রাসেলকে আরও ২০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ
jugantor
হাইকোর্টের রায়
রাসেলকে আরও ২০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে আরও ২০ লাখ টাকা দিতে গ্রিন লাইন পরিবহনকে নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে একসঙ্গে ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে। ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে দেয়া রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালত বলেছেন, তিন মাসের মধ্যে একসঙ্গে ২০ লাখ টাকা দিতে গ্রিন লাইনকে নির্দেশ দেয়া হল। তিন মাসের মধ্যে ওই অর্থ দিয়ে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্দেশ বাস্তবায়ন বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে প্রতিবেদন দেবে গ্রিন লাইন। সম্মতির ভিত্তিতে এই রায় হওয়ায় এর বিরুদ্ধে আর আপিল হবে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এর আগে তিন দফায় রাসেলকে মোট সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দিয়েছিল গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্টের রায়ের ফলে সব মিলিয়ে তিনি পাবেন সাড়ে ৩৩ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের মো. শফিকুল আসলামের ছেলে রাসেল সরকার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একপর্যায়ে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। তার আরেক পায়ের অবস্থাও ভালো নয়।

এ অবস্থায় রাসেলের পক্ষ হয়ে তাকে আইনগত সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেন গাইবান্ধার একই এলাকার বাসিন্দা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

রাসেল সরকারের জন্য কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এই আইনজীবী। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে গত বছর ১২ মার্চ আদালত ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেন। পরে ওই বছরের ১০ এপ্রিল আরেক আদেশে হাইকোর্ট প্রতিমাসে ৫ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দেন গ্রিন লাইনকে। ওই নির্দেশের পর গত বছর জুলাই পর্যন্ত তিন দফায় মোট সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দেয় গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। পরে আপিল বিভাগ ওই আদেশ স্থগিত করে দেন। এরপর আর কোনো টাকা দেয়নি গ্রিন লাইন পরিবহন।

এ অবস্থায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া প্রশ্নে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি হয়। বৃহস্পতিবার সেই রায়ে রাসেলকে আরও ২০ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত দিলেন হাইকোর্ট।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাসেল সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে অর্থটা মহামান্য হাইকোর্ট আমাকে দিয়েছেন, সেটা দিয়ে আমার সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করব।’ ওই ২০ লাখ টাকা ব্যাংকে রেখে যে সুদ পাওয়া যাবে, তা দিয়ে সংসার চালানোর কথা ভাবছি। তিনি বলেন, ওই সুদের টাকা দিয়ে যদি কিছু জমি বর্গা নিতে পারি, সেখান থেকে হয়তো কিছু ধান পাওয়া যাবে। যেহেতু কিছু করতে পারব না, এভাবেই বাকি জীবনটা চালিয়ে নিতে হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘একশ কোটি টাকা দিলেও আমার পা কেউ এনে দিতে পারবে না। এখন ২০ লাখ টাকা দিয়ে যদি পা লাগাই, তা-ও আমি আগের জীবনে ফিরে যেতে পারব না। আমি একটা কথাই বলব, যারা এই ধরনের বেপরোয়া ড্রাইভিং করে, তারা সচেতন হোন। তাদের একটু ভুল, একটু আগে যাওয়ার চেষ্টা, দশ টাকা বেশি কামাইয়ের চেষ্টা আরেকজনের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। আমি চাই তারা সতর্ক হয়ে যেন রাস্তায় গাড়ি চালান।

আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা শুনানি করেন। গ্রিন লাইনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম। বিআরটিএ’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।

হাইকোর্টের রায়

রাসেলকে আরও ২০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে আরও ২০ লাখ টাকা দিতে গ্রিন লাইন পরিবহনকে নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে একসঙ্গে ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে। ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে দেয়া রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালত বলেছেন, তিন মাসের মধ্যে একসঙ্গে ২০ লাখ টাকা দিতে গ্রিন লাইনকে নির্দেশ দেয়া হল। তিন মাসের মধ্যে ওই অর্থ দিয়ে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্দেশ বাস্তবায়ন বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে প্রতিবেদন দেবে গ্রিন লাইন। সম্মতির ভিত্তিতে এই রায় হওয়ায় এর বিরুদ্ধে আর আপিল হবে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এর আগে তিন দফায় রাসেলকে মোট সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দিয়েছিল গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্টের রায়ের ফলে সব মিলিয়ে তিনি পাবেন সাড়ে ৩৩ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের মো. শফিকুল আসলামের ছেলে রাসেল সরকার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একপর্যায়ে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। তার আরেক পায়ের অবস্থাও ভালো নয়।

এ অবস্থায় রাসেলের পক্ষ হয়ে তাকে আইনগত সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেন গাইবান্ধার একই এলাকার বাসিন্দা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

রাসেল সরকারের জন্য কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এই আইনজীবী। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে গত বছর ১২ মার্চ আদালত ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেন। পরে ওই বছরের ১০ এপ্রিল আরেক আদেশে হাইকোর্ট প্রতিমাসে ৫ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দেন গ্রিন লাইনকে। ওই নির্দেশের পর গত বছর জুলাই পর্যন্ত তিন দফায় মোট সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দেয় গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। পরে আপিল বিভাগ ওই আদেশ স্থগিত করে দেন। এরপর আর কোনো টাকা দেয়নি গ্রিন লাইন পরিবহন।

এ অবস্থায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া প্রশ্নে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি হয়। বৃহস্পতিবার সেই রায়ে রাসেলকে আরও ২০ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত দিলেন হাইকোর্ট।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাসেল সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে অর্থটা মহামান্য হাইকোর্ট আমাকে দিয়েছেন, সেটা দিয়ে আমার সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করব।’ ওই ২০ লাখ টাকা ব্যাংকে রেখে যে সুদ পাওয়া যাবে, তা দিয়ে সংসার চালানোর কথা ভাবছি। তিনি বলেন, ওই সুদের টাকা দিয়ে যদি কিছু জমি বর্গা নিতে পারি, সেখান থেকে হয়তো কিছু ধান পাওয়া যাবে। যেহেতু কিছু করতে পারব না, এভাবেই বাকি জীবনটা চালিয়ে নিতে হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘একশ কোটি টাকা দিলেও আমার পা কেউ এনে দিতে পারবে না। এখন ২০ লাখ টাকা দিয়ে যদি পা লাগাই, তা-ও আমি আগের জীবনে ফিরে যেতে পারব না। আমি একটা কথাই বলব, যারা এই ধরনের বেপরোয়া ড্রাইভিং করে, তারা সচেতন হোন। তাদের একটু ভুল, একটু আগে যাওয়ার চেষ্টা, দশ টাকা বেশি কামাইয়ের চেষ্টা আরেকজনের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। আমি চাই তারা সতর্ক হয়ে যেন রাস্তায় গাড়ি চালান।

আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা শুনানি করেন। গ্রিন লাইনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম। বিআরটিএ’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।