ধাপ উপরে তিনি পড়েছিলেন।

তার চশমা ও তামাকের পাইপটা পড়েছিল সিঁড়িতে।

পরনে চেক লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি। চশমার একটি গ্লাস ভাঙা। রক্তে পাঞ্জাবির রং ছিল গাঢ় লাল। একটি বুলেট তার ডান হাতের তর্জনীতে লাগে এবং আঙুলটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বেগম মুজিব : বেগম মুজিবের মৃতদেহ মূল বেডরুমের সামনে পাওয়া যায়। তার বুকে ও মুখমণ্ডলে গুলি করা হয়। তার পরনে ছিল সুতির শাড়ি এবং কালো রঙের ব্লাউজ। কনিষ্ঠা আঙুলে ছোট্ট একটি আংটি। তার পায়ে ছিল বাথরুম স্লিপার।

শেখ নাসের : শেখ নাসেরকে হত্যা করা হয় নিচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমের কাছে। গুলিতে তার দেহের বেশকিছু স্থান ছিল ক্ষতবিক্ষত। তার লাশ বিছানার চাদরে মোড়ানো ছিল।

শেখ কামাল : কামালের বুক ও তলপেটে তিন থেকে চারটি বুলেট বিদ্ধ হয়। তার পরনে ছিল ট্রাউজার। নিচতলায় অভ্যর্থনা কক্ষে তাকে হত্যা করা হয়।

সুলতানা কামাল : সুলতানা কামালের মৃতদেহ পাওয়া যায় মূল বেডরুমে। সেখানে তার বুকে ও তলপেটে গুলি লাগে। পরনে ছিল শাড়ি ও ব্লাউজ।

শেখ জামাল : শেখ জামালের মৃতদেহ মূল বেডরুমে পাওয়া যায়। পরনে ছিল ট্রাউজার। ডান হাতের মধ্যমায় ছিল একটি মুক্তার আংটি। সম্ভবত এটি ছিল তার বিয়ের আংটি।

রোজি জামাল : তার মুখটি দেখাচ্ছিল বিবর্ণ, মলিন। তার তলপেট, বুক ও মাথায় গুলি করা হয়। পরনে ছিল শাড়ি ও ব্লাউজ। তার মৃতদেহও মূল বেডরুম থেকেই উদ্ধার করা হয়।

শিশু রাসেল : সম্ভবত আগুনে তার পা ঝলসে গিয়েছিল। তার পরনে ছিল হাফপ্যান্ট। শিশু রাসেলকে মূল বেডরুমে তার দুই ভাবির মাঝখানে পাওয়া যায়।

টেলিফোন অপারেটর : তাকে নিচতলায় হত্যা করা হয়। সেখানে তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে।