মসজিদের বিস্ফোরণে দায় নেই ডিপিডিসির
jugantor
ঢাকা পাওয়ারের প্রতিবেদন
মসজিদের বিস্ফোরণে দায় নেই ডিপিডিসির
আরও একজনের মৃত্যু তল্লায় মৃতের সংখ্যা ৩৪ * অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ * গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল মসজিদ

  উবায়দুল্লাহ বাদল  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের তল্লার মসজিদে বিস্ফোরণে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) কোনো দায় নেই। এর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতাও মেলেনি।

তবে সেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়টি তদন্ত করে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে। এমন মন্তব্য করে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) গঠিত কমিটি। এতে বলা হয়েছে, মসজিদটি গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল।

বৈদ্যুতিক সুইচ অন-অফ বা অন্য কোনোভাবে জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এলে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এশার নামাজ চলার সময়ই এসি চালু করা হয়। সব জানালা-দরজা বন্ধ থাকায় গ্যাস বাইরে আসতে পারেনি।

রোববার বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় মঙ্গলবার আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

গত ৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ড হয়। এ ঘটনায় ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। একজনকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। শঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জন এখনও বার্ন ইউনিটে আছেন।

ঘটনা তদন্তে ওইদিনই এনওসিএস (নর্থ)-এর প্রধান প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ।

কমিটি ৫, ৬ এবং ৮ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শী, গণমাধ্যমের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদ্যুতিক সংযোগের ক্ষেত্রে মসজিদে ডুয়েল সোর্স রয়েছে। যার একটি অনুমোদিত আর অপরটি অননুমোদিতভাবে নেয়া হয়েছে।

যা নিউ হাজীগঞ্জ ১১ কেভি ফিডার থেকে চেঞ্জওভারের মাধ্যমে মিটারবিহীনভাবে অবৈধ সিঙ্গেল ফেইজ সংযোগ নেয়া। এক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট ডিপিডিসি’র অফিস কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।

এক্ষেত্রে একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদে গ্যাস জমা হয়েছিল।

সেখানে যে কোনোভাবে আগুন লেগে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে নারায়ণগঞ্জের ডিপিডিসি অফিস কেন মসজিদের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি বা ব্যবস্থা নেয়নি সে বিষয়ে তদন্ত করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

এর আগে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ বিভাগে জমা দেয়। তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক আবদুল ওহাবের নেতৃত্বাধীন কমিটিও এ ঘটনায় তিতাসের কোনো দায় নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়তুস সালাত মসজিদের বেসমেন্টের নিচে পুরনো ও পরিত্যক্ত পাইপলাইনে গ্যাসের লিকেজ শনাক্ত হয়েছে।

তাদের মতে, মসজিদটি নির্মাণের সময় গ্যাসের পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং সেখানে পরে লিকেজের সৃষ্টি হয়। ওই লিকেজ থেকেই গ্যাস বের হয়ে মসজিদে প্রবেশ করছিল।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু : মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৪।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ জন। তাদের অবস্থাও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. সিফাত (১৮)। তিনি ফতুল্লার নিউখানপুর ব্যাংক কলোনির আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

ইন্সটিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান, সিফাতের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়েছিল। শ্বাসনালিও পুড়ে গিয়েছিল।

তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোহাম্মদ কেনান (২৪) ও আমজাদ (৩৭) নামে দু’জন। তারাও শঙ্কামুক্ত এটা বলা যাচ্ছে না।

ঢাকা পাওয়ারের প্রতিবেদন

মসজিদের বিস্ফোরণে দায় নেই ডিপিডিসির

আরও একজনের মৃত্যু তল্লায় মৃতের সংখ্যা ৩৪ * অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ * গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল মসজিদ
 উবায়দুল্লাহ বাদল 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের তল্লার মসজিদে বিস্ফোরণে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) কোনো দায় নেই। এর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতাও মেলেনি।

তবে সেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়টি তদন্ত করে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে। এমন মন্তব্য করে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) গঠিত কমিটি। এতে বলা হয়েছে, মসজিদটি গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল।

বৈদ্যুতিক সুইচ অন-অফ বা অন্য কোনোভাবে জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এলে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এশার নামাজ চলার সময়ই এসি চালু করা হয়। সব জানালা-দরজা বন্ধ থাকায় গ্যাস বাইরে আসতে পারেনি।

রোববার বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় মঙ্গলবার আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

গত ৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ড হয়। এ ঘটনায় ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। একজনকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। শঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জন এখনও বার্ন ইউনিটে আছেন।

ঘটনা তদন্তে ওইদিনই এনওসিএস (নর্থ)-এর প্রধান প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ।

কমিটি ৫, ৬ এবং ৮ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শী, গণমাধ্যমের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদ্যুতিক সংযোগের ক্ষেত্রে মসজিদে ডুয়েল সোর্স রয়েছে। যার একটি অনুমোদিত আর অপরটি অননুমোদিতভাবে নেয়া হয়েছে।

যা নিউ হাজীগঞ্জ ১১ কেভি ফিডার থেকে চেঞ্জওভারের মাধ্যমে মিটারবিহীনভাবে অবৈধ সিঙ্গেল ফেইজ সংযোগ নেয়া। এক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট ডিপিডিসি’র অফিস কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।

এক্ষেত্রে একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদে গ্যাস জমা হয়েছিল।

সেখানে যে কোনোভাবে আগুন লেগে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে নারায়ণগঞ্জের ডিপিডিসি অফিস কেন মসজিদের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি বা ব্যবস্থা নেয়নি সে বিষয়ে তদন্ত করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

এর আগে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ বিভাগে জমা দেয়। তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক আবদুল ওহাবের নেতৃত্বাধীন কমিটিও এ ঘটনায় তিতাসের কোনো দায় নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়তুস সালাত মসজিদের বেসমেন্টের নিচে পুরনো ও পরিত্যক্ত পাইপলাইনে গ্যাসের লিকেজ শনাক্ত হয়েছে।

তাদের মতে, মসজিদটি নির্মাণের সময় গ্যাসের পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং সেখানে পরে লিকেজের সৃষ্টি হয়। ওই লিকেজ থেকেই গ্যাস বের হয়ে মসজিদে প্রবেশ করছিল।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু : মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৪।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ জন। তাদের অবস্থাও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. সিফাত (১৮)। তিনি ফতুল্লার নিউখানপুর ব্যাংক কলোনির আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

ইন্সটিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান, সিফাতের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়েছিল। শ্বাসনালিও পুড়ে গিয়েছিল।

তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোহাম্মদ কেনান (২৪) ও আমজাদ (৩৭) নামে দু’জন। তারাও শঙ্কামুক্ত এটা বলা যাচ্ছে না।
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