১০ মৌলিক ধারা বাদ দিয়ে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে
jugantor
ইসির আরপিও সংশোধন প্রস্তাব
১০ মৌলিক ধারা বাদ দিয়ে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে

  কাজী জেবেল  

২২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলিক ও পদ্ধতিগত ১০টি ধারার ১১টি উপধারা বাদ দিয়ে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২’-এর (আরপিও) সংশোধনীর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং আইন লঙ্ঘনে কমিশন কর্তৃক প্রার্থিতা বাতিল ও জরিমানা আরোপের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধানও বাদ পড়েছে। প্রয়োজনে প্রিসাইডিং অফিসারের ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতাও রধের প্রস্তাব করা হয়।

আরপিওকে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আইন-২০২০’এ রূপান্তর করতে খসড়া বিল আকারে এসব সংশোধনী পাঠানো হয়। এর আগে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান বাদ দিতে গিয়ে সমালোচনার মুখে ফিরে আসে কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের কমিশন। এবার একই পদক্ষেপ নিল কেএম নূরুল হুদার কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, খসড়ায় মৌলিক ও পদ্ধতিগত বিধান বাদ পড়ায় ইসির সিনিয়র দুই কর্মকর্তা আইন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ‘ভুল’ হয়েছে বলে দাবি করেন। সংশোধনীর খসড়া সম্প্রতি ইসিতে ফেরত পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রণয়ন করা আরপিওকে আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে না- বলেও ইসিকে জানিয়ে দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পাঠানো আগের সংশোধনী প্রস্তাবেও অসঙ্গতি ছিল। তখন পর্যবেক্ষণ দিয়ে তা ফেরত পাঠানো হয়। এবার মৌলিক ও পদ্ধতিগত অনেক বিষয় বাদ দিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এবারও এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবুও কমিশন আরপিও সংশোধন করে আইনে রূপান্তর করতে তড়িঘড়ি করছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, পর্যবেক্ষণসহ আইন মন্ত্রণালয় খসড়া আরপিও সংশোধনী ফেরত পাঠিয়েছে। তারা কিছু সুপারিশও করেছে। আমরা এসব সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।

প্রার্থিতা বাতিলে ইসির ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কিছু বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছি। আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, সবকিছু বিধিমালাতে হবে না। আইনের ভেতরে রাখতে হবে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সামান্য কিছু সংশোধনীসহ আরপিও বাংলা ভাষায় রূপান্তরিত হচ্ছে।

জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি আরপিওর খসড়া নির্বাচন কমিশনে ফেরত পাঠানো হয়। এ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণে সুনির্দিষ্টভাবে ১০টি ধারার ১১টি বিধান বাদ পড়ার কথা উল্লেখ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে- আরপিওর পদ্ধতিগত বিষয়সহ অনেক মৌলিক বিধান বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত গণপ্রতিনিধিত্ব আইন-২০২০ এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবে যা বাদ পড়েছে সেগুলো আইনে থাকা সমীচীন বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

আরও জানা গেছে, ২৯ জুলাই আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবের সঙ্গে ইসির দুই যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাশেম ও ফরহাদ আহাম্মদ খান বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে এই দুই কর্মকর্তা খসড়া আইনে মৌলিক ও পদ্ধতিগত অনেক বিষয় বাদ পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এসব বিষয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন হবে বলেও তারা মত দেন।

বিদ্যমান আরওপি থেকে যে ১০টি ধারার ১১টি বিধান বাদ দিয়ে খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে- ১. আরপিও ধারা-১১ এ উল্লেখিত ইসি কর্তৃক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণাসংক্রান্ত বিধান। ২. ধারা-২১ এ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগসংক্রান্ত বিধান। ৩. ধারা-২২ এ উল্লেখিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট নিয়োগসংক্রান্ত বিধান। ৪. ধারা-২৫ এ উল্লেখিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান। ৫. ধারা-২৬ এ উল্লিখিত ভোট প্রদান পদ্ধতি অর্থাৎ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানসংক্রান্ত বিধান। ৬. ধারা-৩২ এ উল্লিখিত টেন্ডার্ড ব্যালট পেপারসংক্রান্ত বিধান। ৭. ধারা-৪১ এ উল্লিখিত জামানত বাজেয়াপ্তসংক্রান্ত বিধান। ৮. ধারা-৪২ এ উল্লিখিত রিটার্নিং কর্মকর্তার দলিল দস্তাবেজ সংরক্ষণসংক্রান্ত বিধান। ৯. ধারা ৯০ (৯০এ, ৯০বি, ৯০সি, ৯০ডি, ৯০ই, ৯০এফ, ৯০জি, ৯০এইচ ও ৯০আই) এ উল্লিখিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধান। ১০. ধারা-৯১সি এ উল্লিখিত নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান। ১১. ধারা-৯১ই এ উল্লিখিত কমিশন কর্তৃক প্রার্থিতা বাতিল ও জরিমানা আরোপের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান।

জানা গেছে, আরপিওর ৯১ই ধারায় প্রার্থিতা বাতিলের সরাসরি ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে। এ ধারার অপপ্রয়োগ হয় জানিয়ে বিগত কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের কমিশন তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে চরম সমালোচনার মধ্যে পড়ে। পরে তারা ওই উদ্যোগ থেকে সরে আসে। এবার অনেকটা গোপনীয়ভাবে একই ধরনের উদ্যোগ নিল কেএম নূরুল হুদার কমিশন।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, ধারা ৯০ (৯০এ, ৯০বি, ৯০সি, ৯০ডি, ৯০ই, ৯০এফ, ৯০জি, ৯০এইচ ও ৯০আই) এ উল্লিখিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধান নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে আরপিও থেকে বাদ দিয়েছে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য পৃথক আইনের খসড়া তৈরি করে তার ওপর মতামত নেয়া হচ্ছে। এছাড়া বাকি বিধানগুলোর বড় অংশ বাদ পড়েছে অনিচ্ছাকৃত ভুলে। কিছু বিষয় বিধিমালায় অন্তর্ভুক্তের জন্য বাদ দেয়া হয়।

ইসির একজন যুগ্ম-সচিব জানান, প্রস্তাবিত খসড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নিজেই প্রস্তুত করেছেন। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তারা খুব একটা কথা বলতে পারেননি। ওই কর্মকর্তা বলেন, খসড়ায় তফসিল ঘোষণার বিধান এবং প্রার্থিতা বাতিলের মতো ক্ষমতা ইসির হাতে না রাখার বিধানগুলো খসড়ায় না থাকাটা আমাদেরই কার্যক্রমের ত্রুটি ও দুর্বলতার প্রকাশ পেয়েছে। এ দুটি ধারা না থাকলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও পরিচালনা করা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

আরপিও থেকে আইন হচ্ছে না : আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ থেকে আইনে রূপান্তর করতে খসড়া বিল পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে এটি আইনে রূপ নিচ্ছে না বলে ইসিকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। খসড়া ফেরতের পর্যবেক্ষণেও বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে।

ইসিকে জানানো হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তদসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পাদনের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের তৃতীয় অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) প্রণয়ন ও জারি করেন।

আরপিও একটি ঐতিহাসিক আইনগত দলিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত মৌলিক ও পদ্ধতিগত বিষয় সংবলিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন। এ আইনের অধীনে ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আইনটিতে এ পর্যন্ত ২শ’ বারের বেশি সংশোধন করা হয়েছে। তবুও এটিকে আইনে রূপ দেয়া হয়নি।

ইসির আরপিও সংশোধন প্রস্তাব

১০ মৌলিক ধারা বাদ দিয়ে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে

 কাজী জেবেল 
২২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলিক ও পদ্ধতিগত ১০টি ধারার ১১টি উপধারা বাদ দিয়ে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২’-এর (আরপিও) সংশোধনীর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং আইন লঙ্ঘনে কমিশন কর্তৃক প্রার্থিতা বাতিল ও জরিমানা আরোপের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধানও বাদ পড়েছে। প্রয়োজনে প্রিসাইডিং অফিসারের ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতাও রধের প্রস্তাব করা হয়।

আরপিওকে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আইন-২০২০’এ রূপান্তর করতে খসড়া বিল আকারে এসব সংশোধনী পাঠানো হয়। এর আগে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান বাদ দিতে গিয়ে সমালোচনার মুখে ফিরে আসে কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের কমিশন। এবার একই পদক্ষেপ নিল কেএম নূরুল হুদার কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, খসড়ায় মৌলিক ও পদ্ধতিগত বিধান বাদ পড়ায় ইসির সিনিয়র দুই কর্মকর্তা আইন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ‘ভুল’ হয়েছে বলে দাবি করেন। সংশোধনীর খসড়া সম্প্রতি ইসিতে ফেরত পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রণয়ন করা আরপিওকে আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে না- বলেও ইসিকে জানিয়ে দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পাঠানো আগের সংশোধনী প্রস্তাবেও অসঙ্গতি ছিল। তখন পর্যবেক্ষণ দিয়ে তা ফেরত পাঠানো হয়। এবার মৌলিক ও পদ্ধতিগত অনেক বিষয় বাদ দিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এবারও এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবুও কমিশন আরপিও সংশোধন করে আইনে রূপান্তর করতে তড়িঘড়ি করছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, পর্যবেক্ষণসহ আইন মন্ত্রণালয় খসড়া আরপিও সংশোধনী ফেরত পাঠিয়েছে। তারা কিছু সুপারিশও করেছে। আমরা এসব সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।

প্রার্থিতা বাতিলে ইসির ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কিছু বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছি। আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, সবকিছু বিধিমালাতে হবে না। আইনের ভেতরে রাখতে হবে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সামান্য কিছু সংশোধনীসহ আরপিও বাংলা ভাষায় রূপান্তরিত হচ্ছে।

জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি আরপিওর খসড়া নির্বাচন কমিশনে ফেরত পাঠানো হয়। এ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণে সুনির্দিষ্টভাবে ১০টি ধারার ১১টি বিধান বাদ পড়ার কথা উল্লেখ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে- আরপিওর পদ্ধতিগত বিষয়সহ অনেক মৌলিক বিধান বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত গণপ্রতিনিধিত্ব আইন-২০২০ এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবে যা বাদ পড়েছে সেগুলো আইনে থাকা সমীচীন বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

আরও জানা গেছে, ২৯ জুলাই আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবের সঙ্গে ইসির দুই যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাশেম ও ফরহাদ আহাম্মদ খান বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে এই দুই কর্মকর্তা খসড়া আইনে মৌলিক ও পদ্ধতিগত অনেক বিষয় বাদ পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এসব বিষয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন হবে বলেও তারা মত দেন।

বিদ্যমান আরওপি থেকে যে ১০টি ধারার ১১টি বিধান বাদ দিয়ে খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে- ১. আরপিও ধারা-১১ এ উল্লেখিত ইসি কর্তৃক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণাসংক্রান্ত বিধান। ২. ধারা-২১ এ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগসংক্রান্ত বিধান। ৩. ধারা-২২ এ উল্লেখিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট নিয়োগসংক্রান্ত বিধান। ৪. ধারা-২৫ এ উল্লেখিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান। ৫. ধারা-২৬ এ উল্লিখিত ভোট প্রদান পদ্ধতি অর্থাৎ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানসংক্রান্ত বিধান। ৬. ধারা-৩২ এ উল্লিখিত টেন্ডার্ড ব্যালট পেপারসংক্রান্ত বিধান। ৭. ধারা-৪১ এ উল্লিখিত জামানত বাজেয়াপ্তসংক্রান্ত বিধান। ৮. ধারা-৪২ এ উল্লিখিত রিটার্নিং কর্মকর্তার দলিল দস্তাবেজ সংরক্ষণসংক্রান্ত বিধান। ৯. ধারা ৯০ (৯০এ, ৯০বি, ৯০সি, ৯০ডি, ৯০ই, ৯০এফ, ৯০জি, ৯০এইচ ও ৯০আই) এ উল্লিখিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধান। ১০. ধারা-৯১সি এ উল্লিখিত নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান। ১১. ধারা-৯১ই এ উল্লিখিত কমিশন কর্তৃক প্রার্থিতা বাতিল ও জরিমানা আরোপের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান।

জানা গেছে, আরপিওর ৯১ই ধারায় প্রার্থিতা বাতিলের সরাসরি ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে। এ ধারার অপপ্রয়োগ হয় জানিয়ে বিগত কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের কমিশন তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে চরম সমালোচনার মধ্যে পড়ে। পরে তারা ওই উদ্যোগ থেকে সরে আসে। এবার অনেকটা গোপনীয়ভাবে একই ধরনের উদ্যোগ নিল কেএম নূরুল হুদার কমিশন।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, ধারা ৯০ (৯০এ, ৯০বি, ৯০সি, ৯০ডি, ৯০ই, ৯০এফ, ৯০জি, ৯০এইচ ও ৯০আই) এ উল্লিখিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধান নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে আরপিও থেকে বাদ দিয়েছে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য পৃথক আইনের খসড়া তৈরি করে তার ওপর মতামত নেয়া হচ্ছে। এছাড়া বাকি বিধানগুলোর বড় অংশ বাদ পড়েছে অনিচ্ছাকৃত ভুলে। কিছু বিষয় বিধিমালায় অন্তর্ভুক্তের জন্য বাদ দেয়া হয়।

ইসির একজন যুগ্ম-সচিব জানান, প্রস্তাবিত খসড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নিজেই প্রস্তুত করেছেন। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তারা খুব একটা কথা বলতে পারেননি। ওই কর্মকর্তা বলেন, খসড়ায় তফসিল ঘোষণার বিধান এবং প্রার্থিতা বাতিলের মতো ক্ষমতা ইসির হাতে না রাখার বিধানগুলো খসড়ায় না থাকাটা আমাদেরই কার্যক্রমের ত্রুটি ও দুর্বলতার প্রকাশ পেয়েছে। এ দুটি ধারা না থাকলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও পরিচালনা করা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

আরপিও থেকে আইন হচ্ছে না : আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ থেকে আইনে রূপান্তর করতে খসড়া বিল পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে এটি আইনে রূপ নিচ্ছে না বলে ইসিকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। খসড়া ফেরতের পর্যবেক্ষণেও বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে।

ইসিকে জানানো হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তদসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পাদনের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের তৃতীয় অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) প্রণয়ন ও জারি করেন।

আরপিও একটি ঐতিহাসিক আইনগত দলিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত মৌলিক ও পদ্ধতিগত বিষয় সংবলিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন। এ আইনের অধীনে ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আইনটিতে এ পর্যন্ত ২শ’ বারের বেশি সংশোধন করা হয়েছে। তবুও এটিকে আইনে রূপ দেয়া হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন