এপ্রিল মে পর্যন্ত টিকার অপেক্ষায় থাকতে হবে
jugantor
যুগান্তরকে ড. ফেরদৌসী কাদরী
এপ্রিল মে পর্যন্ত টিকার অপেক্ষায় থাকতে হবে
ভ্যাকসিন বাতিল হয় চতুর্থ ট্রায়ালেও

  রাশেদ রাব্বি  

১৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল মে পর্যন্ত টিকার অপেক্ষায় থাকতে হবে

অনেক সময় চতুর্থ ট্রায়ালে গিয়েও ওষুধ বা ভ্যাকসিন বাতিল করতে হয়েছে। প্রথম তিনটি ধাপে সাধারণত ওষুধ বা ভ্যাকসিনের এফিকেসি (কার্যকারিতা) পাওয়া যায়। কিন্তু চতুর্থ ট্রায়ালে গিয়ে যদি কোনো ত্রুটি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তবে তা সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। পরে সমস্যার সামাধান হলে সেটি ব্যবহারের অনুমতি পায়।

অন্যথায় ভ্যাকসিন বা ওষুধটি বাতিল হয়ে যায়- এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআর,বি) ইমিরেটাস বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী। প্রসঙ্গত, বাণিজ্যিক ব্যবহারের সময় যে ফার্মাকোভিজিলেন্স করা হয় সেটিই ফোর্থ ট্রায়াল বা চতুর্থ ধাপ, যা কয়েক লাখ মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়।

যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপনে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বিজ্ঞানী বলেন, ভ্যাকসিন এলেও আমাদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে, হাত পরিষ্কারের অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে এই অভ্যাস পালনের কোনো বিকল্প নেই। এত সংক্রমণাত্মক ভাইরাসের মুখোমুখি আমাদের সচরাচর হতে হয় না। তাই আমাদের উচিত জরুরি স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলা।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, কোনো ভ্যাকসিনের সক্রিয় কার্যকারিতা থাকে ১-৩ বছর, আবার কোনোটির সারা জীবন। কোনোটির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার জন্য বুস্টার ডোজ দেয়া হয়। যেমন হাম-রুবেলায় বুস্টার ডোজ দেয়া হয়। আবার কোনো কোনো ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে একাধিক ডোজ প্রয়োগ করা হয়। তিনি বলেন, যে কোনো ভ্যাকসিন একদিনে তৈরি হয় না। এর জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হয়।

কলেরার ভ্যাকসিন তৈরি করতে ২৫ বছরের বেশি সময় লেগেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চতুর্থ ট্রায়ালে গিয়েও ওষুধ বা ভ্যাকসিন বাতিল করতে হয়েছে।

মানবদেহের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জীবাণুর মুখোমুখি হয়। মানবদেহে যখন কোনো জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে তখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে আইজিএম এন্টিবডি তৈরি করে, যা পরে আইজিজিতে রূপান্তরিত হয়। মানবদেহে আইজিএম এন্টিবডির স্থায়িত্ব হয় আনুমানিক ৭-১৪ দিন, যা একপর্যায়ে ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

অন্যদিকে আইজিজির স্থায়িত্বকাল হয় আনুমানিক ৩-৪ মাস। মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কিত সকল তথ্য মেমোরি সেলে (কোষ) সংরক্ষিত থাকে।

যদি কখনও একই জীবাণু দ্বারা ফের আক্রান্ত হয় তখন এই সংরক্ষিত তথ্য থেকে তা সংগ্রহ করে টি সেল এবং বি সেল একত্রে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করে।

করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রিকোয়ালিফায়েড হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন বাঞ্ছনীয়। তবে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কোনো ভ্যাকসিন নিজ দেশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। হার্ড ইমিউনিটির বিষয়ে তিনি বলেন, আক্রান্ত না হলে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না।

পপুলেশনে জীবাণু থাকলে এবং জনগণের মধ্যে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালিত হলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। দেশে বিদেশি ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রায়াল পরিচালিত হলে ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া সব ভ্যাকসিন সব ধরনের পরিবেশ বা সকল বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকরী হয় না।

ট্রায়াল হলে সেই বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব। আইসিডিডিআর,বি কোনো ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করতে যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৫-৬টি ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য আইসিডিডিআরবি’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যেগুলো আলোচনা পর্যায়ে আছে।

ড. কাদরী বলেন, করোনাভাইরাসের মহাসংক্রমণে আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। এই সংক্রমণ থেকে মুক্তির অন্যতম প্রধান উপায় একটি মানসম্পন্ন ভ্যাকসিন, যার জন্য বিশ্বব্যাপী সবাই প্রতীক্ষায় রয়েছে।

তবে সেরকম একটি ভ্যাকসিন পেতে আমাদের এখনও প্রায় ৬ থেকে ৮ মাস অপেক্ষা করতে হবে। উৎপাদন প্রতিযোগিতায় যেগুলো এগিয়ে আছে, সেগুলো বিশ্ববাজারে আসতে আগামী বছর মার্চ-এপ্রিল লেগে যাবে। সেক্ষেত্রে এর আগে সেগুলো আমাদের হাতের নাগালে আসার সম্ভাবনা কম। কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্ব দুই বিলিয়ন ভ্যাকসিন পাবে।

প্রসঙ্গত, ড. ফেরদৌসী কাদরী বাংলাদেশি প্রতিষেধকবিদ্যা এবং সংক্রামক রোগ গবেষণাকারী বিজ্ঞানী। তিনি প্রায় ২৫ বছর কলেরার টিকা উন্নয়নে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ইটিইসি, টাইফয়েড, হেলিকোব্যাকটের পলরি, রোটা ভাইরাস ইত্যাদি অন্যান্য সংক্রামক রোগে বিশেষজ্ঞ।

তিনি আইসিডিডিআর,বি মিউকোসাল ইমিউনোলজি এবং ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার বৈজ্ঞানিক সাফল্য আন্ত্রিক ও ডায়রিয়াজনিত প্রতিষেধক এবং টিকাসহ ভাইব্রিও কলেরা এবং এন্টারোঅক্সিজেনিক এসতোছিয়া কোলাই যেগুলো ডায়রিয়াসহ আন্ত্রিক রোগের প্রধান কারণ। ২০০৮ সালে ফেরদৌসী বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির গোল্ড মেডেল পান। তিনি ২০০২ সালে উন্নয়নশীল দেশে সংক্রামক আন্ত্রিক রোগ গবেষণার জন্য ক্রিস্টোফ মেরিএউক্স পুরস্কার পান।

২০১৩ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমির বার্ষিক সিএন রাও পুরস্কার পান।

উন্নয়নশীল দেশে শিশুদের সংক্রামক রোগ চিহ্নিতকরণ ও বিশ্বব্যাপী এর বিস্তার রোধে প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ২০২০ সালে তিনি ‘লরিয়েল-ইউনেস্কো উইমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

যুগান্তরকে ড. ফেরদৌসী কাদরী

এপ্রিল মে পর্যন্ত টিকার অপেক্ষায় থাকতে হবে

ভ্যাকসিন বাতিল হয় চতুর্থ ট্রায়ালেও
 রাশেদ রাব্বি 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
এপ্রিল মে পর্যন্ত টিকার অপেক্ষায় থাকতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

অনেক সময় চতুর্থ ট্রায়ালে গিয়েও ওষুধ বা ভ্যাকসিন বাতিল করতে হয়েছে। প্রথম তিনটি ধাপে সাধারণত ওষুধ বা ভ্যাকসিনের এফিকেসি (কার্যকারিতা) পাওয়া যায়। কিন্তু চতুর্থ ট্রায়ালে গিয়ে যদি কোনো ত্রুটি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তবে তা সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। পরে সমস্যার সামাধান হলে সেটি ব্যবহারের অনুমতি পায়।

অন্যথায় ভ্যাকসিন বা ওষুধটি বাতিল হয়ে যায়- এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআর,বি) ইমিরেটাস বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী। প্রসঙ্গত, বাণিজ্যিক ব্যবহারের সময় যে ফার্মাকোভিজিলেন্স করা হয় সেটিই ফোর্থ ট্রায়াল বা চতুর্থ ধাপ, যা কয়েক লাখ মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়।

যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপনে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বিজ্ঞানী বলেন, ভ্যাকসিন এলেও আমাদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে, হাত পরিষ্কারের অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে এই অভ্যাস পালনের কোনো বিকল্প নেই। এত সংক্রমণাত্মক ভাইরাসের মুখোমুখি আমাদের সচরাচর হতে হয় না। তাই আমাদের উচিত জরুরি স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলা।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, কোনো ভ্যাকসিনের সক্রিয় কার্যকারিতা থাকে ১-৩ বছর, আবার কোনোটির সারা জীবন। কোনোটির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার জন্য বুস্টার ডোজ দেয়া হয়। যেমন হাম-রুবেলায় বুস্টার ডোজ দেয়া হয়। আবার কোনো কোনো ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে একাধিক ডোজ প্রয়োগ করা হয়। তিনি বলেন, যে কোনো ভ্যাকসিন একদিনে তৈরি হয় না। এর জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হয়।

