বাঁধ ভেঙে উপকূলের নতুন এলাকা প্লাবিত
jugantor
অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি
বাঁধ ভেঙে উপকূলের নতুন এলাকা প্লাবিত

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জোয়ারের পানি ও অবিরাম বৃষ্টিতে উপকূলীয় এলাকার অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানের বরজ ও কৃষির ব্যাপক ক্ষতিসহ আমনের বীজতলা তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক রাস্তা পানির তোড়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। রান্নাঘরে পানি প্রবেশ করায় এসব এলাকার কয়েকশ’ পরিবারে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে পড়েছে।

নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি পায়ে লেগে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। শত শত পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। গবাদি পশুর ঘর ও গো-খাবার পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেকেই পার্শ্ববর্তী উঁচু জায়গায় গবাদি পশু সরিয়ে নিয়েছেন। এতে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সেখানকার বন্যপ্রাণী নিরাপদে রয়েছে বলে দাবি করেছেন সুন্দরবন বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএও মো. বেলায়েত হোসেন।

কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনের রাস্তা, সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের রাস্তার ওপর দেড় থেকে দুই ফুট পানি জমে রয়েছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে শ্রীমন্ত নদের তীরবর্তী ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে মির্জাগঞ্জ ও কপালভেড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বাগেরহাটে জেলা সদরসহ ৩টি উপজেলায় হাঁটুপানি জমেছে। এ ছাড়া শুক্রবারও মোংলা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে। বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মঠবাড়িয়া ও ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মঠবাড়িয়া থানা ও সার্কেল অফিসের আঙিনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসির বাসাসহ বলেশ্বর নদতীরবর্তী অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মিরখালী গ্রামের জাফর ফকির বলেন, জোয়ারের পানিতে তাদের বাড়ির উঠান ও ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় হাজারও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার মানুষের সর্দি-জ্বর এবং পেটের পীড়াও দেখা দিয়েছে।

নোয়াখালী : হাতিয়ার ৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। পানিতে ডুবে পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার হাতিয়া উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ফুট বেশি উচ্চতার জোয়ার হয়। এ জোয়ারের ফলে এসব ইউনিয়নের প্রায় সব রাস্তাঘাট ৩-৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকায় পানি ঢুকছে।

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় তিন-চার ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিুাঞ্চলের অসংখ্য বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র (আমুয়া) সংলগ্ন সানু সিকদারের বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ না থাকায় ও বিষখালী নদীর তীরবর্তী হওয়ায় কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদের সরকারি দফতর মৎস্য, পরিসংখ্যান, যুব উন্নয়ন, সমবায়, আনসার-ভিডিপি, পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক ও ডরমিটোরি ভবনগুলোর অফিস কক্ষে পানি ঢুকছে।

মির্জাগঞ্জ ও দুমকি (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় শ্রীমন্ত নদে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। স্রোতের তোড়ে শুক্রবার উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের আন্দুয়া গ্রামের ফকরুদ্দিন মৃধাবাড়ি সংলগ্ন শ্রীমন্ত নদের তীরবর্তী ওয়াপদা বেড়িবাঁধ অনেকাংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে প্রবল বেগে পানি ঢুকে ইউনিয়নের আন্দুয়া, কলাগাছিয়া ও কালিকাপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় শ্রীমন্ত নদের জোয়ারের পানির চাপে একই ইউনিয়নের দরগাহ শরিফ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শ্রীমন্ত নদের তীরবর্তী ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে মির্জাগঞ্জ ও কপালভেড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা শহরের ছোট-বড় রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। মাঠে-ঘাটে-বিলে শুধু পানি আর পানি। সবজিক্ষেতগুলো পানিতে টইটুম্বর হয়ে আছে। ডুবে গেছে শত শত মাছের ঘের। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিক ও দিনমজুররা কাজে বের হতে পারেননি। তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

চিতলমারী (বাগেরহাট) : চিতলমারীতে চিংড়ি ঘের ও সবজিক্ষেতসহ নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষীরা। শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এলাকার নদী-খালে অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডুমুরিয়া, খড়িয়া, আরুলিয়া, রায়গ্রামসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের বাড়িঘর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনা নদীর দফায় দফায় অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়ক ও লুধূয়া হাজিরহাট সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এদিকে, সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন হয়েছে লরেন্স-নবীগঞ্জ সড়ক। এসব সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ। বৃহস্পতিবার রাতে জোয়ারে মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়কের প্রায় ৪০ ফুট রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে বিকালে লুধূয়া হাজিরহাট সড়ক ও লরেন্স-নবীগঞ্জ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এদিকে, বলিরপুল-নাছিরগঞ্জ সড়ক জোয়ারে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জ : দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে নদনদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা শহরসহ ৩টি উপজেলা সদর ও সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। মোরেলগঞ্জ ও মোংলা ফেরিঘাটের পন্টুন ও রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় ফেরি ভিড়তে এবং যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। জেলার ৭টি উপজেলার নিুাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানিতে ভেসে গেছে কয়েকশ’ চিংড়ি ও মৎস্য খামার। বাগেরহাট জেলা সদরের প্রধান বাজার, মেইন রোড, পুরাতন বাজার, নাগেরবাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় রাস্তা হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পানি প্রবেশ করা ও বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। জেলার উপকূলীয় এলাকা মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও রামপালের বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে।

আমতলী (বরগুনা) : আমতলী ও তালতলীর উপকূলীয় ৩০ গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে তিন ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। চরাঞ্চলের শতাধিক মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। পায়রা নদীতে বিপদসীমার ওপর ৬০ সেন্টিমিটার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিুাঞ্চলের ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।

পাইকগাছা (খুলনা) : খুলনার পাইকগাছার বদ্ধ জলমহালের দক্ষিণ পাশ ভেঙে আবারও তিনটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর এ এলাকাটি তিনবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় জোয়ারের পানির চাপে এটা ভেঙে যায়। যাতে পারমধুখালী, চকরিবকরি ও গেওয়াবুনিয়া গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন (ভোলা) : বেড়িবাঁধের দশটি পয়েন্টে স্লুইসগেট না থাকায় মেঘনা, তেঁতুলিয়া নদীর ফুঁসে ওঠা জোয়ারের পানি খুব সহজেই ভেতরে প্রবেশে তলিয়ে গেছে কুকরিমুকরির অনেক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারও মানুষ। রক্ষা পায়নি গবাদি পশু, মাছের ঘের থেকে সবজির খামার পর্যন্ত।

অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি

বাঁধ ভেঙে উপকূলের নতুন এলাকা প্লাবিত

 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জোয়ারের পানি ও অবিরাম বৃষ্টিতে উপকূলীয় এলাকার অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানের বরজ ও কৃষির ব্যাপক ক্ষতিসহ আমনের বীজতলা তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক রাস্তা পানির তোড়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। রান্নাঘরে পানি প্রবেশ করায় এসব এলাকার কয়েকশ’ পরিবারে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে পড়েছে।

নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি পায়ে লেগে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। শত শত পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। গবাদি পশুর ঘর ও গো-খাবার পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেকেই পার্শ্ববর্তী উঁচু জায়গায় গবাদি পশু সরিয়ে নিয়েছেন। এতে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সেখানকার বন্যপ্রাণী নিরাপদে রয়েছে বলে দাবি করেছেন সুন্দরবন বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএও মো. বেলায়েত হোসেন।

কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনের রাস্তা, সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের রাস্তার ওপর দেড় থেকে দুই ফুট পানি জমে রয়েছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে শ্রীমন্ত নদের তীরবর্তী ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে মির্জাগঞ্জ ও কপালভেড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বাগেরহাটে জেলা সদরসহ ৩টি উপজেলায় হাঁটুপানি জমেছে। এ ছাড়া শুক্রবারও মোংলা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে। বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মঠবাড়িয়া ও ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মঠবাড়িয়া থানা ও সার্কেল অফিসের আঙিনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসির বাসাসহ বলেশ্বর নদতীরবর্তী অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মিরখালী গ্রামের জাফর ফকির বলেন, জোয়ারের পানিতে তাদের বাড়ির উঠান ও ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় হাজারও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার মানুষের সর্দি-জ্বর এবং পেটের পীড়াও দেখা দিয়েছে।

নোয়াখালী : হাতিয়ার ৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। পানিতে ডুবে পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার হাতিয়া উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ফুট বেশি উচ্চতার জোয়ার হয়। এ জোয়ারের ফলে এসব ইউনিয়নের প্রায় সব রাস্তাঘাট ৩-৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকায় পানি ঢুকছে।

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় তিন-চার ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিুাঞ্চলের অসংখ্য বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র (আমুয়া) সংলগ্ন সানু সিকদারের বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ না থাকায় ও বিষখালী নদীর তীরবর্তী হওয়ায় কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদের সরকারি দফতর মৎস্য, পরিসংখ্যান, যুব উন্নয়ন, সমবায়, আনসার-ভিডিপি, পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক ও ডরমিটোরি ভবনগুলোর অফিস কক্ষে পানি ঢুকছে।

মির্জাগঞ্জ ও দুমকি (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় শ্রীমন্ত নদে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। স্রোতের তোড়ে শুক্রবার উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের আন্দুয়া গ্রামের ফকরুদ্দিন মৃধাবাড়ি সংলগ্ন শ্রীমন্ত নদের তীরবর্তী ওয়াপদা বেড়িবাঁধ অনেকাংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে প্রবল বেগে পানি ঢুকে ইউনিয়নের আন্দুয়া, কলাগাছিয়া ও কালিকাপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় শ্রীমন্ত নদের জোয়ারের পানির চাপে একই ইউনিয়নের দরগাহ শরিফ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শ্রীমন্ত নদের তীরবর্তী ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে মির্জাগঞ্জ ও কপালভেড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা শহরের ছোট-বড় রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। মাঠে-ঘাটে-বিলে শুধু পানি আর পানি। সবজিক্ষেতগুলো পানিতে টইটুম্বর হয়ে আছে। ডুবে গেছে শত শত মাছের ঘের। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিক ও দিনমজুররা কাজে বের হতে পারেননি। তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

চিতলমারী (বাগেরহাট) : চিতলমারীতে চিংড়ি ঘের ও সবজিক্ষেতসহ নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষীরা। শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এলাকার নদী-খালে অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডুমুরিয়া, খড়িয়া, আরুলিয়া, রায়গ্রামসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের বাড়িঘর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনা নদীর দফায় দফায় অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়ক ও লুধূয়া হাজিরহাট সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এদিকে, সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন হয়েছে লরেন্স-নবীগঞ্জ সড়ক। এসব সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ। বৃহস্পতিবার রাতে জোয়ারে মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়কের প্রায় ৪০ ফুট রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে বিকালে লুধূয়া হাজিরহাট সড়ক ও লরেন্স-নবীগঞ্জ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এদিকে, বলিরপুল-নাছিরগঞ্জ সড়ক জোয়ারে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জ : দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে নদনদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা শহরসহ ৩টি উপজেলা সদর ও সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। মোরেলগঞ্জ ও মোংলা ফেরিঘাটের পন্টুন ও রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় ফেরি ভিড়তে এবং যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। জেলার ৭টি উপজেলার নিুাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানিতে ভেসে গেছে কয়েকশ’ চিংড়ি ও মৎস্য খামার। বাগেরহাট জেলা সদরের প্রধান বাজার, মেইন রোড, পুরাতন বাজার, নাগেরবাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় রাস্তা হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পানি প্রবেশ করা ও বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। জেলার উপকূলীয় এলাকা মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও রামপালের বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে।

আমতলী (বরগুনা) : আমতলী ও তালতলীর উপকূলীয় ৩০ গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে তিন ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। চরাঞ্চলের শতাধিক মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। পায়রা নদীতে বিপদসীমার ওপর ৬০ সেন্টিমিটার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিুাঞ্চলের ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।

পাইকগাছা (খুলনা) : খুলনার পাইকগাছার বদ্ধ জলমহালের দক্ষিণ পাশ ভেঙে আবারও তিনটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর এ এলাকাটি তিনবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় জোয়ারের পানির চাপে এটা ভেঙে যায়। যাতে পারমধুখালী, চকরিবকরি ও গেওয়াবুনিয়া গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন (ভোলা) : বেড়িবাঁধের দশটি পয়েন্টে স্লুইসগেট না থাকায় মেঘনা, তেঁতুলিয়া নদীর ফুঁসে ওঠা জোয়ারের পানি খুব সহজেই ভেতরে প্রবেশে তলিয়ে গেছে কুকরিমুকরির অনেক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারও মানুষ। রক্ষা পায়নি গবাদি পশু, মাছের ঘের থেকে সবজির খামার পর্যন্ত।

 

ঘটনাপ্রবাহ : বন্যা ২০২০