দুটি বহুতল ভবনের ট্যাক্স দেয় না মদিনা গ্রুপ
jugantor
ডিএসসিসিকে তোয়াক্কা করেন না হাজী সেলিম 
দুটি বহুতল ভবনের ট্যাক্স দেয় না মদিনা গ্রুপ

  মতিন আব্দুল্লাহ      

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা গ্রুপের ঢাকাস্থ দুটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছে না। ভবন দুটি হচ্ছে চকবাজারে মদিনা আশিক টাওয়ার ও সেন্ট্রাল রোডের মদিনা স্কয়ার।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে বারবার তাগাদা দিলেও তাতে কোনো সাড়া দিচ্ছে না মদিনা গ্রুপ। এ দুটি বাণিজ্যিক ভবনের কাছে ডিএসসিসির পাওনা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ার কারণে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা ওই দুটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন মালিককে ট্যাক্স আদায়ে বাধ্য করার পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রয়েছেন।

এক্ষেত্রে মামলা করার বিধান থাকলেও ডিএসসিসি কর্মকর্তারা চাকরি হারানোর ভয়ে নীরব রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করলে হয়তো তাদেরই চাকরি থাকবে না।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা চকবাজার মদিনা আশিক টাওয়ারে ট্যাক্স নির্ধারণের চেষ্টা করছি। কিন্তু মদিনা গ্রুপ কোনো সহযোগিতা করছে না। আর সেন্ট্রাল রোডের মদিনা স্কয়ারের ফাইল এ মুহূর্তে আমার কাছে নেই। এ কারণে ওই ভবনের ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মদিনা গ্রুপের ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার সাধন বাবু যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা ট্যাক্স পরিশোধ করেছি। ডিএসসিসির অভিযোগ সঠিক নয়।’

এ বিষয়ে ডিএসসিসির চিঠিপত্রের তথ্য এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য তুলে ধরলে তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার তার ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরান ঢাকার চকবাজারস্থ ১৮ তলাবিশিষ্ট মদিনা আশিক টাওয়ার গড়ে তুলেছে মদিনা গ্রুপ। ডিএসসিসির তথ্যমতে, ওই বহুতলা বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে।

আর ২০১৭ সালের শুরু থেকেই ওই বাণিজ্যিক ভবনটি চালু করেছে মদিনা গ্রুপ। প্রথমদিকে ওই ভবনে ট্যাক্সের চিঠি পাঠাতে সাহস করেনি ডিএসসিসির কর্মকর্তারা।

২০১৯ সালের শুরুতে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা সাহস করে একটি চিঠি দেন। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া দেয়নি মদিনা গ্রুপ। এরপর কয়েক দফা চিঠি দিলেও কোনো সাড়া দেয়নি।

সরকারি চিঠিকে আমলে না নেয়া এবং রাজস্ব আদায়ে অসহযোগিতা করার অপরাধে আইন অনুযায়ী ডিএসসিসি মামলা করতে পারে। কিন্তু ডিএসসিসির কর্মকর্তারা সে সাহস দেখায়নি।

তারা আরও জানান, যে কোনো নতুন ভবন বা ফ্ল্যাটের মালিকানা চিহ্নিত করে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। সে কারণে শুরুতেই মদিনা গ্রুপের ওই ভবনের তথ্য-উপাত্ত, জমির মালিকানা সংক্রান্ত দলিলপত্র চাওয়া হয়।

কিন্তু ডিএসসিসির চিঠির কোনো জবাবই দেয়নি তারা। তবে ডিএসসিসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ওই ভবনের আশপাশ পরিদর্শন করে ভবনের আয়তন সম্পর্কে একটি ধারণা পেয়েছে।

সে অনুযায়ী ওই ভবনের প্রতি ফ্লোরের আয়তন হবে অন্তত ১১ হাজার বর্গফুট। এ হিসেবে দুটি বেইজমেন্ট ও ১৬ তলা ভবনের মোট আয়তন ১ লাখ ৯৮ হাজার বর্গফুট।

চকবাজার এলাকার প্রতি বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেসের বার্ষিক ট্যাক্স ১২ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী মদিনা আশিক টাওয়ারের বার্ষিক ট্যাক্স দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

গত ৪ বছরে ট্যাক্স হয়েছে ৯৫ লাখ ৪ হাজার টাকা। মদিনা গ্রুপের পক্ষ থেকে ট্যাক্স পরিশোধ তো দূরের কথা, ডিএসসিসির চিঠিকে পাত্তাই দিচ্ছে না।

এ ভবনটি অনেকগুলো হোল্ডিংয়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। এক অংশের ঠিকানা ২১-৩০ চক সার্কুলার রোড। আরেক অংশের ঠিকানা ১০৩ বীরেন রোড।

ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা জানান, আমরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি মদিনা আশিক টাওয়ারের জমির মালিক ৮-১০ জন। জোরপূর্বক ওই জমিতে মদিনা গ্রুপ ভবন গড়ে তুলেছে।

ওই জায়গার মালিকদের সঙ্গে তাদের মালিকানার সমঝোতা হয়নি। সে কারণে ওই ভবনের মালিকানা নির্ধারণ করে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ট্যাক্স নির্ধারণ করাও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করবে।

আমরা মদিনা গ্রুপের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনোভাবেই সহযোগিতা করছে। বিষয়টি আমরা মেয়র মহোদয়কে জানাব, উনার সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা এলাকার বাসিন্দা সেহজাদ যুগান্তরকে বলেন, মদিনা আশিক টাওয়ার যেখানে হয়েছে সেখানে আমাদের ৬৫০ বর্গফুটের একটি দোকান ছিল।

কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই ওই দোকান ভেঙে আশপাশের আরও জায়গাসহ বহুতলা ভবন বা মদিনা আশিক টাওয়ার গড়ে তুলেছে মদিনা গ্রুপ। মৌখিকভাবে আমাদের দোকান দেয়ার কথা বললেও এখনও দোকান বুঝিয়ে দেয়নি।

মদিনা আশিক টাওয়ারে এমন আরও অনেক লোকের জমি রয়েছে। যারা মদিনা গ্রুপের দখল ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মদিনা গ্রুপের কর্পোরেট অফিস ৬৪/এ সেন্ট্রাল রোড। ওই ভবনের নাম রাখা হয়েছে ‘মদিনা স্কয়ার’। ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের শুরু থেকেই ওই ভবনটি ব্যবহার করছে মদিনা গ্রুপ।

প্রথমদিকে ডিএসসিসি সাহস করে চিঠি না দিলেও চলতি বছরের ২১ মার্চ প্রথম চিঠি দেয় মদিনা স্কয়ার ভবনের কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া মেলেনি। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৮ জুন চিঠি দেয়, এবারও কোনো সাড়া দেয়নি মদিনা গ্রুপ।

তৃতীয় দফায় ২২ আগস্ট চিঠি দিয়েছে ডিএসসিসি। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া দেয়নি তারা। এরপর নতুন করে আর কোনো চিঠিও দেয়নি তারা। ওই ভবনে যেতেও সাহস পাচ্ছেন না ডিএসসিসির রাজস্ব কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিএসসিসির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনির চৌধুরী সড়ক, সেন্ট্রাল রোড, ঢাকা-১২০৫-এ অবস্থিত মদিনা গ্রুপের কর্পোরেট অফিস বা মদিনা স্কয়ার ভবন।

৬৪/এ ওই হোল্ডিংয়ের তথ্য-উপাত্ত চেয়ে তারা আবেদন করলেও মদিনা গ্রুপ কোনো তথ্য দেয়নি। এ কারণে ওই ভবনেরও সঠিক কোনো হিসাব ডিএসসিসির কাছে নেই।

তবে ডিএসসিসির মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব কর্মকর্তারা ওই ভবনের আশপাশের এলাকা ঘুরে জানতে পেরেছেন, ওই ভবনের প্রতি ফ্লোরের আয়তন হবে ন্যূনতম ১০ হাজার বর্গফুট।

নকশা অনুমোদনের হিসাব অনুযায়ী, ওই ভবনের ১ তলা বেইজমেন্টসহ ৯ তলাবিশিষ্ট এ ভবনের পঞ্চম তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক দেখানো হয়েছে। আর ষষ্ঠতলা থেকে ৯ তলা পর্যন্ত আবাসিক দেখানো হয়েছে।

এ হিসাব ধরলে প্রথম পাঁচতলার মোট আয়তন ৫৭ হাজার ৫০০ বর্গফুট। ডিএসসিসির ওই এলাকার বাণিজ্যিক ট্যাক্স ১৫ টাকা ৫০ পয়সা। সে হিসাবে এ অংশের বার্ষিক ট্যাক্স দাঁড়ায় প্রায় ৯ লাখ টাকা।

গত ৩ বছরে ডিএসসিসি পাওনা হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। আর ষষ্ঠতলা থেকে ৯ তলা পর্যন্ত আবাসিক অংশের মোট আয়তন দাঁড়ায় ৪৬ হাজার বর্গফুট।

ডিএসসিসির ওই এলাকার আবাসিকের বর্গফুট প্রতি বার্ষিক ট্যাক্স ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। সে হিসাবে এ অংশের বার্ষিক ট্যাক্স দাঁড়ায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

গত ৩ বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ লাখ টাকা। গত তিন বছরে ডিএসসিসি এ ভবন বাবদ মদিনা গ্রুপের কাছে ট্যাক্স পাওনা হয়েছে মোট ৪৭ লাখ টাকা।

ডিএসসিসিকে তোয়াক্কা করেন না হাজী সেলিম 

দুটি বহুতল ভবনের ট্যাক্স দেয় না মদিনা গ্রুপ

 মতিন আব্দুল্লাহ     
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা গ্রুপের ঢাকাস্থ দুটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছে না। ভবন দুটি হচ্ছে চকবাজারে মদিনা আশিক টাওয়ার ও সেন্ট্রাল রোডের মদিনা স্কয়ার।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে বারবার তাগাদা দিলেও তাতে কোনো সাড়া দিচ্ছে না মদিনা গ্রুপ। এ দুটি বাণিজ্যিক ভবনের কাছে ডিএসসিসির পাওনা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ার কারণে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা ওই দুটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন মালিককে ট্যাক্স আদায়ে বাধ্য করার পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রয়েছেন।

এক্ষেত্রে মামলা করার বিধান থাকলেও ডিএসসিসি কর্মকর্তারা চাকরি হারানোর ভয়ে নীরব রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করলে হয়তো তাদেরই চাকরি থাকবে না। 

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা চকবাজার মদিনা আশিক টাওয়ারে ট্যাক্স নির্ধারণের চেষ্টা করছি। কিন্তু মদিনা গ্রুপ কোনো সহযোগিতা করছে না। আর সেন্ট্রাল রোডের মদিনা স্কয়ারের ফাইল এ মুহূর্তে আমার কাছে নেই। এ কারণে ওই ভবনের ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মদিনা গ্রুপের ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার সাধন বাবু যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা ট্যাক্স পরিশোধ করেছি। ডিএসসিসির অভিযোগ সঠিক নয়।’

এ বিষয়ে ডিএসসিসির চিঠিপত্রের তথ্য এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য তুলে ধরলে তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার তার ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরান ঢাকার চকবাজারস্থ ১৮ তলাবিশিষ্ট মদিনা আশিক টাওয়ার গড়ে তুলেছে মদিনা গ্রুপ। ডিএসসিসির তথ্যমতে, ওই বহুতলা বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে।

আর ২০১৭ সালের শুরু থেকেই ওই বাণিজ্যিক ভবনটি চালু করেছে মদিনা গ্রুপ। প্রথমদিকে ওই ভবনে ট্যাক্সের চিঠি পাঠাতে সাহস করেনি ডিএসসিসির কর্মকর্তারা।

