আইন লঙ্ঘন করেও অধরা ইজারাদার
jugantor
অবৈধভাবে পাথর তুলে লোভাছড়া নদী ধ্বংস
আইন লঙ্ঘন করেও অধরা ইজারাদার
জব্দ এক কোটি সিএফটি পাথর সেই ইজারাদারকে দিতে বিএমডির সুপারিশ

  নেসারুল হক খোকন, সিলেট থেকে ফিরে  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবৈধভাবে দুই তীরের সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলনে ধ্বংস হয়েছে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তের লোভাছড়া নদী। যন্ত্র ব্যবহার না করে পাথর তুলতে একই ব্যক্তিকে নদীর একটি অংশ কয়েক দফা ইজারা দেয় খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)।

সর্বশেষ গত বছর ১৬ মাসের ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও কয়েক মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল পাথর উত্তোলন। এক্ষেত্রে অমান্য করা হয় আদালতের নিষেধাজ্ঞাও।

শুধু তাই নয়, নদীর দুই তীর কেটে অবৈধভাবে কয়েক কোটি সিএফটি পাথর উত্তোলন করেছে ওই ইজারাদার। এতে নদীর প্রকৃত আকার হারিয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী গ্রামে বিস্তৃতি হচ্ছে নদীর গতিপথ। পাহাড়ি ঢলের সময় গোটা এলাকা প্লাবিত হয় অস্বাভাবিকভাবে।

চুক্তিভঙ্গ করে ইজারাদারের এ ধরনের অপকর্ম পরিবেশ সংরক্ষণ এবং খনিজসম্পদ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা ফৌজদারি অপরাধও- এমন মন্তব্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের। এই আদালতের নির্দেশেই এখন বন্ধ আছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন।

পাশাপাশি উত্তোলিত এক কোটি সিএফটি পাথর জব্দ করে নিলামের আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু এত অপকর্মের পরও রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রভাবশালী ইজারাদার মস্তাক আহমেদ পলাশ। তিনি বিএমডি’র সংশ্লিষ্টদের আশীর্বাদপুষ্ট বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কারণ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে জব্দ করা পাথর ওই বিতর্কিত মস্তাককেই দেয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

লোভাছড়া নদীটির অবস্থান সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে। ওই পাড়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড়। বিএমডি’র তালিকায় এই নদীর সীমান্তে একটি পাথরকোয়ারি আছে। বিএমডি দীর্ঘদিন ধরে পলাশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থান থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য ইজারা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ- বিতর্কিত এই পাথর আহরণকারী পরিবেশ ধ্বংস করে নদীর দুই তীরের বিভিন্ন স্থান থেকে পাথর তোলেন। তাকে কেউ বাধাও দেয় না। সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করেই তিনি এই কাজটি নির্বিঘ্নে করে থাকেন। এ কারণে ছোট লোভাছড়া এখন ভাঙনের কবলে পরে বড় নদীতে পরিণত হয়েছে। বিএমডির সহযোগিতায় বিস্তীর্ণ এলাকা কেটে বড় বড় গর্ত করে পাথর তুলেছেন তিনি।

পরিবেশ অধিদফতরের অভিযোগ, এলাকার সৌন্দর্য ধ্বংস করে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে সম্প্রতি এক কোটি সিএফটি পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। যা এখন জব্দ অবস্থায় আছে। অন্যদিকে বিএমডির বিদায়ী মহাপরিচালক এ বিষয়ে ১৩ আগস্ট এক চিঠিতে বলেন, ‘লোভাছড়া পাথরকোয়ারিতে স্তূপাকারে জমাকৃত পাথর বিভিন্ন ব্যবসায়ী ইজারাদারের কাছ থেকে কিনেছেন।

পরিবেশ অধিদফতর এবং স্থানীয় প্রশাসন পাথর জব্দ ও অপসারণে বাধা দেয়ায় ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণভাবে পরিবহন করতে পারেননি। ৬টি রিট পিটিশনের আদেশে পাথর অপসারণের সুযোগ দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের পাথর অপসারণের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।’ আরেকটি চিঠিতে ওই মহাপরিচালক জানান, বিধিমালা অনুযায়ী অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার বিএমডির ওপর ন্যস্ত।

ইজারাদারের পক্ষে এমন অবস্থান কেন ছিল জানতে চাইলে বিএমডির সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক মো. জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা কোনো নির্দেশনা দেইনি। এ বিষয়ে কোর্টে রিট হয়। আদেশের পর আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি লিখি।

জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়েছে নিলাম করার জন্য। নিলামের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। যখন জানানো হয়েছে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিবেশের ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কোনো এখতিয়ার নেই।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সম্পূর্ণ বিষয়টি আমি জানি। তবে আমার কথা স্পষ্ট, সিলেটের জেলা প্রশাসক কেন নিজেকে এত অসহায়বোধ করছেন?

তিনি কেন পরিবেশ বিপর্যস্ত এলাকায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিচ্ছে না। আর আদালতের সামনে বিএমডির কোনো কাগজ প্রাধান্য পেতে পারে না। আদালত তো আদালতই। মোবাইল কোর্টের আদেশকে প্রাধান্য দিয়েই স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর কাজ করবে। এটাই হওয়া উচিত।

এদিকে ৯ জুলাই বিএমডি’র সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালককে দেয়া এক চিঠিতে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বারিউল করিম খান বলেন, ‘লোভাছড়া পাথরকোয়ারির ইজারার মেয়াদ ১৩ এপ্রিল শেষ হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোয়ারিটি নতুনভাবে ইজারা দেয়া হয়নি। ইজারাকালে সাবেক ইজারাদারের সহযোগিতায় কোয়ারিবহির্ভূত এলাকা থেকে ব্যাপক হারে যান্ত্রিক উপায়ে বিপুল পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হয়। ইজারাদার তার পাথর ইতোমধ্যে পরিবহন করেছে।

অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথরের কিছু অংশ রাতে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে কয়েক লাখ ঘনফুট পাথর লোভা নদীর দুই তীরে স্তূপীকৃত অবস্থায় আছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি এই পাথর বিক্রি ও পরিবহনের চেষ্টায় আছে। কোয়ারিটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সার্বক্ষণিক পাহারা দেয়া সম্ভব হয় না।’ অবৈধভাবে উত্তোলিত এই পাথর সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে নিলাম অথবা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান ইউএনও।

এরপর ওই এলাকায় পরিদর্শনে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাথর নিলাম করার বিষয়ে ১৫ জুলাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া এক আদেশে বলা হয়, ‘সিলেট পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর অবৈধভাবে লোভাছড়া নদী থেকে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। নদীর তীরে অভিযানকালে ২ কিলোমিটারব্যাপী অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথরের স্তূপ পাওয়া যায়। পাশাপাশি পাথর পরিবহন অবস্থায় ইঞ্জিনচালিত বাল্কহেড নৌকা চলাচল করতেও দেখা যায়। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা শ্রমিককে আটক করা যায়নি।

অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন করা সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের জারিকৃত সরকারি আদেশের লঙ্ঘন। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং খনিজসম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন ১৯৯২ অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ। কোনো আসামিকে এই স্থানে না পাওয়ায় নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা গেল না। অপরাধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রাশার মেশিন, ইঞ্জিনচালিত বাল্কহেড, নৌকা অযান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিকল করা হল।’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘আলামত হিসেবে লোভা নদীর দুই তীরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, স্তূপীকরণ এবং অপসারণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করতে পরিবেশ অধিদফতরকে বলা হল।’ জব্দকৃত পাথর আইন ও বিধিসম্মতভাবে নিলামে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমাদানের বিষয়েও পরিবেশ অধিদফতরকে আদেশ দেন আদালত। নিলাম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যাতে কেউ পাথর সরাতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কানাইঘাট থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই আদেশের পর নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরিবেশ অধিদফতর। এর আগে পাথরের ঘনফুট অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ, সার্ভের মাধ্যমে স্তূপীকৃত পাথরের পরিমাণ নির্ধারণ করে ২১ জুলাই নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সার্বিক বিষয় উপস্থাপন করে ৫ আগস্ট পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে ৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দেন সিলেটের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন।

ওই প্রতিবেদনে লোভাছড়ার পাথরকে মূল্যবান দাবি করে বলা হয়, সার্ভে অনুযায়ী নদীর দুই পারে ২ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় এক কোটি সিএফটি পাথর জব্দ করা আছে। নিলামপূর্ব মূল্য নির্ধারণী সভায় প্রতি ঘনফুট পাথর ৬০ টাকা ধরা হয়। এই হিসেবে ৬০ কোটি টাকার পাথরের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ৫ প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। ১৫ ভাগ ভ্যাট, ৫ ভাগ আয়কর হিসাব করে সর্বোচ্চ দর পাওয়া যায় ৩৬ কোটি ৬২ হাজার ৫শ’ টাকা। দাম কম হওয়ায় জেলা প্রশাসক পুনরায় নিলাম করার কথা বলেন। দ্বিতীয় নিলামে দর আসে ১৩ কোটি টাকা।

এরপর বাধ্য হয়ে প্রথম নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা সামী এন্টারপ্রাইজের মালিক সিলেটের গোটাটিকর এলাকার নজরুল ইসলামকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দেয়ায় সামী এন্টাপ্রাইজের ১ কোটি ৫০ লাখ ৫২ হাজার টাকা জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। এবার তৃতীয় দফায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরিবেশ অধিদফতর।

এ অবস্থায় পরিবেশ অধিদফতরের এই নিলাম চ্যালেঞ্জ করে পাথর ব্যবসায়ী পরিচয়ে হাইকোর্টে পৃথক রিট করে কানাইঘাটের ৬ ব্যক্তি। তারা ৪৮ লাখ সিএফটি পাথর ইজারাদার মস্তাক আহমেদ পলাশের কাছ থেকে কিনে নদীর দুই পাড়ে মজুদ করার দাবি করে। আদালত এই পৌনে ৪৮ লাখ সিএফটি পাথর রেখে অবশিষ্ট পাথর নিলাম করার আদেশ দেন। এরপর এই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে জেলা প্রশাসন। পৌনে ৪৮ লাখ সিএফটি পাথরের বাজার মূল্য ৪৮ টাকা প্রতি বর্গফুট হিসেবে প্রায় ২৩ কোটি টাকা।

এদিকে আদালতের আদেশের কপি নিয়ে রিটকারীরা পরিবেশ অধিদফতর সিলেটের পরিচালকের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করে। আবেদনের জবাবে রিটকারীদের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিতে পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আবেদনের সঙ্গে পাথরের মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দাখিলের অনুরোধ করা হল। বৈধ কাগজপত্র সরবরাহ না করায় মালিকানার যথার্থতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।’

জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। ২৩ কোটি টাকা দিয়ে পাথর কেনার সামর্থ্য রিটকারীদের আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। মোটা অঙ্কের এই টাকা ইজারাদার মস্তাক আহমেদ পলাশকে কীভাবে পরিশোধ করা হয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পাথর অবমুক্তি করার অনুমতি দেয়া যায় না। আমরা আশঙ্কা করছি আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদেশ আনা হয়েছে। এই রিটকারীদের পেছনে আছেন পলাশ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মস্তাক আহমেদ পলাশ বলেন, ‘ ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাথর উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। করোনার কারণে পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় নদীর দুই পাড়ে বৈধ পাথর রাখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৬-২০২০ দুই মেয়াদে লোভাছড়া পাথরকোয়ারি ইজারা পেয়েছি। এই কয়েক বছরে কোনোদিনও পরিবেশ অধিদফতর এলাকায় যাননি। এবার উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।’

ভ্রাম্যমাণ আদালত আদেশে বলেছেন, আপনি পরিবেশ ও খনিজসম্পদ আইন লঙ্ঘন করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন, প্রশ্ন করা হলে- পলাশ বলেন, ‘এর আগে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৭ বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন।

তিনি তো কোনোদিন এই অভিযোগ করেননি।’ উচ্চ আদালত কেন আপনাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন জানতে চাইলে বলেন, ‘পাথর পরিবহনের স্বার্থে দ্বিতীয়বার সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।’

অবৈধভাবে পাথর তুলে লোভাছড়া নদী ধ্বংস

আইন লঙ্ঘন করেও অধরা ইজারাদার

জব্দ এক কোটি সিএফটি পাথর সেই ইজারাদারকে দিতে বিএমডির সুপারিশ
 নেসারুল হক খোকন, সিলেট থেকে ফিরে 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবৈধভাবে দুই তীরের সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলনে ধ্বংস হয়েছে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তের লোভাছড়া নদী। যন্ত্র ব্যবহার না করে পাথর তুলতে একই ব্যক্তিকে নদীর একটি অংশ কয়েক দফা ইজারা দেয় খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)।

সর্বশেষ গত বছর ১৬ মাসের ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও কয়েক মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল পাথর উত্তোলন। এক্ষেত্রে অমান্য করা হয় আদালতের নিষেধাজ্ঞাও।

শুধু তাই নয়, নদীর দুই তীর কেটে অবৈধভাবে কয়েক কোটি সিএফটি পাথর উত্তোলন করেছে ওই ইজারাদার। এতে নদীর প্রকৃত আকার হারিয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী গ্রামে বিস্তৃতি হচ্ছে নদীর গতিপথ। পাহাড়ি ঢলের সময় গোটা এলাকা প্লাবিত হয় অস্বাভাবিকভাবে।

চুক্তিভঙ্গ করে ইজারাদারের এ ধরনের অপকর্ম পরিবেশ সংরক্ষণ এবং খনিজসম্পদ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা ফৌজদারি অপরাধও- এমন মন্তব্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের। এই আদালতের নির্দেশেই এখন বন্ধ আছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন।

পাশাপাশি উত্তোলিত এক কোটি সিএফটি পাথর জব্দ করে নিলামের আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু এত অপকর্মের পরও রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রভাবশালী ইজারাদার মস্তাক আহমেদ পলাশ। তিনি বিএমডি’র সংশ্লিষ্টদের আশীর্বাদপুষ্ট বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কারণ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে জব্দ করা পাথর ওই বিতর্কিত মস্তাককেই দেয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

লোভাছড়া নদীটির অবস্থান সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে। ওই পাড়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড়। বিএমডি’র তালিকায় এই নদীর সীমান্তে একটি পাথরকোয়ারি আছে। বিএমডি দীর্ঘদিন ধরে পলাশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থান থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য ইজারা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ- বিতর্কিত এই পাথর আহরণকারী পরিবেশ ধ্বংস করে নদীর দুই তীরের বিভিন্ন স্থান থেকে পাথর তোলেন। তাকে কেউ বাধাও দেয় না। সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করেই তিনি এই কাজটি নির্বিঘ্নে করে থাকেন। এ কারণে ছোট লোভাছড়া এখন ভাঙনের কবলে পরে বড় নদীতে পরিণত হয়েছে। বিএমডির সহযোগিতায় বিস্তীর্ণ এলাকা কেটে বড় বড় গর্ত করে পাথর তুলেছেন তিনি।

পরিবেশ অধিদফতরের অভিযোগ, এলাকার সৌন্দর্য ধ্বংস করে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে সম্প্রতি এক কোটি সিএফটি পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। যা এখন জব্দ অবস্থায় আছে। অন্যদিকে বিএমডির বিদায়ী মহাপরিচালক এ বিষয়ে ১৩ আগস্ট এক চিঠিতে বলেন, ‘লোভাছড়া পাথরকোয়ারিতে স্তূপাকারে জমাকৃত পাথর বিভিন্ন ব্যবসায়ী ইজারাদারের কাছ থেকে কিনেছেন।

পরিবেশ অধিদফতর এবং স্থানীয় প্রশাসন পাথর জব্দ ও অপসারণে বাধা দেয়ায় ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণভাবে পরিবহন করতে পারেননি। ৬টি রিট পিটিশনের আদেশে পাথর অপসারণের সুযোগ দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের পাথর অপসারণের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।’ আরেকটি চিঠিতে ওই মহাপরিচালক জানান, বিধিমালা অনুযায়ী অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার বিএমডির ওপর ন্যস্ত।

ইজারাদারের পক্ষে এমন অবস্থান কেন ছিল জানতে চাইলে বিএমডির সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক মো. জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা কোনো নির্দেশনা দেইনি। এ বিষয়ে কোর্টে রিট হয়। আদেশের পর আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি লিখি।

জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়েছে নিলাম করার জন্য। নিলামের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। যখন জানানো হয়েছে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিবেশের ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কোনো এখতিয়ার নেই।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সম্পূর্ণ বিষয়টি আমি জানি। তবে আমার কথা স্পষ্ট, সিলেটের জেলা প্রশাসক কেন নিজেকে এত অসহায়বোধ করছেন?

তিনি কেন পরিবেশ বিপর্যস্ত এলাকায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিচ্ছে না। আর আদালতের সামনে বিএমডির কোনো কাগজ প্রাধান্য পেতে পারে না। আদালত তো আদালতই। মোবাইল কোর্টের আদেশকে প্রাধান্য দিয়েই স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর কাজ করবে। এটাই হওয়া উচিত।

এদিকে ৯ জুলাই বিএমডি’র সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালককে দেয়া এক চিঠিতে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বারিউল করিম খান বলেন, ‘লোভাছড়া পাথরকোয়ারির ইজারার মেয়াদ ১৩ এপ্রিল শেষ হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোয়ারিটি নতুনভাবে ইজারা দেয়া হয়নি। ইজারাকালে সাবেক ইজারাদারের সহযোগিতায় কোয়ারিবহির্ভূত এলাকা থেকে ব্যাপক হারে যান্ত্রিক উপায়ে বিপুল পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হয়। ইজারাদার তার পাথর ইতোমধ্যে পরিবহন করেছে।

অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথরের কিছু অংশ রাতে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে কয়েক লাখ ঘনফুট পাথর লোভা নদীর দুই তীরে স্তূপীকৃত অবস্থায় আছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি এই পাথর বিক্রি ও পরিবহনের চেষ্টায় আছে। কোয়ারিটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সার্বক্ষণিক পাহারা দেয়া সম্ভব হয় না।’ অবৈধভাবে উত্তোলিত এই পাথর সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে নিলাম অথবা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান ইউএনও।

এরপর ওই এলাকায় পরিদর্শনে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাথর নিলাম করার বিষয়ে ১৫ জুলাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া এক আদেশে বলা হয়, ‘সিলেট পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর অবৈধভাবে লোভাছড়া নদী থেকে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। নদীর তীরে অভিযানকালে ২ কিলোমিটারব্যাপী অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথরের স্তূপ পাওয়া যায়। পাশাপাশি পাথর পরিবহন অবস্থায় ইঞ্জিনচালিত বাল্কহেড নৌকা চলাচল করতেও দেখা যায়। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা শ্রমিককে আটক করা যায়নি।

অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন করা সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের জারিকৃত সরকারি আদেশের লঙ্ঘন। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং খনিজসম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন ১৯৯২ অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ। কোনো আসামিকে এই স্থানে না পাওয়ায় নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা গেল না। অপরাধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রাশার মেশিন, ইঞ্জিনচালিত বাল্কহেড, নৌকা অযান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিকল করা হল।’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘আলামত হিসেবে লোভা নদীর দুই তীরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, স্তূপীকরণ এবং অপসারণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করতে পরিবেশ অধিদফতরকে বলা হল।’ জব্দকৃত পাথর আইন ও বিধিসম্মতভাবে নিলামে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমাদানের বিষয়েও পরিবেশ অধিদফতরকে আদেশ দেন আদালত। নিলাম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যাতে কেউ পাথর সরাতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কানাইঘাট থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই আদেশের পর নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরিবেশ অধিদফতর। এর আগে পাথরের ঘনফুট অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ, সার্ভের মাধ্যমে স্তূপীকৃত পাথরের পরিমাণ নির্ধারণ করে ২১ জুলাই নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সার্বিক বিষয় উপস্থাপন করে ৫ আগস্ট পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে ৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দেন সিলেটের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন।

ওই প্রতিবেদনে লোভাছড়ার পাথরকে মূল্যবান দাবি করে বলা হয়, সার্ভে অনুযায়ী নদীর দুই পারে ২ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় এক কোটি সিএফটি পাথর জব্দ করা আছে। নিলামপূর্ব মূল্য নির্ধারণী সভায় প্রতি ঘনফুট পাথর ৬০ টাকা ধরা হয়। এই হিসেবে ৬০ কোটি টাকার পাথরের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ৫ প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। ১৫ ভাগ ভ্যাট, ৫ ভাগ আয়কর হিসাব করে সর্বোচ্চ দর পাওয়া যায় ৩৬ কোটি ৬২ হাজার ৫শ’ টাকা। দাম কম হওয়ায় জেলা প্রশাসক পুনরায় নিলাম করার কথা বলেন। দ্বিতীয় নিলামে দর আসে ১৩ কোটি টাকা।

এরপর বাধ্য হয়ে প্রথম নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা সামী এন্টারপ্রাইজের মালিক সিলেটের গোটাটিকর এলাকার নজরুল ইসলামকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দেয়ায় সামী এন্টাপ্রাইজের ১ কোটি ৫০ লাখ ৫২ হাজার টাকা জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। এবার তৃতীয় দফায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরিবেশ অধিদফতর।

এ অবস্থায় পরিবেশ অধিদফতরের এই নিলাম চ্যালেঞ্জ করে পাথর ব্যবসায়ী পরিচয়ে হাইকোর্টে পৃথক রিট করে কানাইঘাটের ৬ ব্যক্তি। তারা ৪৮ লাখ সিএফটি পাথর ইজারাদার মস্তাক আহমেদ পলাশের কাছ থেকে কিনে নদীর দুই পাড়ে মজুদ করার দাবি করে। আদালত এই পৌনে ৪৮ লাখ সিএফটি পাথর রেখে অবশিষ্ট পাথর নিলাম করার আদেশ দেন। এরপর এই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে জেলা প্রশাসন। পৌনে ৪৮ লাখ সিএফটি পাথরের বাজার মূল্য ৪৮ টাকা প্রতি বর্গফুট হিসেবে প্রায় ২৩ কোটি টাকা।

এদিকে আদালতের আদেশের কপি নিয়ে রিটকারীরা পরিবেশ অধিদফতর সিলেটের পরিচালকের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করে। আবেদনের জবাবে রিটকারীদের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিতে পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আবেদনের সঙ্গে পাথরের মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দাখিলের অনুরোধ করা হল। বৈধ কাগজপত্র সরবরাহ না করায় মালিকানার যথার্থতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।’

জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। ২৩ কোটি টাকা দিয়ে পাথর কেনার সামর্থ্য রিটকারীদের আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। মোটা অঙ্কের এই টাকা ইজারাদার মস্তাক আহমেদ পলাশকে কীভাবে পরিশোধ করা হয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পাথর অবমুক্তি করার অনুমতি দেয়া যায় না। আমরা আশঙ্কা করছি আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদেশ আনা হয়েছে। এই রিটকারীদের পেছনে আছেন পলাশ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মস্তাক আহমেদ পলাশ বলেন, ‘ ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাথর উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। করোনার কারণে পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় নদীর দুই পাড়ে বৈধ পাথর রাখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৬-২০২০ দুই মেয়াদে লোভাছড়া পাথরকোয়ারি ইজারা পেয়েছি। এই কয়েক বছরে কোনোদিনও পরিবেশ অধিদফতর এলাকায় যাননি। এবার উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।’

ভ্রাম্যমাণ আদালত আদেশে বলেছেন, আপনি পরিবেশ ও খনিজসম্পদ আইন লঙ্ঘন করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন, প্রশ্ন করা হলে- পলাশ বলেন, ‘এর আগে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৭ বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন।

তিনি তো কোনোদিন এই অভিযোগ করেননি।’ উচ্চ আদালত কেন আপনাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন জানতে চাইলে বলেন, ‘পাথর পরিবহনের স্বার্থে দ্বিতীয়বার সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।’