কানাডা নেয়ার নাম করে ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ
jugantor
‘বয়স্ক পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন
কানাডা নেয়ার নাম করে ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমেরিকা-কানাডার সিটিজেন, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী- এমন পরিচয়ে পত্রিকায় পাত্র চেয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ৩০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস নামের (৩৮) এক প্রতারক। নিজেকে ‘নামাজি পাত্রী’ ও ‘ডিভোর্সী’ পরিচয়ে কানাডায় ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা দেখভালের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিত সে। এসএসসি পাস না করলেও পোশাক ও কথাবার্তায় ‘স্মার্টনেস’র কারণে তার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকে। আর এ কাজে সহযোগী তার দ্বিতীয় স্বামী। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাদের ২০ কোটি টাকার জমিসহ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

শুক্রবার প্রতারক জান্নাতুল ফেরদৌসকে গ্রেফতারের খবর জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, ৯ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। এতে বলা হয়েছে- প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, কানাডার সিটিজেন ডিভোর্সী সন্তানহীন বয়স ৩৭, ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা, নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চাই। যোগাযোগের জন্য বারিধারার একটি ঠিকানা ও একটি মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। বিজ্ঞাপন দেখে মো. নাজির হোসেন নামের একজন ওই মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। এরপর জান্নাত তাকে ফাঁদে ফেলে নানা কায়দায় হাতিয়ে নেন ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, নাজির হোসেন ১২ জুলাই গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করেন। সেখানে তাকে ১৫ হাজার টাকা ও পাসপোর্ট দেন। পরে জান্নাত বলেন, ‘কানাডায় অনেক শীত, তুমি থাকতে পারবা না। আমার টাকাগুলো তোমার নামে বাংলাদেশে নিয়ে আসি। তুমি ব্যবসা করবা ওই টাকা দিয়ে।’ এ প্রলোভন দেখিয়ে নাজিরের কাছ থেকে বিভিন্ন তারিখে ট্যাক্স/ভ্যাট/ডিএইচএল বিল বাবদ ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ফোন বন্ধ করে রাখে জান্নাতুল ফেরদৌস। সিআইডিতে অভিযোগ জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করি। একপর্যায়ে দখতে পাই, আরও অনেকেই তার সঙ্গে কানাডায় যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন এবং দেখাও করেন। এভাবেই এ চক্র বিভিন্নজনের থেকে পাঁচ-বিশ লাখ করে আনুমানিক ২৫-৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

সিআইডি আরও জানায়, গত ১০ বছর ধরে পত্রিকায় এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন জান্নাতুল। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের অনেক পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, ৩টি মেমোরি কার্ড, ৭টি সিল, অসংখ্য সিম ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৪৮ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার স্লিপ উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, তার একটি হিসাবের খাতা জব্দ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার হিসাব পেয়েছি। তার চারটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। সেগুলোতে ১ কোটি টাকা পেয়েছি। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়ে গেলে সে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখে। এ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া সাদিয়া জান্নাতের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাহাদুরপুরে।

‘বয়স্ক পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন

কানাডা নেয়ার নাম করে ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমেরিকা-কানাডার সিটিজেন, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী- এমন পরিচয়ে পত্রিকায় পাত্র চেয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ৩০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস নামের (৩৮) এক প্রতারক। নিজেকে ‘নামাজি পাত্রী’ ও ‘ডিভোর্সী’ পরিচয়ে কানাডায় ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা দেখভালের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিত সে। এসএসসি পাস না করলেও পোশাক ও কথাবার্তায় ‘স্মার্টনেস’র কারণে তার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকে। আর এ কাজে সহযোগী তার দ্বিতীয় স্বামী। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাদের ২০ কোটি টাকার জমিসহ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

শুক্রবার প্রতারক জান্নাতুল ফেরদৌসকে গ্রেফতারের খবর জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, ৯ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। এতে বলা হয়েছে- প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, কানাডার সিটিজেন ডিভোর্সী সন্তানহীন বয়স ৩৭, ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা, নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চাই। যোগাযোগের জন্য বারিধারার একটি ঠিকানা ও একটি মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। বিজ্ঞাপন দেখে মো. নাজির হোসেন নামের একজন ওই মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। এরপর জান্নাত তাকে ফাঁদে ফেলে নানা কায়দায় হাতিয়ে নেন ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, নাজির হোসেন ১২ জুলাই গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করেন। সেখানে তাকে ১৫ হাজার টাকা ও পাসপোর্ট দেন। পরে জান্নাত বলেন, ‘কানাডায় অনেক শীত, তুমি থাকতে পারবা না। আমার টাকাগুলো তোমার নামে বাংলাদেশে নিয়ে আসি। তুমি ব্যবসা করবা ওই টাকা দিয়ে।’ এ প্রলোভন দেখিয়ে নাজিরের কাছ থেকে বিভিন্ন তারিখে ট্যাক্স/ভ্যাট/ডিএইচএল বিল বাবদ ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ফোন বন্ধ করে রাখে জান্নাতুল ফেরদৌস। সিআইডিতে অভিযোগ জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করি। একপর্যায়ে দখতে পাই, আরও অনেকেই তার সঙ্গে কানাডায় যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন এবং দেখাও করেন। এভাবেই এ চক্র বিভিন্নজনের থেকে পাঁচ-বিশ লাখ করে আনুমানিক ২৫-৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

সিআইডি আরও জানায়, গত ১০ বছর ধরে পত্রিকায় এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন জান্নাতুল। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের অনেক পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, ৩টি মেমোরি কার্ড, ৭টি সিল, অসংখ্য সিম ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৪৮ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার স্লিপ উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, তার একটি হিসাবের খাতা জব্দ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার হিসাব পেয়েছি। তার চারটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। সেগুলোতে ১ কোটি টাকা পেয়েছি। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়ে গেলে সে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখে। এ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া সাদিয়া জান্নাতের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাহাদুরপুরে।