অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই
jugantor
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মারা যান। ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের ছেলে সুমন মাহবুব জানান, সোমবার বেলা ১১টায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে তার বাবার মরদেহ নেয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং বিভিন্ন ব্যক্তি গভীর শোক জানিয়েছেন।

তার আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীরা।

৩ সেপ্টেম্বর রাতে মাহবুবে আলম শরীরে জ্বর অনুভব করেন। পরদিন সকালে করোনা টেস্ট করালে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ওইদিনই তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।

১৯ সেপ্টেম্বর তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে অবস্থার অবনতি হলে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। তিনি নিউমোনিয়া, ব্রনিকয়াল অ্যাজমা ও হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন।

১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মোছামন্দ্র গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৮০ সালে আপিলেট ডিভিশনে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত হন।

১৯৯৮ সালে আপিলেট ডিভিশনে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ইন্সটিটিউট অব কনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ থেকে সাংবিধানিক আইন ও পার্লামেন্টারি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি ১৫ নভেম্বর ১৯৯৮ থেকে ৪ অক্টোবর ২০০১ পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৯৯৩-৯৪ সালে সম্পাদক ও ২০০৫-০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ২০০৪-০৭ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য সংবিধানের ৫ম, ৭ম, ১৩তম ও ১৬তম সংশোধনী মামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কাদের মোল্লা, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মো. কামারুজ্জামান, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামীসহ অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আপিলেট ডিভিশনে মামলা পরিচালনা করেছেন মাহবুবে আলম।

হাইকোর্ট ডিভিশনে বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেন এবং সফলতার সঙ্গে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

রবীন্দ্র সাহিত্যের বিশেষ অনুরাগী মাহবুবে আলমের স্ত্রী বিনতা মাহবুব একজন চিত্রশিল্পী। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে সুমন মাহবুব দীর্ঘদিন সাংবাদিকতায় ছিলেন। মেয়ে শিশির কনা আইন পেশায় রয়েছেন।

শোক : অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির যোদ্ধা। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক আইনি বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন এবং সবসময় ন্যায়নিষ্ঠ থেকে আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন, যা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিভিন্নজন। শোক জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী স ম রেজাউল করিম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রী ইমরান আহমদ, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন প্রমুখ। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের শোক জানান।

এছাড়া শোক জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী এমপি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিএমএ) বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মারা যান। ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের ছেলে সুমন মাহবুব জানান, সোমবার বেলা ১১টায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে তার বাবার মরদেহ নেয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। 

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং বিভিন্ন ব্যক্তি গভীর শোক জানিয়েছেন।

তার আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীরা। 

৩ সেপ্টেম্বর রাতে মাহবুবে আলম শরীরে জ্বর অনুভব করেন। পরদিন সকালে করোনা টেস্ট করালে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ওইদিনই তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।

১৯ সেপ্টেম্বর তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে অবস্থার অবনতি হলে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। তিনি নিউমোনিয়া, ব্রনিকয়াল অ্যাজমা ও হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন।

১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মোছামন্দ্র গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৮০ সালে আপিলেট ডিভিশনে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত হন।

১৯৯৮ সালে আপিলেট ডিভিশনে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ইন্সটিটিউট অব কনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ থেকে সাংবিধানিক আইন ও পার্লামেন্টারি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি ১৫ নভেম্বর ১৯৯৮ থেকে ৪ অক্টোবর ২০০১ পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৯৯৩-৯৪ সালে সম্পাদক ও ২০০৫-০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ২০০৪-০৭ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য সংবিধানের ৫ম, ৭ম, ১৩তম ও ১৬তম সংশোধনী মামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কাদের মোল্লা, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মো. কামারুজ্জামান, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামীসহ অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আপিলেট ডিভিশনে মামলা পরিচালনা করেছেন মাহবুবে আলম।

হাইকোর্ট ডিভিশনে বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেন এবং সফলতার সঙ্গে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

রবীন্দ্র সাহিত্যের বিশেষ অনুরাগী মাহবুবে আলমের স্ত্রী বিনতা মাহবুব একজন চিত্রশিল্পী। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে সুমন মাহবুব দীর্ঘদিন সাংবাদিকতায় ছিলেন। মেয়ে শিশির কনা আইন পেশায় রয়েছেন।

শোক : অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির যোদ্ধা। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক আইনি বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন এবং সবসময় ন্যায়নিষ্ঠ থেকে আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন, যা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিভিন্নজন। শোক জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী স ম রেজাউল করিম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রী ইমরান আহমদ, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন প্রমুখ। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের শোক জানান।

এছাড়া শোক জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী এমপি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিএমএ) বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।