পার্বতীপুরে দেয়াল চাপায় দুই ছেলেসহ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
jugantor
পার্বতীপুরে দেয়াল চাপায় দুই ছেলেসহ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

  দিনাজপুর ও পার্বতীপুর প্রতিনিধি  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পার্বতীপুরে দেয়াল চাপায় দুই ছেলেসহ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

পার্বতীপুর উপজেলায় মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় একই পরিবারের ঘুমন্ত চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোরে উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাউপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই ছেলেসহ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে মাটির দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে। দেয়াল চাপায় দক্ষিণ ঝাউপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক মোহাম্মদ স্বপন (৩৫), তার স্ত্রী সারজিনা বেগম (২৭) এবং তাদের ছেলে মো. হোসাইন (৮) ও সাকিবুল হাসানের (৬) মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশী মনজুরুল ইসলাম জানান, রোববার ভোরে ভ্যানচালক স্বপনের ঘরের পশ্চিম পাশের ধসেপড়া দেয়ালের ফাঁকে তারা একজনের হাত দেখতে পান। এরপর দেয়াল সরিয়ে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, পাশাপাশি দুটি ঘরে চারজন ঘুমাতো। কিন্তু শনিবার রাতে প্রবল বর্ষণ ও বজ পাতের কারণে দুই ছেলেকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে একই বিছানায় ঘুমান।

সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহনাজ মিথুন মুন্নি জানান, ভারি বর্ষণের কারণে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়। সরকারিভাবে মরদেহগুলো দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্বতীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, পাশাপাশি দুটি শয়নকক্ষের পশ্চিম দেয়ালটি ভেঙে ঘরের মধ্যে পড়ে গেছে। বাকি তিনটি দেয়াল ও ঘরের সিলিং অক্ষত আছে। সিলিংয়ে ফ্যানও ঝুলতে দেখা গেছে। সারজিনা বেগমের ছোট বোন সাহিদা আক্তার সাথীর কান্না ও আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। দেয়াল ধসে একই সঙ্গে চার সদস্যের মৃত্যুতে পরিবারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

জানা গেছে, ১০ বছর আগে নীলফামারীর সৈয়দপুরের স্বপন পার্বতীপুর দক্ষিণ ঝাউপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আবদুল ছাহাদের মেয়ে সারজিনা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি শ্বশুরের বাড়িতেই থাকতেন। নিজে ভ্যান চালিয়ে আর স্ত্রী কাপড় সেলাই করে সংসার চালাত। বড় ছেলে হোসাইন ঝাউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে এখনও স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি।

পার্বতীপুরে দেয়াল চাপায় দুই ছেলেসহ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

 দিনাজপুর ও পার্বতীপুর প্রতিনিধি 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পার্বতীপুরে দেয়াল চাপায় দুই ছেলেসহ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

পার্বতীপুর উপজেলায় মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় একই পরিবারের ঘুমন্ত চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোরে উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাউপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই ছেলেসহ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে মাটির দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে। দেয়াল চাপায় দক্ষিণ ঝাউপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক মোহাম্মদ স্বপন (৩৫), তার স্ত্রী সারজিনা বেগম (২৭) এবং তাদের ছেলে মো. হোসাইন (৮) ও সাকিবুল হাসানের (৬) মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশী মনজুরুল ইসলাম জানান, রোববার ভোরে ভ্যানচালক স্বপনের ঘরের পশ্চিম পাশের ধসেপড়া দেয়ালের ফাঁকে তারা একজনের হাত দেখতে পান। এরপর দেয়াল সরিয়ে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, পাশাপাশি দুটি ঘরে চারজন ঘুমাতো। কিন্তু শনিবার রাতে প্রবল বর্ষণ ও বজ পাতের কারণে দুই ছেলেকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে একই বিছানায় ঘুমান।

সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহনাজ মিথুন মুন্নি জানান, ভারি বর্ষণের কারণে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়। সরকারিভাবে মরদেহগুলো দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্বতীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, পাশাপাশি দুটি শয়নকক্ষের পশ্চিম দেয়ালটি ভেঙে ঘরের মধ্যে পড়ে গেছে। বাকি তিনটি দেয়াল ও ঘরের সিলিং অক্ষত আছে। সিলিংয়ে ফ্যানও ঝুলতে দেখা গেছে। সারজিনা বেগমের ছোট বোন সাহিদা আক্তার সাথীর কান্না ও আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। দেয়াল ধসে একই সঙ্গে চার সদস্যের মৃত্যুতে পরিবারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

জানা গেছে, ১০ বছর আগে নীলফামারীর সৈয়দপুরের স্বপন পার্বতীপুর দক্ষিণ ঝাউপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আবদুল ছাহাদের মেয়ে সারজিনা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি শ্বশুরের বাড়িতেই থাকতেন। নিজে ভ্যান চালিয়ে আর স্ত্রী কাপড় সেলাই করে সংসার চালাত। বড় ছেলে হোসাইন ঝাউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে এখনও স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি।