সাহেদ ও স্বাস্থ্যের ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
jugantor
রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি
সাহেদ ও স্বাস্থ্যের ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সংঘবদ্ধ চক্রটি সরকারি ২ কোটি টাকা আত্মসাতের চক্রান্ত করে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

যে কোনো সময় মামলাটি দুদক কার্যালয়ে করা হবে। লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তর দেখিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক মামলাটি করছে।

রিজেন্টের ঘটনায় স্বাস্থ্যের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের এটাই প্রথম মামলা। সাহেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানও করছে দুদক। এছাড়া হাসপাতালের অনুমোদন নিয়ে জালিয়াতির আরও একটি অনুসন্ধান চলছে।

অনিয়মের এ ঘটনায় সাবেক (সদ্য বিদায়ী) একজন পরিচালকসহ ৪ কর্মকর্তাকে আসামি করা হলেও এতে স্বাস্থ্যের সদ্য বিদায়ী মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ প্রভাবশালীদের নাম নেই।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের উদ্যোগ নেয়। দুদক সচিব বলেছেন, মাস্ক কেলেঙ্কারি, হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহসহ আরও কিছু বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

অনুসন্ধানে যাদের নাম আসবে তারা আসামি হবেন। বুধবার কমিশন সভায় সাহেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়।

অন্য আসামিরা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. দিদারুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার অভিপ্রায়ে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন।

তারা রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পাদন করেন।

তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করে অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগী প্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।

তারা যোগসাজশ করে রিজেন্ট হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বাবদ ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরেন।

এমনকি বিষয়টি তারা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন। যা দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের (ক্ষমতার অপব্যবহার) ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মামলায় উল্লেখ করা হয়- মো. সাহেদ চলতি বছর ৩০ এপ্রিল রিজেন্ট হাসপাতালের রোগী, নার্স ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ গ্রহণ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করেন।

এতে সহকারী পরিচালক ডা. শফিউর রহমানের ৪ মে’র নোটের প্রেক্ষিতে উপ-পরিচালক ডা. ইউনুস আলী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণের প্রস্তাবসহ ৫ মে নথিটি পরিচালকের (হাসপাতাল) কাছে উপস্থাপন করেন।

তাদের নোটের প্রেক্ষিতে পরিচালক ডা. আমিনুল হাসান ৬ মে নথিটি অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) কাছে উপস্থাপন করেন।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) এ নোটের সঙ্গে একমত পোষণ করে ৬ মে নথিটি মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করেন। মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ৬ মে এতে সম্মতি দেন।

৯ মে এমওইউসহ ডেডিকেটেড কোভিড রিজেন্ট হাসপাতাল মিরপুর ও উত্তরায় ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিবের (হাসপাতাল) কাছে পত্র পাঠান।

১২ ও ১ জুন মো. সাহেদ রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে এমওইউ পরিবর্তনসহ ইতিপূর্বে দাবিকৃত খরচ পরিশোধের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর বরাবর আবেদন করেন।

পরে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শাখা-১ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৩০ মে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখায় স্টাফদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে মহাপরিচালকের কাছে পত্র পাঠান।

পত্রে তিনি রিজেন্ট হাসপাতালের উভয় শাখায় স্টাফদের বিদ্যমান এমওইউর খসড়াসহ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব ৩ দিনের মধ্যে প্রেরণের অনুরোধ করেন।

সে প্রেক্ষিতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা ৯০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও মিরপুর শাখায় ১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরে বিল পরিশোধের জন্য আবেদন করেন।

ওই বিল পরিশোধের প্রস্তাব করে ডা. শফিউর রহমান ২ জুন নথি উপ-পরিচালকের (হাসপাতাল-২) কাছে উপস্থাপন করেন। উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-২) ডা. ইউনুস আলী ২ জুন ওই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করে নথিটি পরিচালকের (হাসপাতাল) কাছে উপস্থাপন করেন।

পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আমিনুল হাসান ২ জুন প্রস্তাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে নথিটি অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) কাছে পাঠান।

একই দিন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) তা অনুমোদন করে উপ-পরিচালকের (হাসপাতাল-২) কাছে পাঠান। এভাবে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

৬ জুন র‌্যাবের মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে রিজেন্টের বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ার পর ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে তাদের দুর্নীতি করার অপচেষ্টা প্রমাণিত হয়। এমওইউর শর্তবহির্ভূত অবৈধ খরচ দাবি করে ও তা আদায়ের কুমতলবে বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে সাহেদ বেআইনি কার্যক্রম সংঘটনের মাধ্যমে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

অন্য আসামিরা তাকে সহায়তা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। তিনিই মামলার বাদী।

রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি

সাহেদ ও স্বাস্থ্যের ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সংঘবদ্ধ চক্রটি সরকারি ২ কোটি টাকা আত্মসাতের চক্রান্ত করে
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

যে কোনো সময় মামলাটি দুদক কার্যালয়ে করা হবে। লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তর দেখিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক মামলাটি করছে।

রিজেন্টের ঘটনায় স্বাস্থ্যের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের এটাই প্রথম মামলা। সাহেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানও করছে দুদক। এছাড়া হাসপাতালের অনুমোদন নিয়ে জালিয়াতির আরও একটি অনুসন্ধান চলছে।

অনিয়মের এ ঘটনায় সাবেক (সদ্য বিদায়ী) একজন পরিচালকসহ ৪ কর্মকর্তাকে আসামি করা হলেও এতে স্বাস্থ্যের সদ্য বিদায়ী মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ প্রভাবশালীদের নাম নেই। 

মামলায় উল্লেখ করা হয়, রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের উদ্যোগ নেয়। দুদক সচিব বলেছেন, মাস্ক কেলেঙ্কারি, হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহসহ আরও কিছু বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

অনুসন্ধানে যাদের নাম আসবে তারা আসামি হবেন। বুধবার কমিশন সভায় সাহেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়।

অন্য আসামিরা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. দিদারুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার অভিপ্রায়ে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন। 

তারা রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পাদন করেন।

তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করে অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগী প্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।

তারা যোগসাজশ করে রিজেন্ট হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বাবদ ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরেন।

এমনকি বিষয়টি তারা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন। যা দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের (ক্ষমতার অপব্যবহার) ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মামলায় উল্লেখ করা হয়- মো. সাহেদ চলতি বছর ৩০ এপ্রিল রিজেন্ট হাসপাতালের রোগী, নার্স ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ গ্রহণ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করেন।

এতে সহকারী পরিচালক ডা. শফিউর রহমানের ৪ মে’র নোটের প্রেক্ষিতে উপ-পরিচালক ডা. ইউনুস আলী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণের প্রস্তাবসহ ৫ মে নথিটি পরিচালকের (হাসপাতাল) কাছে উপস্থাপন করেন।

তাদের নোটের প্রেক্ষিতে পরিচালক ডা. আমিনুল হাসান ৬ মে নথিটি অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) কাছে উপস্থাপন করেন।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) এ নোটের সঙ্গে একমত পোষণ করে ৬ মে নথিটি মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করেন। মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ৬ মে এতে সম্মতি দেন।

৯ মে এমওইউসহ ডেডিকেটেড কোভিড রিজেন্ট হাসপাতাল মিরপুর ও উত্তরায় ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিবের (হাসপাতাল) কাছে পত্র পাঠান।

১২ ও ১ জুন মো. সাহেদ রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে এমওইউ পরিবর্তনসহ ইতিপূর্বে দাবিকৃত খরচ পরিশোধের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর বরাবর আবেদন করেন। 

পরে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শাখা-১ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৩০ মে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখায় স্টাফদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে মহাপরিচালকের কাছে পত্র পাঠান।

পত্রে তিনি রিজেন্ট হাসপাতালের উভয় শাখায় স্টাফদের বিদ্যমান এমওইউর খসড়াসহ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব ৩ দিনের মধ্যে প্রেরণের অনুরোধ করেন।

সে প্রেক্ষিতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা ৯০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও মিরপুর শাখায় ১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরে বিল পরিশোধের জন্য আবেদন করেন।

ওই বিল পরিশোধের প্রস্তাব করে ডা. শফিউর রহমান ২ জুন নথি উপ-পরিচালকের (হাসপাতাল-২) কাছে উপস্থাপন করেন। উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-২) ডা. ইউনুস আলী ২ জুন ওই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করে নথিটি পরিচালকের (হাসপাতাল) কাছে উপস্থাপন করেন।

পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আমিনুল হাসান ২ জুন প্রস্তাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে নথিটি অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) কাছে পাঠান।

একই দিন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) তা অনুমোদন করে উপ-পরিচালকের (হাসপাতাল-২) কাছে পাঠান। এভাবে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

৬ জুন র‌্যাবের মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে রিজেন্টের বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ার পর ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে তাদের দুর্নীতি করার অপচেষ্টা প্রমাণিত হয়। এমওইউর শর্তবহির্ভূত অবৈধ খরচ দাবি করে ও তা আদায়ের কুমতলবে বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে সাহেদ বেআইনি কার্যক্রম সংঘটনের মাধ্যমে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

অন্য আসামিরা তাকে সহায়তা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। তিনিই মামলার বাদী।
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : রিজেন্ট গ্রুপ চেয়ারম্যান সাহেদ কাণ্ড