তিস্তা চুক্তি করতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল ভারত
jugantor
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ভার্চুয়াল জেসিসি বৈঠক 
তিস্তা চুক্তি করতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল ভারত

  কূটনৈতিক রিপোর্টার  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। আর চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। এ লক্ষ্যে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক করার ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

এছাড়া সীমান্ত হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, সীমান্ত হত্যা লজ্জাজনক। অপরদিকে, সীমান্তে প্রতিটি হত্যাকে দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নেতৃত্বে জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধে শিগগিরই দু’দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। ভারতের ঋণের প্রকল্পে গতি ফেরাতে যৌথ কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন।

ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এবারের বৈঠক ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর নিজ নিজ দেশ থেকে এ বৈঠকে যোগ দেন।

জয়শঙ্কর বলেছেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন করবে ভারত।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা দু’পক্ষ একমত হয়েছি সীমান্তে কেউ যাতে না মারা যান। সীমান্ত হত্যা বিষয়ে দু’পক্ষ একমত হয়েছে এটিকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার।

আমাদের দু’দেশের দায়িত্ব আছে এবং সেটি আমরা করব। যেসব অঞ্চলে মারা যান সেখানে যৌথভাবে মনিটরিং করব। এটা আমাদের জন্য লজ্জার, ভারতের জন্যও লজ্জার।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে যে দৃঢ় সম্পর্ক, সেটি একজন মারা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন পেঁয়াজ একটি ছোট জিনিস। কিন্তু যখন দুর্ঘটনা হয় তখন এ সম্পর্কে আঘাত হানে। আমরা ভারত থেকে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনি।

যেমন পেঁয়াজ এবং সেটি হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারের ওপর প্রভাব পড়ে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে কি হবে সেটি এখনও ঠিক করিনি।

আমরা সম্মত হয়েছি দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। এখন আমরা প্রস্তুতি নেব। আমাদের হাতে সময় আছে। আমরা চাইব বৈঠকটি যাতে তাৎপর্যপূর্ণ হয়।

নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দু’পক্ষ আলোচনা করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে আমরা দু’পক্ষ সম্মত হয়েছি। আমরা জোর দিয়েছি এটির বিষয়ে। বাকি আরও ছয়টি নদীর মীমাংসা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং তারা এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে।

যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক ২০১০ সালে হয়েছিল এবং এটি দ্রুত করার বিষয়ে দু’দেশ সম্মত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে বৈঠক হয়নি এবং আমার মনে হয় যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত ছিল না। কিন্তু আমরা সম্মত হয়েছি, এটি হবে। কিন্তু কবে হবে সেটি জানি না।

লাইন অফ ক্রেডিট বৈঠকে একটি বড় ইস্যু ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি খুব ধীরগতিতে হচ্ছে। এজন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী জানান, আমাদের মতো তারাও উদগ্রীব।

অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ কিছু সমস্যা আছে। যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে সেটি দূর করার জন্য কমিটি হয়েছে। বাংলাদেশকে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বলে ভারত অঙ্গীকার করেছে।

২০১০ সালে এ অঙ্গীকার করা হলেও তা বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালে। এখন পর্যন্ত ১০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।

ভারতের দিকে আইন-কানুন নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেমন বলা হয়েছে বিভিন্ন এজেন্সির অনুমতি লাগে।

তারপরে কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারত থেকে আমদানি জটিলতা রয়েছে। যে জিনিস বাংলাদেশে সহজলভ্য সেটি আমরা ভারত থেকে কেন আনব। এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় একে অপরের সহযোগিতার বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে যখনই টিকা বের হবে তখনই সেটি সংগ্রহ করা এবং যে আগে তৈরি করবে তার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করব।

শুধু চীন ও ভারত নয়, বাংলাদেশ অন্য দেশ যেমন রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভারতের টিকা সংগ্রহ এবং বাংলাদেশে উৎপাদন করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে ভারতের আইনি বাধার বিষয়টি বাংলাদেশ তুলেছে এবং তারা বলেছে তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

এছাড়া তারা বাংলাদেশি বিনিয়োগ স্বাগত জানায় বলে জানান মন্ত্রী।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টন, ভারতীয় ঋণের (লাইন অব ক্রেডিট, সংক্ষেপে এলওসি) আওতাধীন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নসহ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।

