সব প্যারামিটারেই ওয়াহিদার উন্নতি
jugantor
ইউএনও’র ওপর হামলা
সব প্যারামিটারেই ওয়াহিদার উন্নতি
কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আজ * ছয় দিনেও কাজ শুরু করেনি তদন্ত কমিটি

  যুগান্তর রিপোর্ট ও দিনাজপুর প্রতিনিধি  

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার সব প্যারামিটারেই উন্নতি হয়েছে। স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের মতোই জ্ঞান আছে এবং তিনি তরল খাবার খাচ্ছেন।

আজ তাকে কেবিনে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত সরকারের এই কর্মকর্তা রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার দুপুরে ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উল্লিখিত তথ্য জানান হাসপাতালটির নিউরো ট্রমা বিভাগ ও গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন।

এদিকে ইউএনও ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত তদন্ত কমিটি ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কাজ শুরু করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঁইয়া ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

কমিটির প্রধান করা হয় রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জাকির হোসেনকে। কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। জানতে চাইলে কমিটির প্রধান মো. জাকির হোসেন মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, আমরা এখনও কাজ শুরু করিনি।

যেহেতু পুলিশ মামলার তদন্ত করছে এবং আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাই পুলিশের তদন্তের পর আমরা কাজ শুরু করব। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটিকে ৭ দিনের যে সময় দেয়া হয়েছে, আমরা এই সময় আরও বৃদ্ধির জন্য আবেদন করব।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন বলেন, ওয়াহিদা হাসপাতালের এইচডিইউতে (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) পর্যবেক্ষণে আছেন।

তার ডান হাতটা আগের মতোই আছে, ফিজিওথেরাপি চলছে। ফিজিওথেরাপি চলার পর কতটুকু উন্নতি হয় সেটা সময় হলে বোঝা যাবে। এইচডিইউ থেকে স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ওয়াহিদাকে বেডে দেয়ার কথা চিন্তা করছি।

যেহেতু এখানে কিছু নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে সেজন্য এখনও এইচডিইউতেই রাখা হয়েছে। তবে কেবিনে নেয়ার বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত হবে। মেডিকেল বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবে তাকে কেবিনে দেয়া হবে কিনা। তার একটা মানসিক ট্রমা আছে।

শঙ্কামুক্ত কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহেদ হোসেন বলেন, শঙ্কামুক্ত বলাটা কঠিন। তবে যে কারণে তিনি খারাপ ছিলেন সেই অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। সব প্যারামিটারেই তার উন্নতি হয়েছে।

ওনার পালস-ব্লাড প্রেসার, মানসিক অবস্থা, জ্ঞানের মাত্রা, খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপার সবকিছু চিন্তা করলে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

ডান হাত অবশের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করি ফিজিওথেরাপিতে তার উন্নতি হবে, তবে কবে কতটুকু হবে সেটা বলা কঠিন। হাতে ওনার শক্তি নেই কিন্তু বোধ আছে। চিমটি কেটে ব্যথা দিলে বুঝতে পারেন, টাচ করলে বুঝতে পারেন। কিন্তু হাত নাড়াতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার রাতে ৬ সদস্যের চিকিৎসক দল প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ইউএনও ওয়াহিদার মাথায় জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। অস্ত্রোপচার শেষেই তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

এর আগে বুধবার গভীর রাতে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তার বাবাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ইউএনওকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আনা হয়। আর তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় ওয়াহিদার বড়ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা শনিবার ঘোড়াঘাট থানা থেকে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ মামলায় ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল ইসলাম, রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম এবং সান্টু কুমার দাস সাত দিনের রিমান্ডে আছে।

ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর মঙ্গলবার দুপুরে যুগান্তরকে জানান, রিমান্ডে নেয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে সহায়তা করার জন্য ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষ টিম এসেছে।

তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই রিমান্ডে নেয়া তিন আসামিকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রয়োজনে তাদের একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে আমরা অবশ্যই জানাব।

রিমান্ডে নেয়া আসামিদের বাইরেও এই মামলায় আটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত তিনজনকেই গ্রেফতার করেছি, যাদের আমরা রিমান্ডে নিয়েছি। এর বাইরে আমাদের কাছে আটক কোনো আসামি নেই।

এ মামলায় রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে রিমান্ডে নেয়া হয় শনিবার এবং আসাদুল ইসলামকে রিমান্ডে নেয়া হয় পরের দিন রোববার।

পুলিশি তদন্তের ওপর পূর্ণ আস্থা- বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর : রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুর ওয়াহাব ভূঞা বলেছেন, ঘোড়াঘাট ইউএনও ওয়াহিদা খানম হত্যা চেষ্টা মামলায় পুলিশি তদন্তের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে দিনাজপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ওয়াহিদা খানম হত্যাচেষ্টা মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কাজ করছে, এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই দায়িত্ব।

