চার শতাংশের নিচে খেলাপি ঋণ
jugantor
এনআরবি ব্যাংকের সাফল্য
চার শতাংশের নিচে খেলাপি ঋণ

  হামিদ বিশ্বাস  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এনআরবি ব্যাংক চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করেছে ৪ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। এতে ব্যাংকটির ঋণ আমানত রেশিও (এডিআর) ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া সীমার মধ্যেই রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো কনভেনশনাল ব্যাংক ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে ৮৭ টাকা ঋণ বিতরণের সুযোগ পায়।

সে হিসাবে এনআরবি ব্যাংক আরও ১ শতাংশ ঋণ বিতরণের সুযোগ পাবে। এছাড়া জুন পর্যন্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫০ কোটি ১০ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পাঁচ শতাংশের নিচে থাকলে তা স্বাভাবিক বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এনআরবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ তারও নিচে। পাশাপাশি ব্যাংকটির রেটিংও সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। সুতরাং এনআরবি ব্যাংক নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এনআরবি ব্যাংকের ঋণমান অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়েছে। সে কারণে ব্যাংকটির কোনো প্রভিশন ঘাটতি নেই। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিয়ম অনুযায়ী, ১০ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে; তাও রাখা হয়েছে।

যে কারণে মূলধনেও কোনো ঘাটতি নেই। ব্যাংকের স্বাস্থ্য কেমন তা বোঝাতে যে রেটিং করা হয় তাতে এনআরবি ব্যাংক ‘দ্বিতীয়’ অবস্থানে আছে। অর্থাৎ একটি নতুন ব্যাংকের জন্য রেটিং-টু (২) মানও ভালো ইঙ্গিত বহন করে। সারা দেশে ৪৬টি শাখার মাধ্যমে ব্যবসা করছে এনআরবি ব্যাংক।

ব্যাংকটিতে আমানতকারীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। এনআরবি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউট লেট আছে ৩০৬টি। এসব আউট লেটের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে ৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া গ্রাহকের সুবিধার্থে ৪৬টি এটিএম বুথ খোলা হয়েছে। এর বাইরে ইন্টারনেট ব্যাংকিংও রয়েছে। এনআরবি ক্লিক নামে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ই-ব্যাংকিং করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকটির দায়িত্বশীল পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকের যে ক্রেডিট রেটিং (এ মাইনাস, এসটি-টু ) দেয়া আছে, তা যথেষ্ট সন্তোষজনক। প্রথমত, ব্যাংকটিতে ঋণঝুঁকি কম। দ্বিতীয়ত, যারা ব্যাংকে টাকা রেখেছেন, তাদের টাকা ফেরত দিতে ব্যাংকের সক্ষমতা রয়েছে। ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতে ১ হাজার ৩০৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৩ শতাংশ।

এদিকে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় করা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়েছে।

এনআরবি ব্যাংকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা রোববার যুগান্তরকে বলেন, এত সফলতা অর্জন সত্ত্বেও মহল বিশেষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চক্রান্ত করছে। অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের নামে মিথ্যা অপপ্রচারে কিছু গণমাধ্যমকেও ব্যবহার করতে দ্বিধা করছে না।

ব্যাংকিং নিয়মনীতি ও আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কথিত ৭ জন পরিচালক অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছে। যা খুবই নিন্দনীয়। তিনি মনে করেন, এনআরবি ব্যাংক গ্রাহক, আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা অর্জন করে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ সমভাবে সুরক্ষা করার গ্যারান্টি আছে। ফলে প্রতিটি কর্মীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সততার মধ্য দিয়ে এ ব্যাংকটি উত্তরোত্তর আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

এনআরবি ব্যাংকের সাফল্য

চার শতাংশের নিচে খেলাপি ঋণ

 হামিদ বিশ্বাস 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এনআরবি ব্যাংক চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করেছে ৪ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। এতে ব্যাংকটির ঋণ আমানত রেশিও (এডিআর) ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া সীমার মধ্যেই রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো কনভেনশনাল ব্যাংক ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে ৮৭ টাকা ঋণ বিতরণের সুযোগ পায়।

সে হিসাবে এনআরবি ব্যাংক আরও ১ শতাংশ ঋণ বিতরণের সুযোগ পাবে। এছাড়া জুন পর্যন্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫০ কোটি ১০ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পাঁচ শতাংশের নিচে থাকলে তা স্বাভাবিক বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এনআরবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ তারও নিচে। পাশাপাশি ব্যাংকটির রেটিংও সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। সুতরাং এনআরবি ব্যাংক নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এনআরবি ব্যাংকের ঋণমান অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়েছে। সে কারণে ব্যাংকটির কোনো প্রভিশন ঘাটতি নেই। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিয়ম অনুযায়ী, ১০ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে; তাও রাখা হয়েছে।

যে কারণে মূলধনেও কোনো ঘাটতি নেই। ব্যাংকের স্বাস্থ্য কেমন তা বোঝাতে যে রেটিং করা হয় তাতে এনআরবি ব্যাংক ‘দ্বিতীয়’ অবস্থানে আছে। অর্থাৎ একটি নতুন ব্যাংকের জন্য রেটিং-টু (২) মানও ভালো ইঙ্গিত বহন করে। সারা দেশে ৪৬টি শাখার মাধ্যমে ব্যবসা করছে এনআরবি ব্যাংক।

ব্যাংকটিতে আমানতকারীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। এনআরবি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউট লেট আছে ৩০৬টি। এসব আউট লেটের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে ৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া গ্রাহকের সুবিধার্থে ৪৬টি এটিএম বুথ খোলা হয়েছে। এর বাইরে ইন্টারনেট ব্যাংকিংও রয়েছে। এনআরবি ক্লিক নামে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ই-ব্যাংকিং করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকটির দায়িত্বশীল পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকের যে ক্রেডিট রেটিং (এ মাইনাস, এসটি-টু ) দেয়া আছে, তা যথেষ্ট সন্তোষজনক। প্রথমত, ব্যাংকটিতে ঋণঝুঁকি কম। দ্বিতীয়ত, যারা ব্যাংকে টাকা রেখেছেন, তাদের টাকা ফেরত দিতে ব্যাংকের সক্ষমতা রয়েছে। ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতে ১ হাজার ৩০৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৩ শতাংশ।

এদিকে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় করা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়েছে।

এনআরবি ব্যাংকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা রোববার যুগান্তরকে বলেন, এত সফলতা অর্জন সত্ত্বেও মহল বিশেষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চক্রান্ত করছে। অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের নামে মিথ্যা অপপ্রচারে কিছু গণমাধ্যমকেও ব্যবহার করতে দ্বিধা করছে না।

ব্যাংকিং নিয়মনীতি ও আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কথিত ৭ জন পরিচালক অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছে। যা খুবই নিন্দনীয়। তিনি মনে করেন, এনআরবি ব্যাংক গ্রাহক, আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা অর্জন করে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ সমভাবে সুরক্ষা করার গ্যারান্টি আছে। ফলে প্রতিটি কর্মীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সততার মধ্য দিয়ে এ ব্যাংকটি উত্তরোত্তর আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন