রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিথ্যাচার, মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে
jugantor
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিথ্যাচার, মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে
রোহিঙ্গা নিয়ে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর সম্মিলিত চাপ সৃষ্টি করতে হবে বলে মনে করেন দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, গণহত্যা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়া করার পর এখন একের পর এক মিথ্যাচার করছে দেশটি। নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই এ কৌশল নিয়েছে। এটা এখনই বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় জাতিসংঘে যে মিথ্যাচার করেছে তা আবারও করবে। মিয়ানমারের আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ওই দেশে বিনিয়োগকারীদের জানাতে হবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর দফতরের মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছে। যা বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে দেখতে হবে অন্য পথও
- সাখাওয়াত হোসেন

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সব সময় মিয়ানমার মিথ্যাচার করে আসছে। তারা রোহিঙ্গা ফেরত নেবে নেবে বলে নিচ্ছে না।

উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য দিচ্ছে। তারা এ ধরনের আচরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ আমরা সেই মিয়ানমার থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করছি।

অন্য কোনো দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা যেত না? তিনি বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে বলে তাদের আচরণে মনে হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে এখন বিকল্প কোন কোন পথ রয়েছে তা পর্যালোচনা করতে হবে।

৩৫০ জন রোহিঙ্গা নিয়েছে বলে যে দাবি দেশটি করছে, ওই রোহিঙ্গাদের কোথায় কী অবস্থায় রেখেছে তা পরিষ্কার করতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়া যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইজেসি) মামলা হওয়ায় মিয়ানমার কিছুটা চাপে। এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, দেশটির কয়েকজন সেনা সদস্য রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের বিষয়ে বক্তব্য দেয়ায় মিয়ানমার কিছুটা চাপে আছে।

তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে এটাও ভাবতে হবে, মিয়ানমারের পেছনে শক্তিধর দেশগুলো রয়েছে। দেশটিতে চীন, জাপান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগ করেছে। এসব বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ নিতে হবে।

গণহত্যা সম্পর্কে আরও প্রচার প্রয়োজন
- ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মিয়ানমার বারবার জেনোসাইড করেও পার পেয়ে যাওয়ায় তারা এখন মিথ্যাচার করছে।

দেশটি মনে করছে বারবার মিথ্যাচার করে তাদের অপরাধ লুকানো যাবে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মিয়ানমারের চরিত্র উন্মোচনে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারত, চীন, জাপান দেশটিতে বিনিয়োগ করছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করছে।

এসব দেশের জনগণ, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে মিয়ানমারের জেনোসাইড সম্পর্কে আরও বেশি বেশি জানাতে হবে।

তাদের বুঝাতে হবে, যে দেশটিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে সে দেশটি জেনোসাইডের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত। এদেশটিতে সামরিক শাসন চলে, গণতন্ত্র নেই।

সে দেশে কীভাবে তারা বিনিয়োগ করে। এভাবে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশে নয়, ১৯টি দেশে ছড়িয়ে গেছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের মতো তাদেরও দায় রয়েছে।

সেটিও তাদের বুঝাতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সোচ্চার করতে হবে।

বন্ধুরাষ্ট্র সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে
- মো. শহিদুল হক

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এককভাবে লড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক। তিনি বলেন, আমরা এককভাবে লড়াই করছি।

এবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়তে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে।

মিয়ানমারের মিথ্যাচার বন্ধ ও রোহিঙ্গা ফেরত নিতে সম্মিলিত চাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারের বিচার দাবি করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমার জেনোসাইড করার পরও এর বিচারের দাবিতে আমাদের সুর নরম রয়েছে।

সুর আর নরম নয়, জোরালো দাবি করতে হবে। ওরা আগেও মিথ্যাচার করেছে বিশ্ব সমাজ এটা জানে।

রোহিঙ্গাদের ওপর তারা যে অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে সে বিষয়ে বিশ্ব অবহিত। মিথ্যা বলা যায় কিন্তু তা বিশ্বাস করানো যায় না। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে ফেরত পাঠানোই হচ্ছে এর একমাত্র সমাধানের পথ।

খুব সহজেই মিয়ানমার তাদের ফেরত নেবে না। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় কার্যকরের মাধ্যমে দেশটিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশকে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিথ্যাচার, মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে

রোহিঙ্গা নিয়ে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর সম্মিলিত চাপ সৃষ্টি করতে হবে বলে মনে করেন দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, গণহত্যা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়া করার পর এখন একের পর এক মিথ্যাচার করছে দেশটি। নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই এ কৌশল নিয়েছে। এটা এখনই বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় জাতিসংঘে যে মিথ্যাচার করেছে তা আবারও করবে। মিয়ানমারের আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ওই দেশে বিনিয়োগকারীদের জানাতে হবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর দফতরের মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছে। যা বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে দেখতে হবে অন্য পথও
- সাখাওয়াত হোসেন

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সব সময় মিয়ানমার মিথ্যাচার করে আসছে। তারা রোহিঙ্গা ফেরত নেবে নেবে বলে নিচ্ছে না।

উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য দিচ্ছে। তারা এ ধরনের আচরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ আমরা সেই মিয়ানমার থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করছি।

অন্য কোনো দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা যেত না? তিনি বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে বলে তাদের আচরণে মনে হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে এখন বিকল্প কোন কোন পথ রয়েছে তা পর্যালোচনা করতে হবে।

৩৫০ জন রোহিঙ্গা নিয়েছে বলে যে দাবি দেশটি করছে, ওই রোহিঙ্গাদের কোথায় কী অবস্থায় রেখেছে তা পরিষ্কার করতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়া যেতে পারে। 

আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইজেসি) মামলা হওয়ায় মিয়ানমার কিছুটা চাপে। এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, দেশটির কয়েকজন সেনা সদস্য রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের বিষয়ে বক্তব্য দেয়ায় মিয়ানমার কিছুটা চাপে আছে।

তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে এটাও ভাবতে হবে, মিয়ানমারের পেছনে শক্তিধর দেশগুলো রয়েছে। দেশটিতে চীন, জাপান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগ করেছে। এসব বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ নিতে হবে।

গণহত্যা সম্পর্কে আরও প্রচার প্রয়োজন
- ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মিয়ানমার বারবার জেনোসাইড করেও পার পেয়ে যাওয়ায় তারা এখন মিথ্যাচার করছে।

দেশটি মনে করছে বারবার মিথ্যাচার করে তাদের অপরাধ লুকানো যাবে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মিয়ানমারের চরিত্র উন্মোচনে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারত, চীন, জাপান দেশটিতে বিনিয়োগ করছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করছে।

এসব দেশের জনগণ, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে মিয়ানমারের জেনোসাইড সম্পর্কে আরও বেশি বেশি জানাতে হবে।

তাদের বুঝাতে হবে, যে দেশটিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে সে দেশটি জেনোসাইডের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত। এদেশটিতে সামরিক শাসন চলে, গণতন্ত্র নেই।

সে দেশে কীভাবে তারা বিনিয়োগ করে। এভাবে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশে নয়, ১৯টি দেশে ছড়িয়ে গেছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের মতো তাদেরও দায় রয়েছে।

সেটিও তাদের বুঝাতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সোচ্চার করতে হবে।

বন্ধুরাষ্ট্র সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে
- মো. শহিদুল হক

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এককভাবে লড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক। তিনি বলেন, আমরা এককভাবে লড়াই করছি।

এবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়তে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে।

মিয়ানমারের মিথ্যাচার বন্ধ ও রোহিঙ্গা ফেরত নিতে সম্মিলিত চাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারের বিচার দাবি করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমার জেনোসাইড করার পরও এর বিচারের দাবিতে আমাদের সুর নরম রয়েছে।

সুর আর নরম নয়, জোরালো দাবি করতে হবে। ওরা আগেও মিথ্যাচার করেছে বিশ্ব সমাজ এটা জানে।

রোহিঙ্গাদের ওপর তারা যে অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে সে বিষয়ে বিশ্ব অবহিত। মিথ্যা বলা যায় কিন্তু তা বিশ্বাস করানো যায় না। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে ফেরত পাঠানোই হচ্ছে এর একমাত্র সমাধানের পথ।

খুব সহজেই মিয়ানমার তাদের ফেরত নেবে না। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় কার্যকরের মাধ্যমে দেশটিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশকে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।