সাময়িক বরখাস্ত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম
jugantor
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারি
সাময়িক বরখাস্ত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ইরফান ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

এছাড়া তিনি বিদেশি মদ সেবন করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ডিএসসিসির কাউন্সিলর ইরফান সেলিম অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও ব্যবহারের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

আর তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র, মাদক রাখার দায়ে আরও মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেহেতু স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ধারা ২ (৩৭) এবং ধারা ১৩ (১) খ, ঘ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকাণ্ড অপরাধ এবং অসদাচরণের শামিল।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কোনো কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ এবং অসদাচরণের অভিযোগে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ধারা ১৩ অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করা হলে, উক্ত আইনের ধারা ১২ এর উপ-ধারা ১ অনুযায়ী কাউন্সিলরকে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রয়েছে।

সে কারণে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ধারা ১২ এর উপ-ধারা ১ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ডিএসসিসির ৩০ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর পদ হতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে র‌্যাবের মোবাইল কোর্টে প্রদান করা কারাদণ্ডের বিষয়টি অবহিত করেন।

ওই পত্রে বলা হয়, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায় যে, ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হাজী সেলিমপুত্র কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে বলে আভাস দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, যে কাউন্সিলরের কথা বলা হচ্ছে, সেই অভিযোগটি আমাদের নথিভুক্ত হয়েছে। আমরা প্রসেস করছি।

সম্ভবত আইন অনুযায়ী তাকে আজকেই (মঙ্গলবার) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করব। পরবর্তীতে কোর্টের রায়কে আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

প্রসঙ্গত, রোববার রাতে ধানমণ্ডিতে সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে তার স্ত্রীর সামনে মারধর করেন।

ওইদিন রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও সোমবার ভোরে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সোমবার দুপুরে ইরফানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পুরান ঢাকার তার বাসায় অভিযানও পরিচালনা করে। এ অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, গুলিসহ একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে।

বাসায় বিদেশি মদ ও অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি রাখায় কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছর করে জেল দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরে ইরফান সেলিমকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারি

সাময়িক বরখাস্ত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ইরফান ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতা। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

এছাড়া তিনি বিদেশি মদ সেবন করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ডিএসসিসির কাউন্সিলর ইরফান সেলিম অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও ব্যবহারের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

আর তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র, মাদক রাখার দায়ে আরও মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেহেতু স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ধারা ২ (৩৭) এবং ধারা ১৩ (১) খ, ঘ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকাণ্ড অপরাধ এবং অসদাচরণের শামিল।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কোনো কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ এবং অসদাচরণের অভিযোগে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ধারা ১৩ অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করা হলে, উক্ত আইনের ধারা ১২ এর উপ-ধারা ১ অনুযায়ী কাউন্সিলরকে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রয়েছে।

সে কারণে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ধারা ১২ এর উপ-ধারা ১ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ডিএসসিসির ৩০ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর পদ হতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

এর আগে মঙ্গলবার ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে র‌্যাবের মোবাইল কোর্টে প্রদান করা কারাদণ্ডের বিষয়টি অবহিত করেন।

ওই পত্রে বলা হয়, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায় যে, ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। 

এদিকে মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হাজী সেলিমপুত্র কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে বলে আভাস দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, যে কাউন্সিলরের কথা বলা হচ্ছে, সেই অভিযোগটি আমাদের নথিভুক্ত হয়েছে। আমরা প্রসেস করছি। 

সম্ভবত আইন অনুযায়ী তাকে আজকেই (মঙ্গলবার) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করব। পরবর্তীতে কোর্টের রায়কে আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।  

প্রসঙ্গত, রোববার রাতে ধানমণ্ডিতে সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে তার স্ত্রীর সামনে মারধর করেন।

ওইদিন রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও সোমবার ভোরে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সোমবার দুপুরে ইরফানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পুরান ঢাকার তার বাসায় অভিযানও পরিচালনা করে। এ অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, গুলিসহ একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে।

বাসায় বিদেশি মদ ও অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি রাখায় কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছর করে জেল দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরে ইরফান সেলিমকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।