শিপ্রার মাদক মামলায় ঘটনাস্থলে তদন্ত কর্মকর্তা
jugantor
শিপ্রার মাদক মামলায় ঘটনাস্থলে তদন্ত কর্মকর্তা
ওসি প্রদীপসহ তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে আজ

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার  

২৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে রামু থানায় করা মাদক মামলা তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের তদন্ত দল হিমছড়ির নিলিমা রিসোর্ট পরিদর্শন করে। সেখানে সিনহা ও তার সহকর্মীদের ব্যবহৃত রুমটি ঘুরে দেখেন তারা।

এদিকে টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপসহ তিনজনকে আজ আদালতে হাজির করা হচ্ছে। অপর দু’জন হচ্ছেন, বরখাস্ত ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার এ তিন আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে হাজির করা হচ্ছে আদালতে। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে যে কোনো সময় পুনরায় রিমান্ড আবেদন জানানো হবে। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

এদিকে নিলিমা রিসোর্ট পরিদর্শন শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকার সাংবাদিকদের বলেন, এ রিসোর্ট থেকে পুলিশের জব্দ করা আলামত ও ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে।

মাদক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই দিন যারা রিসোর্টে দায়িত্বরত ছিলেন তাদের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৩১ জুলাই সিনহা নিহতের পর এ রিসোর্টে অভিযান চালায় কক্সবাজারের রামু থানা পুলিশ। অভিযান চালিয়ে মদ উদ্ধার দেখিয়ে শিপ্রার নামে রামু থানায় মাদক মামলা করে থানা পুলিশ। প্রথমে মামলাটি থানা পুলিশের কাছে থাকলেও পরে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় র‌্যাব।

ওই আদেশের পর থেকে মামলা তদন্ত করছে সংস্থাটি। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিনজন আসামি বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে নিয়ে যান মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা।

গত ৭ দিন র‌্যাবে হেফাজতে সিনহা হত্যা নিয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলে। একপর্যায়ে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ তিন আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থল রেকি করে র‌্যাবের একটি বহর।

ওখানে প্রায় ৩ ঘণ্টা তদন্ত কার্যক্রম ও জিজ্ঞাসাবাদ চালান মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম।

এর পরদিন শনিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে কক্সবাজার কারাগার থেকে সিনহা হত্যা মামলার আরও তিন আসামি কক্সবাজার ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপ-পরিদর্শক শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহকে র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে নিয়ে যায় হয়।

একই দিন শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিএসবি শাখা থেকে সিনহাকে গুলি করা ইন্সপেক্টর লিয়াকতের পিস্তল ও ২টি খালি ম্যাগাজিন গ্রহণ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলম বলেন, ‘আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য দিচ্ছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করাও হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আদালতের আদেশে ইন্সপেক্টর লিয়াকতের পিস্তল ও ২টি খালি ম্যাগাজিন র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাবের অভিজ্ঞ সদস্য দিয়ে সব আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল আরও বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মতে যথাসময়ে রিমান্ড শেষে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত আদালতে সোপর্দ করা হবে।

৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় নিহতের বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে ৫ আগস্ট টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

এ মামলায় বর্তমানে ১৩ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। পাশাপাশি প্রত্যেককে আদালতের আদেশমতে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

শিপ্রার মাদক মামলায় ঘটনাস্থলে তদন্ত কর্মকর্তা

ওসি প্রদীপসহ তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে আজ
 শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার 
২৪ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে রামু থানায় করা মাদক মামলা তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের তদন্ত দল হিমছড়ির নিলিমা রিসোর্ট পরিদর্শন করে। সেখানে সিনহা ও তার সহকর্মীদের ব্যবহৃত রুমটি ঘুরে দেখেন তারা। 

এদিকে টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপসহ তিনজনকে আজ আদালতে হাজির করা হচ্ছে। অপর দু’জন হচ্ছেন, বরখাস্ত ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার এ তিন আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে হাজির করা হচ্ছে আদালতে। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে যে কোনো সময় পুনরায় রিমান্ড আবেদন জানানো হবে। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

এদিকে নিলিমা রিসোর্ট পরিদর্শন শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকার সাংবাদিকদের বলেন, এ রিসোর্ট থেকে পুলিশের জব্দ করা আলামত ও ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে।

মাদক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই দিন যারা রিসোর্টে দায়িত্বরত ছিলেন তাদের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।  

তিনি আরও বলেন, ৩১ জুলাই সিনহা নিহতের পর এ রিসোর্টে অভিযান চালায় কক্সবাজারের রামু থানা পুলিশ। অভিযান চালিয়ে মদ উদ্ধার দেখিয়ে শিপ্রার নামে রামু থানায় মাদক মামলা করে থানা পুলিশ। প্রথমে মামলাটি থানা পুলিশের কাছে থাকলেও পরে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় র‌্যাব।

ওই আদেশের পর থেকে মামলা তদন্ত করছে সংস্থাটি। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিনজন আসামি বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে নিয়ে যান মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা।

গত ৭ দিন র‌্যাবে হেফাজতে সিনহা হত্যা নিয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলে। একপর্যায়ে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ তিন আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থল রেকি করে র‌্যাবের একটি বহর।

ওখানে প্রায় ৩ ঘণ্টা তদন্ত কার্যক্রম ও জিজ্ঞাসাবাদ চালান মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম।

এর পরদিন শনিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে কক্সবাজার কারাগার থেকে সিনহা হত্যা মামলার আরও তিন আসামি কক্সবাজার ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপ-পরিদর্শক শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহকে র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে নিয়ে যায় হয়।

একই দিন শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিএসবি শাখা থেকে সিনহাকে গুলি করা ইন্সপেক্টর লিয়াকতের পিস্তল ও ২টি খালি ম্যাগাজিন গ্রহণ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলম বলেন, ‘আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য দিচ্ছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করাও হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, আদালতের আদেশে ইন্সপেক্টর লিয়াকতের পিস্তল ও ২টি খালি ম্যাগাজিন র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাবের অভিজ্ঞ সদস্য দিয়ে সব আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল আরও বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মতে যথাসময়ে রিমান্ড শেষে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত আদালতে সোপর্দ করা হবে।

৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় নিহতের বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে ৫ আগস্ট টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

এ মামলায় বর্তমানে ১৩ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। পাশাপাশি প্রত্যেককে আদালতের আদেশমতে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : মেজর সিনহার মৃত্যু