২৫ বছর ধরে বেদখল গৃহায়নের ২৯ প্লট
jugantor
টেবিলে টেবিলে ঘুরছেন প্লট গ্রহীতারা
২৫ বছর ধরে বেদখল গৃহায়নের ২৯ প্লট
দখলদারদের অবৈধ ঘোষণা করে আদালতের রায় * দখলদার উচ্ছেদে গৃহায়নের গড়িমসি * ২০ বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকার ভাড়া বাণিজ্য

  মতিন আব্দুল্লাহ  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২৫ বছর ধরে বেদখল জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২৯টি প্লট। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ‘ডি’ ব্লকে বরাদ্দকৃত প্লটগুলো গ্রাহকরা বুঝে পাচ্ছেন না। দখলদাররা প্রথমে মামলা পরে গায়ের জোরে ওইসব প্লট দখলে রেখেছে।

সম্প্রতি উচ্চ আদালত দখলদারদের অবৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন। এরপরও অবৈধদের উচ্ছেদে গড়িমসি করছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ)। প্লটের বরাদ্দপ্রাপ্তরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ২০০১ সাল থেকে জবরদখলকারীরা প্লটগুলোতে দোকান, বাসাবাড়ি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন। প্রতিটি প্লট থেকে মাসে গড়ে ২৫ হাজার টাকা করে ভাড়া তুলছে। এতে গত ২০ বছরে দখলদাররা প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা পকেটে তুলেছে।

অথচ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলো জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে এখনও পর্যন্ত প্লটের দখলও বুঝে পাচ্ছেন না। কবে নাগাদ পাবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আশপাশের প্লটের বরাদ্দপ্রাপ্তরা ৫ থেকে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। প্লটগুলো এনএইচএ থেকে দু’ভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। এককালীন এবং কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ। এককালীন ১ লাখ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা পরিশোধ করে প্লট পেয়েছে অনেকেই। যারা ২৫ বছর কিস্তিতে প্লট নিয়েছেন তারা মাসে ১৪৪৩ টাকা হিসেবে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯০০ টাকা পরিশোধ করেছেন।

কিস্তিতে প্লট গ্রহীতারা দখল না পেলেও যথানিয়মে কিস্তির টাকা পরিশোধ করছেন। তাদের কিস্তিও শেষ হতে চলেছে। এসব প্লটের বর্তমান মূল্য কোটি টাকার বেশি।

মিরপুর সেকশন-১২ লেন ৫-এর ২/এ রোডের ১/২ নম্বর প্লটের বরাদ্দ প্রাপক মো. সোলাইমান যুগান্তরকে বলেন, ‘বিগত ২৫ বছর ধরে এনএইচএ’র দফতরে ঘুরে ঘুরে আমরা হয়রান হয়ে গেছি। আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম, কিন্তু এসবের প্রতি তাদের তেমন গুরুত্ব ছিল না।

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনার পরও তারা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আমাদের প্লট বুঝিয়ে দিচ্ছে না।’ একই লেন ও রোডের ১/৬ নম্বর প্লটের এলটি অ্যাডভোকেট ওসমান গনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আইনগত কোনো সমস্যা না থাকলেও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ আমাদের প্লটের দখলদার উচ্ছেদে গড়িমসি করছে। বারবার কর্মকর্তাদের দফতরে গিয়ে অনুরোধ করলেও তারা এতে কর্ণপাত করছে না।’

এ প্রসঙ্গে এনএইচএ’র চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দার যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার ভালো জানা নেই। আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে মূল ঘটনা জানার চেষ্টা করব। ঘটনা সত্য হলে ওইসব প্লটের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ওই সব প্লটের বরাদ্দ প্রাপকরা একবার আমার কাছে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের প্লটগুলোর মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার জানা নেই। যদি নিষ্পত্তি হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের সেসব প্লট বুঝিয়ে দেয়া হবে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ২৩ অক্টোবর লটারির মাধ্যমে পৌনে দুই কাঠার ৬০০ প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এনএইচএ। এ প্রকল্পের নামকরণ করা হয়, ঢাকা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (ডুইপ)। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আবাসন সংকট মোকাবেলায় এ প্রকল্প নেয়া হয়।

বরাদ্দকৃত ৬০০ প্লট গ্রহীতার মধ্যে ৫৭১ জনকে তেমন কোনো বাধা ছাড়াই বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয় এনএইচএ। জটিলতা দেখা দেয় ২৯টি প্লটের ক্ষেত্রে। সেসব নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলে অবৈধ দখলদারদের সঙ্গে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০২ সালের ১৩ মার্চ এনএইচএ ওইসব প্লটের দখলদার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য বাজেটও বরাদ্দ করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি করার সুযোগে দখলদাররা কোর্টে মামলা ঠুকে দেয়। ঢিমেতালে চলে ওই মামলার কার্যক্রম। দীর্ঘসময় পর ২৬ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত ওইসব প্লটের দখলদারদের অবৈধ ঘোষণা করেছে। আর ১৫ সেপ্টেম্বর রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেয়েছে এনএইচএ। এখন দখলদারদের উচ্ছেদ করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

তবুও ঢিমেতালে চলছে এনএইচএ’র ফাইল। কবে নাগাদ এ ফাইল আলোর মুখ দেখবে সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গৃহায়নের ভাষায় অবৈধ দখলদারদের দাবি তাদের জমি অধিগ্রহণ করে নিলে তাদের প্লট দিতে হবে। সেটা তারা মেনে নিতে পারেন না। গৃহায়নের ভাষ্যমতে, ষাটের দশকে অধিগ্রহণ করা এসব প্লটের দখলদারদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছে সরকার। দীর্ঘদিন ওইসব জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু না করায় ছিন্নমূল মানুষ বস্তিগড়ে বসবাস করত। ১৯৯৫ সালে এনএইচএ ডুইপ বাস্তবায়ন কাজ শুরু করলে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের লেন ৫-এর ২/এ রোডের ১/১ প্লটের অবৈধ দখলদার মো. সেলিম যুগান্তরকে বলেন, ‘সরকার তাদের জমি অধিগ্রহণ করলেও কোনো প্লট বরাদ্দ দেয়নি।

এ কারণে তিনি ওই প্লট দখল করে রেখেছেন। তার মতে, আমাদের জমি অধিগ্রহণ করে অন্যদের প্লট দেবে, আর আমরা কোনো প্লট পাব না, সেটা তো হতে পারে না। আমাদের প্লট বুঝিয়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত আমরা এসব প্লটের দখল ছাড়ব না।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি এ ব্যাপারে আপিল বিভাগের রায় এনএইচএ’র পক্ষে এসেছে। এটা জানার পর আমরা রিভিউ আবেদন করেছি। আশা করি এবার আমাদের পক্ষে রায় আসবে।’

বেদখল ২৯ প্লট : এ প্লটগুলো এনএইচএ’র ডুইপ প্রকল্পের মিরপুর সেকশন-১২ নম্বরের ডি ব্লকের। ওই ব্লকের প্রথম লেনের উত্তরাংশের ২/১ রোডের ১৭/১ প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন মো. সালাউদ্দিন, ১৭/৩ মো. ফজলুর রহমান, ১৭/৫ এজেডএম তৌফিক হাসান, ১৭/৬ মো. মাসুদুল হক, ১৭/৭ জুলেখা সুলতান, ১৭/৮ মো. জাকির হোসেন, প্রথম লেনের দক্ষিণাংশের ২৪ নম্বর রোডে বরাদ্দ পেয়েছেন, ১০/১ মো. ফিরোজ হোসাইন, ১০/২ জয়ন্ত কুমার নন্দী, ১০/৩ ওয়াজিউল আলম চৌধুরী, ১০/৪ মো. সাহাবুদ্দিন, লেন ২-এর ২ নম্বর সড়কে প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন, ৫/১ ফজলুল বাসিত খান মিল্কি, ৬/২ মো. শামীম শাহ নেওয়াজ খান, লেন-৪ এর ৫/২ নম্বর প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন মনোয়ারা বেগম, লেন ৪/এ লেনের ২/এ রোডে প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন- ৬/১ আবদুল মালেক মোল্লা, ৬/২ শামসুন্নাহার ফেরদৌস, ৬/৩ লুৎফুন নাহার, ৬/৪ এসএম মুরাদ হোসাইন, ৬/৫ এফএম আবদুর রহমান, ৬/৬ গোলাম কবির, ৬/৭ খান আশরাফ হোসাইন, ৬/৮ আফজাল হোসাইন, লেন ৫ এর ২/এ রোডে বরাদ্দ পেয়েছেন, ১/১ আশেক এলাহী, ১/২ মো. সোলাইমান, ১/৩ এনায়েত হোসাইন খান, ১/৪ মো. আবুল কালাম, ১/৫ নাফিসুল এইচ চৌধুরী, ১/৬ মো. ওসমান গনি।

