ভেঙে গেল গণফোরাম কাউন্সিলের ঘোষণা একাংশের
jugantor
ভেঙে গেল গণফোরাম কাউন্সিলের ঘোষণা একাংশের
রেজা কিবরিয়াসহ চারজন ‘বহিষ্কার’

  যুগান্তর রিপোর্টার  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পর দুই ভাগে বিভক্ত হলো ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ তিন কেন্দ্রীয় নেতার নেতৃত্বে দলটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া অংশটি আগামী ২৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের একাংশের বর্ধিত সভায় কাউন্সিলের এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সভা থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়াসহ চারজনকে বহিষ্কার করা হয়। বাকিরা হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহসীন রশিদ, আ ও ম শফিকউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদ। যদিও ড. রেজা কিবরিয়া এই সভা ডাকার এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণফোরামের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর ডাকা বর্ধিত সভার সঙ্গে গণফোরামের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর এ কারণে শনিবারের বর্ধিত সভায় তারা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে গণফোরামের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল হয় গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে। তিন বছর পরপর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার বিধান থাকলেও এক বছরের মাথায় দলটির একাংশ আবার কাউন্সিল আহ্বান করল। জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয়তলায় আবদুস সালাম হলে তাদের সভার টানানো ব্যানারে লেখা ছিল ‘অর্থবহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে চাই জাতীয় ঐক্য : বর্ধিত সভা : গণফোরাম’। বিগত কমিটির নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়্যিদের সভাপতিত্বে এই বর্ধিত সভায় জেলার ২৮৩ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়।

বর্ধিত সভার মূল মঞ্চে ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাবেক নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, আসাদুজ্জামান, খান সিদ্দিকুর রহমান, আবদুর রায়হান, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, ফজলুল হক সরকার, এমএ মতিন।

সভার ঘোষণাপত্রে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে আছে- মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা সংশোধন ও কার্যকরীভাবে প্রয়োগ করা, দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের দ্রুত শাস্তির বিধান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরাজমান সর্বনাশা দলীয়করণ উচ্ছেদ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের দ্বারা জনস্বার্থে পরিচালনা প্রভৃতি।

ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে বেরিয়ে আসা সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিককে সঙ্গে নিয়ে গণফোরাম গঠন করেন। গত বছরের ৪ এপ্রিল পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পরে ঘোষিত কমিটিতে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে বাদ দিয়ে ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করার পর থেকে গণফোরামে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দাঁড়ায় দুই পক্ষ। ডে. রজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলে অন্য পক্ষের নেতারা। এক পর্যায়ে ড. রেজা কিবরিয়া চারজনকে বহিষ্কার করেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, হেলাল উদ্দিন ও লতিফুর বারী হামিম। পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তখন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীরাও পাল্টা বহিষ্কার করেন সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির মহসীন রশিদ, আ ও ম শফিকউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদকে।

পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্যে গত ৪ মার্চ গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। তিনি নিজে আহ্বায়ক হয়ে সাধারণ সম্পাদক করেন ড. রেজা কিবরিয়াকে।

বর্ধিত সভা শেষে গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ বলেন, ‘বর্ধিত সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও গণমুখী করার লক্ষ্যে আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কাউন্সিলকে সফল করার লক্ষ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে আহ্বায়ক করে ২০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে গণফোরাম নামে আরেকটি দল গঠন করতে যাচ্ছেন কি- না, এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা মহসিন মন্টু গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘২৬ ডিসেম্বরের কাউন্সিলে উপস্থিত ডেলিগেটদের মতামত নিয়ে নতুন দলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।’

ড. কামাল হোসেনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে কি- না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও বিশ্বাস করি ড. কামাল হোসেন আমাদের সঙ্গে আসবেন। বিতর্কিত লোকদের পরিহার করবেন। মাঠের পোড় খাওয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে এগিয়ে যাবেন। তিনি না এলে তার বহিষ্কারের বিষয়ে আমাদের সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেব। সম্মেলনে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা আসবেন, তাদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

গণফোরাম বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আছে, আপনারা এই জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন কি-না, জানতে চাইলে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে আমরা এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। সামনে আমাদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভা আছে, সেখানে সিদ্ধান্ত নেব।’

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াত ছিল না। আমি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেব না বলেছিলাম ড. কামাল হোসেনকে। কিন্তু তিনি যেহেতু দলের সভাপতি ছিলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার নির্দেশে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কারণ আমি তার আদেশ অমান্য করতে পারি না সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। সেই নির্বাচন কীভাবে আগের রাতে হয়ে গেছে আপনারা সবাই জানেন।’

সভা শেষে সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভেকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। গণফোরামকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলি, গণজাগরণ সৃষ্টি করে স্বৈরাচার, দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

গণফোরামের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

তারা দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, অন্য কারও বর্ধিত সভা ডাকার বৈধতা নেই -ড. কামাল : তারা দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। অন্য কারও বর্ধিত সভা ডাকার কোনো বৈধ্যতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। দলটির ব্যানারে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে একাংশের বর্ধিত সভা ও আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ দাবি করেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ওদের কোনো সাংগঠনিক ক্ষমতা ও বৈধতা নেই এ ধরনের মিটিং করার। এ মিটিংয়ের সঙ্গে আমাদের দল গণফোরামের কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি বলেন, ‘তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি আমাদের দলের কোনো সিদ্ধান্ত না। যেহেতু এটি আমাদের দলের বিষয় না, সেজন্য এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

একাংশের আহূত বর্ধিত সভায় বলা হয়েছে আপনাকে কিছু লোক ভুল বোঝাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এসব কথা তারা বলার জন্য বলছে। এটা তাদের একটা কৌশল। এ বিষয় আমি কথা বলতে চাই না। এদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি বলেন, তারা দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।’