এবারের বৈঠকেও সর্বশেষ জেসিসি বৈঠক ও শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি এবং সম্পর্কের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে কমিশনের পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ জেসিসির ষষ্ঠ বৈঠক আয়োজন করার কথা, যা এখন ভার্চুয়ালি হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, চলমান মহামারীর প্রেক্ষাপটে উভয়পক্ষই স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে। বিশেষত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সরবরাহ, বিতরণ এবং সহ-উৎপাদনের ক্ষেত্রে।

ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেয়ার ভারতের আশ্বাসের প্রশংসা করেন ড. মোমেন।

উভয়পক্ষই সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদযাপন করতে সম্মত হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পর্যায়ে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হবে দু’দেশের মধ্যে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর-কলকাতা সড়ক পুনরায় চালু করা হবে। বিজয় এবং বন্ধুত্বের ৫০ বছর উপলক্ষে ওয়েবসাইট চালু, দু’পক্ষই বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীকে নিয়ে ডিজিটাল জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শকে শ্রদ্ধা জানাতে ভারত সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করবে।

দু’দেশের মন্ত্রী চলমান মহামারী চলাকালীন বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে ইতিবাচক পর্যালোচনা করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পারস্পরিকভাবে ভিসা এবং স্থলসীমা নিষেধাজ্ঞাগুলো সহজতর করতে; বিশেষ করে যারা মেডিকেল রোগী এবং শিক্ষার্থী ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন।

সাফটার আওতায় দেয়া শুল্ক ছাড়ার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। কারণ শুল্কবিহীন বিভিন্ন বাধা এবং পর্যাপ্ত বাণিজ্য সুবিধার অভাব বাংলাদেশের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে ভারতে পণ্য বিশেষত উত্তর-পূর্ব দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে।

ড. মোমেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পেঁয়াজের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য রফতানির দিকে নজর রাখতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেহেতু এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে প্রভাবিত করে।

তিনি সমতারভিত্তিতে জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ নীতি প্রয়োগ। বৈঠককালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে ভারত রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও অর্থবহ ভূমিকা পালন করবে।

এছাড়াও বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল এবং বাংলাদেশ-ভারত-ভুটানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বিদ্যুৎ-শক্তি সহযোগিতার সুবিধার মাধ্যমে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ভার্চুয়াল জেসিসি বৈঠক 

তিস্তা চুক্তি করতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল ভারত

 কূটনৈতিক রিপোর্টার 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। আর চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। এ লক্ষ্যে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক করার ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

এছাড়া সীমান্ত হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, সীমান্ত হত্যা লজ্জাজনক। অপরদিকে, সীমান্তে প্রতিটি হত্যাকে দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। 

মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নেতৃত্বে জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধে শিগগিরই দু’দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। ভারতের ঋণের প্রকল্পে গতি ফেরাতে যৌথ কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন।

ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। 

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এবারের বৈঠক ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর নিজ নিজ দেশ থেকে এ বৈঠকে যোগ দেন।

জয়শঙ্কর বলেছেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন করবে ভারত।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা দু’পক্ষ একমত হয়েছি সীমান্তে কেউ যাতে না মারা যান। সীমান্ত হত্যা বিষয়ে দু’পক্ষ একমত হয়েছে এটিকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার।

আমাদের দু’দেশের দায়িত্ব আছে এবং সেটি আমরা করব। যেসব অঞ্চলে মারা যান সেখানে যৌথভাবে মনিটরিং করব। এটা আমাদের জন্য লজ্জার, ভারতের জন্যও লজ্জার।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে যে দৃঢ় সম্পর্ক, সেটি একজন মারা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন পেঁয়াজ একটি ছোট জিনিস। কিন্তু যখন দুর্ঘটনা হয় তখন এ সম্পর্কে আঘাত হানে। আমরা ভারত থেকে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনি।

যেমন পেঁয়াজ এবং সেটি হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারের ওপর প্রভাব পড়ে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে কি হবে সেটি এখনও ঠিক করিনি।

আমরা সম্মত হয়েছি দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। এখন আমরা প্রস্তুতি নেব। আমাদের হাতে সময় আছে। আমরা চাইব বৈঠকটি যাতে তাৎপর্যপূর্ণ হয়। 

নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দু’পক্ষ আলোচনা করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে আমরা দু’পক্ষ সম্মত হয়েছি। আমরা জোর দিয়েছি এটির বিষয়ে। বাকি আরও ছয়টি নদীর মীমাংসা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং তারা এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে।

যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক ২০১০ সালে হয়েছিল এবং এটি দ্রুত করার বিষয়ে দু’দেশ সম্মত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে বৈঠক হয়নি এবং আমার মনে হয় যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত ছিল না। কিন্তু আমরা সম্মত হয়েছি, এটি হবে। কিন্তু কবে হবে সেটি জানি না।

লাইন অফ ক্রেডিট বৈঠকে একটি বড় ইস্যু ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি খুব ধীরগতিতে হচ্ছে। এজন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী জানান, আমাদের মতো তারাও উদগ্রীব।

অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ কিছু সমস্যা আছে। যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে সেটি দূর করার জন্য কমিটি হয়েছে। বাংলাদেশকে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বলে ভারত অঙ্গীকার করেছে।

২০১০ সালে এ অঙ্গীকার করা হলেও তা বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালে। এখন পর্যন্ত ১০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। 

ভারতের দিকে আইন-কানুন নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেমন বলা হয়েছে বিভিন্ন এজেন্সির অনুমতি লাগে।

তারপরে কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারত থেকে আমদানি জটিলতা রয়েছে। যে জিনিস বাংলাদেশে সহজলভ্য সেটি আমরা ভারত থেকে কেন আনব। এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় একে অপরের সহযোগিতার বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে যখনই টিকা বের হবে তখনই সেটি সংগ্রহ করা এবং যে আগে তৈরি করবে তার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করব।

শুধু চীন ও ভারত নয়, বাংলাদেশ অন্য দেশ যেমন রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভারতের টিকা সংগ্রহ এবং বাংলাদেশে উৎপাদন করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে ভারতের আইনি বাধার বিষয়টি বাংলাদেশ তুলেছে এবং তারা বলেছে তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

এছাড়া তারা বাংলাদেশি বিনিয়োগ স্বাগত জানায় বলে জানান মন্ত্রী।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টন, ভারতীয় ঋণের (লাইন অব ক্রেডিট, সংক্ষেপে এলওসি) আওতাধীন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নসহ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।

এবারের বৈঠকেও সর্বশেষ জেসিসি বৈঠক ও শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি এবং সম্পর্কের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে কমিশনের পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ জেসিসির ষষ্ঠ বৈঠক আয়োজন করার কথা, যা এখন ভার্চুয়ালি হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, চলমান মহামারীর প্রেক্ষাপটে উভয়পক্ষই স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে। বিশেষত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সরবরাহ, বিতরণ এবং সহ-উৎপাদনের ক্ষেত্রে।

ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেয়ার ভারতের আশ্বাসের প্রশংসা করেন ড. মোমেন।

উভয়পক্ষই সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদযাপন করতে সম্মত হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পর্যায়ে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হবে দু’দেশের মধ্যে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর-কলকাতা সড়ক পুনরায় চালু করা হবে। বিজয় এবং বন্ধুত্বের ৫০ বছর উপলক্ষে ওয়েবসাইট চালু, দু’পক্ষই বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীকে নিয়ে ডিজিটাল জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শকে শ্রদ্ধা জানাতে ভারত সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করবে। 

দু’দেশের মন্ত্রী চলমান মহামারী চলাকালীন বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে ইতিবাচক পর্যালোচনা করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পারস্পরিকভাবে ভিসা এবং স্থলসীমা নিষেধাজ্ঞাগুলো সহজতর করতে; বিশেষ করে যারা মেডিকেল রোগী এবং শিক্ষার্থী ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন।

সাফটার আওতায় দেয়া শুল্ক ছাড়ার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। কারণ শুল্কবিহীন বিভিন্ন বাধা এবং পর্যাপ্ত বাণিজ্য সুবিধার অভাব বাংলাদেশের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে ভারতে পণ্য বিশেষত উত্তর-পূর্ব দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে।

ড. মোমেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পেঁয়াজের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য রফতানির দিকে নজর রাখতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেহেতু এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে প্রভাবিত করে।

তিনি সমতারভিত্তিতে জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ নীতি প্রয়োগ। বৈঠককালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে ভারত রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও অর্থবহ ভূমিকা পালন করবে।

এছাড়াও বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল এবং বাংলাদেশ-ভারত-ভুটানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বিদ্যুৎ-শক্তি সহযোগিতার সুবিধার মাধ্যমে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।