সিলেটে শাহ আরেফিন টিলা কেটে ধ্বংস, কমিটির সুপারিশ উপেক্ষিত
jugantor
১১ বছরে আদায় হয়নি ক্ষতিপূরণের ২৫০ কোটি টাকা
সিলেটে শাহ আরেফিন টিলা কেটে ধ্বংস, কমিটির সুপারিশ উপেক্ষিত
শাহ আরেফিন টিলা কেটে ধ্বংস: তদন্তে চিহ্নিত সেই শামীম এখন উপজেলা চেয়ারম্যান ও মোহাম্মদ আলী প্রভাবশালী ঠিকাদার * তথ্য গোপন করে আদালত থেকে সুবিধা নেয় পাথরখেকোরা * আইন লঙ্ঘন করে ১৫ বছর ধরে পাথর উত্তোলন করলেও নীরব ছিল স্থানীয় প্রশাসন ও বিএমডি * খোঁজ নিয়ে বিহিত ব্যবস্থা নেয়া হবে -পরিবেশমন্ত্রী

  নেসারুল হক খোকন, সিলেট থেকে ফিরে  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টিলা

সিলেটে কোম্পানীগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন শাহ আরেফিন টিলা কেটে ধ্বংস করার ঘটনায় গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ ১১ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি।

সেখানে পাথরখেকো চক্রের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫২ কোটি টাকা আদায়সহ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এছাড়া তিন বছর আগে আরেকটি কমিটি পরিবেশ ধ্বংসসহ টিলা কাটার জন্য বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম মিয়া এবং তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মৃত আবদুল বাছিরকে (শামীমের বাবা) দায়ী করে নয় দফা সুপারিশ করা হয়।

দুই কমিটির কোনো সুপারিশই অদ্যাবধি বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া দুই বছর আগে শামীমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ আদালতে চাজশিট জমা হয়।

শুধু তা-ই নয়, শাহ আরেফিন টিলা কাটার তথ্য গোপন করে একাধিকবার উচ্চ আদালতের আদেশ পেয়েছে পাথরখেকোরা। এক্ষেত্রে ওই চক্রটি সমতল ভূমির কথা বলে ১৫ বছর ধরে নির্বিঘ্নে টিলা কেটেছে।

কিন্তু সিলেট জেলা প্রশাসন বা খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) এটি রক্ষায় প্রকৃত চিত্র উপস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং পাথরখেকোদের বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন- এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এছাড়া এই টিলা সংরক্ষণে ১১ বছর আগে বর্তমান প্রধান বিচারপতির দেয়া আদেশও লঙ্ঘন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেই আদেশে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে ‘নীরব দর্শকের ভূমিকা’য় অবতীর্ণ হয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন ও বিএমডি’র সংশ্লিষ্টরা। ফলে সেই আরেফিন টিলা এখন শুধুই ইতিহাস।

টিলা কেটে পাথর নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে রয়েছে শুধু ৫৭টি গভীর গর্ত এবং হযরত শাহ আরেফিনের মাজারের অংশটুকু। সেখানে সুনসান নীরবতা। নেই কোনো পর্যটকও।

জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘২০০৯ সালে আড়াইশ’ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করার সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে বিহিত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, খনিজসম্পদ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা কিংবা যে কেউ পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

হযরত শাহ আরেফিনের নামে খ্যাত টিলাটি ধ্বংসের আগে ছিল সবুজ বৃক্ষরাজিতে পরিপূর্ণ। ছিল বিভিন্ন প্রজাতির পাখপাখালিসহ বন্যপ্রাণীর অবাদ বিচরণ ক্ষেত্র। মাজারটি জিয়ারত এবং পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ঘটত।

টিলার চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারদিকে সবুজে ঘেরা উপত্যকা, দূরে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, ধলাই নদী, ভারতীয় পাহাড়, ভারতীয় চুনাপাথর কোয়ারি, ভারতের চেরাপুঞ্জি, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ভারত থেকে চুনাপাথর আনার জন্য চলমান রোপওয়ে, সুউচ্চ ভারতীয় পাহাড়ে মেঘের খেলা এবং পাহাড় ঘেঁষে বয়ে চলা ঝরনার অপার দৃশ্য মানুষের হৃদয় কেড়ে নিত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালের আগস্টে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংসের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।

১০ সদস্যের ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম। ওই বছরের ১১ নভেম্বর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়।

সেখানে শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংসে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয় আড়াইশ’ কোটি টাকা। খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে লিজ (ইজারা) গ্রহীতা বশির অ্যান্ড কোম্পানির মালিক মো. আলীর কাছ থেকে এই টাকা আদায় করতে বলা হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও প্রস্তাব আছে প্রতিবেদনে।

