ওয়াসার কালো তালিকায় ৩ প্রতিষ্ঠান
jugantor
৩৭৫ কোটি টাকার কাজ পেতে জালিয়াতি
ওয়াসার কালো তালিকায় ৩ প্রতিষ্ঠান
তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে এডিবি, কারণ দর্শানোর নোটিশ ওয়াসার * এসব প্রতিষ্ঠান দেশের কোথাও যেন কাজ না পায়, তা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেব -প্রকল্প পরিচালক * দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ যাচ্ছে দুদকে

  মিজান মালিক  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা ওয়াসা

ঢাকা ওয়াসার পৌনে চারশ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতে তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। একই ঠিকানায় প্রতিষ্ঠান তিনটির অবস্থান। তারা ভিন্ন নামে দরপত্রে কমবেশি করে তা ওয়াসায় জমা দেয়। তাদের ফোন নম্বরও এক।

এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে তারা অনিয়ম করেছে। খোদ এডিবির অনুসন্ধানেই প্রতারণা ও জালিয়াতিগুলো বেরিয়ে এসেছে।

সংস্থাটির দুর্নীতিবিরোধী ও সততা নীতির বরখেলাপ হওয়ায় এই তিন প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে ৬ মাস এবং পরে তিন বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে এডিবি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে দুদকেও অভিযোগ যাচ্ছে।

এডিবির অর্থায়নে ‘ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের’ (ডিডব্লিউএসএনআইপি) ৩৭৫ কোটি টাকার কাজ পেতে এসব অনিয়মের আশ্রয় নেয় তারা।

জালিয়াতি খুঁজে পাওয়ার পর এডিবির পক্ষ থেকে ওয়াসাকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে, কালো তালিকাভুক্ত ওই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কোনো প্রকল্পের কাজে অংশ নিতে পারবে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে- নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারমান আহসান হাবীব লেলিনের এসএ এন্টারপ্রাইজ (এসএই) ও পারুমা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (পারুমা) এবং মো. আতিক হোসেন রাব্বী ওরফে প্রকৌশলী নোবেলের জাহা এন্টারপ্রাইজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করেছি। তারা জবাব দিয়েছে।

তাদের জবাবের গ্রহণযোগ্যতা পর্যালোচনা করছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব। তিনি বলেন, এডিবি তাদের সিদ্ধান্ত আমাদের ভার্চুয়াল মিটিংয়ে জানিয়ে দিয়েছে।

কালো তালিকাভুক্ত তিন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান ওয়াসা বা বাংলাদেশে যেন কাজ করতে না পারে, তা আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেব।

দুদকের কাছে অভিযোগ পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সেখানে অবশ্যই সুপারিশ পাঠাব। প্রয়োজনে প্রশাসন আবার তাদের শোকজ করবে। অথবা যেটি করা হয়েছে সেটি বহাল রাখবে।

ওয়াসার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এডিবি দুদকের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে। কিংবা আমাদের প্রকল্প পরিচালক সুপারিশ করলে ওয়াসার প্রশাসন থেকেও অভিযোগ বা সুপারিশ পাঠানো হতে পারে।

জানা যায়, এ প্রকল্পের দরপত্রের জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ায় ১৭ জুলাই এডিবির অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড ইন্টিগ্রিটি সচিবালয়ের ইন্টিগ্রিটি কমিটির প্রধান ডেবিড বিনন্সের স্বাক্ষরে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খানকে ই-মেইল বার্তা পাঠানো হয়।

বার্তায় তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যান্ড (নিষিদ্ধ) করার বিষয় জানানো হয়।

ই-মেইল বার্তায় বলা হয়, এডিবির দুর্নীতিবিরোধী ও সততা নীতি (এআইও) অনুযায়ী ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ (ডিডব্লিউএসএনআইপি) প্রকল্পে (প্যাকেজ নম্বর-১০) এই তিনটি দরপত্র গ্রহণ করা হয়নি।

ওয়াসার মডস জোন ১ থেকে ১৯ পর্যন্ত ডিএমএস রিহ্যাবিলেটেশন অব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক ফর এনআরডব্লিউ রিডাকশন ইউথ ওএন্ডএম সাপোর্ট (৩৪১.৫৮ কিমি) কাজের বিষয়ে এডিবি অনুসন্ধান করে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা ও জালিয়াতি খুঁজে পেয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগে বলা হয়, তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা এক। তাদের ফোন নম্বর এক। শুধু দরপত্রে তারা কমবেশি করে তা ওয়াসায় দাখিল করে।

এডিবির দুর্নীতিবিরোধী নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে অর্থাৎ তারা এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত কোনো কাজে অংশ নিতে পারবে না।

