২৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আকরাম কমিটির সুপারিশ
jugantor
উপসচিবের (নন-ক্যাডার) পদ সংরক্ষণ
২৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আকরাম কমিটির সুপারিশ
সংরক্ষিত পদ ৯টি, প্রাপ্য পদ ৬২টি, পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা অর্ধশতাধিক

  বিএম জাহাঙ্গীর  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নন-ক্যাডার কোটায় আনুপাতিক হারে উপসচিব পদ সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ২৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসন ও সচিবালয় ক্যাডার একীভূতকরণের সময় ১৯৯২ সালে এসএম আকরাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২৬টি পদ সংরক্ষণের কথা ছিল।

কিন্তু করা হয় মাত্র ৯টি। পরবর্তী সময়ে উপসচিবের অনুমোদিত পদ বৃদ্ধি পাওয়ায় আনুপাতিক হারে পদ সংরক্ষণের কোটা বেড়ে হয়েছে ৬২টি। এ

কই সুপারিশ অনুযায়ী সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিবের সংরক্ষিত পদ বাড়িয়ে সংরক্ষণ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু হাত পড়েনি উপসচিব পদে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেউ নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে না চাইলেও নানা রকম যুক্তি-অজুহাতের কমতি ছিল না। তাদের সাফ কথা, ‘এ পদের জন্য নন-ক্যাডার সিনিয়র সচিবের বেশির ভাগ কর্মকর্তা ‘আনফিট’। ইদানীং যারা পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেণির পদে যোগ দিচ্ছেন, ভবিষ্যতে তাদের এ সুযোগ দেয়া যেতে পারে।’

এদিকে পদ সংরক্ষণে কোনো গড়িমসি আর মানতে চান না কর্মরত নন-ক্যাডার সিনিয়র সহকারী সচিবরা। যুগান্তরকে তাদের অনেকে জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে উপসচিব পদে তাদের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা যোগ্যতা অর্জন করবেন। ফলে তারা আশা করছেন, আগামী বছর নন-ক্যাডার কোটায় উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হবে।

কিন্তু আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত পদসংখ্যা না বাড়ালে বড় ধরনের ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা যাবে। বর্তমানে সংরক্ষিত ৯টি পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি অবস্থা তৈরি হবে। এভাবে পদোন্নতি হলে নির্ঘাত বেশির ভাগ কর্মকর্তা বাদ পড়বেন। কেননা ৯টি পদ ভাগ করে তো ৫০ জনকে দেয়া যাবে না। সঙ্গতকারণে তাদের সবার কাছে অনাগত এই সরল অঙ্ক এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

তাই চাকরিজীবনের এই শেষ পদোন্নতি থেকে তারা মোটেই বঞ্চিত হতে চান না। প্রতিকার পেতে তারা জনপ্রশাসন সচিবসহ নীতিনির্ধারক মহলের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্র জানায়, ২০১২ সালের পহেলা নভেম্বর ১৫৭ জনকে সহকারী সচিব পদোন্নতি দেয়া হয়। তাদের মধ্যে ৫৭ জন ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান। আইনগত জটিলতার কারণে ২০১২ সালের আগে ৬ বছর সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি বন্ধ ছিল।

প্রসঙ্গত, নন-ক্যাডার নিয়োগবিধি অনুযায়ী সহকারী সচিব পদে ৫ বছর কর্মরত থাকার পর সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জিত হয়। এছাড়া সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ৩ বছর কর্মরত থাকার পর উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ হিসেবে নন-ক্যাডার কোটায় কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিবরা উপসচিব পদে যোগ্যতা অর্জন করবেন ২৬ ডিসেম্বর। কিন্তু এখন আনুপাতিক হারে উপসচিবের পদ সংরক্ষণ করা না হলে সংকট ঘনীভূত হবে।

১৯৯২ সালের ১৬ মার্চ বিসিএস (প্রশাসন) ও বিসিএস (সচিবালয়) ক্যাডার একীভূতকরণ করা হয়। এ উদ্দেশ্যে গঠিত এসএম আকরাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সেসময় সচিবালয় ক্যাডারের ৭৩৭টি উপসচিব পদের বিপরীতে নন-ক্যাডারদের জন্য ২৬টি উপসচিব সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে পর্যায়ক্রমে এ পদ সংরক্ষণ করার কথা বলা হলেও কৌশলে প্রথমে ৯টি উপসচিব পদ সংরক্ষণ করা হয়। পরে নানা অজুহাতে কেউ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ফলে অদ্যাবধি ২৮ বছরেও নন-ক্যাডারদের জন্য উপসচিবের অবশিষ্ট ১৭টি পদ সংরক্ষণ করা হয়নি। ইতোমধ্যে সুপারনিউমারারি পদ ছাড়াই উপসচিবের অনুমোদিত পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫০টি। এর ন্যায্য হিস্যা হিসাবে আনুপাতিক হারে এখন মোট ৬২টি উপসচিব পদ সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু আগের প্রাপ্যতাই যেখানে পূরণ করা হয়নি, সেখানে নতুন প্রাপ্যতা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

এর ফলে কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিবরা ডিসেম্বরে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও প্রাপ্য সংরক্ষিত পদ না থাকার কারণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, আকরাম কমিটির সুপারিশ মোতাবেক নন-ক্যাডার কোটায় সহকারী সচিবের পদ ৭৩টি থেকে বৃদ্ধি করে ২৬৭টি পদ সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র সহকারী সচিবের পদ ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৭২টি করা হয়। কিন্তু এ ধারাবাহিকতায় উপসচিব পদ বাড়ানো হয়নি।

জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করে বাংলাদেশ সচিবালয় সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব (এক্স-ক্যাডার) কল্যাণ ফোরামের পক্ষ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন সচিবের কাছে এ বিষয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পেশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সচিব। এখন আনুপাতিক হারে পদ সংরক্ষণ করা হবে কি না, সেটি দেখার বিষয়।

উপসচিবের (নন-ক্যাডার) পদ সংরক্ষণ

২৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আকরাম কমিটির সুপারিশ

সংরক্ষিত পদ ৯টি, প্রাপ্য পদ ৬২টি, পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা অর্ধশতাধিক
 বিএম জাহাঙ্গীর 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নন-ক্যাডার কোটায় আনুপাতিক হারে উপসচিব পদ সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ২৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসন ও সচিবালয় ক্যাডার একীভূতকরণের সময় ১৯৯২ সালে এসএম আকরাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২৬টি পদ সংরক্ষণের কথা ছিল।

কিন্তু করা হয় মাত্র ৯টি। পরবর্তী সময়ে উপসচিবের অনুমোদিত পদ বৃদ্ধি পাওয়ায় আনুপাতিক হারে পদ সংরক্ষণের কোটা বেড়ে হয়েছে ৬২টি। এ

কই সুপারিশ অনুযায়ী সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিবের সংরক্ষিত পদ বাড়িয়ে সংরক্ষণ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু হাত পড়েনি উপসচিব পদে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেউ নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে না চাইলেও নানা রকম যুক্তি-অজুহাতের কমতি ছিল না। তাদের সাফ কথা, ‘এ পদের জন্য নন-ক্যাডার সিনিয়র সচিবের বেশির ভাগ কর্মকর্তা ‘আনফিট’। ইদানীং যারা পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেণির পদে যোগ দিচ্ছেন, ভবিষ্যতে তাদের এ সুযোগ দেয়া যেতে পারে।’

এদিকে পদ সংরক্ষণে কোনো গড়িমসি আর মানতে চান না কর্মরত নন-ক্যাডার সিনিয়র সহকারী সচিবরা। যুগান্তরকে তাদের অনেকে জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে উপসচিব পদে তাদের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা যোগ্যতা অর্জন করবেন। ফলে তারা আশা করছেন, আগামী বছর নন-ক্যাডার কোটায় উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হবে।