কিন্তু গত ১১ বছরেও এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি নথি কোথায় আছে, তা জানেন না সংশ্লিষ্টরা।

তবে এ বিষয়ে যুগান্তরের অনুসন্ধানে মোহাম্মদ আলীর বশির অ্যান্ড কোম্পানির আগে আরও ৪ প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়ার নথিপত্র পাওয়া যায়। আলোচ্য তদন্ত প্রতিবেদনে এই প্রতিষ্ঠান মালিকদের আড়াল করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৯৯৯ সালে মেসার্স মোস্তাক আহমেদ এন্টারপ্রাইজ, ২০০০ সালে চৌধুরী সুলতান আহমদ এবং ছাতকের জয়নাল, ২০০২ সালে সিলেট জেলা বিএনপির প্রয়াত নেতা এমএ হকের স্ত্রী রওশন জাহান চৌধুরীর মালিকানাধীন মেসার্স রিয়াসাদ এন্টারপ্রাইজ এবং একই সময়ে বজলুল হককেও পৃথক ইজারা দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত নথিপত্রে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই সময় পাথরখেকোদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের একটি চিত্র পাওয়া গেছে। ওই সময় ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আড়ালও করা হয়।

এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরও ২০১৩ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক খান মোহাম্মদ বিল্লাল এই শাহ আরেফিন টিলার ৪০ হেক্টর পাহাড়ি ভূমি ইজারা দিতে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

এরপর প্রভাবশালী আরেকটি গ্রুপ নিজেদের স্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট করলে ইজারা স্থগিত করা হয়। অথচ ১৯৯৫ সালের পরিবেশ আইন ৬(খ) অনুযায়ী ইজারা টিলা বা পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ করা হয়।

এ বিষয়ে খণিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘ইজারা না দিলে কি পাথর তোলা বন্ধ হবে?’ পাল্টা প্রশ্ন করেন এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘গর্ত করে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এখন সব ধরনের ইজারা বন্ধ আছে।’ ইজারা বন্ধ থাকলেও পাথর কোয়ারি থেকে কি পাথর তোলা বন্ধ হয়েছে- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমরা দেখব না। এটা দেখবে স্থানীয় প্রশাসন। আইনে এভাবেই বলা আছে।’

অন্যদিকে ১৯৯৯ সালে টিলা এলাকার পাহাড়ি ভূমি ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গা সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করে বিএমডি। আর পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করেই শাহ আরেফিন টিলাকে ইজারা দেয় বিএমডি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে পুরো পাহাড়ি এলাকা ধ্বংস করার সুযোগ পায়।

সরেজমিন দেখা যায়, এ এলাকার প্রতিটি বাড়িতেই আছে ছোট ছোট পাথরের স্তূপ। আছে শক্তিশালী যন্ত্রচালিত মেশিনও। উত্তোলিত পাথর পরিবহনের জন্য প্রতিটি বাড়িতেই আছে ট্রলি, ট্রাক্টর। ধ্বংসাবশেষ টিলার পাশে শ্রমিকদের জন্য গড়ে উঠেছে একটি বাজারও, যা এখনও চালু আছে।

যেভাবে গোপন করা হয় প্রকৃত তথ্য : নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, কাগজে-কলমে বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। অবৈধভাবে পাথর তুলতে গিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ শ্রমিক নিহত হয়। এরপরই আবারও নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন।

তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিনি ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই প্রতিবেদনের এক স্থানে বলা হয় মেসার্স বশির অ্যান্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী আদালতে বিভিন্ন রিট নির্দেশনার অপব্যাখ্যা, আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আরেফিন টিলাকে ধ্বংস করেছেন।

২০০৯ সালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম শাহ আরেফিন টিলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ২৫২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ক্ষতি ধার্য করেন। এই টাকা রাষ্ট্রীয় পাওনা হিসেবে আদায়যোগ্য। শাহ আরেফিন টিলায় অপরিমেয় ক্ষতির জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রস্তুাব হয়। মো. আলীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের এই টাকা আদায়ের সুপারিশ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের এক স্থানে বলা হয়, একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমগ্র এলাকার অবৈধ পাথর ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হয়। রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়, প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) ২০০৯ সালে শাহ আরেফিন টিলা কাটার বিরুদ্ধে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করে।

ওই বছরের ২৫ আগস্ট শুনানি শেষে তৎকালীন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, যিনি বর্তমানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে শাহ আরেফিন টিলা কর্তনের দায়ে মো. আলীর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না এবং টিলা সংরক্ষণের ব্যাপারে কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পরিবেশ ধ্বংস করা হয়।

সিলেট জেলা প্রশাসক এম কাজী এমমদাদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বশির অ্যান্ড কোম্পানি আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ গোপন করে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত পাথর তোলার নির্দেশনা নিয়ে আসে।

রায়ের কপি হাতে পেয়ে প্রথমবারের মতো দ্রুত সময়ে সব তথ্যপ্রমাণ চেম্বার জজ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি মো. আলীর পক্ষে দেয়া আদেশ স্থগিত করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১১ বছর আগের প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) সিলেটের আঞ্চলিক সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা বলেন, বিএমডির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে শাহ আরেফিন টিলা। যদি বিএমডি এই পাহাড়ি এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের সুযোগ না দিত, তাহলে দৃষ্টিনন্দন এই পাহাড়ি এলাকার এভাবে সর্বনাশ হতো না।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আলী রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি তো ইজারা পরিশোধ করেই পাথর উত্তোলন করেছি। আড়াইশ’ কোটি আমার কাছ থেকে আদায় করতে যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে, সেটা আমি জানি না। দীর্ঘ ১১ বছরে আমাকে কেউ এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাও করেনি।’

উপজেলা চেয়ারম্যান : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ এখন উপজেলা চেয়ারম্যান। বিতর্কিত এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর সিলেট পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর পরিবেশ অধিদফতর শামীমকে প্রধান অভিযুক্ত করে ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। চার্জশিটে বলা হয়, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি সম্পদ লুণ্ঠন, পাহাড় টিলা কেটে অন্যায়ভাবে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন ও নদীর গতিপথ বন্ধ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ক্ষতি করেছেন।

অবৈধভাবে শাহ আরেফিন টিলা ও টিলার পার্শ্ববর্তী এলাকা গর্ত করে পাথর উত্তোলন করেছেন। এমনকি ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির ধলাই নদীতে অবৈধ বোমা মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলনের ফলে এলাকার ভূমি, জীববৈচিত্র, কৃষিজমির ক্ষতি ও পরিবেশ বিনষ্ট করেছেন, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি এই মামলায় জামিনে আছি। প্রতিপক্ষ এই মামলা করিয়েছে। এটা মিথ্যা অভিযোগ।’

১১ বছরে আদায় হয়নি ক্ষতিপূরণের ২৫০ কোটি টাকা

সিলেটে শাহ আরেফিন টিলা কেটে ধ্বংস, কমিটির সুপারিশ উপেক্ষিত

শাহ আরেফিন টিলা কেটে ধ্বংস: তদন্তে চিহ্নিত সেই শামীম এখন উপজেলা চেয়ারম্যান ও মোহাম্মদ আলী প্রভাবশালী ঠিকাদার * তথ্য গোপন করে আদালত থেকে সুবিধা নেয় পাথরখেকোরা * আইন লঙ্ঘন করে ১৫ বছর ধরে পাথর উত্তোলন করলেও নীরব ছিল স্থানীয় প্রশাসন ও বিএমডি * খোঁজ নিয়ে বিহিত ব্যবস্থা নেয়া হবে -পরিবেশমন্ত্রী
 নেসারুল হক খোকন, সিলেট থেকে ফিরে 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
টিলা
ফাইল ছবি

সিলেটে কোম্পানীগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন শাহ আরেফিন টিলা কেটে ধ্বংস করার ঘটনায় গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ ১১ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি।

সেখানে পাথরখেকো চক্রের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫২ কোটি টাকা আদায়সহ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এছাড়া তিন বছর আগে আরেকটি কমিটি পরিবেশ ধ্বংসসহ টিলা কাটার জন্য বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম মিয়া এবং তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মৃত আবদুল বাছিরকে (শামীমের বাবা) দায়ী করে নয় দফা সুপারিশ করা হয়।

দুই কমিটির কোনো সুপারিশই অদ্যাবধি বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া দুই বছর আগে শামীমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ আদালতে চাজশিট জমা হয়।

শুধু তা-ই নয়, শাহ আরেফিন টিলা কাটার তথ্য গোপন করে একাধিকবার উচ্চ আদালতের আদেশ পেয়েছে পাথরখেকোরা। এক্ষেত্রে ওই চক্রটি সমতল ভূমির কথা বলে ১৫ বছর ধরে নির্বিঘ্নে টিলা কেটেছে।

