আটকের পর ছাড়া পেলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
jugantor
আটকের পর ছাড়া পেলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

  যুগান্তর ডেস্ক  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে গণধর্ষণে মারা যাওয়া তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে সরকারি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছিল। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

দিল্লি থেকে হাথরাসে যাওয়ার পথে গ্রেটার নয়ডায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলের গাড়িবহর আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ রাজ্য পুলিশ।

এখান থেকে স্থানীয় কংগ্রেস নেতানেত্রীদের সঙ্গে নিয়ে হেঁটে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ফের তাদের বাধা দেয়।

এ সময় রাহুলের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা রাহুলকে বলেন, ‘আপনি ১৪৪ ধারা ভাঙছেন।’ উত্তরে রাহুল বলেন, ‘আপনারা ১৪৪ ধারার অপব্যবহার করছেন।’

পুলিশের বাধার মুখে কংগ্রেসের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রাস্তায় বসে পড়েন। তখন পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে রাহুলকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।

পরে পুলিশ তাকে ও প্রিয়াঙ্কাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। কিছু সময়ের জন্য তাদের একটি গেস্ট হাউসে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

আগে থেকেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ঘোষণা করেছিলেন হাথরসে যাওয়ার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার ১৪৪ ধারা জারি করে রাজ্য সরকার। তাতেও কর্মসূচি বাতিল করেননি কংগ্রেস নেতানেত্রীরা।

রাহুল প্রিয়াঙ্কাকে যেখানে আটকানো হয়, সেখান থেকে হাথরাসের দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার।

গণধর্ষণের শিকার ওই তরুণী মঙ্গলবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে রাতের আঁধারে ওই তরুণীর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভারতজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করে বলেন, দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশে ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ গতিরোধ করে গাড়িবহর আটকে দেয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে দলের নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন।

ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে রাহুল গান্ধীকে বলতে শোনা যায়, আমাকে কেন আটক করছেন? আমাকে আটকের কারণ কি? গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কার করুন।

তখন পুলিশের এক সদস্যকে বলতে শোনা যায়, সরকারি বিধির ১৮৮ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পথরোধকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী।

পরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান কংগ্রেসের অন্যতম এই নেতা। হাথরসের জেলাশাসক পি লস্কর বলেছেন, রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সফরের কোনো খবর তাদের কাছে ছিল না।

‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ এড়াতে জেলার সীমানা সিল করে দেয়া হয়েছে এবং এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার (তরুণী নিহত) তদন্তে যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে, তার সদস্যরা এদিন নিহত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে ওই তরুণীর নিহতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার কলকাতায়ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। নিন্দা জানিয়ে টুইট করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

তিনি বলেন, ‘হাথরসের দলিত তরুণীকে ঘিরে এই বর্বর এবং লজ্জাজনক ঘটনার নিন্দার কোনো ভাষা নেই। নির্যাতিতার পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানাই। আরও লজ্জাজনক ঘটনা হল, পরিবারের কারও অনুমতি এবং উপস্থিতি ছাড়াই তরুণীর দেহ সৎকার করে দেয়া। যারা খালি ভোটের জন্য স্লোগান দেয় আর লম্বাচওড়া প্রতিশ্রুতি দেয় তাদের আসল চেহারাটা সামনে এনে দিয়েছে এই ঘটনা।’

আটকের পর ছাড়া পেলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

 যুগান্তর ডেস্ক 
০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে গণধর্ষণে মারা যাওয়া তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে সরকারি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছিল। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার। 

দিল্লি থেকে হাথরাসে যাওয়ার পথে গ্রেটার নয়ডায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলের গাড়িবহর আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ রাজ্য পুলিশ।

এখান থেকে স্থানীয় কংগ্রেস নেতানেত্রীদের সঙ্গে নিয়ে হেঁটে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ফের তাদের বাধা দেয়।

এ সময় রাহুলের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা রাহুলকে বলেন, ‘আপনি ১৪৪ ধারা ভাঙছেন।’ উত্তরে রাহুল বলেন, ‘আপনারা ১৪৪ ধারার অপব্যবহার করছেন।’

পুলিশের বাধার মুখে কংগ্রেসের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রাস্তায় বসে পড়েন। তখন পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে রাহুলকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।

পরে পুলিশ তাকে ও প্রিয়াঙ্কাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। কিছু সময়ের জন্য তাদের একটি গেস্ট হাউসে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। 

আগে থেকেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ঘোষণা করেছিলেন হাথরসে যাওয়ার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার ১৪৪ ধারা জারি করে রাজ্য সরকার। তাতেও কর্মসূচি বাতিল করেননি কংগ্রেস নেতানেত্রীরা।

রাহুল প্রিয়াঙ্কাকে যেখানে আটকানো হয়, সেখান থেকে হাথরাসের দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার।

গণধর্ষণের শিকার ওই তরুণী মঙ্গলবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে রাতের আঁধারে ওই তরুণীর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভারতজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করে বলেন, দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশে ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ গতিরোধ করে গাড়িবহর আটকে দেয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে দলের নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন।

ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে রাহুল গান্ধীকে বলতে শোনা যায়, আমাকে কেন আটক করছেন? আমাকে আটকের কারণ কি? গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কার করুন।

তখন পুলিশের এক সদস্যকে বলতে শোনা যায়, সরকারি বিধির ১৮৮ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পথরোধকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী।

পরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান কংগ্রেসের অন্যতম এই নেতা। হাথরসের জেলাশাসক পি লস্কর বলেছেন, রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সফরের কোনো খবর তাদের কাছে ছিল না।

‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ এড়াতে জেলার সীমানা সিল করে দেয়া হয়েছে এবং এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার (তরুণী নিহত) তদন্তে যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে, তার সদস্যরা এদিন নিহত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে ওই তরুণীর নিহতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার কলকাতায়ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। নিন্দা জানিয়ে টুইট করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

তিনি বলেন, ‘হাথরসের দলিত তরুণীকে ঘিরে এই বর্বর এবং লজ্জাজনক ঘটনার নিন্দার কোনো ভাষা নেই। নির্যাতিতার পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানাই। আরও লজ্জাজনক ঘটনা হল, পরিবারের কারও অনুমতি এবং উপস্থিতি ছাড়াই তরুণীর দেহ সৎকার করে দেয়া। যারা খালি ভোটের জন্য স্লোগান দেয় আর লম্বাচওড়া প্রতিশ্রুতি দেয় তাদের আসল চেহারাটা সামনে এনে দিয়েছে এই ঘটনা।’