জনপ্রিয়তা কমলেও সু চির দল আবার ক্ষমতায় আসবে
jugantor
মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন
জনপ্রিয়তা কমলেও সু চির দল আবার ক্ষমতায় আসবে

  মাসুদ করিম  

১২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সুচি,

মিয়ানমারে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আসন সংখ্যা কমতে পারে। তবে তারাই আবার ক্ষমতায় আসছে। কেননা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এনএলডির কাছাকাছিও যেতে পারবে না।

ফলে ভোটের পরেও মিয়ানমারের নীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে না। এমন পূর্বাভাস দিচ্ছে মিয়ানমারের নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমগুলো। আগামী ৮ নভেম্বর মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

মিয়ানমারে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ভোটার সংখ্যা তিন কোটি ৮০ লাখ। দেশটির জনপ্রিয় মিডিয়া ইরাবতির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার কারণে এবারের নির্বাচনে এনএলডি’র ভোটের সংখ্যা কিছুটা কমবে। এর ওপর কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভোটার উপস্থিতিও কমবে। তবে এবার প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা বাড়তে পারে।

শান্তিতে নোবেল জয়ী নেত্রী সু চির গণতন্ত্রপন্থী এনএলডি ৭০ শতাংশের কম ভোট পাওয়ার আশঙ্কা নেই। গণতন্ত্রপন্থী এথনিক দলগুলো ১২ শতাংশ এবং সেনা সমর্থিত প্রক্সি দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ১০ শতাংশ ভোট পেতে পারে।

ইয়াঙ্গুনের একটি সূত্র রোববার যুগান্তরকে জানিয়েছে, ইউএসডিপিসহ তাদের সমর্থক ছোট দলগুলো কোভিড পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন পেছানোর দাবি করছে। তবে সরকার সময়মতো নির্বাচন করতে চায়। ফলে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রটি আরও বলেছে, কিছু আসন কমলেও এনএলডি সরকার গঠন করার মতো অবস্থায় চলে আসবে। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত আছে।

তার ওপর ইউএসডিপির আসন কিছু বাড়লে এবং ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করলে এভাবে ৫০ শতাংশ করার একটা চেষ্টা হতে পারে। তবে ইউএসডিপি’র ভালো করার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

মিয়ানমার প্রায় ৫০ বছর সামরিক শাসনের মাধ্যমে শাসিত হয়েছে। ১৯৬২ সালে জেনারেল নি উইন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তারপর ১৯৯০ সালে এবং ২০১৫ সালে সু চির এনএলডি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। যদিও ২০১০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক ভোটচুরির অভিযোগ ওঠে।

মিয়ানমারের নির্বাচনের লক্ষণীয় দিক হলো, অনেক বেশি দল ভোটে অংশ নেয়। তবে সীমিত সংখ্যক দলই আসন লাভ করে। দেশটিতে গণতন্ত্রপন্থী দল এবং সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট প্রক্সি উভয় প্রকার দলই রয়েছে।

মিয়ানমারে ১৯৯০ সালের ২৭ মে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। ওই সময়ে মোট তিন কোটি ৮০ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুই কোটি আট লাখ ভোটার ছিলেন। যাদের মধ্যে এক কোটি ৫০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ৯৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ওই নির্বাচন ছিল ১৯৬০ সালের পর প্রথম অবাধ নির্বাচন। সু চির নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রপন্থী এনএলডি ৮০ দশমিক ৮২ শতাংশ ভোট পায়।

ওই সময়ে ৪৮৫ আসনের মধ্যে ৩৯২ আসন পায় এনএলডি। মিয়ানমারে বিভিন্ন এথনিক জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। এসব এথনিক জাতিগোষ্ঠীর দলগুলোও গণতন্ত্রপন্থী। এসব দল ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ আসন লাভ করে। আগের নির্বাচনে তারা ৫৭টি আসন পায়। তার মধ্যে শান ন্যাশনালিটিস লিগ ফর ডেমোক্রেসি পায় ২৩টি আসন। আরাকান লিগ ফর ডেমোক্রেসি পায় ১১টি আসন।

সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট প্রক্সি দল ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টি (এনইউপি) পায় ১০টি আসন। নির্বাচনে অংশ নেয়া ৯৩ দলের মধ্যে মাত্র ২৭ দল আসন পেয়েছে। বাকিরা কোনো আসন পায়নি।

মিয়ানমারে বিশ্বাসযোগ্য ভোট হয়েছে ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর। ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৯ শতাংশ। তিন কোটি ৪০ লাখ ভোটারের মধ্যে দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ৯১টি রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ নেয়। ফলাফল ১৯৯০ সালের ভোটের মতোই গণতন্ত্রপন্থী এনএলডি ৭৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এক হাজার ১৫০টি আসনের মধ্যে ৮৮৬ আসন লাভ করে এনএলডি।

গণতন্ত্রপন্থী এথনিক দলগুলো ১২ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৪০ আসন পেয়েছে। তার মধ্যে আরাকান ন্যাশনাল পার্টি পায় ৪৫টি আসন। শান ন্যাশনালিটিস পার্টি পায় ৪০টি আসন। সেনা সমর্থিত প্রক্সি দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) পেয়েছে ১০ শতাংশ ভোট। তারা ১১৭ আসনে জয়লাভ করেছে।

মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন

জনপ্রিয়তা কমলেও সু চির দল আবার ক্ষমতায় আসবে

 মাসুদ করিম 
১২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সুচি,
ফাইল ছবি

মিয়ানমারে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আসন সংখ্যা কমতে পারে। তবে তারাই আবার ক্ষমতায় আসছে। কেননা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এনএলডির কাছাকাছিও যেতে পারবে না।

ফলে ভোটের পরেও মিয়ানমারের নীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে না। এমন পূর্বাভাস দিচ্ছে মিয়ানমারের নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমগুলো। আগামী ৮ নভেম্বর মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

মিয়ানমারে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ভোটার সংখ্যা তিন কোটি ৮০ লাখ। দেশটির জনপ্রিয় মিডিয়া ইরাবতির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার কারণে এবারের নির্বাচনে এনএলডি’র ভোটের সংখ্যা কিছুটা কমবে। এর ওপর কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভোটার উপস্থিতিও কমবে। তবে এবার প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা বাড়তে পারে।

শান্তিতে নোবেল জয়ী নেত্রী সু চির গণতন্ত্রপন্থী এনএলডি ৭০ শতাংশের কম ভোট পাওয়ার আশঙ্কা নেই। গণতন্ত্রপন্থী এথনিক দলগুলো ১২ শতাংশ এবং সেনা সমর্থিত প্রক্সি দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ১০ শতাংশ ভোট পেতে পারে।

ইয়াঙ্গুনের একটি সূত্র রোববার যুগান্তরকে জানিয়েছে, ইউএসডিপিসহ তাদের সমর্থক ছোট দলগুলো কোভিড পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন পেছানোর দাবি করছে। তবে সরকার সময়মতো নির্বাচন করতে চায়। ফলে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রটি আরও বলেছে, কিছু আসন কমলেও এনএলডি সরকার গঠন করার মতো অবস্থায় চলে আসবে। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত আছে।

তার ওপর ইউএসডিপির আসন কিছু বাড়লে এবং ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করলে এভাবে ৫০ শতাংশ করার একটা চেষ্টা হতে পারে। তবে ইউএসডিপি’র ভালো করার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

মিয়ানমার প্রায় ৫০ বছর সামরিক শাসনের মাধ্যমে শাসিত হয়েছে। ১৯৬২ সালে জেনারেল নি উইন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তারপর ১৯৯০ সালে এবং ২০১৫ সালে সু চির এনএলডি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। যদিও ২০১০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক ভোটচুরির অভিযোগ ওঠে।

মিয়ানমারের নির্বাচনের লক্ষণীয় দিক হলো, অনেক বেশি দল ভোটে অংশ নেয়। তবে সীমিত সংখ্যক দলই আসন লাভ করে। দেশটিতে গণতন্ত্রপন্থী দল এবং সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট প্রক্সি উভয় প্রকার দলই রয়েছে।

মিয়ানমারে ১৯৯০ সালের ২৭ মে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। ওই সময়ে মোট তিন কোটি ৮০ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুই কোটি আট লাখ ভোটার ছিলেন। যাদের মধ্যে এক কোটি ৫০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ৯৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ওই নির্বাচন ছিল ১৯৬০ সালের পর প্রথম অবাধ নির্বাচন। সু চির নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রপন্থী এনএলডি ৮০ দশমিক ৮২ শতাংশ ভোট পায়।

ওই সময়ে ৪৮৫ আসনের মধ্যে ৩৯২ আসন পায় এনএলডি। মিয়ানমারে বিভিন্ন এথনিক জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। এসব এথনিক জাতিগোষ্ঠীর দলগুলোও গণতন্ত্রপন্থী। এসব দল ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ আসন লাভ করে। আগের নির্বাচনে তারা ৫৭টি আসন পায়। তার মধ্যে শান ন্যাশনালিটিস লিগ ফর ডেমোক্রেসি পায় ২৩টি আসন। আরাকান লিগ ফর ডেমোক্রেসি পায় ১১টি আসন।

সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট প্রক্সি দল ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টি (এনইউপি) পায় ১০টি আসন। নির্বাচনে অংশ নেয়া ৯৩ দলের মধ্যে মাত্র ২৭ দল আসন পেয়েছে। বাকিরা কোনো আসন পায়নি।

মিয়ানমারে বিশ্বাসযোগ্য ভোট হয়েছে ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর। ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৯ শতাংশ। তিন কোটি ৪০ লাখ ভোটারের মধ্যে দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ৯১টি রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ নেয়। ফলাফল ১৯৯০ সালের ভোটের মতোই গণতন্ত্রপন্থী এনএলডি ৭৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এক হাজার ১৫০টি আসনের মধ্যে ৮৮৬ আসন লাভ করে এনএলডি।

গণতন্ত্রপন্থী এথনিক দলগুলো ১২ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৪০ আসন পেয়েছে। তার মধ্যে আরাকান ন্যাশনাল পার্টি পায় ৪৫টি আসন। শান ন্যাশনালিটিস পার্টি পায় ৪০টি আসন। সেনা সমর্থিত প্রক্সি দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) পেয়েছে ১০ শতাংশ ভোট। তারা ১১৭ আসনে জয়লাভ করেছে।