অনুসন্ধান শুরু দুর্নীতি দমন কমিশনের
jugantor
হাজী সেলিম পরিবারের অবৈধ সম্পদ
অনুসন্ধান শুরু দুর্নীতি দমন কমিশনের

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিমসহ পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিমের অবৈধ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব দুদক আইনের তফসিলভুক্ত হলে তা নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ সময় অবৈধ সম্পদের মামলা করেছিল দুদক। ওই মামলায় বিশেষ জজ আদালত হাজী সেলিমকে ১৩ বছরের সাজা দেন। এছাড়া ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

পরবর্তী সময়ে হাজী সেলিম ওই সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে বিশেষ জজ আদালতের সাজা থেকে খালাস পান তিনি। দুদক ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করে।

দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বুধবার যুগান্তরকে জানান, হাইকোর্ট হাজী সেলিমের দুর্নীতির মামলাটি হাইকোর্টে ‘রিমান্ড’-এ (পুনঃশুনানি) পাঠান।

এ পর্যায়ে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, হাইকোর্টে আমরা শুনানির সময় হাজী সেলিমকে বিশেষ আদালতের সাজা প্রদানের যৌক্তিকতা তুলে ধরব।

এদিকে দুদক সূত্রে জানা গেছে, হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিম নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের কত টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তারা হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন কি না বা কত সম্পদের তথ্য দিয়েছেন, তা সংগ্রহ করা হবে।

দেখা হবে হাজী সেলিম ২০১৪ সালে নির্বাচনে কত সম্পদের তথ্য দিয়েছেন এবং ২০১৮ সালে সেই সম্পদ কত পরিমাণ বেড়েছে, তা-ও যাচাই করা হবে।

এছাড়া ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডে ব্যক্তিমালিকানা সম্পত্তি জোর করে দখর করে মদিনা গ্রুপের প্রধান কার্যালয় তৈরিরও একটি অভিযোগ দুদকের কাছে এসেছে বলে জানা যায়।

ওই বাড়ি ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি আরও কোন কোন জমি হাজী সেলিমের দখলে রয়েছে, সে বিষয়ে দুদকের গোয়েন্দা টিম তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।

দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, হাজী সেলিম এবং তার ছেলে ইরফান সেলিমের ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশিত হতে দেখেছি।

আমরা লক্ষ করছি, বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত। তবে অবৈধ সম্পদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। আমরা সেটি খতিয়ে দেখছি।

তিনি বলেন, তাদের অবৈধ সম্পদের বিষয়গুলো যদি দুদকের সিডিউলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় এবং সিডিউলভুক্ত অপরাধের শামিল হয়, তাহলে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। দুদকের আইনে পরে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমিশনার মোজাম্মেল হক খান আরও বলেন, সরকারের জায়গা বা সম্পত্তি হোক, যদি দখল হয় তাহলে দুদক আইনের আওতাভুক্ত হলে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাজী সেলিম পরিবারের অবৈধ সম্পদ

অনুসন্ধান শুরু দুর্নীতি দমন কমিশনের

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিমসহ পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিমের অবৈধ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব দুদক আইনের তফসিলভুক্ত হলে তা নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ সময় অবৈধ সম্পদের মামলা করেছিল দুদক। ওই মামলায় বিশেষ জজ আদালত হাজী সেলিমকে ১৩ বছরের সাজা দেন। এছাড়া ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

পরবর্তী সময়ে হাজী সেলিম ওই সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে বিশেষ জজ আদালতের সাজা থেকে খালাস পান তিনি। দুদক ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করে। 

দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বুধবার যুগান্তরকে জানান, হাইকোর্ট হাজী সেলিমের দুর্নীতির মামলাটি হাইকোর্টে ‘রিমান্ড’-এ (পুনঃশুনানি) পাঠান।

এ পর্যায়ে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, হাইকোর্টে আমরা শুনানির সময় হাজী সেলিমকে বিশেষ আদালতের সাজা প্রদানের যৌক্তিকতা তুলে ধরব।

এদিকে দুদক সূত্রে জানা গেছে, হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিম নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের কত টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তারা হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন কি না বা কত সম্পদের তথ্য দিয়েছেন, তা সংগ্রহ করা হবে।

দেখা হবে হাজী সেলিম ২০১৪ সালে নির্বাচনে কত সম্পদের তথ্য দিয়েছেন এবং ২০১৮ সালে সেই সম্পদ কত পরিমাণ বেড়েছে, তা-ও যাচাই করা হবে। 

এছাড়া ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডে ব্যক্তিমালিকানা সম্পত্তি জোর করে দখর করে মদিনা গ্রুপের প্রধান কার্যালয় তৈরিরও একটি অভিযোগ দুদকের কাছে এসেছে বলে জানা যায়।

ওই বাড়ি ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি আরও কোন কোন জমি হাজী সেলিমের দখলে রয়েছে, সে বিষয়ে দুদকের গোয়েন্দা টিম তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। 

দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, হাজী সেলিম এবং তার ছেলে ইরফান সেলিমের ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশিত হতে দেখেছি।

আমরা লক্ষ করছি, বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত। তবে অবৈধ সম্পদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। আমরা সেটি খতিয়ে দেখছি। 

তিনি বলেন, তাদের অবৈধ সম্পদের বিষয়গুলো যদি দুদকের সিডিউলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় এবং সিডিউলভুক্ত অপরাধের শামিল হয়, তাহলে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। দুদকের আইনে পরে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমিশনার মোজাম্মেল হক খান আরও বলেন, সরকারের জায়গা বা সম্পত্তি হোক, যদি দখল হয় তাহলে দুদক আইনের আওতাভুক্ত হলে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।