কলেরার ভ্যাকসিন তৈরি করতে ২৫ বছরের বেশি সময় লেগেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চতুর্থ ট্রায়ালে গিয়েও ওষুধ বা ভ্যাকসিন বাতিল করতে হয়েছে।

মানবদেহের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জীবাণুর মুখোমুখি হয়। মানবদেহে যখন কোনো জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে তখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে আইজিএম এন্টিবডি তৈরি করে, যা পরে আইজিজিতে রূপান্তরিত হয়। মানবদেহে আইজিএম এন্টিবডির স্থায়িত্ব হয় আনুমানিক ৭-১৪ দিন, যা একপর্যায়ে ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

অন্যদিকে আইজিজির স্থায়িত্বকাল হয় আনুমানিক ৩-৪ মাস। মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কিত সকল তথ্য মেমোরি সেলে (কোষ) সংরক্ষিত থাকে।

যদি কখনও একই জীবাণু দ্বারা ফের আক্রান্ত হয় তখন এই সংরক্ষিত তথ্য থেকে তা সংগ্রহ করে টি সেল এবং বি সেল একত্রে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করে।

করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রিকোয়ালিফায়েড হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন বাঞ্ছনীয়। তবে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কোনো ভ্যাকসিন নিজ দেশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। হার্ড ইমিউনিটির বিষয়ে তিনি বলেন, আক্রান্ত না হলে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না।

পপুলেশনে জীবাণু থাকলে এবং জনগণের মধ্যে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালিত হলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। দেশে বিদেশি ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রায়াল পরিচালিত হলে ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া সব ভ্যাকসিন সব ধরনের পরিবেশ বা সকল বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকরী হয় না।

ট্রায়াল হলে সেই বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব। আইসিডিডিআর,বি কোনো ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করতে যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৫-৬টি ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য আইসিডিডিআরবি’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যেগুলো আলোচনা পর্যায়ে আছে।

ড. কাদরী বলেন, করোনাভাইরাসের মহাসংক্রমণে আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। এই সংক্রমণ থেকে মুক্তির অন্যতম প্রধান উপায় একটি মানসম্পন্ন ভ্যাকসিন, যার জন্য বিশ্বব্যাপী সবাই প্রতীক্ষায় রয়েছে।

তবে সেরকম একটি ভ্যাকসিন পেতে আমাদের এখনও প্রায় ৬ থেকে ৮ মাস অপেক্ষা করতে হবে। উৎপাদন প্রতিযোগিতায় যেগুলো এগিয়ে আছে, সেগুলো বিশ্ববাজারে আসতে আগামী বছর মার্চ-এপ্রিল লেগে যাবে। সেক্ষেত্রে এর আগে সেগুলো আমাদের হাতের নাগালে আসার সম্ভাবনা কম। কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্ব দুই বিলিয়ন ভ্যাকসিন পাবে।

প্রসঙ্গত, ড. ফেরদৌসী কাদরী বাংলাদেশি প্রতিষেধকবিদ্যা এবং সংক্রামক রোগ গবেষণাকারী বিজ্ঞানী। তিনি প্রায় ২৫ বছর কলেরার টিকা উন্নয়নে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ইটিইসি, টাইফয়েড, হেলিকোব্যাকটের পলরি, রোটা ভাইরাস ইত্যাদি অন্যান্য সংক্রামক রোগে বিশেষজ্ঞ।

তিনি আইসিডিডিআর,বি মিউকোসাল ইমিউনোলজি এবং ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার বৈজ্ঞানিক সাফল্য আন্ত্রিক ও ডায়রিয়াজনিত প্রতিষেধক এবং টিকাসহ ভাইব্রিও কলেরা এবং এন্টারোঅক্সিজেনিক এসতোছিয়া কোলাই যেগুলো ডায়রিয়াসহ আন্ত্রিক রোগের প্রধান কারণ। ২০০৮ সালে ফেরদৌসী বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির গোল্ড মেডেল পান। তিনি ২০০২ সালে উন্নয়নশীল দেশে সংক্রামক আন্ত্রিক রোগ গবেষণার জন্য ক্রিস্টোফ মেরিএউক্স পুরস্কার পান।

২০১৩ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমির বার্ষিক সিএন রাও পুরস্কার পান।

উন্নয়নশীল দেশে শিশুদের সংক্রামক রোগ চিহ্নিতকরণ ও বিশ্বব্যাপী এর বিস্তার রোধে প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ২০২০ সালে তিনি ‘লরিয়েল-ইউনেস্কো উইমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।