কোটিপতি গাড়িচালক আবদুল মালেক ১৪ দিনের রিমান্ডে
jugantor
কোটিপতি গাড়িচালক আবদুল মালেক ১৪ দিনের রিমান্ডে
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না : সচিব

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোটিপতি গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে হাজী আবদুল মালেকের (৬৩) বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলায় মোট ১৪ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এদিন বিকালে গাড়িচালক আবদুল মালেককে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে একটি বিশেষ সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সোমবার আসামি আবদুল মালেককে আদালতে হাজির করে অস্ত্র ও জাল টাকা উদ্ধারে বিশেষ ক্ষমতা আইনের পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তুরাগ থানার এসআই রুবেল শেখ আসামির রিমান্ডের এ আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়: আবদুল মালেক ডিজির (স্বাস্থ্য ও শিক্ষা) গাড়িচালক। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির সভাপতি হিসেবে ২০-২৫ বছর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মস্থলে তিনি খুবই প্রভাবশালী। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন জাল টাকার ব্যবসাসহ নিজ কর্মস্থলে সাংগঠনিক পদবিকে কাজে লাগিয়ে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। এ অবস্থায় মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, জাল টাকার উৎস এবং পলাতক আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেফতারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

রাষ্ট্রপক্ষে আসামির রিমান্ডের শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু। শুনানিতে তিনি বলেন, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও মালেক কোটি কোটি টাকার মালিক। অস্ত্র, জাল টাকা, চাঁদাবাজিসহ কর্মস্থলে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আসামি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার মূল রহস্য উদ্ঘটান হবে। অপরদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করা হয়। আইনজীবী জিএম মিজানুর রহমান আসামিপক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ডিজির গাড়িচালক হওয়ার কারণে মালেককে ফাঁসানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু লোক তাকে ফাঁসিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। শ্বাসকষ্টের রোগী। এমনকি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। আর মামলায় যা উদ্ধার হওয়ার, তা তো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

এদিকে শুনানি শেষে আদালত থেকে কোর্ট হাজতখানায় নেয়ার পথে আসামি মালেক উচ্চৈঃস্বরে বলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমি চক্রান্তের শিকার।

এর আগে রোববার ভোরে রাজধানীর তুরাগ থেকে মালেককে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওই সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ টাকার জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাব-১-এর পুলিশ পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই : স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে পার পাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি অনেকটা কমিয়ে আনা হয়েছে। আরও যেসব জায়গায় আছে সেগুলোও নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। সুতরাং স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। ভ্যাকসিন আমদানি প্রসঙ্গে সচিব জানান, বিশ্বে বর্তমানে ৯টি কোম্পানির টিকা আবিষ্কারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশের অন্তত ৫টি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। চীনের সিনোভ্যাক যে কোনো সময় ট্রায়াল শুরু করতে পারে। রাশিয়া বাংলাদেশেই তাদের ভ্যাকসিন উৎপাদন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভারত, রাশিয়ার ভ্যাকসিনের পাশাপাশি ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়েও কাজ চলছে। ফ্রান্স ও বেলজিয়াম ইতোমধ্যে তাদের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করেছে। ভ্যাকসিন আগে পেতে আর্থিকসহ সব রকম প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে। ভ্যাকসিন আমদানি করলে প্রথম পর্যায়ে কী পরিমাণ আমদানি করা হতে পারে-এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সচিব জানান, প্রাথমিকভাবে অন্তত আড়াই থেকে তিন মিলিয়ন ভ্যাক্সিন আমদানি করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

কোটিপতি গাড়িচালক আবদুল মালেক ১৪ দিনের রিমান্ডে

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না : সচিব
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোটিপতি গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে হাজী আবদুল মালেকের (৬৩) বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলায় মোট ১৪ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এদিন বিকালে গাড়িচালক আবদুল মালেককে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে একটি বিশেষ সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সোমবার আসামি আবদুল মালেককে আদালতে হাজির করে অস্ত্র ও জাল টাকা উদ্ধারে বিশেষ ক্ষমতা আইনের পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তুরাগ থানার এসআই রুবেল শেখ আসামির রিমান্ডের এ আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়: আবদুল মালেক ডিজির (স্বাস্থ্য ও শিক্ষা) গাড়িচালক। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির সভাপতি হিসেবে ২০-২৫ বছর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মস্থলে তিনি খুবই প্রভাবশালী। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন জাল টাকার ব্যবসাসহ নিজ কর্মস্থলে সাংগঠনিক পদবিকে কাজে লাগিয়ে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। এ অবস্থায় মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, জাল টাকার উৎস এবং পলাতক আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেফতারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

রাষ্ট্রপক্ষে আসামির রিমান্ডের শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু। শুনানিতে তিনি বলেন, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও মালেক কোটি কোটি টাকার মালিক। অস্ত্র, জাল টাকা, চাঁদাবাজিসহ কর্মস্থলে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আসামি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার মূল রহস্য উদ্ঘটান হবে। অপরদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করা হয়। আইনজীবী জিএম মিজানুর রহমান আসামিপক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ডিজির গাড়িচালক হওয়ার কারণে মালেককে ফাঁসানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু লোক তাকে ফাঁসিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। শ্বাসকষ্টের রোগী। এমনকি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। আর মামলায় যা উদ্ধার হওয়ার, তা তো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

এদিকে শুনানি শেষে আদালত থেকে কোর্ট হাজতখানায় নেয়ার পথে আসামি মালেক উচ্চৈঃস্বরে বলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমি চক্রান্তের শিকার।

এর আগে রোববার ভোরে রাজধানীর তুরাগ থেকে মালেককে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওই সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ টাকার জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাব-১-এর পুলিশ পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই : স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে পার পাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি অনেকটা কমিয়ে আনা হয়েছে। আরও যেসব জায়গায় আছে সেগুলোও নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। সুতরাং স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। ভ্যাকসিন আমদানি প্রসঙ্গে সচিব জানান, বিশ্বে বর্তমানে ৯টি কোম্পানির টিকা আবিষ্কারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশের অন্তত ৫টি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। চীনের সিনোভ্যাক যে কোনো সময় ট্রায়াল শুরু করতে পারে। রাশিয়া বাংলাদেশেই তাদের ভ্যাকসিন উৎপাদন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভারত, রাশিয়ার ভ্যাকসিনের পাশাপাশি ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়েও কাজ চলছে। ফ্রান্স ও বেলজিয়াম ইতোমধ্যে তাদের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করেছে। ভ্যাকসিন আগে পেতে আর্থিকসহ সব রকম প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে। ভ্যাকসিন আমদানি করলে প্রথম পর্যায়ে কী পরিমাণ আমদানি করা হতে পারে-এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সচিব জানান, প্রাথমিকভাবে অন্তত আড়াই থেকে তিন মিলিয়ন ভ্যাক্সিন আমদানি করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।