ধর্ষণে সহযোগিতার আরেকটি মামলা নূরের বিরুদ্ধে
jugantor
ধর্ষণে সহযোগিতার আরেকটি মামলা নূরের বিরুদ্ধে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণে সহযোগিতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

২ দিনে নূরের বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। সোমবার রাতে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় করা এ মামলায় নূর ছাড়াও ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নূরের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পুলিশ তদন্ত করছে।

আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ১৩ অক্টোবর এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

তবে এ মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে।

এর আগে রোববার লালবাগ থানায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে নূরের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী মামলা করেছিলেন সোমবার রাতের মামলার বাদীও তিনি-ই।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ছয়জনকে আসামি করে সোমবার মামলা করা হয়েছে।

এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগকে (২৮)।

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ২ নম্বর আসামি, যাকে লালবাগের মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। লালবাগের মামলার মতো কোতোয়ালির মামলাতেও নূরের নাম এসেছে ৩ নম্বরে।

বাকি ৩ আসামি হলেন- পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) এবং কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ হিল বাকি (২৩)।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেছেন, লালবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী মামলা করেছিলেন, তিনি-ই কোতোয়ালি থানার দ্বিতীয় মামলা করেছেন।

তবে ঘটনা দুটি ভিন্ন। তিনি বলেন, কোতোয়ালি থানায় করা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্র হননের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাদীর ভাষ্য, একই বিভাগে পড়া এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে থাকার কারণে হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে।

এর সুযোগ নিয়ে মামুন চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তার লালবাগের বাসায় নিয়ে তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন। এ অভিযোগেই তিনি লালবাগ থানার মামলাটি করেন।

আর কোতোয়ালি থানার মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ওই ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহাগ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

সুস্থ হওয়ার পর মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন ওই তরুণী। তখন সোহাগ তাকে ‘সহযোগিতার আশ্বাস’ দেন এবং মামুনের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে সদরঘাট হয়ে ‘লঞ্চে চাঁদপুরে’ নিয়ে যান।

কিন্তু চাঁদপুরে মামুনকে না পেয়ে ওই ছাত্রীর সন্দেহ হয়। সেখান থেকে ফেরার পথে লঞ্চে সোহাগ তাকে ‘ধর্ষণ করেন’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

এজাহারে বলা হয়, এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ওই তরুণী নূরের সঙ্গে দেখা করেন। নূর তাকে প্রথমে ‘মীমাংসা’ করে দেয়ার আশ্বাস দিলেও পরে ‘বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানি করার’ হুমকি দেন।

মামলা প্রত্যাহার চেয়ে বিক্ষোভ : ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ অভিযোগ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ।

দাবি আদায়ে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তারা। তাদের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় আটকের সময় নুরুল হকসহ অন্তত দশ নেতাকর্মী পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কিছু ব্যক্তির হামলায় আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা ওই হামলাকারীকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। তারা এরকম হামলা না করার নিশ্চয়তা চান। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ।

এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে তারা হাইকোর্টের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনার ও টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে আবারও সমাবেশ করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সমাবেশে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, হামলা-মামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। আগেও বহুবার হয়েছে।

কিন্তু এসব করে তাদের দাবিয়ে রাখা যাবে না। নুরুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ার পর সে নিজেই রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন।

কিন্তু পুলিশ এবং তাদের সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকধারী কিছু ব্যক্তি রড, হকিস্টিক দিয়ে তাকেসহ নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করেছে।

পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, সরকার যদি তাদের দমন করে ফেলে তাহলে এ দেশে আর কেউ কখনও প্রতিবাদ করতে পারবে না।

সোমবারের হামলায় তাদের দশজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন দাবি করে তিনি সবাইকে মিথ্যা মামলা ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে স্বৈরাচারী সরকার তাদের গদি টিকিয়ে রাখতে চায়।

যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. আতাউল্লাহ বলেন, আর কোনো মিথ্যা মামলা দেয়া হলে বা হামলা করা হলে ঢাকা শহর অচল করে দেয়ার কর্মসূচি দেয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মানববন্ধন : পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালী প্রেস ক্লাব চত্বরে মঙ্গলবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে জেলা ছাত্র ও যুব পরিষদ।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।

প্রায় ৩০ মিনিট কর্মসূচি চলার পর ছাত্রলীগের ২০-২৫ নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সংগঠনের অন্তত ৫ জন আহত হন।

মুহূর্তেই মানববন্ধন কর্মসূচি পণ্ড হয়ে হয়ে যায়। হামলায় নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীরুল ইসলাম জানান, অকথ্য ভাষায় বক্তব্য দেয়া হচ্ছিল। এছাড়া সিলেট, বরিশাল ও জামালপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে।