টেবিলে টেবিলে ঘুরছেন প্লট গ্রহীতারা

২৫ বছর ধরে বেদখল গৃহায়নের ২৯ প্লট

দখলদারদের অবৈধ ঘোষণা করে আদালতের রায় * দখলদার উচ্ছেদে গৃহায়নের গড়িমসি * ২০ বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকার ভাড়া বাণিজ্য
 মতিন আব্দুল্লাহ 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২৫ বছর ধরে বেদখল জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২৯টি প্লট। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ‘ডি’ ব্লকে বরাদ্দকৃত প্লটগুলো গ্রাহকরা বুঝে পাচ্ছেন না। দখলদাররা প্রথমে মামলা পরে গায়ের জোরে ওইসব প্লট দখলে রেখেছে।

সম্প্রতি উচ্চ আদালত দখলদারদের অবৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন। এরপরও অবৈধদের উচ্ছেদে গড়িমসি করছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ)। প্লটের বরাদ্দপ্রাপ্তরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ২০০১ সাল থেকে জবরদখলকারীরা প্লটগুলোতে দোকান, বাসাবাড়ি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন। প্রতিটি প্লট থেকে মাসে গড়ে ২৫ হাজার টাকা করে ভাড়া তুলছে। এতে গত ২০ বছরে দখলদাররা প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা পকেটে তুলেছে।

অথচ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলো জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে এখনও পর্যন্ত প্লটের দখলও বুঝে পাচ্ছেন না। কবে নাগাদ পাবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আশপাশের প্লটের বরাদ্দপ্রাপ্তরা ৫ থেকে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। প্লটগুলো এনএইচএ থেকে দু’ভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। এককালীন এবং কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ। এককালীন ১ লাখ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা পরিশোধ করে প্লট পেয়েছে অনেকেই। যারা ২৫ বছর কিস্তিতে প্লট নিয়েছেন তারা মাসে ১৪৪৩ টাকা হিসেবে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯০০ টাকা পরিশোধ করেছেন।

কিস্তিতে প্লট গ্রহীতারা দখল না পেলেও যথানিয়মে কিস্তির টাকা পরিশোধ করছেন। তাদের কিস্তিও শেষ হতে চলেছে। এসব প্লটের বর্তমান মূল্য কোটি টাকার বেশি।

মিরপুর সেকশন-১২ লেন ৫-এর ২/এ রোডের ১/২ নম্বর প্লটের বরাদ্দ প্রাপক মো. সোলাইমান যুগান্তরকে বলেন, ‘বিগত ২৫ বছর ধরে এনএইচএ’র দফতরে ঘুরে ঘুরে আমরা হয়রান হয়ে গেছি। আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম, কিন্তু এসবের প্রতি তাদের তেমন গুরুত্ব ছিল না।

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনার পরও তারা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আমাদের প্লট বুঝিয়ে দিচ্ছে না।’ একই লেন ও রোডের ১/৬ নম্বর প্লটের এলটি অ্যাডভোকেট ওসমান গনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আইনগত কোনো সমস্যা না থাকলেও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ আমাদের প্লটের দখলদার উচ্ছেদে গড়িমসি করছে। বারবার কর্মকর্তাদের দফতরে গিয়ে অনুরোধ করলেও তারা এতে কর্ণপাত করছে না।’

এ প্রসঙ্গে এনএইচএ’র চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দার যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার ভালো জানা নেই। আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে মূল ঘটনা জানার চেষ্টা করব। ঘটনা সত্য হলে ওইসব প্লটের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ওই সব প্লটের বরাদ্দ প্রাপকরা একবার আমার কাছে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের প্লটগুলোর মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার জানা নেই। যদি নিষ্পত্তি হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের সেসব প্লট বুঝিয়ে দেয়া হবে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ২৩ অক্টোবর লটারির মাধ্যমে পৌনে দুই কাঠার ৬০০ প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এনএইচএ। এ প্রকল্পের নামকরণ করা হয়, ঢাকা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (ডুইপ)। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আবাসন সংকট মোকাবেলায় এ প্রকল্প নেয়া হয়।

বরাদ্দকৃত ৬০০ প্লট গ্রহীতার মধ্যে ৫৭১ জনকে তেমন কোনো বাধা ছাড়াই বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয় এনএইচএ। জটিলতা দেখা দেয় ২৯টি প্লটের ক্ষেত্রে। সেসব নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলে অবৈধ দখলদারদের সঙ্গে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০২ সালের ১৩ মার্চ এনএইচএ ওইসব প্লটের দখলদার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য বাজেটও বরাদ্দ করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি করার সুযোগে দখলদাররা কোর্টে মামলা ঠুকে দেয়। ঢিমেতালে চলে ওই মামলার কার্যক্রম। দীর্ঘসময় পর ২৬ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত ওইসব প্লটের দখলদারদের অবৈধ ঘোষণা করেছে। আর ১৫ সেপ্টেম্বর রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেয়েছে এনএইচএ। এখন দখলদারদের উচ্ছেদ করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

তবুও ঢিমেতালে চলছে এনএইচএ’র ফাইল। কবে নাগাদ এ ফাইল আলোর মুখ দেখবে সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গৃহায়নের ভাষায় অবৈধ দখলদারদের দাবি তাদের জমি অধিগ্রহণ করে নিলে তাদের প্লট দিতে হবে। সেটা তারা মেনে নিতে পারেন না। গৃহায়নের ভাষ্যমতে, ষাটের দশকে অধিগ্রহণ করা এসব প্লটের দখলদারদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছে সরকার। দীর্ঘদিন ওইসব জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু না করায় ছিন্নমূল মানুষ বস্তিগড়ে বসবাস করত। ১৯৯৫ সালে এনএইচএ ডুইপ বাস্তবায়ন কাজ শুরু করলে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের লেন ৫-এর ২/এ রোডের ১/১ প্লটের অবৈধ দখলদার মো. সেলিম যুগান্তরকে বলেন, ‘সরকার তাদের জমি অধিগ্রহণ করলেও কোনো প্লট বরাদ্দ দেয়নি।

এ কারণে তিনি ওই প্লট দখল করে রেখেছেন। তার মতে, আমাদের জমি অধিগ্রহণ করে অন্যদের প্লট দেবে, আর আমরা কোনো প্লট পাব না, সেটা তো হতে পারে না। আমাদের প্লট বুঝিয়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত আমরা এসব প্লটের দখল ছাড়ব না।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি এ ব্যাপারে আপিল বিভাগের রায় এনএইচএ’র পক্ষে এসেছে। এটা জানার পর আমরা রিভিউ আবেদন করেছি। আশা করি এবার আমাদের পক্ষে রায় আসবে।’

বেদখল ২৯ প্লট : এ প্লটগুলো এনএইচএ’র ডুইপ প্রকল্পের মিরপুর সেকশন-১২ নম্বরের ডি ব্লকের। ওই ব্লকের প্রথম লেনের উত্তরাংশের ২/১ রোডের ১৭/১ প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন মো. সালাউদ্দিন, ১৭/৩ মো. ফজলুর রহমান, ১৭/৫ এজেডএম তৌফিক হাসান, ১৭/৬ মো. মাসুদুল হক, ১৭/৭ জুলেখা সুলতান, ১৭/৮ মো. জাকির হোসেন, প্রথম লেনের দক্ষিণাংশের ২৪ নম্বর রোডে বরাদ্দ পেয়েছেন, ১০/১ মো. ফিরোজ হোসাইন, ১০/২ জয়ন্ত কুমার নন্দী, ১০/৩ ওয়াজিউল আলম চৌধুরী, ১০/৪ মো. সাহাবুদ্দিন, লেন ২-এর ২ নম্বর সড়কে প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন, ৫/১ ফজলুল বাসিত খান মিল্কি, ৬/২ মো. শামীম শাহ নেওয়াজ খান, লেন-৪ এর ৫/২ নম্বর প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন মনোয়ারা বেগম, লেন ৪/এ লেনের ২/এ রোডে প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন- ৬/১ আবদুল মালেক মোল্লা, ৬/২ শামসুন্নাহার ফেরদৌস, ৬/৩ লুৎফুন নাহার, ৬/৪ এসএম মুরাদ হোসাইন, ৬/৫ এফএম আবদুর রহমান, ৬/৬ গোলাম কবির, ৬/৭ খান আশরাফ হোসাইন, ৬/৮ আফজাল হোসাইন, লেন ৫ এর ২/এ রোডে বরাদ্দ পেয়েছেন, ১/১ আশেক এলাহী, ১/২ মো. সোলাইমান, ১/৩ এনায়েত হোসাইন খান, ১/৪ মো. আবুল কালাম, ১/৫ নাফিসুল এইচ চৌধুরী, ১/৬ মো. ওসমান গনি।