যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক শিল্পীর ছোঁয়া
jugantor
অশ্রুঝরা আগস্ট
যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক শিল্পীর ছোঁয়া

  আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান  

২৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই’- বঙ্গবন্ধুর এ কথায় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় যেমন ছিল, তেমনি স্বপ্ন ছিল একটি শিক্ষাসমৃদ্ধ জাতি গঠনের। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি স্বাধীন দেশে শিক্ষাব্যবস্থা পরিমার্জিতভাবে চালু করা অত্যন্ত দুরূহ। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেন শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ে এক শিল্পীর ছোঁয়া। বঙ্গবন্ধু ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে বিভিন্নভাবে ঢেলে সাজিয়েছিলেন। সংবিধানে শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণ, প্রাথমিক শিক্ষা সরকারিকরণ, শিক্ষা কমিশন গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠনসহ নানা বিষয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। এছাড়া তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বৈষম্যহীন করার লক্ষ্যেও কাজ করেছেন। শিক্ষকদের উদ্দেশে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আগামী প্রজন্মের ভাগ্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করছে। শিশুদের যথাযথ শিক্ষার ব্যত্যয় ঘটলে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা অর্থহীন হবে।’

বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করেন, যা দেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করে। এই রিপোর্ট প্রণয়নে বিশ্বের সমসাময়িক শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃতিও বিবেচনায় আনা হয়। এতে সংবিধানের চারটি মূলনীতির আলোকে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক আমলে শিক্ষা বিস্তারের পথে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা নিরসন করে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও পুনর্গঠন করার পথ প্রশস্ত হয় এবং একইসঙ্গে ব্যক্ত হয় শিক্ষার মাধ্যমে সমাজকে সুগঠিত করার প্রত্যাশা।

সেই রিপোর্টে শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে ইতিবাচক অগ্রবর্তিতার ইঙ্গিত আছে তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাবিস্তার ও নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ। এরই লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আইন প্রণয়ন করে প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তাছাড়া তার সময় থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু হয়।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ যেমন- খাতা, কলম, পেন্সিল ইত্যাদিও বিতরণ করা হতো দেশ স্বাধীন হওয়ার পর। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ, ১১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, ৪৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ও চাকরি সরকারিকরণ, ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই ও গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পোশাক প্রদানের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

তবে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে যেমনটি বলা হয়েছিল- ‘সব নাগরিকের মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী শিক্ষা’- সেই অনুযায়ী শুরু করা গেলে আধুনিক বিশ্বে নিশ্চয়ই এতদিনে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় ও ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা যেত। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় বিপথগামী কিছু মানুষ। তারা তার স্বপ্নকে শেষ করতে চেয়েছিল, কিন্তু সফল হতে পারেনি। তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখে চলেছেন। ’

৭২ সালের শিক্ষা কমিশনের আলোকে ২০১০ সালে নতুন একটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়, যেখানে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের অবাস্তবায়িত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গঠন এবং একইসঙ্গে এ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করার সফল চেষ্টা করছেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১-এ শিক্ষাব্যবস্থাকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

করোনা মহামারীর শুরু থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন রূপকল্প ২০২১-এর আলোকে আমরা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি)-এর সব শিক্ষা কার্যক্রম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করি। উল্লেখ্য, মহামারীর অবসান হলেও প্রতিটি প্রোগ্রামের একটি করে কোর্স অনলাইনে পরিচালিত হবে। বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে করোনা মহামারীর মতো যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশে সব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বিইউপি বদ্ধপরিকর।

মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান : উপাচার্য, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্

(আগামীকাল প্রকাশিত হবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারের লেখা)

অশ্রুঝরা আগস্ট

যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক শিল্পীর ছোঁয়া

 আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান 
২৭ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই’- বঙ্গবন্ধুর এ কথায় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় যেমন ছিল, তেমনি স্বপ্ন ছিল একটি শিক্ষাসমৃদ্ধ জাতি গঠনের। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি স্বাধীন দেশে শিক্ষাব্যবস্থা পরিমার্জিতভাবে চালু করা অত্যন্ত দুরূহ। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেন শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ে এক শিল্পীর ছোঁয়া। বঙ্গবন্ধু ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে বিভিন্নভাবে ঢেলে সাজিয়েছিলেন। সংবিধানে শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণ, প্রাথমিক শিক্ষা সরকারিকরণ, শিক্ষা কমিশন গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠনসহ নানা বিষয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। এছাড়া তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বৈষম্যহীন করার লক্ষ্যেও কাজ করেছেন। শিক্ষকদের উদ্দেশে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আগামী প্রজন্মের ভাগ্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করছে। শিশুদের যথাযথ শিক্ষার ব্যত্যয় ঘটলে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা অর্থহীন হবে।’

বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করেন, যা দেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করে। এই রিপোর্ট প্রণয়নে বিশ্বের সমসাময়িক শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃতিও বিবেচনায় আনা হয়। এতে সংবিধানের চারটি মূলনীতির আলোকে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক আমলে শিক্ষা বিস্তারের পথে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা নিরসন করে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও পুনর্গঠন করার পথ প্রশস্ত হয় এবং একইসঙ্গে ব্যক্ত হয় শিক্ষার মাধ্যমে সমাজকে সুগঠিত করার প্রত্যাশা।

সেই রিপোর্টে শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে ইতিবাচক অগ্রবর্তিতার ইঙ্গিত আছে তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাবিস্তার ও নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ। এরই লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আইন প্রণয়ন করে প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তাছাড়া তার সময় থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু হয়।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ যেমন- খাতা, কলম, পেন্সিল ইত্যাদিও বিতরণ করা হতো দেশ স্বাধীন হওয়ার পর। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ, ১১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, ৪৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ও চাকরি সরকারিকরণ, ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই ও গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পোশাক প্রদানের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

তবে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে যেমনটি বলা হয়েছিল- ‘সব নাগরিকের মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী শিক্ষা’- সেই অনুযায়ী শুরু করা গেলে আধুনিক বিশ্বে নিশ্চয়ই এতদিনে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় ও ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা যেত। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় বিপথগামী কিছু মানুষ। তারা তার স্বপ্নকে শেষ করতে চেয়েছিল, কিন্তু সফল হতে পারেনি। তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখে চলেছেন। ’

৭২ সালের শিক্ষা কমিশনের আলোকে ২০১০ সালে নতুন একটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়, যেখানে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের অবাস্তবায়িত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গঠন এবং একইসঙ্গে এ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করার সফল চেষ্টা করছেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১-এ শিক্ষাব্যবস্থাকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

করোনা মহামারীর শুরু থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন রূপকল্প ২০২১-এর আলোকে আমরা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি)-এর সব শিক্ষা কার্যক্রম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করি। উল্লেখ্য, মহামারীর অবসান হলেও প্রতিটি প্রোগ্রামের একটি করে কোর্স অনলাইনে পরিচালিত হবে। বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে করোনা মহামারীর মতো যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশে সব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বিইউপি বদ্ধপরিকর।

মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান : উপাচার্য, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্

(আগামীকাল প্রকাশিত হবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারের লেখা)

 

ঘটনাপ্রবাহ : অশ্রুঝরা আগস্ট