কিন্তু সিলেট জেলা প্রশাসন বা খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) এটি রক্ষায় প্রকৃত চিত্র উপস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং পাথরখেকোদের বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন- এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এছাড়া এই টিলা সংরক্ষণে ১১ বছর আগে বর্তমান প্রধান বিচারপতির দেয়া আদেশও লঙ্ঘন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেই আদেশে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে ‘নীরব দর্শকের ভূমিকা’য় অবতীর্ণ হয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন ও বিএমডি’র সংশ্লিষ্টরা। ফলে সেই আরেফিন টিলা এখন শুধুই ইতিহাস।

টিলা কেটে পাথর নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে রয়েছে শুধু ৫৭টি গভীর গর্ত এবং হযরত শাহ আরেফিনের মাজারের অংশটুকু। সেখানে সুনসান নীরবতা। নেই কোনো পর্যটকও।

জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘২০০৯ সালে আড়াইশ’ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করার সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে বিহিত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, খনিজসম্পদ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা কিংবা যে কেউ পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

হযরত শাহ আরেফিনের নামে খ্যাত টিলাটি ধ্বংসের আগে ছিল সবুজ বৃক্ষরাজিতে পরিপূর্ণ। ছিল বিভিন্ন প্রজাতির পাখপাখালিসহ বন্যপ্রাণীর অবাদ বিচরণ ক্ষেত্র। মাজারটি জিয়ারত এবং পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ঘটত।

টিলার চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারদিকে সবুজে ঘেরা উপত্যকা, দূরে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, ধলাই নদী, ভারতীয় পাহাড়, ভারতীয় চুনাপাথর কোয়ারি, ভারতের চেরাপুঞ্জি, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ভারত থেকে চুনাপাথর আনার জন্য চলমান রোপওয়ে, সুউচ্চ ভারতীয় পাহাড়ে মেঘের খেলা এবং পাহাড় ঘেঁষে বয়ে চলা ঝরনার অপার দৃশ্য মানুষের হৃদয় কেড়ে নিত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালের আগস্টে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংসের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।

১০ সদস্যের ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম। ওই বছরের ১১ নভেম্বর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়।

সেখানে শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংসে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয় আড়াইশ’ কোটি টাকা। খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে লিজ (ইজারা) গ্রহীতা বশির অ্যান্ড কোম্পানির মালিক মো. আলীর কাছ থেকে এই টাকা আদায় করতে বলা হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও প্রস্তাব আছে প্রতিবেদনে।

কিন্তু গত ১১ বছরেও এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি নথি কোথায় আছে, তা জানেন না সংশ্লিষ্টরা।

তবে এ বিষয়ে যুগান্তরের অনুসন্ধানে মোহাম্মদ আলীর বশির অ্যান্ড কোম্পানির আগে আরও ৪ প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়ার নথিপত্র পাওয়া যায়। আলোচ্য তদন্ত প্রতিবেদনে এই প্রতিষ্ঠান মালিকদের আড়াল করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৯৯৯ সালে মেসার্স মোস্তাক আহমেদ এন্টারপ্রাইজ, ২০০০ সালে চৌধুরী সুলতান আহমদ এবং ছাতকের জয়নাল, ২০০২ সালে সিলেট জেলা বিএনপির প্রয়াত নেতা এমএ হকের স্ত্রী রওশন জাহান চৌধুরীর মালিকানাধীন মেসার্স রিয়াসাদ এন্টারপ্রাইজ এবং একই সময়ে বজলুল হককেও পৃথক ইজারা দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত নথিপত্রে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই সময় পাথরখেকোদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের একটি চিত্র পাওয়া গেছে। ওই সময় ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আড়ালও করা হয়।

এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরও ২০১৩ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক খান মোহাম্মদ বিল্লাল এই শাহ আরেফিন টিলার ৪০ হেক্টর পাহাড়ি ভূমি ইজারা দিতে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

এরপর প্রভাবশালী আরেকটি গ্রুপ নিজেদের স্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট করলে ইজারা স্থগিত করা হয়। অথচ ১৯৯৫ সালের পরিবেশ আইন ৬(খ) অনুযায়ী ইজারা টিলা বা পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ করা হয়।

এ বিষয়ে খণিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘ইজারা না দিলে কি পাথর তোলা বন্ধ হবে?’ পাল্টা প্রশ্ন করেন এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘গর্ত করে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এখন সব ধরনের ইজারা বন্ধ আছে।’ ইজারা বন্ধ থাকলেও পাথর কোয়ারি থেকে কি পাথর তোলা বন্ধ হয়েছে- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমরা দেখব না। এটা দেখবে স্থানীয় প্রশাসন। আইনে এভাবেই বলা আছে।’

অন্যদিকে ১৯৯৯ সালে টিলা এলাকার পাহাড়ি ভূমি ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গা সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করে বিএমডি। আর পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করেই শাহ আরেফিন টিলাকে ইজারা দেয় বিএমডি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে পুরো পাহাড়ি এলাকা ধ্বংস করার সুযোগ পায়।

সরেজমিন দেখা যায়, এ এলাকার প্রতিটি বাড়িতেই আছে ছোট ছোট পাথরের স্তূপ। আছে শক্তিশালী যন্ত্রচালিত মেশিনও। উত্তোলিত পাথর পরিবহনের জন্য প্রতিটি বাড়িতেই আছে ট্রলি, ট্রাক্টর। ধ্বংসাবশেষ টিলার পাশে শ্রমিকদের জন্য গড়ে উঠেছে একটি বাজারও, যা এখনও চালু আছে।

যেভাবে গোপন করা হয় প্রকৃত তথ্য : নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, কাগজে-কলমে বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। অবৈধভাবে পাথর তুলতে গিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ শ্রমিক নিহত হয়। এরপরই আবারও নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন।

তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিনি ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই প্রতিবেদনের এক স্থানে বলা হয় মেসার্স বশির অ্যান্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী আদালতে বিভিন্ন রিট নির্দেশনার অপব্যাখ্যা, আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আরেফিন টিলাকে ধ্বংস করেছেন।

২০০৯ সালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম শাহ আরেফিন টিলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ২৫২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ক্ষতি ধার্য করেন। এই টাকা রাষ্ট্রীয় পাওনা হিসেবে আদায়যোগ্য। শাহ আরেফিন টিলায় অপরিমেয় ক্ষতির জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রস্তুাব হয়। মো. আলীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের এই টাকা আদায়ের সুপারিশ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের এক স্থানে বলা হয়, একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমগ্র এলাকার অবৈধ পাথর ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হয়। রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়, প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) ২০০৯ সালে শাহ আরেফিন টিলা কাটার বিরুদ্ধে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করে।

ওই বছরের ২৫ আগস্ট শুনানি শেষে তৎকালীন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, যিনি বর্তমানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে শাহ আরেফিন টিলা কর্তনের দায়ে মো. আলীর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না এবং টিলা সংরক্ষণের ব্যাপারে কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পরিবেশ ধ্বংস করা হয়।

সিলেট জেলা প্রশাসক এম কাজী এমমদাদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বশির অ্যান্ড কোম্পানি আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ গোপন করে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত পাথর তোলার নির্দেশনা নিয়ে আসে।

রায়ের কপি হাতে পেয়ে প্রথমবারের মতো দ্রুত সময়ে সব তথ্যপ্রমাণ চেম্বার জজ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি মো. আলীর পক্ষে দেয়া আদেশ স্থগিত করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১১ বছর আগের প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) সিলেটের আঞ্চলিক সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা বলেন, বিএমডির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে শাহ আরেফিন টিলা। যদি বিএমডি এই পাহাড়ি এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের সুযোগ না দিত, তাহলে দৃষ্টিনন্দন এই পাহাড়ি এলাকার এভাবে সর্বনাশ হতো না।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আলী রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি তো ইজারা পরিশোধ করেই পাথর উত্তোলন করেছি। আড়াইশ’ কোটি আমার কাছ থেকে আদায় করতে যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে, সেটা আমি জানি না। দীর্ঘ ১১ বছরে আমাকে কেউ এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাও করেনি।’

উপজেলা চেয়ারম্যান : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ এখন উপজেলা চেয়ারম্যান। বিতর্কিত এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর সিলেট পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর পরিবেশ অধিদফতর শামীমকে প্রধান অভিযুক্ত করে ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। চার্জশিটে বলা হয়, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি সম্পদ লুণ্ঠন, পাহাড় টিলা কেটে অন্যায়ভাবে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন ও নদীর গতিপথ বন্ধ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ক্ষতি করেছেন।

অবৈধভাবে শাহ আরেফিন টিলা ও টিলার পার্শ্ববর্তী এলাকা গর্ত করে পাথর উত্তোলন করেছেন। এমনকি ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির ধলাই নদীতে অবৈধ বোমা মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলনের ফলে এলাকার ভূমি, জীববৈচিত্র, কৃষিজমির ক্ষতি ও পরিবেশ বিনষ্ট করেছেন, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি এই মামলায় জামিনে আছি। প্রতিপক্ষ এই মামলা করিয়েছে। এটা মিথ্যা অভিযোগ।’