ইরফান ও দেহরক্ষী জাহিদ তিন দিনের রিমান্ডে
jugantor
নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর
ইরফান ও দেহরক্ষী জাহিদ তিন দিনের রিমান্ডে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মো. জাহিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর এ আদেশ দেন। ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (সাময়িক বরখাস্ত)। এদিন এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো ও রিমান্ড শুনানির জন্য আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সকালে আসামিদের কারাগার থেকে এনে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে আসামিদের আদালতে তোলার ২০ মিনিট পর শুনানি শুরু হয়। শুরুতেই তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় ইরফান সেলিম ও জাহিদকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর শুরু হয় রিমান্ড শুনানি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু, হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ ও আজাদ রহমান। রিমান্ড শুনানিতে আবদুল্লাহ আবু বলেন, আসামিরা (ইরফান ও জাহিদ) মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ইরফান সেলিমকে বহনকারী জিপ গাড়িটি নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমদ খানের বাইককে ধাক্কা দেয়। বাইকে ধাক্কা লাগার কারণ জানতে ওয়াসিফ আহমদ খান আসামির গাড়ির গ্লাসে নক করেন। আর এ নকের জন্যই তাকে মারধর করা হয়। একজন নিরীহ ব্যক্তিকে কেন এভাবে মারধর করা হল এবং এর সঙ্গে আর কে কে জড়িত, তাদের নাম-ঠিকানা বের করা ও গ্রেফতারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, তিনি (ওয়াসিফ আহমদ খান) ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলেন। অফিশিয়াল কোনো কাজে যাননি। ফলে মামলার এজাহারে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে যে ধারাটা যোগ করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। আর মামলার এজাহারে কোথাও সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই যে, ইরফান সেলিম তাকে মেরেছেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট করে আসামিদের নাম-ঠিকানা দিয়ে মামলা করা হয়েছে। আর কি নাম-ঠিকানা উদ্ধারের বাকি আছে যে, আসামিকে রিমান্ডে নিতে হবে। আসামির জামিন চাচ্ছি না। শুধু আসামির রিমান্ড বাতিল চাচ্ছি। এখানে রিমান্ডে নেয়ার মতো কোনো বিষয়ই নেই। প্রত্যুত্তরে রাষ্ট্রপক্ষে আবদুল্লাহ আবু বলেন, কেন মারধরের ঘটনা ঘটল, আসামিদের রিমান্ডে নিলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিরাও রয়েছে। তাদের বিষয়েও তথ্য পাওয়া যাবে। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আশফাক রাজীব হাসান আদালতের কাছে আসামিদের রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের রিমান্ডের ওই আদেশ দেন। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়।

ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মো. জাহিদের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়: আসামিরা (ইরফান ও জাহিদ) এ মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় আসামিদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের সঙ্গীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের জন্য রিমান্ডে নেয়া একান্ত প্রয়োজন।

এদিকে এক দিনের রিমান্ড শেষে এদিন এ মামলার অপর আসামি হাজী সেলিমের গাড়িচালক মো. মিজানুর রহমান খানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই আদালত আসামি মিজানুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) মিজানুরের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এ ছাড়া মামলার আরেক আসামি ইরফান সেলিমের সহযোগী এবি সিদ্দিক দিপুকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। বর্তমানে দিপু রিমান্ডে আছেন। ইরফান সেলিমসহ এ নিয়ে মামলায় চার আসামিকে গ্রেফতার করা হল।

সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি হাজী মহসীনে কর্মরত লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, এবি সিদ্দিক দিপু, মো. জাহিদ ও মো. মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়: রোববার (২৫ অক্টোবর) নীলক্ষেত থেকে বই কিনে স্ত্রীসহ ওয়াসিফ আহমদ খান ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি হাজী মহসীনে ফিরছিলেন। পথে ধানমণ্ডি ল্যাবএইড হাসপাতাল সংলগ্ন প্রধান সড়কের ওপর ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৫৭৩৬ গাড়িটি ওয়াসিফ আহমেদ খানের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তাৎক্ষণিক ওই গাড়িটি থেকে একজন নেমে এলে ওয়াসিফ আহমেদ খান ওই লোকটিকে নিজের পরিচয় দেন। এরপর লোকটি ওয়াসিফ আহমেদ খান ও তার স্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিয়ে দ্রুত গাড়িতে চড়ে স্থান ত্যাগ করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে রাত পৌনে ৮টার দিকে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড সিগনালে ওই গাড়িটি দাঁড়ালে ওয়াসিফ আহমেদ খান গাড়িটির বাম পাশে গিয়ে মোটারসাইকেল থামান এবং ওই গাড়ির জানালায় নক করেন। এরপর ওই গাড়ির সব আরোহী নেমে এলে ওয়াসিফ আহমেদ খান পুনরায় তার পরিচয় তাদের বলেন। জবাবে গাড়ির আরোহীরা বলেন: ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি, তোকে এখনই মেরে ফেলব।’ এরপর গাড়ির আরোহীরা ওয়াসিফ আহমেদ খানের পথরোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুষি এবং লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দিয়ে অনবরত আঘাত করে রক্তাক্ত করে। একই সময় তার স্ত্রী তাকে রক্ষা করতে গেলে স্ত্রীকেও তারা ধাক্কা দেয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ওয়াসিফ আহমেদ খান রক্তাক্ত ও আহত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় সাধারণ জনগণ ও পাশের সিগনালে ডিউটিরত পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এবং ড্রাইভারসহ গাড়িটিকে আটক করে। এ সময় সাধারণ জনগণ মোবাইল ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও করতে থাকে।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাজধানীর চকবাজারে হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানকালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে এক বছর কারাদণ্ড দেন। আর অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। দুই মামলায় মোট দেড় বছরের সাজা দেয়া হয় তাকে। ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে ছয় মাসের সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই অভিযানে অস্ত্র, ইয়াবা, বিদেশি মদ, ৩৮টি ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি করে মোট চারটি মামলা হয়েছে। বুধবার মামলাগুলোর এজাহার এলে পৃথক দুই আদালত তা দেখেছেন। ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই অস্ত্র মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আর ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মাদক মামলায় আগামী ৩ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর

ইরফান ও দেহরক্ষী জাহিদ তিন দিনের রিমান্ডে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মো. জাহিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর এ আদেশ দেন। ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (সাময়িক বরখাস্ত)। এদিন এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো ও রিমান্ড শুনানির জন্য আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সকালে আসামিদের কারাগার থেকে এনে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে আসামিদের আদালতে তোলার ২০ মিনিট পর শুনানি শুরু হয়। শুরুতেই তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় ইরফান সেলিম ও জাহিদকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর শুরু হয় রিমান্ড শুনানি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু, হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ ও আজাদ রহমান। রিমান্ড শুনানিতে আবদুল্লাহ আবু বলেন, আসামিরা (ইরফান ও জাহিদ) মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ইরফান সেলিমকে বহনকারী জিপ গাড়িটি নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমদ খানের বাইককে ধাক্কা দেয়। বাইকে ধাক্কা লাগার কারণ জানতে ওয়াসিফ আহমদ খান আসামির গাড়ির গ্লাসে নক করেন। আর এ নকের জন্যই তাকে মারধর করা হয়। একজন নিরীহ ব্যক্তিকে কেন এভাবে মারধর করা হল এবং এর সঙ্গে আর কে কে জড়িত, তাদের নাম-ঠিকানা বের করা ও গ্রেফতারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, তিনি (ওয়াসিফ আহমদ খান) ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলেন। অফিশিয়াল কোনো কাজে যাননি। ফলে মামলার এজাহারে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে যে ধারাটা যোগ করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। আর মামলার এজাহারে কোথাও সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই যে, ইরফান সেলিম তাকে মেরেছেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট করে আসামিদের নাম-ঠিকানা দিয়ে মামলা করা হয়েছে। আর কি নাম-ঠিকানা উদ্ধারের বাকি আছে যে, আসামিকে রিমান্ডে নিতে হবে। আসামির জামিন চাচ্ছি না। শুধু আসামির রিমান্ড বাতিল চাচ্ছি। এখানে রিমান্ডে নেয়ার মতো কোনো বিষয়ই নেই। প্রত্যুত্তরে রাষ্ট্রপক্ষে আবদুল্লাহ আবু বলেন, কেন মারধরের ঘটনা ঘটল, আসামিদের রিমান্ডে নিলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিরাও রয়েছে। তাদের বিষয়েও তথ্য পাওয়া যাবে। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আশফাক রাজীব হাসান আদালতের কাছে আসামিদের রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের রিমান্ডের ওই আদেশ দেন। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়।

ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মো. জাহিদের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়: আসামিরা (ইরফান ও জাহিদ) এ মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় আসামিদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের সঙ্গীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের জন্য রিমান্ডে নেয়া একান্ত প্রয়োজন।

এদিকে এক দিনের রিমান্ড শেষে এদিন এ মামলার অপর আসামি হাজী সেলিমের গাড়িচালক মো. মিজানুর রহমান খানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই আদালত আসামি মিজানুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) মিজানুরের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এ ছাড়া মামলার আরেক আসামি ইরফান সেলিমের সহযোগী এবি সিদ্দিক দিপুকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। বর্তমানে দিপু রিমান্ডে আছেন। ইরফান সেলিমসহ এ নিয়ে মামলায় চার আসামিকে গ্রেফতার করা হল।

সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি হাজী মহসীনে কর্মরত লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, এবি সিদ্দিক দিপু, মো. জাহিদ ও মো. মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়: রোববার (২৫ অক্টোবর) নীলক্ষেত থেকে বই কিনে স্ত্রীসহ ওয়াসিফ আহমদ খান ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি হাজী মহসীনে ফিরছিলেন। পথে ধানমণ্ডি ল্যাবএইড হাসপাতাল সংলগ্ন প্রধান সড়কের ওপর ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৫৭৩৬ গাড়িটি ওয়াসিফ আহমেদ খানের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তাৎক্ষণিক ওই গাড়িটি থেকে একজন নেমে এলে ওয়াসিফ আহমেদ খান ওই লোকটিকে নিজের পরিচয় দেন। এরপর লোকটি ওয়াসিফ আহমেদ খান ও তার স্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিয়ে দ্রুত গাড়িতে চড়ে স্থান ত্যাগ করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে রাত পৌনে ৮টার দিকে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড সিগনালে ওই গাড়িটি দাঁড়ালে ওয়াসিফ আহমেদ খান গাড়িটির বাম পাশে গিয়ে মোটারসাইকেল থামান এবং ওই গাড়ির জানালায় নক করেন। এরপর ওই গাড়ির সব আরোহী নেমে এলে ওয়াসিফ আহমেদ খান পুনরায় তার পরিচয় তাদের বলেন। জবাবে গাড়ির আরোহীরা বলেন: ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি, তোকে এখনই মেরে ফেলব।’ এরপর গাড়ির আরোহীরা ওয়াসিফ আহমেদ খানের পথরোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুষি এবং লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দিয়ে অনবরত আঘাত করে রক্তাক্ত করে। একই সময় তার স্ত্রী তাকে রক্ষা করতে গেলে স্ত্রীকেও তারা ধাক্কা দেয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ওয়াসিফ আহমেদ খান রক্তাক্ত ও আহত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় সাধারণ জনগণ ও পাশের সিগনালে ডিউটিরত পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এবং ড্রাইভারসহ গাড়িটিকে আটক করে। এ সময় সাধারণ জনগণ মোবাইল ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও করতে থাকে।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাজধানীর চকবাজারে হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানকালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে এক বছর কারাদণ্ড দেন। আর অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। দুই মামলায় মোট দেড় বছরের সাজা দেয়া হয় তাকে। ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে ছয় মাসের সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই অভিযানে অস্ত্র, ইয়াবা, বিদেশি মদ, ৩৮টি ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি করে মোট চারটি মামলা হয়েছে। বুধবার মামলাগুলোর এজাহার এলে পৃথক দুই আদালত তা দেখেছেন। ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই অস্ত্র মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আর ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মাদক মামলায় আগামী ৩ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।