ভেঙে গেল গণফোরাম কাউন্সিলের ঘোষণা একাংশের

রেজা কিবরিয়াসহ চারজন ‘বহিষ্কার’
 যুগান্তর রিপোর্টার 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পর দুই ভাগে বিভক্ত হলো ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ তিন কেন্দ্রীয় নেতার নেতৃত্বে দলটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া অংশটি আগামী ২৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের একাংশের বর্ধিত সভায় কাউন্সিলের এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সভা থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়াসহ চারজনকে বহিষ্কার করা হয়। বাকিরা হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহসীন রশিদ, আ ও ম শফিকউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদ। যদিও ড. রেজা কিবরিয়া এই সভা ডাকার এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণফোরামের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর ডাকা বর্ধিত সভার সঙ্গে গণফোরামের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর এ কারণে শনিবারের বর্ধিত সভায় তারা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে গণফোরামের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল হয় গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে। তিন বছর পরপর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার বিধান থাকলেও এক বছরের মাথায় দলটির একাংশ আবার কাউন্সিল আহ্বান করল। জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয়তলায় আবদুস সালাম হলে তাদের সভার টানানো ব্যানারে লেখা ছিল ‘অর্থবহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে চাই জাতীয় ঐক্য : বর্ধিত সভা : গণফোরাম’। বিগত কমিটির নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়্যিদের সভাপতিত্বে এই বর্ধিত সভায় জেলার ২৮৩ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়।

বর্ধিত সভার মূল মঞ্চে ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাবেক নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, আসাদুজ্জামান, খান সিদ্দিকুর রহমান, আবদুর রায়হান, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, ফজলুল হক সরকার, এমএ মতিন।

সভার ঘোষণাপত্রে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে আছে- মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা সংশোধন ও কার্যকরীভাবে প্রয়োগ করা, দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের দ্রুত শাস্তির বিধান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরাজমান সর্বনাশা দলীয়করণ উচ্ছেদ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের দ্বারা জনস্বার্থে পরিচালনা প্রভৃতি।

ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে বেরিয়ে আসা সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিককে সঙ্গে নিয়ে গণফোরাম গঠন করেন। গত বছরের ৪ এপ্রিল পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পরে ঘোষিত কমিটিতে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে বাদ দিয়ে ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করার পর থেকে গণফোরামে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দাঁড়ায় দুই পক্ষ। ডে. রজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলে অন্য পক্ষের নেতারা। এক পর্যায়ে ড. রেজা কিবরিয়া চারজনকে বহিষ্কার করেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, হেলাল উদ্দিন ও লতিফুর বারী হামিম। পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তখন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীরাও পাল্টা বহিষ্কার করেন সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির মহসীন রশিদ, আ ও ম শফিকউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদকে।

পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্যে গত ৪ মার্চ গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। তিনি নিজে আহ্বায়ক হয়ে সাধারণ সম্পাদক করেন ড. রেজা কিবরিয়াকে।

বর্ধিত সভা শেষে গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ বলেন, ‘বর্ধিত সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও গণমুখী করার লক্ষ্যে আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কাউন্সিলকে সফল করার লক্ষ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে আহ্বায়ক করে ২০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে গণফোরাম নামে আরেকটি দল গঠন করতে যাচ্ছেন কি- না, এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা মহসিন মন্টু গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘২৬ ডিসেম্বরের কাউন্সিলে উপস্থিত ডেলিগেটদের মতামত নিয়ে নতুন দলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।’

ড. কামাল হোসেনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে কি- না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও বিশ্বাস করি ড. কামাল হোসেন আমাদের সঙ্গে আসবেন। বিতর্কিত লোকদের পরিহার করবেন। মাঠের পোড় খাওয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে এগিয়ে যাবেন। তিনি না এলে তার বহিষ্কারের বিষয়ে আমাদের সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেব। সম্মেলনে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা আসবেন, তাদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

গণফোরাম বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আছে, আপনারা এই জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন কি-না, জানতে চাইলে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে আমরা এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। সামনে আমাদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভা আছে, সেখানে সিদ্ধান্ত নেব।’

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াত ছিল না। আমি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেব না বলেছিলাম ড. কামাল হোসেনকে। কিন্তু তিনি যেহেতু দলের সভাপতি ছিলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার নির্দেশে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কারণ আমি তার আদেশ অমান্য করতে পারি না সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। সেই নির্বাচন কীভাবে আগের রাতে হয়ে গেছে আপনারা সবাই জানেন।’

সভা শেষে সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভেকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। গণফোরামকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলি, গণজাগরণ সৃষ্টি করে স্বৈরাচার, দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

গণফোরামের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

তারা দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, অন্য কারও বর্ধিত সভা ডাকার বৈধতা নেই -ড. কামাল : তারা দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। অন্য কারও বর্ধিত সভা ডাকার কোনো বৈধ্যতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। দলটির ব্যানারে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে একাংশের বর্ধিত সভা ও আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ দাবি করেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ওদের কোনো সাংগঠনিক ক্ষমতা ও বৈধতা নেই এ ধরনের মিটিং করার। এ মিটিংয়ের সঙ্গে আমাদের দল গণফোরামের কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি বলেন, ‘তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি আমাদের দলের কোনো সিদ্ধান্ত না। যেহেতু এটি আমাদের দলের বিষয় না, সেজন্য এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

একাংশের আহূত বর্ধিত সভায় বলা হয়েছে আপনাকে কিছু লোক ভুল বোঝাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এসব কথা তারা বলার জন্য বলছে। এটা তাদের একটা কৌশল। এ বিষয় আমি কথা বলতে চাই না। এদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি বলেন, তারা দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।’