শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত
jugantor
এইচএসসি নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত
এইচএসসি পরীক্ষা হবে সব বিষয়ে, কমতে পারে পূর্ণ নম্বর * ডিসেম্বরেই শেষ করা হবে সেশন -গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নেয়ার কথা ভাবছে সরকার। পূর্ণ নম্বর কমিয়ে সব বিষয়েই পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা আছে। আর দৈনিক একটিমাত্র বিষয়ে পরীক্ষা রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শেষে এ ব্যাপারে বোর্ডগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানিয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষার ব্যাপারে দুটি বিকল্প চিন্তা করা হয়েছে। একটি হচ্ছে, প্রতি বিষয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর কমানো হবে। সে ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক নেই সেগুলোয় এমসিকিউ ও সৃজনশীল উভয় অংশের পূর্ণমাণ থেকে ৫০ শতাংশ করে কমানো হবে। আর যেগুলোয় ব্যবহারিক আছে সেগুলোয় ব্যবহারিক নম্বর ঠিক রেখে অবশিষ্ট অংশের (এমসিকিউ ও সৃজনশীল) নম্বর সমন্বয় করে পূর্ণ নম্বর ৫০ শতাংশ কমানো হবে। অন্য প্রস্তাবে শুধু এমসিকিউ কিংবা সৃজনশীল অংশের যে কোনো একটির পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি আছে। এ ক্ষেত্রেও ব্যবহারিকের নম্বর ঠিক রেখে বাকি অংশের নম্বর সমন্বয়ের চিন্তা আছে। আর করোনা পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিজ নিজ কলেজকে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়ার প্রস্তাবও আছে। এখন মন্ত্রণালয় যে প্রস্তাব গ্রহণ করবে, সেটি বাস্তবায়ন করবে বোর্ডগুলো। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার সময় কমানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

সূত্রমতে, মন্ত্রণালয় থেকে তারিখ ঘোষণার পর রুটিন তৈরি করা হবে। তবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বোর্ড চেয়ারম্যানদের বৈঠকে ৮ নভেম্বরের পর পরীক্ষা শুরুর ব্যাপারে মতামত দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, রুটিন তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি সামনে রেখে নতুনত্ব আনার চিন্তা আছে। সেটি হচ্ছে, দৈনিক একটির বেশি পরীক্ষা না রাখা এবং প্রতিদিনই পরীক্ষা। স্বাভাবিক সময়ে মূল বিষয়গুলোর পরীক্ষার পর বিভাগভিত্তিক সকালে ও বিকালে দুটি করে পরীক্ষা রাখা হতো। ফলে সকালে বিজ্ঞানের পরীক্ষা হলে বিকালে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষার পরীক্ষা নেয়া হতো। একটি পরীক্ষার পর কেন্দ্র পরিষ্কারের বিষয়টি সামনে রেখে দৈনিক একটি রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে ধর্মীয় ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরীক্ষা রাখা হবে না।

নাম প্রকাশ না করে একটি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, পরীক্ষার কেন্দ্র ও সিট প্ল্যান ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এক বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থীদের ‘জেড’ আকারে বসানো হবে। সেই হিসেবে প্রথম বেঞ্চে এক পাশে একজন বসালে দ্বিতীয় বেঞ্চে অপর পাশে বসানো হবে। আর তৃতীয় বেঞ্চে বসানো হবে দ্বিতীয় বেঞ্চের বিপরীত পাশে। এই প্রক্রিয়ায় আসন ব্যবস্থা করতে গিয়ে কেন্দ্র সংখ্যা ১০-২০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কেন্দ্রে গড়ে ৬৫০ জন করে পরীক্ষার্থী আছে।

আরেকজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, করোনা শুরুর আগে সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ছাপানো শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে মাদ্রাসা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ছাপানো শেষ হয়। এ সপ্তাহে সেটিও পাঠানো হয়েছে। ছাপানো এসব প্রশ্নেই পরীক্ষা নেয়া হবে। যদি সরকার আংশিক নম্বরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সকাল বেলা কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হবে। সে অনুযায়ী তারা শিক্ষার্থীদের জানাবেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক যুগান্তরকে বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে বোর্ডগুলো সার্বিকভাবে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মঙ্গলের বিষয়টি সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই কাজ শুরু করব। পরীক্ষা শুরুর ব্যাপারে বুধবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেছেন, পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন করা হলে এই ব্যাচ ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই পরীক্ষা হবে। বিস্তারিত পরিকল্পনা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

ছুটি বেড়েছে : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এ সময় কওমি মাদ্রাসা বাদে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময় নিজেদের এবং অন্যদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ষষ্ঠবারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হল। আক্রান্তের হার বিবেচনায় নিয়ে মনে করছি যে, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা সমীচীন হবে না। তিনি বলেন, যখন স্কুল পুনরায় খোলা হবে তখন কোন কোন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্কুল খুলবে সেটার একটা গাইডলাইন তৈরি করেছি। সেটা সব স্কুলে দিয়েছি। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেটা বিবেচনা করে একটা স্কুল রি-ওপেনিং প্ল্যান (পুনরায় চালু) তৈরি করবে। স্কুল খোলার ১৫ দিন আগে এই কাজগুলো করতে হবে।

সিনিয়র সচিব আরও বলেন, আমরা কিন্তু সরকারি কর্মচারী। আমাদের সব অফিস খুলে দিয়েছে। স্কুলেও কিছু কাজ থাকে, একাডেমিক কাজ থাকে। শিক্ষকরা আসতেই পারে, অফিসাররা আসতেই পারে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকদের স্কুলে আসার কোনো নির্দেশনা আমরা এখনও জারি করিনি।

গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে।

ডিসেম্বরেই শেষ সেশন : সচিব বলেন, আমরা প্রতিবছর ১ জানুয়ারি যে বই উৎসব করি সেই বই ছাপানোর ব্যাপারে কাজ পুরোদমে চলছে। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা পরবর্তী বছরের বই বিতরণ করব। নতুন সেশন শুরু হবে। সে কারণে আমরা মনে করছি যে, সেশন বাড়ানোর পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নেই।

এইচএসসি নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

এইচএসসি পরীক্ষা হবে সব বিষয়ে, কমতে পারে পূর্ণ নম্বর * ডিসেম্বরেই শেষ করা হবে সেশন -গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নেয়ার কথা ভাবছে সরকার। পূর্ণ নম্বর কমিয়ে সব বিষয়েই পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা আছে। আর দৈনিক একটিমাত্র বিষয়ে পরীক্ষা রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শেষে এ ব্যাপারে বোর্ডগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানিয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষার ব্যাপারে দুটি বিকল্প চিন্তা করা হয়েছে। একটি হচ্ছে, প্রতি বিষয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর কমানো হবে। সে ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক নেই সেগুলোয় এমসিকিউ ও সৃজনশীল উভয় অংশের পূর্ণমাণ থেকে ৫০ শতাংশ করে কমানো হবে। আর যেগুলোয় ব্যবহারিক আছে সেগুলোয় ব্যবহারিক নম্বর ঠিক রেখে অবশিষ্ট অংশের (এমসিকিউ ও সৃজনশীল) নম্বর সমন্বয় করে পূর্ণ নম্বর ৫০ শতাংশ কমানো হবে। অন্য প্রস্তাবে শুধু এমসিকিউ কিংবা সৃজনশীল অংশের যে কোনো একটির পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি আছে। এ ক্ষেত্রেও ব্যবহারিকের নম্বর ঠিক রেখে বাকি অংশের নম্বর সমন্বয়ের চিন্তা আছে। আর করোনা পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিজ নিজ কলেজকে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়ার প্রস্তাবও আছে। এখন মন্ত্রণালয় যে প্রস্তাব গ্রহণ করবে, সেটি বাস্তবায়ন করবে বোর্ডগুলো। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার সময় কমানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

সূত্রমতে, মন্ত্রণালয় থেকে তারিখ ঘোষণার পর রুটিন তৈরি করা হবে। তবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বোর্ড চেয়ারম্যানদের বৈঠকে ৮ নভেম্বরের পর পরীক্ষা শুরুর ব্যাপারে মতামত দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, রুটিন তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি সামনে রেখে নতুনত্ব আনার চিন্তা আছে। সেটি হচ্ছে, দৈনিক একটির বেশি পরীক্ষা না রাখা এবং প্রতিদিনই পরীক্ষা। স্বাভাবিক সময়ে মূল বিষয়গুলোর পরীক্ষার পর বিভাগভিত্তিক সকালে ও বিকালে দুটি করে পরীক্ষা রাখা হতো। ফলে সকালে বিজ্ঞানের পরীক্ষা হলে বিকালে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষার পরীক্ষা নেয়া হতো। একটি পরীক্ষার পর কেন্দ্র পরিষ্কারের বিষয়টি সামনে রেখে দৈনিক একটি রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে ধর্মীয় ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরীক্ষা রাখা হবে না।

নাম প্রকাশ না করে একটি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, পরীক্ষার কেন্দ্র ও সিট প্ল্যান ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এক বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থীদের ‘জেড’ আকারে বসানো হবে। সেই হিসেবে প্রথম বেঞ্চে এক পাশে একজন বসালে দ্বিতীয় বেঞ্চে অপর পাশে বসানো হবে। আর তৃতীয় বেঞ্চে বসানো হবে দ্বিতীয় বেঞ্চের বিপরীত পাশে। এই প্রক্রিয়ায় আসন ব্যবস্থা করতে গিয়ে কেন্দ্র সংখ্যা ১০-২০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কেন্দ্রে গড়ে ৬৫০ জন করে পরীক্ষার্থী আছে।

আরেকজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, করোনা শুরুর আগে সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ছাপানো শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে মাদ্রাসা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ছাপানো শেষ হয়। এ সপ্তাহে সেটিও পাঠানো হয়েছে। ছাপানো এসব প্রশ্নেই পরীক্ষা নেয়া হবে। যদি সরকার আংশিক নম্বরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সকাল বেলা কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হবে। সে অনুযায়ী তারা শিক্ষার্থীদের জানাবেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক যুগান্তরকে বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে বোর্ডগুলো সার্বিকভাবে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মঙ্গলের বিষয়টি সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই কাজ শুরু করব। পরীক্ষা শুরুর ব্যাপারে বুধবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেছেন, পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন করা হলে এই ব্যাচ ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই পরীক্ষা হবে। বিস্তারিত পরিকল্পনা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

ছুটি বেড়েছে : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এ সময় কওমি মাদ্রাসা বাদে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময় নিজেদের এবং অন্যদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ষষ্ঠবারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হল। আক্রান্তের হার বিবেচনায় নিয়ে মনে করছি যে, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা সমীচীন হবে না। তিনি বলেন, যখন স্কুল পুনরায় খোলা হবে তখন কোন কোন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্কুল খুলবে সেটার একটা গাইডলাইন তৈরি করেছি। সেটা সব স্কুলে দিয়েছি। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেটা বিবেচনা করে একটা স্কুল রি-ওপেনিং প্ল্যান (পুনরায় চালু) তৈরি করবে। স্কুল খোলার ১৫ দিন আগে এই কাজগুলো করতে হবে।

সিনিয়র সচিব আরও বলেন, আমরা কিন্তু সরকারি কর্মচারী। আমাদের সব অফিস খুলে দিয়েছে। স্কুলেও কিছু কাজ থাকে, একাডেমিক কাজ থাকে। শিক্ষকরা আসতেই পারে, অফিসাররা আসতেই পারে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকদের স্কুলে আসার কোনো নির্দেশনা আমরা এখনও জারি করিনি।

গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে।

ডিসেম্বরেই শেষ সেশন : সচিব বলেন, আমরা প্রতিবছর ১ জানুয়ারি যে বই উৎসব করি সেই বই ছাপানোর ব্যাপারে কাজ পুরোদমে চলছে। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা পরবর্তী বছরের বই বিতরণ করব। নতুন সেশন শুরু হবে। সে কারণে আমরা মনে করছি যে, সেশন বাড়ানোর পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নেই।