ধর্ষণে সহযোগিতার আরেকটি মামলা নূরের বিরুদ্ধে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণে সহযোগিতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

২ দিনে নূরের বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। সোমবার রাতে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় করা এ মামলায় নূর ছাড়াও ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নূরের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পুলিশ তদন্ত করছে।

আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ১৩ অক্টোবর এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

তবে এ মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে।

এর আগে রোববার লালবাগ থানায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে নূরের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী মামলা করেছিলেন সোমবার রাতের মামলার বাদীও তিনি-ই।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ছয়জনকে আসামি করে সোমবার মামলা করা হয়েছে।

এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগকে (২৮)।

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ২ নম্বর আসামি, যাকে লালবাগের মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। লালবাগের মামলার মতো কোতোয়ালির মামলাতেও নূরের নাম এসেছে ৩ নম্বরে।

বাকি ৩ আসামি হলেন- পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) এবং কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ হিল বাকি (২৩)।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেছেন, লালবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী মামলা করেছিলেন, তিনি-ই কোতোয়ালি থানার দ্বিতীয় মামলা করেছেন।

তবে ঘটনা দুটি ভিন্ন। তিনি বলেন, কোতোয়ালি থানায় করা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্র হননের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। 

বাদীর ভাষ্য, একই বিভাগে পড়া এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে থাকার কারণে হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে।

এর সুযোগ নিয়ে মামুন চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তার লালবাগের বাসায় নিয়ে তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন। এ অভিযোগেই তিনি লালবাগ থানার মামলাটি করেন।

আর কোতোয়ালি থানার মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ওই ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহাগ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

সুস্থ হওয়ার পর মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন ওই তরুণী। তখন সোহাগ তাকে ‘সহযোগিতার আশ্বাস’ দেন এবং মামুনের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে সদরঘাট হয়ে ‘লঞ্চে চাঁদপুরে’ নিয়ে যান।

কিন্তু চাঁদপুরে মামুনকে না পেয়ে ওই ছাত্রীর সন্দেহ হয়। সেখান থেকে ফেরার পথে লঞ্চে সোহাগ তাকে ‘ধর্ষণ করেন’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

এজাহারে বলা হয়, এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ওই তরুণী নূরের সঙ্গে দেখা করেন। নূর তাকে প্রথমে ‘মীমাংসা’ করে দেয়ার আশ্বাস দিলেও পরে ‘বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানি করার’ হুমকি দেন। 

মামলা প্রত্যাহার চেয়ে বিক্ষোভ : ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ অভিযোগ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ।

দাবি আদায়ে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তারা। তাদের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় আটকের সময় নুরুল হকসহ অন্তত দশ নেতাকর্মী পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কিছু ব্যক্তির হামলায় আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা ওই হামলাকারীকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। তারা এরকম হামলা না করার নিশ্চয়তা চান। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ।

এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে তারা হাইকোর্টের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনার ও টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে আবারও সমাবেশ করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সমাবেশে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, হামলা-মামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। আগেও বহুবার হয়েছে।

কিন্তু এসব করে তাদের দাবিয়ে রাখা যাবে না। নুরুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ার পর সে নিজেই রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন।

কিন্তু পুলিশ এবং তাদের সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকধারী কিছু ব্যক্তি রড, হকিস্টিক দিয়ে তাকেসহ নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করেছে।

পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, সরকার যদি তাদের দমন করে ফেলে তাহলে এ দেশে আর কেউ কখনও প্রতিবাদ করতে পারবে না।

সোমবারের হামলায় তাদের দশজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন দাবি করে তিনি সবাইকে মিথ্যা মামলা ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে স্বৈরাচারী সরকার তাদের গদি টিকিয়ে রাখতে চায়।

যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. আতাউল্লাহ বলেন, আর কোনো মিথ্যা মামলা দেয়া হলে বা হামলা করা হলে ঢাকা শহর অচল করে দেয়ার কর্মসূচি দেয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মানববন্ধন : পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালী প্রেস ক্লাব চত্বরে মঙ্গলবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে জেলা ছাত্র ও যুব পরিষদ।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।

প্রায় ৩০ মিনিট কর্মসূচি চলার পর ছাত্রলীগের ২০-২৫ নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সংগঠনের অন্তত ৫ জন আহত হন।

মুহূর্তেই মানববন্ধন কর্মসূচি পণ্ড হয়ে হয়ে যায়। হামলায় নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীরুল ইসলাম জানান, অকথ্য ভাষায় বক্তব্য দেয়া হচ্ছিল। এছাড়া সিলেট, বরিশাল ও জামালপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে।