আট বছরে এমসি কলেজে কলঙ্কের হ্যাটট্রিক
jugantor
আট বছরে এমসি কলেজে কলঙ্কের হ্যাটট্রিক

  সিলেট ব্যুরো  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের এমসি কলেজে ৮ বছরে কলঙ্কজনক ঘটনার হ্যাটট্রিক করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একের পর এক ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুক্রবার রাতে স্বামীকে আটকে রেখে কলেজ ছাত্রাবাসে স্ত্রীকে গণধর্ষণের মতো পৈশাচিক ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, কোনো দুর্বৃত্ত, অপকর্মকারী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হতে পারে না।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জেরে এতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে আগুন দেয়া হয়। এতে ৪২টি কক্ষ ভস্মীভূত হয়।

২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বদরুল আলম।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় পুকুর পাড়ে হামলার শিকার হন। এ দুই ঘটনায় সে সময় তোলপাড় হয়।

ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সর্বশেষ ঘটনার পৈশাচিকতা আগের ঘটনাগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেক।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে আগুন দেয়া হয়।

এতে ৪২টি কক্ষ ভস্মীভূত হয়। ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তে ২৯ জনকে দায়ী করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জন ছাত্রলীগের ও ১৯ জন শিবিরকর্মী।

সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকার শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজের যাত্রা শুরু ১৮৯২ সালে। বৃহত্তর সিলেটের প্রথম কলেজ দেশের সপ্তম প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

১৮৯২ সালে রাজা গিরিশচন্দ্র রায় তার পিতামহ মুরারিচাঁদের (এমসি) নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ আমলে ১৯২০ সালে ৬০০ শতক জায়গার ওপর আসাম ঘরানার স্থাপত্যরীতির সেমিপাকা কাঠামোর ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়।

এ স্থাপত্যরীতির ফলে ছাত্রাবাসটি দেশে-বিদেশে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে পরিচিত। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দুই বছরের মাথায় অবিকল আগের কাঠামোয় ছাত্রাবাস পুনর্র্নির্মাণ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর।

জানা গেছে, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজাকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।

বদরুলের দাবি, খাদিজাদের বাড়িতে লজিং থাকাকালে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর খাদিজার পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি।

বদরুলকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। ঘটনার দিন খাদিজার সঙ্গে দেখা করতে বদরুল এমসি কলেজে যান। খাদিজা তার প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বদরুল চাপাতি দিয়ে তাকে কোপান।

প্রায় ৪ মাস ঢাকায় চিকিৎসা শেষে খাদিজা বাড়ি ফিরলেও এখনও তার অবস্থা স্বাভাবিক হয়নি।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন।

ঘটনার সময় হামলাকারী বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় জনতা। মামলায় বদরুলের যাবজ্জীব কারাদণ্ড হয়।

আট বছরে এমসি কলেজে কলঙ্কের হ্যাটট্রিক

 সিলেট ব্যুরো 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের এমসি কলেজে ৮ বছরে কলঙ্কজনক ঘটনার হ্যাটট্রিক করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একের পর এক ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুক্রবার রাতে স্বামীকে আটকে রেখে কলেজ ছাত্রাবাসে স্ত্রীকে গণধর্ষণের মতো পৈশাচিক ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে। 

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, কোনো দুর্বৃত্ত, অপকর্মকারী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হতে পারে না।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জেরে এতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে আগুন দেয়া হয়। এতে ৪২টি কক্ষ ভস্মীভূত হয়।

২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বদরুল আলম।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় পুকুর পাড়ে হামলার শিকার হন। এ দুই ঘটনায় সে সময় তোলপাড় হয়।

ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সর্বশেষ ঘটনার পৈশাচিকতা আগের ঘটনাগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেক।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে আগুন দেয়া হয়।

এতে ৪২টি কক্ষ ভস্মীভূত হয়। ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তে ২৯ জনকে দায়ী করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জন ছাত্রলীগের ও ১৯ জন শিবিরকর্মী।

সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকার শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজের যাত্রা শুরু ১৮৯২ সালে। বৃহত্তর সিলেটের প্রথম কলেজ দেশের সপ্তম প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

১৮৯২ সালে রাজা গিরিশচন্দ্র রায় তার পিতামহ মুরারিচাঁদের (এমসি) নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ আমলে ১৯২০ সালে ৬০০ শতক জায়গার ওপর আসাম ঘরানার স্থাপত্যরীতির সেমিপাকা কাঠামোর ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়।

এ স্থাপত্যরীতির ফলে ছাত্রাবাসটি দেশে-বিদেশে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে পরিচিত। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দুই বছরের মাথায় অবিকল আগের কাঠামোয় ছাত্রাবাস পুনর্র্নির্মাণ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। 

জানা গেছে, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজাকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।

বদরুলের দাবি, খাদিজাদের বাড়িতে লজিং থাকাকালে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর খাদিজার পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি।

বদরুলকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। ঘটনার দিন খাদিজার সঙ্গে দেখা করতে বদরুল এমসি কলেজে যান। খাদিজা তার প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বদরুল চাপাতি দিয়ে তাকে কোপান।

প্রায় ৪ মাস ঢাকায় চিকিৎসা শেষে খাদিজা বাড়ি ফিরলেও এখনও তার অবস্থা স্বাভাবিক হয়নি।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন।

ঘটনার সময় হামলাকারী বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় জনতা। মামলায় বদরুলের যাবজ্জীব কারাদণ্ড হয়।