সৌদির টিকিট-টোকেনে শৃঙ্খলা ফিরছে না
jugantor
সৌদির টিকিট-টোকেনে শৃঙ্খলা ফিরছে না
বিমানের ফ্লাইট বাড়াতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ * ভিসা নবায়নে আবেদন করতে হবে ১৮ এজেন্সির মাধ্যমে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবগামী বিমানের টিকিট ও টোকেন নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। রোববার ভোর থেকেই মতিঝিল বাংলাদেশ বিমান অফিস ও কারওয়ানবাজারের সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে জড়ো হন হাজারও প্রবাসী। সৌদিয়া কর্তৃপক্ষ নতুন করে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে টোকেন দেবে। আর সৌদি দূতাবাস জানিয়েছে ভিসা নবায়নের জন্য কাউকে সরাসরি দূতাবাসে যেতে হবে না। আবেদন করতে হবে নির্দিষ্ট ১৮টি এজেন্সির মাধ্যমে। এদিকে বাংলাদেশ থেকে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রোববার কারওয়ান বাজারে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ১৪০১ থেকে ১৯০০ সিরিয়ালধারীদের টিকিট দেয়া হয়। কিন্তু শঙ্কা আর উদ্বেগ নিয়ে সকাল থেকে সেখানে ভিড় করেন বহু সৌদি প্রবাসী। এদের মধ্যে কারও ছিল না টোকেন, কেউবা কাটেননি রিটার্ন টিকিট, আবার কেউ রিটার্ন টিকিট কাটলেও তা ছিল অন্য এয়ারলাইন্সের। অনেকেই বহুল প্রত্যাশিত একটি টিকিটের জন্য অযথাই ভিড় করছিল। এক যাত্রী বলেন, আমরা হাজার হাজার মানুষ এখানে দাঁড়িয়ে আছি টোকেন নিতে পারছি না।

সৌদিয়া এয়ারলাইন্স আগামী ৪ অক্টোবর থেকে নতুন করে টোকেন দেবে বলে জানা গেছে। তবে প্রবাসীরা টোকেন নয়, ভিসার মেয়াদ দেখে টিকিট দেয়ার আহ্বান জানান। এদের মধ্যে কেউ কেউ রিটার্ন টিকিট থাকলেও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এদের একজন বলেন, আমার রিটার্ন টিকিট ছিল। তারা এখন বলছে টিকিট নেই। তাহলে আমার টিকিট কোথায়? রিটার্ন টিকিট আছে দাবি করে আরেকজন বলেন, আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছি কী সমস্যা? তারা বলেছে বলা যাবে না।

এদিকে মতিঝিল বিমান অফিসে রোববার সকাল থেকেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ১৮ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত যাদের ফিরতি টিকিট কাটা ছিল তাদেরকেই টিকিট দেয়া হয়। সেখানে বিদেশগামী যাত্রীরা বলেন, কবে দেবে আমাদের সুনির্দিষ্ট করে বলে দিলেই হয়। তাহলে আর এভাবে হয়রানির মধ্যে পড়তে হতো না। একেকজন একেক রকমের কথা বলছে। অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

এদিকে ভিসা নবায়নের জন্য গুলশানে সৌদি দূতাবাসের সামনে ভিড় করেন প্রবাসীদের অনেকে। ভিসা নবায়নের জন্য সরাসরি দূতাবাসে না গিয়ে নির্ধারিত ১৮টি এজেন্সির মাধ্যমে আবেদনের জন্য বলেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। এক যাত্রী বলেন, এম্বাসিতে আসলে তারা এজেন্সির কাছে যেতে বলেছে। এজেন্সিগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলছে ২৫ হাজার টাকা লাগবে এ সংক্রান্ত কাগজ ঠিক করার জন্য। আরেক প্রবাসী এখানে দালালদের দৌরাত্ম্যের কথা জানান।

বিমানের ফ্লাইট বাড়াতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ : বাংলাদেশ থেকে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। রোববার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদকে টেলিফোনে এই অনুরোধ করেন ড. মোমেন। এছাড়া দাম্মাম রুটে দ্রুত ফ্লাইট চালু করতেও অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

এতে জানানো হয়, টেলিফোন আলাপে ড. মোমেন ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধি ও ভিসা দেয়ায় সৌদি আরবের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং বিমানের ফ্লাইট চলাচলে অনুমতি দেয়ায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে দাম্মাম রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়ার জন্য সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে রিয়াদ, মদিনা ও জেদ্দায় বাংলাদেশ বিমানের চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার টেলিফোনে আলাপ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও ফোনালাপ করেন। সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে যাওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আটকে পড়া প্রবাসীরা ফিরতে শুরু করেছেন : এদিকে দেশে এসে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীরা কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। রোববার দুপুরে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট। শনিবার স্বাস্থ্যবিধির কারণে যেতে না পারা ১৩০ জনসহ মোট ৩৬০ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। এদিকে অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ায় রোববার বুকিং করা ১৮ জন যাত্রী যেতে পারেননি। তবে শুধু জেদ্দার ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ায় মদিনার যাত্রীরা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। এজন্য তাদের জেদ্দা থেকে মদিনা যেতে আবার গুনতে হবে কয়েকশ’ রিয়েল। এদিকে দীর্ঘ সাত থেকে আট মাস দেশে আটকে থাকার পর সৌদি ফিরতে পেরে স্বস্তি জানিয়েছে যাত্রীরা। এক যাত্রী বলেন, করোনার কারণে খুব ভোগান্তিতে ছিলাম। যেতে পারব কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলাম। এখন কিছুটা স্বস্তি লাগছে।

সৌদির টিকিট-টোকেনে শৃঙ্খলা ফিরছে না

বিমানের ফ্লাইট বাড়াতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ * ভিসা নবায়নে আবেদন করতে হবে ১৮ এজেন্সির মাধ্যমে
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবগামী বিমানের টিকিট ও টোকেন নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। রোববার ভোর থেকেই মতিঝিল বাংলাদেশ বিমান অফিস ও কারওয়ানবাজারের সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে জড়ো হন হাজারও প্রবাসী। সৌদিয়া কর্তৃপক্ষ নতুন করে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে টোকেন দেবে। আর সৌদি দূতাবাস জানিয়েছে ভিসা নবায়নের জন্য কাউকে সরাসরি দূতাবাসে যেতে হবে না। আবেদন করতে হবে নির্দিষ্ট ১৮টি এজেন্সির মাধ্যমে। এদিকে বাংলাদেশ থেকে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রোববার কারওয়ান বাজারে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ১৪০১ থেকে ১৯০০ সিরিয়ালধারীদের টিকিট দেয়া হয়। কিন্তু শঙ্কা আর উদ্বেগ নিয়ে সকাল থেকে সেখানে ভিড় করেন বহু সৌদি প্রবাসী। এদের মধ্যে কারও ছিল না টোকেন, কেউবা কাটেননি রিটার্ন টিকিট, আবার কেউ রিটার্ন টিকিট কাটলেও তা ছিল অন্য এয়ারলাইন্সের। অনেকেই বহুল প্রত্যাশিত একটি টিকিটের জন্য অযথাই ভিড় করছিল। এক যাত্রী বলেন, আমরা হাজার হাজার মানুষ এখানে দাঁড়িয়ে আছি টোকেন নিতে পারছি না।

সৌদিয়া এয়ারলাইন্স আগামী ৪ অক্টোবর থেকে নতুন করে টোকেন দেবে বলে জানা গেছে। তবে প্রবাসীরা টোকেন নয়, ভিসার মেয়াদ দেখে টিকিট দেয়ার আহ্বান জানান। এদের মধ্যে কেউ কেউ রিটার্ন টিকিট থাকলেও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এদের একজন বলেন, আমার রিটার্ন টিকিট ছিল। তারা এখন বলছে টিকিট নেই। তাহলে আমার টিকিট কোথায়? রিটার্ন টিকিট আছে দাবি করে আরেকজন বলেন, আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছি কী সমস্যা? তারা বলেছে বলা যাবে না।

এদিকে মতিঝিল বিমান অফিসে রোববার সকাল থেকেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ১৮ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত যাদের ফিরতি টিকিট কাটা ছিল তাদেরকেই টিকিট দেয়া হয়। সেখানে বিদেশগামী যাত্রীরা বলেন, কবে দেবে আমাদের সুনির্দিষ্ট করে বলে দিলেই হয়। তাহলে আর এভাবে হয়রানির মধ্যে পড়তে হতো না। একেকজন একেক রকমের কথা বলছে। অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

এদিকে ভিসা নবায়নের জন্য গুলশানে সৌদি দূতাবাসের সামনে ভিড় করেন প্রবাসীদের অনেকে। ভিসা নবায়নের জন্য সরাসরি দূতাবাসে না গিয়ে নির্ধারিত ১৮টি এজেন্সির মাধ্যমে আবেদনের জন্য বলেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। এক যাত্রী বলেন, এম্বাসিতে আসলে তারা এজেন্সির কাছে যেতে বলেছে। এজেন্সিগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলছে ২৫ হাজার টাকা লাগবে এ সংক্রান্ত কাগজ ঠিক করার জন্য। আরেক প্রবাসী এখানে দালালদের দৌরাত্ম্যের কথা জানান।

বিমানের ফ্লাইট বাড়াতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ : বাংলাদেশ থেকে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। রোববার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদকে টেলিফোনে এই অনুরোধ করেন ড. মোমেন। এছাড়া দাম্মাম রুটে দ্রুত ফ্লাইট চালু করতেও অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

এতে জানানো হয়, টেলিফোন আলাপে ড. মোমেন ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধি ও ভিসা দেয়ায় সৌদি আরবের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং বিমানের ফ্লাইট চলাচলে অনুমতি দেয়ায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে দাম্মাম রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়ার জন্য সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে রিয়াদ, মদিনা ও জেদ্দায় বাংলাদেশ বিমানের চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার টেলিফোনে আলাপ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও ফোনালাপ করেন। সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে যাওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আটকে পড়া প্রবাসীরা ফিরতে শুরু করেছেন : এদিকে দেশে এসে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীরা কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। রোববার দুপুরে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট। শনিবার স্বাস্থ্যবিধির কারণে যেতে না পারা ১৩০ জনসহ মোট ৩৬০ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। এদিকে অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ায় রোববার বুকিং করা ১৮ জন যাত্রী যেতে পারেননি। তবে শুধু জেদ্দার ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ায় মদিনার যাত্রীরা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। এজন্য তাদের জেদ্দা থেকে মদিনা যেতে আবার গুনতে হবে কয়েকশ’ রিয়েল। এদিকে দীর্ঘ সাত থেকে আট মাস দেশে আটকে থাকার পর সৌদি ফিরতে পেরে স্বস্তি জানিয়েছে যাত্রীরা। এক যাত্রী বলেন, করোনার কারণে খুব ভোগান্তিতে ছিলাম। যেতে পারব কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলাম। এখন কিছুটা স্বস্তি লাগছে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস