প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার দাবি ফাইলবন্দি
jugantor
এওপিওরা আজও উপেক্ষিত
প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার দাবি ফাইলবন্দি
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিব ডিও লেটার দিলেও আটকে আছে অদৃশ্য সুতার টানে

  বিএম জাহাঙ্গীর  

১৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার দাবি ফাইলবন্দি

সচিবালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের (পিও) প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার যৌক্তিক দাবি ৭ বছর ধরে ফাইলবন্দি রয়েছে। সচিবালয়ের বাইরে ২৩ ক্যাটাগরির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও তারা মন্ত্রণালয়-বিভাগে চাকরি করেও উপেক্ষিত।

দাবির গুরুত্ব ও যৌক্তিকতা অনুধাবন করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও নীতিনির্ধারক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করতে ডিও লেটার দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা মিটিং করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক সংশ্লেষের রিপোর্টও নিয়েছে। কিন্তু তারপর কোথায় গিয়ে আটকে গেছে, তা সংশ্লিষ্ট কেউ যেন বলতে পারেন না।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রমোটি এওপিওদের চেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি এ দুটি পদে নিয়োগ পাওয়া বিসিএস উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা। কেননা তারা বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও কাঙ্ক্ষিত পদ না থাকায় ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দিতে পারেননি। অথচ ব্যাচমেটদের অনেকে এখন ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরে কর্মরত। তাই তারা মনে করেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া জরুরি।

সূত্র জানায়, এওপিওদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করতে অনেক আগে থেকে বিভিন্নভাবে দাবি জানানো হলেও মূলত ২০১৩ সালে সেটি জোরালো আকার ধারণ করে। এর ফলে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় বা বিভাগে কর্মরত প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীতকরণের কার্যক্রম পরীক্ষাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিবকে উপ-আনুষ্ঠানিক পত্র দেন। একই বছর ১৯ নভেম্বর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। ওই আলোচনায় এ দাবির বিষয়টি উত্থাপন করা হলে অর্থমন্ত্রী নেতাদের বলেন, বিষয়টি আমাদের প্রস্তাবিত আলোচনায় আসবে।

২০১৫ সালের ২১ মে প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

এছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত এওপিওদের দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার জন্য উল্লেখিত আবেদন-নিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ৩১ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপসচিব মনিরুল ইসলাম অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে অফিসিয়াল চিঠি দেন। এর আগে এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৩ সালের ২০ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেয়া হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খানকে ডিও লেটার দেন ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট। সেখানে তিনি মূল বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন, সচিবালয়ের বাইরে ২৩টি ক্যাটাগরির ২য় ও ৩য় শ্রেণির পদকে ১ম শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও সচিবালয়ের এওপিওদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি সচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে এ বিষয়ে ডিও লেটার দেন।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সচিবালয়ের বাইরে ২৩ ক্যাটাগরির ২য় ও ৩য় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১ম শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও এওপিওদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়নি। এ অবস্থায় তিনি এওপিওদের পেশকৃত এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে এওপিওদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করলে সরকারের বছরে কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে সে বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালে অর্থ বিভাগ থেকে একটি মতামতও নিয়েছিল।

এজন্য ওই বছর ৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখা থেকে অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয়া হয়। অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি জবাব দিয়ে বলা হয়, বার্ষিক অতিরিক্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু সেটি আর বেশিদূর এগোতে পারেনি।

সচিবালয়ের এওপিওদের ১ম শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয় ২০১৭ সালের ৮ মার্চ। এরপর ৭ মাস পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে ওই বছর ১ নভেম্বর বৈঠক আহ্বান করে। কিন্তু অদ্যাবধি বিষয়টি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (বিধি) আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় ২০১৮ সালের ৩ মে।

৭ জুন প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি গেজেটে বলা হয়, ‘কমিটি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার ১ম শ্রেণি ও ২য় শ্রেণির গেজেটেড পদে কর্মকর্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেধাতালিকা, চাকরির মর্যাদা ও বেতন স্কেলের বিষয়টি যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা প্রস্তুত করবে।’

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়নি। ফলে বিসিএস উত্তীর্ণদের মধ্যে যারা নন-ক্যাডার হিসেবে দ্বিতীয় শ্রেণির পদে যোগ দিয়েছেন তাদের মেধার মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, হিসাবরক্ষকদের সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে উন্নীত করা হয় ২০১৩ সালের ২২ মে। এছাড়া পুলিশের ইন্সপেক্টর পদকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয় ২০১২ সালের ৩০ জুলাই। একই সঙ্গে পুলিশের সার্জেন্ট/সাব-ইন্সপেক্টর/টিএসআই পদকে ৩য় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়।

অপরদিকে সশস্ত্র বাহিনীর জুনিয়র কমিশন অফিসার (জেসিও) পদকে ২য় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে এবং সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয় ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল।

এওপিওরা আজও উপেক্ষিত

প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার দাবি ফাইলবন্দি

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিব ডিও লেটার দিলেও আটকে আছে অদৃশ্য সুতার টানে
 বিএম জাহাঙ্গীর 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার দাবি ফাইলবন্দি
ফাইল ছবি

সচিবালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের (পিও) প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার যৌক্তিক দাবি ৭ বছর ধরে ফাইলবন্দি রয়েছে। সচিবালয়ের বাইরে ২৩ ক্যাটাগরির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও তারা মন্ত্রণালয়-বিভাগে চাকরি করেও উপেক্ষিত।

দাবির গুরুত্ব ও যৌক্তিকতা অনুধাবন করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও নীতিনির্ধারক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করতে ডিও লেটার দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা মিটিং করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক সংশ্লেষের রিপোর্টও নিয়েছে। কিন্তু তারপর কোথায় গিয়ে আটকে গেছে, তা সংশ্লিষ্ট কেউ যেন বলতে পারেন না।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রমোটি এওপিওদের চেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি এ দুটি পদে নিয়োগ পাওয়া বিসিএস উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা। কেননা তারা বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও কাঙ্ক্ষিত পদ না থাকায় ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দিতে পারেননি। অথচ ব্যাচমেটদের অনেকে এখন ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরে কর্মরত। তাই তারা মনে করেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া জরুরি।

সূত্র জানায়, এওপিওদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করতে অনেক আগে থেকে বিভিন্নভাবে দাবি জানানো হলেও মূলত ২০১৩ সালে সেটি জোরালো আকার ধারণ করে। এর ফলে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় বা বিভাগে কর্মরত প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীতকরণের কার্যক্রম পরীক্ষাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিবকে উপ-আনুষ্ঠানিক পত্র দেন। একই বছর ১৯ নভেম্বর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। ওই আলোচনায় এ দাবির বিষয়টি উত্থাপন করা হলে অর্থমন্ত্রী নেতাদের বলেন, বিষয়টি আমাদের প্রস্তাবিত আলোচনায় আসবে।

২০১৫ সালের ২১ মে প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

এছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত এওপিওদের দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার জন্য উল্লেখিত আবেদন-নিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ৩১ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপসচিব মনিরুল ইসলাম অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে অফিসিয়াল চিঠি দেন। এর আগে এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৩ সালের ২০ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেয়া হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খানকে ডিও লেটার দেন ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট। সেখানে তিনি মূল বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন, সচিবালয়ের বাইরে ২৩টি ক্যাটাগরির ২য় ও ৩য় শ্রেণির পদকে ১ম শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও সচিবালয়ের এওপিওদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি সচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে এ বিষয়ে ডিও লেটার দেন।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সচিবালয়ের বাইরে ২৩ ক্যাটাগরির ২য় ও ৩য় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১ম শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও এওপিওদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়নি। এ অবস্থায় তিনি এওপিওদের পেশকৃত এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে এওপিওদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করলে সরকারের বছরে কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে সে বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালে অর্থ বিভাগ থেকে একটি মতামতও নিয়েছিল।

এজন্য ওই বছর ৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখা থেকে অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয়া হয়। অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি জবাব দিয়ে বলা হয়, বার্ষিক অতিরিক্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু সেটি আর বেশিদূর এগোতে পারেনি।

সচিবালয়ের এওপিওদের ১ম শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয় ২০১৭ সালের ৮ মার্চ। এরপর ৭ মাস পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে ওই বছর ১ নভেম্বর বৈঠক আহ্বান করে। কিন্তু অদ্যাবধি বিষয়টি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (বিধি) আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় ২০১৮ সালের ৩ মে।

৭ জুন প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি গেজেটে বলা হয়, ‘কমিটি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার ১ম শ্রেণি ও ২য় শ্রেণির গেজেটেড পদে কর্মকর্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেধাতালিকা, চাকরির মর্যাদা ও বেতন স্কেলের বিষয়টি যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা প্রস্তুত করবে।’

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়নি। ফলে বিসিএস উত্তীর্ণদের মধ্যে যারা নন-ক্যাডার হিসেবে দ্বিতীয় শ্রেণির পদে যোগ দিয়েছেন তাদের মেধার মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, হিসাবরক্ষকদের সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে উন্নীত করা হয় ২০১৩ সালের ২২ মে। এছাড়া পুলিশের ইন্সপেক্টর পদকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয় ২০১২ সালের ৩০ জুলাই। একই সঙ্গে পুলিশের সার্জেন্ট/সাব-ইন্সপেক্টর/টিএসআই পদকে ৩য় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়।

অপরদিকে সশস্ত্র বাহিনীর জুনিয়র কমিশন অফিসার (জেসিও) পদকে ২য় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে এবং সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয় ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল।