স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলল দণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামি
jugantor
রিফাত হত্যাকাণ্ড
স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলল দণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামি
কারাগার থেকে মুক্ত বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত তিন আসামি, মুছা এখনও পলাতক

  যুগান্তর রিপোর্ট, বরগুনা  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনার শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নিসহ ছয় আসামিকে বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। তাদের দুই সেট করে কয়েদির পোশাক দেয়া হয়েছে। মিন্নিসহ ছয়জনই বৃহস্পতিবার কারাগার থেকে টেলিফোনে তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছে। এ ছয়জন ছাড়া কনডেম সেলে অন্য কোনো ফাঁসির কারাবন্দি নেই। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বুধবার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচ আসামি হল- রিফাত ফরাজি, রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, টিকটক হৃদয় ও মো. হাসান। এছাড়া চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- মো. মুসা (পলাতক), রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সায়মুন। বুধবার সন্ধ্যায় তিনজনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। মুসা এখনও পলাতক। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ মুহূর্তে বরগুনার কারাগারে নারী বন্দিদের মধ্যে একমাত্র মিন্নিই কনডেম সেলে রয়েছে। সকাল ৯টায় তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছে। মিন্নি যখন কথা বলেছে তখন ফোনের কাছে আমাদের একজন দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেছেন, মিন্নি কোনো কান্নাকাটি করেনি। সকাল ১০টার সময় অন্য পাঁচ ফাঁসির আসামিও ফোনে কথা বলেছে। তিনি বলেন, মিন্নি ব্যতীত বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে এখন অন্য কোনো নারী বন্দি নেই। এছাড়াও রিফাত হত্যা মামলার অপর পাঁচ দণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ আসামিকেও কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এ পাঁচ পুরুষ বন্দি ব্যতীত বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে অন্য কোনো বন্দিও নেই। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারের যে বিশেষ কক্ষে রাখা হয় সেটাকে কনডেম সেল বলা হয়। কনডেম সেলের বন্দিরা কখনও সেল থেকে বাইরে বের হতে পারে না। তবে সেলের সামনে হাঁটাচলা করতে পারে। এসব বন্দি মাসে একবার তার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারে। এছাড়াও সপ্তাহে একবার তারা ফোনে তাদের স্বজনদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কথা বলতে পারে। তবে করোনাকালীন এখন দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ। তিনি আরও জানান, কারাবিধি অনুযায়ী ছয় বন্দিকেই কনডেম সেলে থালা, বাটি ও কম্বল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতি আসামিকে কারাগারের পক্ষ থেকে দুই সেট পোশাক দেয়া হয়েছে। এ পোশাক তারা পরিধান করেছেন। মিন্নিসহ এ মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে দেশের অন্য কোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হবে কিনা জানতে চাইলে জেল সুপার বলেন, এ বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, সকাল ১০টার দিকে কারাগার থেকে মিন্নি আমার ও আমার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছে। সে খুব কান্নাকাটি করেছে। কারাগারে মিন্নি ভালো নেই। তাকে একা একটি নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে। মিন্নির বাবা দাবি করেন, আমার মেয়ে নির্দোষ। একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে এ মামলায় ফাঁসিয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করার জন্যই এটা করা হয়েছে। আমি রায়ের কপি পাওয়ার আবেদন করেছি। এটি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আমি আশাবাদী আমার মেয়ে উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

তিন আসামি মুক্ত, মুসার সন্ধান নেই : রিফাত হত্যা মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বুধবার চার আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হল- মো. মুসা (পলাতক), রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সায়মুন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার রায় ঘোষণার পর আদালতের আদেশে তিন আসামিকে আদালতের আদেশে মুক্তি দেয়া হয়েছে। মুসা এখন পর্যন্ত পলাতক। মুসার আইনজীবী বরগুনা জেলা আইনজীবীর সভাপতি আবদুর রহমান নান্টু যুগান্তরকে বলেন, মুসা কোথায় আছে সে বিষয় তার কাছে কোনো তথ্য নেই। আদালত মুসার পক্ষে আমাকে আইনজীবী নিয়োগ করেছে। আমি মুসার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছি। খালাসপ্রাপ্ত আসামি কামরুল ইসলাম সায়মুনের আইনজীবী মো. শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, আদালত চার আসামিকে খালাসের আদেশ দেয়ার পরে নিয়ম অনুযায়ী তিন আসামিকে বরগুনা কারাগার থেকে ছেড়ে দিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার আগেই তারা বের হয়ে এসেছে। বরগুনা কারাগারের জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আদালতের আদেশে তিন আসামি সাইমুল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সায়মুনকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা ছিল না। আদালতের আদেশ ছিল খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা অন্য কোনো মামলায় জড়িত না থাকলে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক।

বরগুনায় আরেক নারীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছিল : বরগুনায় এর আগেও মরিয়ম নামের এক নারী আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এইএম ইসমাইল হোসেন। মরিয়ম বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার পশ্চিম ঘুটাবাছা গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী। ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল প্রতিবেশী কাওসারের ৬ বছরের নাবালক ছেলে হাসানকে পানির সঙ্গে বিষ দিয়ে হত্যা করে। এ মামলায় ওই বিচারক গত বছরের ২৭ মে মরিয়মকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। বরগুনার জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, মরিয়ম এখন বরিশাল কারাগারে রয়েছে।

রিফাত হত্যাকাণ্ড

স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলল দণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামি

কারাগার থেকে মুক্ত বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত তিন আসামি, মুছা এখনও পলাতক
 যুগান্তর রিপোর্ট, বরগুনা 
০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনার শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নিসহ ছয় আসামিকে বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। তাদের দুই সেট করে কয়েদির পোশাক দেয়া হয়েছে। মিন্নিসহ ছয়জনই বৃহস্পতিবার কারাগার থেকে টেলিফোনে তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছে। এ ছয়জন ছাড়া কনডেম সেলে অন্য কোনো ফাঁসির কারাবন্দি নেই। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বুধবার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচ আসামি হল- রিফাত ফরাজি, রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, টিকটক হৃদয় ও মো. হাসান। এছাড়া চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- মো. মুসা (পলাতক), রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সায়মুন। বুধবার সন্ধ্যায় তিনজনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। মুসা এখনও পলাতক। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ মুহূর্তে বরগুনার কারাগারে নারী বন্দিদের মধ্যে একমাত্র মিন্নিই কনডেম সেলে রয়েছে। সকাল ৯টায় তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছে। মিন্নি যখন কথা বলেছে তখন ফোনের কাছে আমাদের একজন দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেছেন, মিন্নি কোনো কান্নাকাটি করেনি। সকাল ১০টার সময় অন্য পাঁচ ফাঁসির আসামিও ফোনে কথা বলেছে। তিনি বলেন, মিন্নি ব্যতীত বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে এখন অন্য কোনো নারী বন্দি নেই। এছাড়াও রিফাত হত্যা মামলার অপর পাঁচ দণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ আসামিকেও কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এ পাঁচ পুরুষ বন্দি ব্যতীত বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে অন্য কোনো বন্দিও নেই। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারের যে বিশেষ কক্ষে রাখা হয় সেটাকে কনডেম সেল বলা হয়। কনডেম সেলের বন্দিরা কখনও সেল থেকে বাইরে বের হতে পারে না। তবে সেলের সামনে হাঁটাচলা করতে পারে। এসব বন্দি মাসে একবার তার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারে। এছাড়াও সপ্তাহে একবার তারা ফোনে তাদের স্বজনদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কথা বলতে পারে। তবে করোনাকালীন এখন দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ। তিনি আরও জানান, কারাবিধি অনুযায়ী ছয় বন্দিকেই কনডেম সেলে থালা, বাটি ও কম্বল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতি আসামিকে কারাগারের পক্ষ থেকে দুই সেট পোশাক দেয়া হয়েছে। এ পোশাক তারা পরিধান করেছেন। মিন্নিসহ এ মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে দেশের অন্য কোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হবে কিনা জানতে চাইলে জেল সুপার বলেন, এ বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, সকাল ১০টার দিকে কারাগার থেকে মিন্নি আমার ও আমার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছে। সে খুব কান্নাকাটি করেছে। কারাগারে মিন্নি ভালো নেই। তাকে একা একটি নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে। মিন্নির বাবা দাবি করেন, আমার মেয়ে নির্দোষ। একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে এ মামলায় ফাঁসিয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করার জন্যই এটা করা হয়েছে। আমি রায়ের কপি পাওয়ার আবেদন করেছি। এটি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আমি আশাবাদী আমার মেয়ে উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

তিন আসামি মুক্ত, মুসার সন্ধান নেই : রিফাত হত্যা মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বুধবার চার আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হল- মো. মুসা (পলাতক), রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সায়মুন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার রায় ঘোষণার পর আদালতের আদেশে তিন আসামিকে আদালতের আদেশে মুক্তি দেয়া হয়েছে। মুসা এখন পর্যন্ত পলাতক। মুসার আইনজীবী বরগুনা জেলা আইনজীবীর সভাপতি আবদুর রহমান নান্টু যুগান্তরকে বলেন, মুসা কোথায় আছে সে বিষয় তার কাছে কোনো তথ্য নেই। আদালত মুসার পক্ষে আমাকে আইনজীবী নিয়োগ করেছে। আমি মুসার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছি। খালাসপ্রাপ্ত আসামি কামরুল ইসলাম সায়মুনের আইনজীবী মো. শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, আদালত চার আসামিকে খালাসের আদেশ দেয়ার পরে নিয়ম অনুযায়ী তিন আসামিকে বরগুনা কারাগার থেকে ছেড়ে দিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার আগেই তারা বের হয়ে এসেছে। বরগুনা কারাগারের জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আদালতের আদেশে তিন আসামি সাইমুল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সায়মুনকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা ছিল না। আদালতের আদেশ ছিল খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা অন্য কোনো মামলায় জড়িত না থাকলে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক।

বরগুনায় আরেক নারীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছিল : বরগুনায় এর আগেও মরিয়ম নামের এক নারী আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এইএম ইসমাইল হোসেন। মরিয়ম বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার পশ্চিম ঘুটাবাছা গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী। ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল প্রতিবেশী কাওসারের ৬ বছরের নাবালক ছেলে হাসানকে পানির সঙ্গে বিষ দিয়ে হত্যা করে। এ মামলায় ওই বিচারক গত বছরের ২৭ মে মরিয়মকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। বরগুনার জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, মরিয়ম এখন বরিশাল কারাগারে রয়েছে।