আক্রান্তের ১৪ দিনেই ৬০ ভাগের মৃত্যু
jugantor
করোনা নিয়ে নিপসমের গবেষণা
আক্রান্তের ১৪ দিনেই ৬০ ভাগের মৃত্যু
প্রাণহানি রোধে বিদ্যমান চিকিৎসা নীতিমালা সংশোধনের সুপারিশ * মৃত্যুর অন্যতম কারণ ধোয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ

  রাশেদ রাব্বি  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আক্রান্তের ১৪ দিনেই ৬০ ভাগের মৃত্যু

করোনা আক্রান্তের ১৪ দিনের মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রোগ শনাক্তের ২ সপ্তাহের মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের অধিকাংশের বয়স ছিল ৬০ বা তার চেয়ে বেশি। এদের সুস্থতার হার ৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অসুস্থ ছিলেন ১০ দশমিক ২ ভাগ। এছাড়া ৫৯ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের মৃত্যুর হার ৩৯ দশমিক ১ ভাগ।

এমন তথ্য উঠে এসেছে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) গবেষণায়। এতে প্রথম ১৪ দিনে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে বিদ্যমান চিকিৎসা নীতিমালা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে তাদের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশের বয়স ছিল ৫৯ বছরের নিচে এবং ১০ দশমিক ১ শতাংশের বয়স ছিল ৬০ বছরের উপরে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের মৃত্যুর জন্য ধোয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণসহ অন্যান্য রোগের সহাবস্থান দায়ী। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি, লিভার ও ক্যান্সার রোগ উল্লেখযোগ্য বলে গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে। একইভাবে রোগ শনাক্তের ২৮ দিনের মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে এবং ওই সময়ের মধ্যে যারা সুস্থ হননি তাদের ক্ষেত্রেও এসব কারণ প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সী রোগীর ওপর সমন্বিত গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ গবেষণা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জার্নাল অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড ইনফেকশন’ এ গৃহীত হয়েছে। ‘বাংলাদেশে কোভিড আক্রান্তদের ঝুঁকিগুলোর কারণ নির্ধারণ’ শীর্ষক গবেষণার প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ছিলেন প্রতিষ্ঠানের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউল ইসলাম।

গবেষণা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ যুগান্তরকে বলেন, নিপসম ল্যাবে যেসব কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে ১০১৬ জনের ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। যেখানে রোগীর আর্থসামাজিক অবস্থা, লক্ষণ-উপসর্গ, শরীরের অন্যান্য রোগের উপস্থিতি, জটিলতা এবং পরিণতি বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তিনি বলেন, এটিই আমাদের দেশে পরিচালিত কোভিড আক্রান্ত রোগীদের পরিণতি সম্পর্কিত প্রথম কোনো গবেষণা। যা আন্তর্জাতিক জার্নালে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এ গবেষণা দেশের কোভিড আক্রান্তদের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিতে সক্ষম।

গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের সংক্রমণ ছিল ১৬ দশমিক ৬০ ভাগের। ডায়াবেটিস ছিল ৩৫ ভাগের। হৃদরোগ ৭ দশমিক ৮০, উচ্চ রক্তচাপ ২৮ দশমিক ৪০, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ ৪ দশমিক ১০ ভাগ লোকের । এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ ২ দশমিক ৫০ এবং ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন ১ দশমিক ৮০ ভাগ। এছাড়া গর্ভাবস্থায় কোভিড আক্রান্ত ছিলেন ১ দশমিক ৮০ ভাগ এবং হরমোনজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন ২ ভাগ।

কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে যাদের বয়স ৫৯ বছরের নিচে তাদের সুস্থতার হার ছিল ৯০ দশমিক ১ ভাগ এবং অসুস্থ ছিলেন ৯ দশমিক ৮ ভাগ। অন্যদিকে ২৮ দিন পরে ৬০ বছরে বেশি বয়সীদের সুস্থতার হার ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং অসুস্থ ছিলেন ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ৫৯ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অসুস্থ ছিলেন ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ। পুরুষের মধ্যে ১৪ দিনে সুস্থতার হার ছিল ৬৪ দশমিক ৪ ভাগ এবং নারী ৩৫ দশমিক ৬ ভাগ। অন্যদিকে পুরুষ অসুস্থ ছিল ৬৩ দশমিক ৯ ভাগ এবং নারী অসুস্থ ছিল ৩৬ দশমিক ১ ভাগ।

একইভাবে ১৪ দিনে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৬০ দশমিক ৯ ভাগ এবং জীবিতের হার ৮ দশমিক ৪ ভাগ। ২৮তম দিনে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে জীবিতের হার ২ দশমিক ৮ ভাগ এবং মৃত্যুর হার ৫৬ ভাগ। একই ভাবে ৫৯ বছরের নিচের বয়সীদের মধ্যে ২৮তম দিনে জীবিতের হার ৯৭ দশমিক ২ ভাগ এবং মৃত্যুর হার ৪৪ দশমিক শূন্য ভাগ।

আক্রান্তের ১৪ দিনের মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ধোয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৩ শতাংশ, ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ছিলেন ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ, উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত ছিলেন ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৩ শতাংশ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

একইভাবে ২৮ দিনে মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের ধোয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১২ শতাংশ, ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ছিলেন ৪০ শতাংশ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন ৩৬ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৬ শতাংশ, উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত ছিলেন ৩৬ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৬ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১২ শতাংশ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গবেষণায় অংশ নেয়াদের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং নারী ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বিবাহিত ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ, অবিবাহিত ২৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং বিধবা ও বিপত্নীক ছিলেন ৪ দশমিক ১ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত ছিলেন ৩৯ দশমিক ৬ ভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ছিলেন ৪২ দশমিক ৩ ভাগ এবং প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন ১৮ দশমিক ১ ভাগ। এদের মধ্যে গৃহিণী ১৫ দশমিক ৬ ভাগ, চাকরিজীবী ৩২ দশমিক ৫ ভাগ, ব্যবসায়ী ১৪ ভাগ, স্বাস্থ্যকর্মী ১৮ দশমিক ৬ ভাগ এবং অন্যান্য ১৯ দশমিক ৪ ভাগ। এসব রোগীর ৬৯ দশমিক ৩ ভাগের বসবাস শহরে এবং ৩০ দশমিক ৭ ভাগের বাস গ্রামে।

করোনা নিয়ে নিপসমের গবেষণা

আক্রান্তের ১৪ দিনেই ৬০ ভাগের মৃত্যু

প্রাণহানি রোধে বিদ্যমান চিকিৎসা নীতিমালা সংশোধনের সুপারিশ * মৃত্যুর অন্যতম কারণ ধোয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ
 রাশেদ রাব্বি 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আক্রান্তের ১৪ দিনেই ৬০ ভাগের মৃত্যু
ফাইল ছবি

করোনা আক্রান্তের ১৪ দিনের মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রোগ শনাক্তের ২ সপ্তাহের মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের অধিকাংশের বয়স ছিল ৬০ বা তার চেয়ে বেশি। এদের সুস্থতার হার ৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অসুস্থ ছিলেন ১০ দশমিক ২ ভাগ। এছাড়া ৫৯ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের মৃত্যুর হার ৩৯ দশমিক ১ ভাগ।

এমন তথ্য উঠে এসেছে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) গবেষণায়। এতে প্রথম ১৪ দিনে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে বিদ্যমান চিকিৎসা নীতিমালা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে তাদের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশের বয়স ছিল ৫৯ বছরের নিচে এবং ১০ দশমিক ১ শতাংশের বয়স ছিল ৬০ বছরের উপরে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের মৃত্যুর জন্য ধোয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণসহ অন্যান্য রোগের সহাবস্থান দায়ী। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি, লিভার ও ক্যান্সার রোগ উল্লেখযোগ্য বলে গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে। একইভাবে রোগ শনাক্তের ২৮ দিনের মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে এবং ওই সময়ের মধ্যে যারা সুস্থ হননি তাদের ক্ষেত্রেও এসব কারণ প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সী রোগীর ওপর সমন্বিত গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ গবেষণা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জার্নাল অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড ইনফেকশন’ এ গৃহীত হয়েছে। ‘বাংলাদেশে কোভিড আক্রান্তদের ঝুঁকিগুলোর কারণ নির্ধারণ’ শীর্ষক গবেষণার প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ছিলেন প্রতিষ্ঠানের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউল ইসলাম।

গবেষণা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ যুগান্তরকে বলেন, নিপসম ল্যাবে যেসব কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে ১০১৬ জনের ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। যেখানে রোগীর আর্থসামাজিক অবস্থা, লক্ষণ-উপসর্গ, শরীরের অন্যান্য রোগের উপস্থিতি, জটিলতা এবং পরিণতি বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তিনি বলেন, এটিই আমাদের দেশে পরিচালিত কোভিড আক্রান্ত রোগীদের পরিণতি সম্পর্কিত প্রথম কোনো গবেষণা। যা আন্তর্জাতিক জার্নালে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এ গবেষণা দেশের কোভিড আক্রান্তদের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিতে সক্ষম।

গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের সংক্রমণ ছিল ১৬ দশমিক ৬০ ভাগের। ডায়াবেটিস ছিল ৩৫ ভাগের। হৃদরোগ ৭ দশমিক ৮০, উচ্চ রক্তচাপ ২৮ দশমিক ৪০, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ ৪ দশমিক ১০ ভাগ লোকের । এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ ২ দশমিক ৫০ এবং ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন ১ দশমিক ৮০ ভাগ। এছাড়া গর্ভাবস্থায় কোভিড আক্রান্ত ছিলেন ১ দশমিক ৮০ ভাগ এবং হরমোনজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন ২ ভাগ।

কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে যাদের বয়স ৫৯ বছরের নিচে তাদের সুস্থতার হার ছিল ৯০ দশমিক ১ ভাগ এবং অসুস্থ ছিলেন ৯ দশমিক ৮ ভাগ। অন্যদিকে ২৮ দিন পরে ৬০ বছরে বেশি বয়সীদের সুস্থতার হার ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং অসুস্থ ছিলেন ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ৫৯ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অসুস্থ ছিলেন ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ। পুরুষের মধ্যে ১৪ দিনে সুস্থতার হার ছিল ৬৪ দশমিক ৪ ভাগ এবং নারী ৩৫ দশমিক ৬ ভাগ। অন্যদিকে পুরুষ অসুস্থ ছিল ৬৩ দশমিক ৯ ভাগ এবং নারী অসুস্থ ছিল ৩৬ দশমিক ১ ভাগ।

একইভাবে ১৪ দিনে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৬০ দশমিক ৯ ভাগ এবং জীবিতের হার ৮ দশমিক ৪ ভাগ। ২৮তম দিনে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে জীবিতের হার ২ দশমিক ৮ ভাগ এবং মৃত্যুর হার ৫৬ ভাগ। একই ভাবে ৫৯ বছরের নিচের বয়সীদের মধ্যে ২৮তম দিনে জীবিতের হার ৯৭ দশমিক ২ ভাগ এবং মৃত্যুর হার ৪৪ দশমিক শূন্য ভাগ।

আক্রান্তের ১৪ দিনের মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ধোয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৩ শতাংশ, ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ছিলেন ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ, উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত ছিলেন ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৩ শতাংশ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

একইভাবে ২৮ দিনে মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের ধোয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১২ শতাংশ, ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ছিলেন ৪০ শতাংশ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন ৩৬ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৬ শতাংশ, উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত ছিলেন ৩৬ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৬ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১২ শতাংশ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গবেষণায় অংশ নেয়াদের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং নারী ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বিবাহিত ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ, অবিবাহিত ২৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং বিধবা ও বিপত্নীক ছিলেন ৪ দশমিক ১ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত ছিলেন ৩৯ দশমিক ৬ ভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ছিলেন ৪২ দশমিক ৩ ভাগ এবং প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন ১৮ দশমিক ১ ভাগ। এদের মধ্যে গৃহিণী ১৫ দশমিক ৬ ভাগ, চাকরিজীবী ৩২ দশমিক ৫ ভাগ, ব্যবসায়ী ১৪ ভাগ, স্বাস্থ্যকর্মী ১৮ দশমিক ৬ ভাগ এবং অন্যান্য ১৯ দশমিক ৪ ভাগ। এসব রোগীর ৬৯ দশমিক ৩ ভাগের বসবাস শহরে এবং ৩০ দশমিক ৭ ভাগের বাস গ্রামে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

২৭ নভেম্বর, ২০২০