কিন্তু আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত পদসংখ্যা না বাড়ালে বড় ধরনের ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা যাবে। বর্তমানে সংরক্ষিত ৯টি পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি অবস্থা তৈরি হবে। এভাবে পদোন্নতি হলে নির্ঘাত বেশির ভাগ কর্মকর্তা বাদ পড়বেন। কেননা ৯টি পদ ভাগ করে তো ৫০ জনকে দেয়া যাবে না। সঙ্গতকারণে তাদের সবার কাছে অনাগত এই সরল অঙ্ক এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

তাই চাকরিজীবনের এই শেষ পদোন্নতি থেকে তারা মোটেই বঞ্চিত হতে চান না। প্রতিকার পেতে তারা জনপ্রশাসন সচিবসহ নীতিনির্ধারক মহলের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্র জানায়, ২০১২ সালের পহেলা নভেম্বর ১৫৭ জনকে সহকারী সচিব পদোন্নতি দেয়া হয়। তাদের মধ্যে ৫৭ জন ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান। আইনগত জটিলতার কারণে ২০১২ সালের আগে ৬ বছর সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি বন্ধ ছিল।

প্রসঙ্গত, নন-ক্যাডার নিয়োগবিধি অনুযায়ী সহকারী সচিব পদে ৫ বছর কর্মরত থাকার পর সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জিত হয়। এছাড়া সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ৩ বছর কর্মরত থাকার পর উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ হিসেবে নন-ক্যাডার কোটায় কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিবরা উপসচিব পদে যোগ্যতা অর্জন করবেন ২৬ ডিসেম্বর। কিন্তু এখন আনুপাতিক হারে উপসচিবের পদ সংরক্ষণ করা না হলে সংকট ঘনীভূত হবে।

১৯৯২ সালের ১৬ মার্চ বিসিএস (প্রশাসন) ও বিসিএস (সচিবালয়) ক্যাডার একীভূতকরণ করা হয়। এ উদ্দেশ্যে গঠিত এসএম আকরাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সেসময় সচিবালয় ক্যাডারের ৭৩৭টি উপসচিব পদের বিপরীতে নন-ক্যাডারদের জন্য ২৬টি উপসচিব সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে পর্যায়ক্রমে এ পদ সংরক্ষণ করার কথা বলা হলেও কৌশলে প্রথমে ৯টি উপসচিব পদ সংরক্ষণ করা হয়। পরে নানা অজুহাতে কেউ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ফলে অদ্যাবধি ২৮ বছরেও নন-ক্যাডারদের জন্য উপসচিবের অবশিষ্ট ১৭টি পদ সংরক্ষণ করা হয়নি। ইতোমধ্যে সুপারনিউমারারি পদ ছাড়াই উপসচিবের অনুমোদিত পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫০টি। এর ন্যায্য হিস্যা হিসাবে আনুপাতিক হারে এখন মোট ৬২টি উপসচিব পদ সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু আগের প্রাপ্যতাই যেখানে পূরণ করা হয়নি, সেখানে নতুন প্রাপ্যতা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

এর ফলে কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিবরা ডিসেম্বরে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও প্রাপ্য সংরক্ষিত পদ না থাকার কারণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, আকরাম কমিটির সুপারিশ মোতাবেক নন-ক্যাডার কোটায় সহকারী সচিবের পদ ৭৩টি থেকে বৃদ্ধি করে ২৬৭টি পদ সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র সহকারী সচিবের পদ ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৭২টি করা হয়। কিন্তু এ ধারাবাহিকতায় উপসচিব পদ বাড়ানো হয়নি।

জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করে বাংলাদেশ সচিবালয় সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব (এক্স-ক্যাডার) কল্যাণ ফোরামের পক্ষ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন সচিবের কাছে এ বিষয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পেশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সচিব। এখন আনুপাতিক হারে পদ সংরক্ষণ করা হবে কি না, সেটি দেখার বিষয়।