মামলা যদি হয় সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই দায়িত্ব, এটা অন্য কেউ তদন্ত করতে পারে না।

পুলিশের প্রতি আমাদের বিশ্বাস, তারা সঠিক বিষয়টিই তদন্ত করে বের করে নিয়ে আসবে এবং আমরা একটি ন্যায়বিচার পাব। আশা করি যারা দোষী, তাদের আইনের আওতায় এনে সমুচিত সাজা দেয়া হবে।

তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রশাসনের তদন্ত প্রশাসনিক, সেটা কোর্টে সাবমিট করার জন্য নয়। প্রশাসনের কিছু কিছু বিষয় রয়েছে, আমাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলো অভ্যন্তরীণভাবে করতে হবে।

এগুলোর জন্য কিছু সুপারিশ আসতে পারে। সেটা ইউএনওদের নিরাপত্তার বিষয়টি আসতে পারে এবং ইতোমধ্যেই ইউএনওদের নিরাপত্তার জন্য আনসার নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের বিষয়টি অ্যাকশন নিবে প্রশাসন, আর যেটা আইনের বিষয়, সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত সাপেক্ষে অ্যাকশন নেবে আদালত।

এ সময় বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলমসহ জেলা পর্যায়ের অন্য কর্মকর্তারা।

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে রংপুর ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের জানান, এখনও বলার মতো কিছু হয়নি।

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা অতি গুরুত্বের সঙ্গে ও সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছি। বলার মতো কিছু পেলেই আমরা জানাব। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি আবারও ঘোড়াঘাটে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মানববন্ধন : ইউএনও ওয়াহিদা ও তার বাবার ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার ঘোড়াঘাটে মানববন্ধন করেছে উপজেলা স্কাউটস।

মঙ্গলবার সকালে ঘোড়াঘাট উপজেলার হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের ওসমানপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে ঘোড়াঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবদুস সাত্তার সরকার, শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়, একাডেমিক সুপারভাইজার ধীরাজ সরকার, উপজেলা স্কাউটসের সহসভাপতি মো. আনছার আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. জামিরুল ইসলাম, স্কাউটস কমিশনার মো. এমদাদুল হক, শিক্ষক আনিছুর রহমানসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

ইউএনও’র ওপর হামলা

সব প্যারামিটারেই ওয়াহিদার উন্নতি

কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আজ * ছয় দিনেও কাজ শুরু করেনি তদন্ত কমিটি
 যুগান্তর রিপোর্ট ও দিনাজপুর প্রতিনিধি 
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার সব প্যারামিটারেই উন্নতি হয়েছে। স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের মতোই জ্ঞান আছে এবং তিনি তরল খাবার খাচ্ছেন।

আজ তাকে কেবিনে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত সরকারের এই কর্মকর্তা রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

মঙ্গলবার দুপুরে ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উল্লিখিত তথ্য জানান হাসপাতালটির নিউরো ট্রমা বিভাগ ও গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন।

এদিকে ইউএনও ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত তদন্ত কমিটি ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কাজ শুরু করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঁইয়া ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

কমিটির প্রধান করা হয় রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জাকির হোসেনকে। কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। জানতে চাইলে কমিটির প্রধান মো. জাকির হোসেন মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, আমরা এখনও কাজ শুরু করিনি।

যেহেতু পুলিশ মামলার তদন্ত করছে এবং আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাই পুলিশের তদন্তের পর আমরা কাজ শুরু করব। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটিকে ৭ দিনের যে সময় দেয়া হয়েছে, আমরা এই সময় আরও বৃদ্ধির জন্য আবেদন করব। 

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন বলেন, ওয়াহিদা হাসপাতালের এইচডিইউতে (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) পর্যবেক্ষণে আছেন।

তার ডান হাতটা আগের মতোই আছে, ফিজিওথেরাপি চলছে। ফিজিওথেরাপি চলার পর কতটুকু উন্নতি হয় সেটা সময় হলে বোঝা যাবে। এইচডিইউ থেকে স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ওয়াহিদাকে বেডে দেয়ার কথা চিন্তা করছি।

যেহেতু এখানে কিছু নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে সেজন্য এখনও এইচডিইউতেই রাখা হয়েছে। তবে কেবিনে নেয়ার বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত হবে। মেডিকেল বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবে তাকে কেবিনে দেয়া হবে কিনা। তার একটা মানসিক ট্রমা আছে। 

শঙ্কামুক্ত কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহেদ হোসেন বলেন, শঙ্কামুক্ত বলাটা কঠিন। তবে যে কারণে তিনি খারাপ ছিলেন সেই অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। সব প্যারামিটারেই তার উন্নতি হয়েছে।

ওনার পালস-ব্লাড প্রেসার, মানসিক অবস্থা, জ্ঞানের মাত্রা, খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপার সবকিছু চিন্তা করলে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

ডান হাত অবশের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করি ফিজিওথেরাপিতে তার উন্নতি হবে, তবে কবে কতটুকু হবে সেটা বলা কঠিন। হাতে ওনার শক্তি নেই কিন্তু বোধ আছে। চিমটি কেটে ব্যথা দিলে বুঝতে পারেন, টাচ করলে বুঝতে পারেন। কিন্তু হাত নাড়াতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার রাতে ৬ সদস্যের চিকিৎসক দল প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ইউএনও ওয়াহিদার মাথায় জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। অস্ত্রোপচার শেষেই তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

এর আগে বুধবার গভীর রাতে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তার বাবাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ইউএনওকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আনা হয়। আর তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় ওয়াহিদার বড়ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা শনিবার ঘোড়াঘাট থানা থেকে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

এ মামলায় ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল ইসলাম, রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম এবং সান্টু কুমার দাস সাত দিনের রিমান্ডে আছে।

ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর মঙ্গলবার দুপুরে যুগান্তরকে জানান, রিমান্ডে নেয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে সহায়তা করার জন্য ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষ টিম এসেছে।

তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই রিমান্ডে নেয়া তিন আসামিকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রয়োজনে তাদের একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে আমরা অবশ্যই জানাব।

রিমান্ডে নেয়া আসামিদের বাইরেও এই মামলায় আটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত তিনজনকেই গ্রেফতার করেছি, যাদের আমরা রিমান্ডে নিয়েছি। এর বাইরে আমাদের কাছে আটক কোনো আসামি নেই।

এ মামলায় রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে রিমান্ডে নেয়া হয় শনিবার এবং আসাদুল ইসলামকে রিমান্ডে নেয়া হয় পরের দিন রোববার। 

পুলিশি তদন্তের ওপর পূর্ণ আস্থা- বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর : রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুর ওয়াহাব ভূঞা বলেছেন, ঘোড়াঘাট ইউএনও ওয়াহিদা খানম হত্যা চেষ্টা মামলায় পুলিশি তদন্তের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে দিনাজপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ওয়াহিদা খানম হত্যাচেষ্টা মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কাজ করছে, এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই দায়িত্ব।

মামলা যদি হয় সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই দায়িত্ব, এটা অন্য কেউ তদন্ত করতে পারে না।

পুলিশের প্রতি আমাদের বিশ্বাস, তারা সঠিক বিষয়টিই তদন্ত করে বের করে নিয়ে আসবে এবং আমরা একটি ন্যায়বিচার পাব। আশা করি যারা দোষী, তাদের আইনের আওতায় এনে সমুচিত সাজা দেয়া হবে। 

তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রশাসনের তদন্ত প্রশাসনিক, সেটা কোর্টে সাবমিট করার জন্য নয়। প্রশাসনের কিছু কিছু বিষয় রয়েছে, আমাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলো অভ্যন্তরীণভাবে করতে হবে।

এগুলোর জন্য কিছু সুপারিশ আসতে পারে। সেটা ইউএনওদের নিরাপত্তার বিষয়টি আসতে পারে এবং ইতোমধ্যেই ইউএনওদের নিরাপত্তার জন্য আনসার নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের বিষয়টি অ্যাকশন নিবে প্রশাসন, আর যেটা আইনের বিষয়, সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত সাপেক্ষে অ্যাকশন নেবে আদালত।

এ সময় বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলমসহ জেলা পর্যায়ের অন্য কর্মকর্তারা। 

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে রংপুর ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের জানান, এখনও বলার মতো কিছু হয়নি।

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা অতি গুরুত্বের সঙ্গে ও সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছি। বলার মতো কিছু পেলেই আমরা জানাব। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি আবারও ঘোড়াঘাটে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

মানববন্ধন : ইউএনও ওয়াহিদা ও তার বাবার ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার ঘোড়াঘাটে মানববন্ধন করেছে উপজেলা স্কাউটস।

মঙ্গলবার সকালে ঘোড়াঘাট উপজেলার হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের ওসমানপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে ঘোড়াঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবদুস সাত্তার সরকার, শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়, একাডেমিক সুপারভাইজার ধীরাজ সরকার, উপজেলা স্কাউটসের সহসভাপতি মো. আনছার আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. জামিরুল ইসলাম, স্কাউটস কমিশনার মো. এমদাদুল হক, শিক্ষক আনিছুর রহমানসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন