বিচারিক তদন্তে কমিটি করল হাইকোর্ট
jugantor
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণ
বিচারিক তদন্তে কমিটি করল হাইকোর্ট
পাঁচ দিনের রিমান্ডে আরও তিন আসামি, গ্রেফতার হয়েছে তারেক ও মাসুম * শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সদস্যদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

  যুগান্তর রিপোর্ট ও সিলেট ব্যুরো  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনার দায় নিরূপণে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ ঘটনার ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হয়।

এরপরই বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এ আদেশ দেন।

এদিন গণধর্ষণের মামলায় রনিসহ আরও তিন আসামিকে ৫ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালত। এছাড়া মামলার দুই নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক ও ছয় নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ নিয়ে মামলায় এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হল। এর মধ্যে ছয়জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবারই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবারও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় অব্যাহত ছিল।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের গঠন করা তিন সদস্যের কমিটিতে আছেন- সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ)।

কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার মারফত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার শিকার গৃহবধূ, মামলার বাদী, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার, ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী (যদি পাওয়া যায়) এবং কমিটি যাদের প্রয়োজন মনে করবে, তাদের জবানবন্দি নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

কোনোরকম ব্যর্থতা ছাড়া আদালতের আদেশের অনুলিপি বুধবারের (আজ) মধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছাতে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে এ অনুসন্ধান কমিটির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। তদন্ত কাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে রক্ষায় অবহেলা ও অছাত্রদের কলেজে অবস্থান বিষয়ে নীরবতায় অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপারসহ বিবাদীদের ২ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ১৮ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছেন আদালত।

আইনজীবী মেসবাহ উদ্দিন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এনে নিজেই মঙ্গলবার এই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

সিলেট আদালত : মঙ্গলবার সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালতে মামলার ৩নং আসামি ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), মামলার সন্দিগ্ধ আসামি ছাত্রলীগ নেতা রাজন মিয়া ও আইনুদ্দিনকে হাজির করে ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান (রহ.) থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার আসামি মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন মিয়া ও তার সহযোগী আইনুদ্দিনের ৭ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হলে ৫ দিন করে মঞ্জুর করেন বিচারক।

আদালত থেকে বেরিয়ে সিলেট জেলা বারের আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী লিটন যুগান্তরকে বলেন, রিমান্ড মঞ্জুরকালে জেলা বারের শতাধিক আইনজীবী বাদী পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।

আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, ধর্ষণকারীরা এমসি কলেজের ১২৮ বছরের ইতিহাস কলঙ্কিত করেছে। তাদের ৭ দিনের রিমান্ড দিলে নেপথ্যের প্রশ্রয়দাতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।

সে সময় আদালতের বিচারক দুই লাইনে আসামিদের বক্তব্য জানতে চাইলেও তারা কোনো কিছু বলতে পারেনি।

এর আগে সোমবার মামলার আরও তিন আসামির ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তারা হল- প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও ৪নং আসামি অর্জুন লস্কর এবং ৫নং আসামি রবিউল ইসলাম।

আরও দু’জন গ্রেফতার : মামলার ছয় নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে সোমবার রাতে জৈন্তাপুরের হরিপুর থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা ডিবি ও কানাইঘাট থানা পুলিশ।

এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা থেকে দুই নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেককে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৯।

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার এএসপি ওবাইন যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তারেককে সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে। সিলেটে পৌঁছলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মামলা সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ নিয়ে এ মামলায় এজাহারভুক্ত ৬ আসামিসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে রাজন ও আইনুদ্দিনকে ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বাকি চারজন আসামির মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে সুনামগঞ্জ থেকে এবং বাকি তিন আসামি অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। মাসুম ও তারেক ছাড়া বাকিরা রিমান্ডে আছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি : সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় তদন্ত দল এমসি কলেজে এসে পৌঁছে। এ সময় তারা প্রায় ১ ঘণ্টা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও কলেজ গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর তারা কলেজের আবাসিক হোস্টেলে যান। হোস্টেলের নবনির্মিত ভবনসহ বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন, এ সময় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন তারা।

তদন্ত কমিটির প্রধান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী জানান, কমিটি ৩ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও ১ সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

তিনি আরও জানান, এ সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন কমিটির সদস্যরা। প্রয়োজনে ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলবেন তারা।

এর আগে সকালে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী, মাউশি সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক (কলেজ) এবং মাউশি সহকারী পরিচালক লোকমান হোসেন।

এ ঘটনায় কলেজ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি আছে কিনা- তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে কমিটি।

শুক্রবার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগ নেতারা। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই দম্পতিকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীকালে ধর্ষণের শিকার নারীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এ নবদম্পতি শুক্রবার বিকালে প্রাইভেট কারে এমসি কলেজে বেড়াতে যান।

এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী স্বামী-স্ত্রীকে ধরে ছাত্রাবাসে নিয়ে প্রথমে মারধর করে। পরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে। ছাত্রলীগ নেতাদের প্রত্যেকেই ছাত্রাবাসে থাকত।

তারা টিলাগড়কেন্দ্রিক আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রণজিত সরকারের অনুসারী। এ ঘটনায় পরদিন শনিবার ভোরে ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে অভিযুক্ত করে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেন ওই নারীর স্বামী।

ঘটনার পর অভিযানে নেমে মামলার প্রধান আসামি ও ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার।

ছাত্রলীগ ক্যাডার সাইফুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন তিনি।

সারা দেশে প্রতিবাদ : সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবারও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন করা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সড়ক অবরোধও করা হয়।

বিক্ষোভে বক্তারা ধর্ষকদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। তারা বলেন, এ দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পরিচালিত হচ্ছে, অপরাধীরা তাদের অপরাধের শাস্তি পাচ্ছে না। এতে তারা একের পর এক অপরাধ করেই যাচ্ছে।

এসব থেকে উত্তরণের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। বর্তমান সংকটময় সময়ে নারীদের কোনো ধরনের নিরাপত্তা নেই। এসব সহিংসতা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধসহ আইনের সঠিক প্রয়োগে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়।

এদিকে নোয়াখালীতে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশি হামলায় ১৮ জন আহত হয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের সব ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে। পাশাপাশি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় শিক্ষক সমিতি।

সিলেট : এমসি কলেজের সব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন সম্মিলিতভাবে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা তামাবিল সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

পরে ১০ দফা সংবলিত লিখিত দাবি উত্থাপন করা হয়। তাদের এ দাবি কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও শাহপরান থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। এদিকে এমসি কলেজ ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে এমসি কলেজের প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এমসি কলেজ ছাত্রদল নেতা সেলিম আহমদ সাগরের সভাপতিত্বে ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা শিহাব আহমেদ সমাবেশ পরিচালনা করেন।

এদিকে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার), গাইবান্ধা, শরণখোলা (বাগেরহাট), মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট), যশোর, জয়পুরহাট, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমসি কলেজে গণধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, পথসভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণ

বিচারিক তদন্তে কমিটি করল হাইকোর্ট

পাঁচ দিনের রিমান্ডে আরও তিন আসামি, গ্রেফতার হয়েছে তারেক ও মাসুম * শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সদস্যদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন
 যুগান্তর রিপোর্ট ও সিলেট ব্যুরো 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনার দায় নিরূপণে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ ঘটনার ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হয়।

এরপরই বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এ আদেশ দেন। 

এদিন গণধর্ষণের মামলায় রনিসহ আরও তিন আসামিকে ৫ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালত। এছাড়া মামলার দুই নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক ও ছয় নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ নিয়ে মামলায় এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হল। এর মধ্যে ছয়জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। 

পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবারই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবারও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় অব্যাহত ছিল।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের গঠন করা তিন সদস্যের কমিটিতে আছেন- সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ)।

কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার মারফত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার শিকার গৃহবধূ, মামলার বাদী, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার, ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী (যদি পাওয়া যায়) এবং কমিটি যাদের প্রয়োজন মনে করবে, তাদের জবানবন্দি নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

কোনোরকম ব্যর্থতা ছাড়া আদালতের আদেশের অনুলিপি বুধবারের (আজ) মধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছাতে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

এছাড়া সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে এ অনুসন্ধান কমিটির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। তদন্ত কাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে রক্ষায় অবহেলা ও অছাত্রদের কলেজে অবস্থান বিষয়ে নীরবতায় অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপারসহ বিবাদীদের ২ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ১৮ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছেন আদালত।

আইনজীবী মেসবাহ উদ্দিন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এনে নিজেই মঙ্গলবার এই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

সিলেট আদালত : মঙ্গলবার সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালতে মামলার ৩নং আসামি ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), মামলার সন্দিগ্ধ আসামি ছাত্রলীগ নেতা রাজন মিয়া ও আইনুদ্দিনকে হাজির করে ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান (রহ.) থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার আসামি মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন মিয়া ও তার সহযোগী আইনুদ্দিনের ৭ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হলে ৫ দিন করে মঞ্জুর করেন বিচারক।

আদালত থেকে বেরিয়ে সিলেট জেলা বারের আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী লিটন যুগান্তরকে বলেন, রিমান্ড মঞ্জুরকালে জেলা বারের শতাধিক আইনজীবী বাদী পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।

আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, ধর্ষণকারীরা এমসি কলেজের ১২৮ বছরের ইতিহাস কলঙ্কিত করেছে। তাদের ৭ দিনের রিমান্ড দিলে নেপথ্যের প্রশ্রয়দাতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।

সে সময় আদালতের বিচারক দুই লাইনে আসামিদের বক্তব্য জানতে চাইলেও তারা কোনো কিছু বলতে পারেনি।

এর আগে সোমবার মামলার আরও তিন আসামির ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তারা হল- প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও ৪নং আসামি অর্জুন লস্কর এবং ৫নং আসামি রবিউল ইসলাম। 

আরও দু’জন গ্রেফতার : মামলার ছয় নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে সোমবার রাতে জৈন্তাপুরের হরিপুর থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা ডিবি ও কানাইঘাট থানা পুলিশ।

এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা থেকে দুই নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেককে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৯।

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার এএসপি ওবাইন যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তারেককে সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে। সিলেটে পৌঁছলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মামলা সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

এ নিয়ে এ মামলায় এজাহারভুক্ত ৬ আসামিসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে রাজন ও আইনুদ্দিনকে ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বাকি চারজন আসামির মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে সুনামগঞ্জ থেকে এবং বাকি তিন আসামি অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। মাসুম ও তারেক ছাড়া বাকিরা রিমান্ডে আছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি : সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় তদন্ত দল এমসি কলেজে এসে পৌঁছে। এ সময় তারা প্রায় ১ ঘণ্টা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও কলেজ গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর তারা কলেজের আবাসিক হোস্টেলে যান। হোস্টেলের নবনির্মিত ভবনসহ বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন, এ সময় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন তারা।

তদন্ত কমিটির প্রধান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী জানান, কমিটি ৩ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও ১ সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

তিনি আরও জানান, এ সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন কমিটির সদস্যরা। প্রয়োজনে ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলবেন তারা।

এর আগে সকালে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী, মাউশি সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক (কলেজ) এবং মাউশি সহকারী পরিচালক লোকমান হোসেন।

এ ঘটনায় কলেজ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি আছে কিনা- তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে কমিটি। 

শুক্রবার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগ নেতারা। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই দম্পতিকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীকালে ধর্ষণের শিকার নারীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এ নবদম্পতি শুক্রবার বিকালে প্রাইভেট কারে এমসি কলেজে বেড়াতে যান।

এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী স্বামী-স্ত্রীকে ধরে ছাত্রাবাসে নিয়ে প্রথমে মারধর করে। পরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে। ছাত্রলীগ নেতাদের প্রত্যেকেই ছাত্রাবাসে থাকত।

তারা টিলাগড়কেন্দ্রিক আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রণজিত সরকারের অনুসারী। এ ঘটনায় পরদিন শনিবার ভোরে ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে অভিযুক্ত করে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেন ওই নারীর স্বামী।

ঘটনার পর অভিযানে নেমে মামলার প্রধান আসামি ও ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার।

ছাত্রলীগ ক্যাডার সাইফুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন তিনি।

সারা দেশে প্রতিবাদ : সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবারও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন করা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সড়ক অবরোধও করা হয়।

বিক্ষোভে বক্তারা ধর্ষকদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। তারা বলেন, এ দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পরিচালিত হচ্ছে, অপরাধীরা তাদের অপরাধের শাস্তি পাচ্ছে না। এতে তারা একের পর এক অপরাধ করেই যাচ্ছে।

এসব থেকে উত্তরণের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। বর্তমান সংকটময় সময়ে নারীদের কোনো ধরনের নিরাপত্তা নেই। এসব সহিংসতা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধসহ আইনের সঠিক প্রয়োগে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়।

এদিকে নোয়াখালীতে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশি হামলায় ১৮ জন আহত হয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের সব ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে। পাশাপাশি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় শিক্ষক সমিতি।

সিলেট : এমসি কলেজের সব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন সম্মিলিতভাবে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা তামাবিল সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

পরে ১০ দফা সংবলিত লিখিত দাবি উত্থাপন করা হয়। তাদের এ দাবি কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও শাহপরান থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। এদিকে এমসি কলেজ ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে এমসি কলেজের প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এমসি কলেজ ছাত্রদল নেতা সেলিম আহমদ সাগরের সভাপতিত্বে ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা শিহাব আহমেদ সমাবেশ পরিচালনা করেন।

এদিকে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার), গাইবান্ধা, শরণখোলা (বাগেরহাট), মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট), যশোর, জয়পুরহাট, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমসি কলেজে গণধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, পথসভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।