মিয়ানমার-চীনের দিকে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা
jugantor
খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়ৎ
মিয়ানমার-চীনের দিকে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত থেকে হঠাৎ পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অস্থির হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজার খাতুনগঞ্জ। এখানে প্রতিদিন ২৫-৩০টি ট্রাকে পেঁয়াজ আসে।

সোমবার পেঁয়াজের কয়েকটি ট্রাক এলেও মঙ্গলবার কোনো পেঁয়াজ আসেনি। আগের মজুদ পেঁয়াজ বিক্রি করলেও তারা দাম নিচ্ছেন চড়া।

এক রাতের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিকল্প বাজার হিসেবে মিয়ানমার ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে জোর দিচ্ছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম হুহু করে বাড়ছে। মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। অথচ সোমবার একই পেঁয়াজ ৩৭ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আড়তগুলোতে সকাল থেকে লেগে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। কোনো কোনো আড়তের সামনে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন।

কার আগে কে কিনতে পারেন তার প্রতিযোগিতা। রাতারাতি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমার ও চীন থেকে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে পেঁয়াজ নিয়ে আসা সম্ভব।

তাই নিত্যপণ্যটির যেন সংকট না হয় সেজন্য সরকার ও আমদানিকারকদের এখন থেকে ভারত ছাড়া অন্য দেশের দিকে ঝুঁকতে হবে।

ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী মিয়ানমার ও ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে এলসি খুলেছেন বলে জানা গেছে। চলতি মাসের শেষের দিকে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ আসার কথা রয়েছে।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন আমদানিকারক পেঁয়াজ আমদানি করতে উদ্ভিদ সংঘনিরোধ বিভাগ থেকে অনুমতিপত্রও নিয়েছেন।

সূত্র জানায়, মাত্র তিন দিনে মিয়ানমার থেকে স্থলপথে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব। আর চীন থেকে সাগরপথে আনতে ১৫ দিন লাগতে পারে।

গত বছর ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার ও চীন থেকে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছিলেন। চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের চাহিদার বেশির ভাগই মিটিয়েছিল মিয়ানমারের পেঁয়াজ।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম যুগান্তরকে জানান, গত বছর পেঁয়াজ নিয়ে খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল।

তখন বিকল্প বাজার খুঁজতে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হয়। অনেক আমদানিকারক এলসি খুলে দীর্ঘদিনেও পণ্যটি আনতে পারেননি।

তবে এরই মধ্যে বিকল্প বাজার দাঁড়িয়ে গেছে। গত বছর যারা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ এনেছিলেন, রফতানিকারকদের সঙ্গে তাদের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

তাই এ বছর আমদানি করতে গেলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যেই সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ভারতের বিকল্প বাজার হিসেবে মিয়ানমার, চীন, তুরস্ক, মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ রয়েছে।

গত বছর সংকটকালে এসব দেশ থেকে আমদানিও হয়েছে। তবে কম সময়ে আনতে হলে মিয়ানমার ও চীনকে প্রাধান্য দিতে হবে। সময়মতো বিকল্প দেশগুলো থেকে পেঁয়াজ আনতে পারলে সংকট হবে না।

খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোর চাহিদা মিয়ানমারের পেঁয়াজ দিয়ে খুব সহজে মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন এখানকার শীর্ষস্থানীয় আড়তদার মিন্টু সওদাগর।

যুগান্তরকে তিনি বলেন, কম সময়ে পেঁয়াজ এনে সংকট মোকাবেলা করতে মিয়ানমারের বাজারই একমাত্র পথ। কারণ পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য।

পচে যাওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্রপথে ব্যবসায়ীরা আনতে চান না। স্থলপথে মিয়ানমার থেকে কম সময়েই পণ্যটি আনা সম্ভব। এরই মধ্যে চট্টগ্রামের অনেক ব্যবসায়ী মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনতে এলসি খুলেছেন।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় পাইকারি মার্কেট হামিদ উল্যাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস যুগান্তরকে জানান, ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় সোমবার স্থলবন্দরগুলো থেকে খাতুনগঞ্জে মাত্র কয়েক ট্রাক পেঁয়াজ এসেছে।

মঙ্গলবার একেবারেই আসেনি। আগের সংগ্রহ করা পেঁয়াজ এখন বিক্রি করা হচ্ছে। আগের পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কমিশন এজেন্ট হিসেবে পেঁয়াজ বিক্রি করি।

আমদানিকারকরা যে দামে বিক্রি করতে বলেন, আমাদের সেই দামেই বিক্রি করতে হয়। খাতুনগঞ্জের আরেক পাইকার মিন্টু সওদাগর জানান, কয়েক দিনে স্থলবন্দরগুলো দিয়ে পেঁয়াজ এসেছে।

এসব পেঁয়াজ আমদানিকারকরা মজুদ করেছেন। এছাড়া আগের এলসি করা আরও কিছু পেঁয়াজ ট্রাকে বোঝাই হয়ে ওপারে আটকে রয়েছে। এগুলোও হয়তো আসবে।

তাই স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানিকারকরা যেন পেঁয়াজ মজুদ করে রাখতে না পারেন, সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার, আতুরার ডিপো হাশেম বাজার, বহদ্দরাহাট, রিয়াজ উদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংকট হবে মনে করে ক্রেতাদের অনেকে ৫-১০ কেজি করে কিনছেন। বেশি করে কিনে রাখার প্রবণতার কারণে চাহিদা বেড়ে গেছে। আর এ সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন আমদানিকারক, আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা।

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়ৎ

মিয়ানমার-চীনের দিকে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা

 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত থেকে হঠাৎ পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অস্থির হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজার খাতুনগঞ্জ। এখানে প্রতিদিন ২৫-৩০টি ট্রাকে পেঁয়াজ আসে।

সোমবার পেঁয়াজের কয়েকটি ট্রাক এলেও মঙ্গলবার কোনো পেঁয়াজ আসেনি। আগের মজুদ পেঁয়াজ বিক্রি করলেও তারা দাম নিচ্ছেন চড়া।

এক রাতের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিকল্প বাজার হিসেবে মিয়ানমার ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে জোর দিচ্ছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। 

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম হুহু করে বাড়ছে। মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। অথচ সোমবার একই পেঁয়াজ ৩৭ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আড়তগুলোতে সকাল থেকে লেগে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। কোনো কোনো আড়তের সামনে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন।

কার আগে কে কিনতে পারেন তার প্রতিযোগিতা। রাতারাতি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার। 

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমার ও চীন থেকে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে পেঁয়াজ নিয়ে আসা সম্ভব।

তাই নিত্যপণ্যটির যেন সংকট না হয় সেজন্য সরকার ও আমদানিকারকদের এখন থেকে ভারত ছাড়া অন্য দেশের দিকে ঝুঁকতে হবে।

ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী মিয়ানমার ও ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে এলসি খুলেছেন বলে জানা গেছে। চলতি মাসের শেষের দিকে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ আসার কথা রয়েছে।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন আমদানিকারক পেঁয়াজ আমদানি করতে উদ্ভিদ সংঘনিরোধ বিভাগ থেকে অনুমতিপত্রও নিয়েছেন।

সূত্র জানায়, মাত্র তিন দিনে মিয়ানমার থেকে স্থলপথে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব। আর চীন থেকে সাগরপথে আনতে ১৫ দিন লাগতে পারে।

গত বছর ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার ও চীন থেকে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছিলেন। চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের চাহিদার বেশির ভাগই মিটিয়েছিল মিয়ানমারের পেঁয়াজ।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম যুগান্তরকে জানান, গত বছর পেঁয়াজ নিয়ে খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল।

তখন বিকল্প বাজার খুঁজতে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হয়। অনেক আমদানিকারক এলসি খুলে দীর্ঘদিনেও পণ্যটি আনতে পারেননি।

তবে এরই মধ্যে বিকল্প বাজার দাঁড়িয়ে গেছে। গত বছর যারা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ এনেছিলেন, রফতানিকারকদের সঙ্গে তাদের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

তাই এ বছর আমদানি করতে গেলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যেই সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ভারতের বিকল্প বাজার হিসেবে মিয়ানমার, চীন, তুরস্ক, মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ রয়েছে।

গত বছর সংকটকালে এসব দেশ থেকে আমদানিও হয়েছে। তবে কম সময়ে আনতে হলে মিয়ানমার ও চীনকে প্রাধান্য দিতে হবে। সময়মতো বিকল্প দেশগুলো থেকে পেঁয়াজ আনতে পারলে সংকট হবে না।

খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোর চাহিদা মিয়ানমারের পেঁয়াজ দিয়ে খুব সহজে মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন এখানকার শীর্ষস্থানীয় আড়তদার মিন্টু সওদাগর।

যুগান্তরকে তিনি বলেন, কম সময়ে পেঁয়াজ এনে সংকট মোকাবেলা করতে মিয়ানমারের বাজারই একমাত্র পথ। কারণ পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য।

পচে যাওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্রপথে ব্যবসায়ীরা আনতে চান না। স্থলপথে মিয়ানমার থেকে কম সময়েই পণ্যটি আনা সম্ভব। এরই মধ্যে চট্টগ্রামের অনেক ব্যবসায়ী মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনতে এলসি খুলেছেন।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় পাইকারি মার্কেট হামিদ উল্যাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস যুগান্তরকে জানান, ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় সোমবার স্থলবন্দরগুলো থেকে খাতুনগঞ্জে মাত্র কয়েক ট্রাক পেঁয়াজ এসেছে।

মঙ্গলবার একেবারেই আসেনি। আগের সংগ্রহ করা পেঁয়াজ এখন বিক্রি করা হচ্ছে। আগের পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কমিশন এজেন্ট হিসেবে পেঁয়াজ বিক্রি করি।

আমদানিকারকরা যে দামে বিক্রি করতে বলেন, আমাদের সেই দামেই বিক্রি করতে হয়। খাতুনগঞ্জের আরেক পাইকার মিন্টু সওদাগর জানান, কয়েক দিনে স্থলবন্দরগুলো দিয়ে পেঁয়াজ এসেছে।

এসব পেঁয়াজ আমদানিকারকরা মজুদ করেছেন। এছাড়া আগের এলসি করা আরও কিছু পেঁয়াজ ট্রাকে বোঝাই হয়ে ওপারে আটকে রয়েছে। এগুলোও হয়তো আসবে।

তাই স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানিকারকরা যেন পেঁয়াজ মজুদ করে রাখতে না পারেন, সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার, আতুরার ডিপো হাশেম বাজার, বহদ্দরাহাট, রিয়াজ উদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংকট হবে মনে করে ক্রেতাদের অনেকে ৫-১০ কেজি করে কিনছেন। বেশি করে কিনে রাখার প্রবণতার কারণে চাহিদা বেড়ে গেছে। আর এ সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন আমদানিকারক, আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা।
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : পেঁয়াজের বাজার আবারও অস্থির

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০