এই সময়ের মধ্যে তারা কোনো ধরনের আপিলও করতে পারবে না। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তিন ঠিকাদারকে জানিয়ে দেবে। এডিবি তাদের নিষেধাজ্ঞার এই মেয়াদ আরও বাড়াতে পারবে।

এছাড়া এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের সঙ্গে করা চুক্তিপত্র বাতিল করতে পারবে।

অভিযোগের বিষয়ে নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লেলিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে তার ভাই ও নীলসাগর গ্রুপের নির্বহী পরিচালক আরমান হাবিব যুগান্তরকে জানান, তার ভাই দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে আসার পর ফোন চালু করেননি।

এডিবি ও ওয়াসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াসা শোকজ করেছে। আমরা জবাব দিয়েছি। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

এর আগে গত বছরের ১৭ জুলাই থেকে ১৯ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ২৬০ থেকে ২৬৩তম সভায় মূল এজেন্ডা ছিল ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের প্যাকেজ-১০ এ দরপত্রে অনিয়ম প্রসঙ্গে।

২৬০তম বোর্ড সভায় সদস্যরা দরপত্রে ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে পুনঃদরপত্র আহ্বানের পরামর্শ দেন। ওয়াসার এমডি অবহিত করেন, উল্লিখিত কাজের জন্য ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়।

এদের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানকে রেসপন্সিব বিডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দরপত্র খোলার পর দেখা যায়, সর্বনিম্ন দরদাতা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের (স্বার্থসংশ্লিষ্ট পরস্পর যোগসাজশ) করার কারণে বাদ পড়েছে।

রি-টেন্ডারের বিষয়ে এডিবির মতামত নেয়া জরুরি বলে সভাকে জানান হয়। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এডিবির মতামত চায়।

একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর ২৬১তম বোর্ড সভায় বলা হয়, এডিবির মতামত অনুযায়ী ১০ নম্বর প্যাকেজের ৩৭৫ কোটি ৩৭ লাখ ১৬ হাজার ৭১৬ টাকার কাজ চায়না কনস্ট্রাকশন সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো আরএফএল প্লাস্টিক লিমিটেড (সিসিএসইবি-আরএফএল জেভি) দেয়ার বিষয়ে অনুমোদন চাওয়া হয়।

১৬২তম সভায় বলা হয়, প্যাকেজ-১০ এর কাজ সিসিএসইবি-আরএফএল জেভিকে অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।

৩৭৫ কোটি টাকার কাজ পেতে জালিয়াতি

ওয়াসার কালো তালিকায় ৩ প্রতিষ্ঠান

তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে এডিবি, কারণ দর্শানোর নোটিশ ওয়াসার * এসব প্রতিষ্ঠান দেশের কোথাও যেন কাজ না পায়, তা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেব -প্রকল্প পরিচালক * দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ যাচ্ছে দুদকে
 মিজান মালিক 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা ওয়াসা
ফাইল ছবি

ঢাকা ওয়াসার পৌনে চারশ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতে তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। একই ঠিকানায় প্রতিষ্ঠান তিনটির অবস্থান। তারা ভিন্ন নামে দরপত্রে কমবেশি করে তা ওয়াসায় জমা দেয়। তাদের ফোন নম্বরও এক।

এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে তারা অনিয়ম করেছে। খোদ এডিবির অনুসন্ধানেই প্রতারণা ও জালিয়াতিগুলো বেরিয়ে এসেছে।

সংস্থাটির দুর্নীতিবিরোধী ও সততা নীতির বরখেলাপ হওয়ায় এই তিন প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে ৬ মাস এবং পরে তিন বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে এডিবি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে দুদকেও অভিযোগ যাচ্ছে।

এডিবির অর্থায়নে ‘ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের’ (ডিডব্লিউএসএনআইপি) ৩৭৫ কোটি টাকার কাজ পেতে এসব অনিয়মের আশ্রয় নেয় তারা।

জালিয়াতি খুঁজে পাওয়ার পর এডিবির পক্ষ থেকে ওয়াসাকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে, কালো তালিকাভুক্ত ওই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কোনো প্রকল্পের কাজে অংশ নিতে পারবে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে- নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারমান আহসান হাবীব লেলিনের এসএ এন্টারপ্রাইজ (এসএই) ও পারুমা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (পারুমা) এবং মো. আতিক হোসেন রাব্বী ওরফে প্রকৌশলী নোবেলের জাহা এন্টারপ্রাইজ। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করেছি। তারা জবাব দিয়েছে।

তাদের জবাবের গ্রহণযোগ্যতা পর্যালোচনা করছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব। তিনি বলেন, এডিবি তাদের সিদ্ধান্ত আমাদের ভার্চুয়াল মিটিংয়ে জানিয়ে দিয়েছে।

কালো তালিকাভুক্ত তিন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান ওয়াসা বা বাংলাদেশে যেন কাজ করতে না পারে, তা আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেব।

দুদকের কাছে অভিযোগ পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সেখানে অবশ্যই সুপারিশ পাঠাব। প্রয়োজনে প্রশাসন আবার তাদের শোকজ করবে। অথবা যেটি করা হয়েছে সেটি বহাল রাখবে।

ওয়াসার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এডিবি দুদকের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে। কিংবা আমাদের প্রকল্প পরিচালক সুপারিশ করলে ওয়াসার প্রশাসন থেকেও অভিযোগ বা সুপারিশ পাঠানো হতে পারে। 

জানা যায়, এ প্রকল্পের দরপত্রের জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ায় ১৭ জুলাই এডিবির অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড ইন্টিগ্রিটি সচিবালয়ের ইন্টিগ্রিটি কমিটির প্রধান ডেবিড বিনন্সের স্বাক্ষরে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খানকে ই-মেইল বার্তা পাঠানো হয়।

বার্তায় তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যান্ড (নিষিদ্ধ) করার বিষয় জানানো হয়।

ই-মেইল বার্তায় বলা হয়, এডিবির দুর্নীতিবিরোধী ও সততা নীতি (এআইও) অনুযায়ী ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ (ডিডব্লিউএসএনআইপি) প্রকল্পে (প্যাকেজ নম্বর-১০) এই তিনটি দরপত্র গ্রহণ করা হয়নি।

ওয়াসার মডস জোন ১ থেকে ১৯ পর্যন্ত ডিএমএস রিহ্যাবিলেটেশন অব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক ফর এনআরডব্লিউ রিডাকশন ইউথ ওএন্ডএম সাপোর্ট (৩৪১.৫৮ কিমি) কাজের বিষয়ে এডিবি অনুসন্ধান করে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা ও জালিয়াতি খুঁজে পেয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগে বলা হয়, তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা এক। তাদের ফোন নম্বর এক। শুধু দরপত্রে তারা কমবেশি করে তা ওয়াসায় দাখিল করে। 

এডিবির দুর্নীতিবিরোধী নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে অর্থাৎ তারা এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত কোনো কাজে অংশ নিতে পারবে না।

এই সময়ের মধ্যে তারা কোনো ধরনের আপিলও করতে পারবে না। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তিন ঠিকাদারকে জানিয়ে দেবে। এডিবি তাদের নিষেধাজ্ঞার এই মেয়াদ আরও বাড়াতে পারবে।

এছাড়া এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের সঙ্গে করা চুক্তিপত্র বাতিল করতে পারবে।

অভিযোগের বিষয়ে নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লেলিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে তার ভাই ও নীলসাগর গ্রুপের নির্বহী পরিচালক আরমান হাবিব যুগান্তরকে জানান, তার ভাই দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে আসার পর ফোন চালু করেননি।

এডিবি ও ওয়াসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াসা শোকজ করেছে। আমরা জবাব দিয়েছি। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

এর আগে গত বছরের ১৭ জুলাই থেকে ১৯ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ২৬০ থেকে ২৬৩তম সভায় মূল এজেন্ডা ছিল ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের প্যাকেজ-১০ এ দরপত্রে অনিয়ম প্রসঙ্গে।

২৬০তম বোর্ড সভায় সদস্যরা দরপত্রে ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে পুনঃদরপত্র আহ্বানের পরামর্শ দেন। ওয়াসার এমডি অবহিত করেন, উল্লিখিত কাজের জন্য ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়।

এদের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানকে রেসপন্সিব বিডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দরপত্র খোলার পর দেখা যায়, সর্বনিম্ন দরদাতা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের (স্বার্থসংশ্লিষ্ট পরস্পর যোগসাজশ) করার কারণে বাদ পড়েছে।

রি-টেন্ডারের বিষয়ে এডিবির মতামত নেয়া জরুরি বলে সভাকে জানান হয়। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এডিবির মতামত চায়।

একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর ২৬১তম বোর্ড সভায় বলা হয়, এডিবির মতামত অনুযায়ী ১০ নম্বর প্যাকেজের ৩৭৫ কোটি ৩৭ লাখ ১৬ হাজার ৭১৬ টাকার কাজ চায়না কনস্ট্রাকশন সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো আরএফএল প্লাস্টিক লিমিটেড (সিসিএসইবি-আরএফএল জেভি) দেয়ার বিষয়ে অনুমোদন চাওয়া হয়।

১৬২তম সভায় বলা হয়, প্যাকেজ-১০ এর কাজ সিসিএসইবি-আরএফএল জেভিকে অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।