নোয়াখালীর পথে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চ
jugantor
৯ দফা দাবি
নোয়াখালীর পথে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চ

  ঢাবি প্রতিনিধি  

১৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে বাম ধারার সংগঠনগুলো। শুক্রবার সকালে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’র ব্যানারে এ লংমার্চ শুরু হয়।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে এ আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে সারা দেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারীর প্রতি নিপীড়ন বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে টানা ১২ দিন গণঅবস্থান, বিক্ষোভ সমাবেশ, মশাল মিছিল, সাইকেল র‌্যালিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন তারা। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ শুরু হয়।

লংমার্চটি শাহবাগ, গুলিস্তান হয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায়। এরপর সোনারগাঁও। সেখান থেকে বিকালে কুমিল্লায় পৌঁছায়। কুমিল্লা শহরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করার পর লংমার্চ যায় ফেনীতে। আজ ফেনী শহরে সমাবেশ শেষে দাগনভুঞা, নোয়াখালীর চৌমুহনী হয়ে যাবে বেগমগঞ্জের একলাসপুর। শনিবার বিকালে সেখান থেকে মাইজদী কোর্টে। সেখানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে লংমার্চ।

লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রিপন চাকমা, সিপিবি নেত্রী লুনা নুর, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা প্রমুখ।

মাসুদ রানা বলেন, সারা দেশে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্ষণ অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে, যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে তা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এর বিরুদ্ধে গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে আমাদের এই লংমার্চ।

লুনা নূর বলেন, বিচারহীনতার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে, লড়াই-সংগ্রামকে সমন্বিত করতে, দেশবাসীর চেতনা ও অবস্থানকে সমন্বিত করতে আমাদের আহ্বান থাকবে এই লংমার্চে।

আন্দোলনকারীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে। ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রেণে বিটিসিএলের কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সকল মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য-প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

স্লোগানে মুখর কুমিল্লা টাউনহল : কুমিল্লা ব্যুরো জানায়, লংমার্চটিকে পুলিশ লাইনস থেকে স্বাগত জানান কুমিল্লার নেতারা। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় নগরীর টাউনহল মাঠের মুক্তমঞ্চে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় প্রতিবাদী গান-স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে টাউনহল মাঠ। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড-লাল পতাকা নিয়ে স্লোগান দিয়ে টাউনহলে প্রবেশ করেন।

এ সময় টাউনহলের মুক্তমঞ্চে লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে গান পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা। সমাবেশের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হয় লংমার্চ।

৯ দফা দাবি

নোয়াখালীর পথে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চ

 ঢাবি প্রতিনিধি 
১৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে বাম ধারার সংগঠনগুলো। শুক্রবার সকালে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’র ব্যানারে এ লংমার্চ শুরু হয়।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে এ আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে সারা দেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারীর প্রতি নিপীড়ন বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে টানা ১২ দিন গণঅবস্থান, বিক্ষোভ সমাবেশ, মশাল মিছিল, সাইকেল র‌্যালিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন তারা। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ শুরু হয়।

লংমার্চটি শাহবাগ, গুলিস্তান হয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায়। এরপর সোনারগাঁও। সেখান থেকে বিকালে কুমিল্লায় পৌঁছায়। কুমিল্লা শহরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করার পর লংমার্চ যায় ফেনীতে। আজ ফেনী শহরে সমাবেশ শেষে দাগনভুঞা, নোয়াখালীর চৌমুহনী হয়ে যাবে বেগমগঞ্জের একলাসপুর। শনিবার বিকালে সেখান থেকে মাইজদী কোর্টে। সেখানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে লংমার্চ।

লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রিপন চাকমা, সিপিবি নেত্রী লুনা নুর, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা প্রমুখ।

মাসুদ রানা বলেন, সারা দেশে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্ষণ অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে, যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে তা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এর বিরুদ্ধে গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে আমাদের এই লংমার্চ।

লুনা নূর বলেন, বিচারহীনতার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে, লড়াই-সংগ্রামকে সমন্বিত করতে, দেশবাসীর চেতনা ও অবস্থানকে সমন্বিত করতে আমাদের আহ্বান থাকবে এই লংমার্চে।

আন্দোলনকারীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে। ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রেণে বিটিসিএলের কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সকল মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য-প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

স্লোগানে মুখর কুমিল্লা টাউনহল : কুমিল্লা ব্যুরো জানায়, লংমার্চটিকে পুলিশ লাইনস থেকে স্বাগত জানান কুমিল্লার নেতারা। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় নগরীর টাউনহল মাঠের মুক্তমঞ্চে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় প্রতিবাদী গান-স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে টাউনহল মাঠ। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড-লাল পতাকা নিয়ে স্লোগান দিয়ে টাউনহলে প্রবেশ করেন।

এ সময় টাউনহলের মুক্তমঞ্চে লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে গান পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা। সমাবেশের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হয় লংমার্চ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : নোয়াখালীতে নারীকে নির্যাতন করে ভিডিও