২০১৯ সালের শুরুতে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা সাহস করে একটি চিঠি দেন। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া দেয়নি মদিনা গ্রুপ। এরপর কয়েক দফা চিঠি দিলেও কোনো সাড়া দেয়নি।

সরকারি চিঠিকে আমলে না নেয়া এবং রাজস্ব আদায়ে অসহযোগিতা করার অপরাধে আইন অনুযায়ী ডিএসসিসি মামলা করতে পারে। কিন্তু ডিএসসিসির কর্মকর্তারা সে সাহস দেখায়নি। 

তারা আরও জানান, যে কোনো নতুন ভবন বা ফ্ল্যাটের মালিকানা চিহ্নিত করে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। সে কারণে শুরুতেই মদিনা গ্রুপের ওই ভবনের তথ্য-উপাত্ত, জমির মালিকানা সংক্রান্ত দলিলপত্র চাওয়া হয়।

কিন্তু ডিএসসিসির চিঠির কোনো জবাবই দেয়নি তারা। তবে ডিএসসিসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ওই ভবনের আশপাশ পরিদর্শন করে ভবনের আয়তন সম্পর্কে একটি ধারণা পেয়েছে।

সে অনুযায়ী ওই ভবনের প্রতি ফ্লোরের আয়তন হবে অন্তত ১১ হাজার বর্গফুট। এ হিসেবে দুটি বেইজমেন্ট ও ১৬ তলা ভবনের মোট আয়তন ১ লাখ ৯৮ হাজার বর্গফুট।

চকবাজার এলাকার প্রতি বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেসের বার্ষিক ট্যাক্স ১২ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী মদিনা আশিক টাওয়ারের বার্ষিক ট্যাক্স দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

গত ৪ বছরে ট্যাক্স হয়েছে ৯৫ লাখ ৪ হাজার টাকা। মদিনা গ্রুপের পক্ষ থেকে ট্যাক্স পরিশোধ তো দূরের কথা, ডিএসসিসির চিঠিকে পাত্তাই দিচ্ছে না।

এ ভবনটি অনেকগুলো হোল্ডিংয়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। এক অংশের ঠিকানা ২১-৩০ চক সার্কুলার রোড। আরেক অংশের ঠিকানা ১০৩ বীরেন রোড।

ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা জানান, আমরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি মদিনা আশিক টাওয়ারের জমির মালিক ৮-১০ জন। জোরপূর্বক ওই জমিতে মদিনা গ্রুপ ভবন গড়ে তুলেছে।

ওই জায়গার মালিকদের সঙ্গে তাদের মালিকানার সমঝোতা হয়নি। সে কারণে ওই ভবনের মালিকানা নির্ধারণ করে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ট্যাক্স নির্ধারণ করাও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করবে।

আমরা মদিনা গ্রুপের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনোভাবেই সহযোগিতা করছে। বিষয়টি আমরা মেয়র মহোদয়কে জানাব, উনার সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা এলাকার বাসিন্দা সেহজাদ যুগান্তরকে বলেন, মদিনা আশিক টাওয়ার যেখানে হয়েছে সেখানে আমাদের ৬৫০ বর্গফুটের একটি দোকান ছিল।

কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই ওই দোকান ভেঙে আশপাশের আরও জায়গাসহ বহুতলা ভবন বা মদিনা আশিক টাওয়ার গড়ে তুলেছে মদিনা গ্রুপ। মৌখিকভাবে আমাদের দোকান দেয়ার কথা বললেও এখনও দোকান বুঝিয়ে দেয়নি।

মদিনা আশিক টাওয়ারে এমন আরও অনেক লোকের জমি রয়েছে। যারা মদিনা গ্রুপের দখল ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মদিনা গ্রুপের কর্পোরেট অফিস ৬৪/এ সেন্ট্রাল রোড। ওই ভবনের নাম রাখা হয়েছে ‘মদিনা স্কয়ার’। ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের শুরু থেকেই ওই ভবনটি ব্যবহার করছে মদিনা গ্রুপ।

প্রথমদিকে ডিএসসিসি সাহস করে চিঠি না দিলেও চলতি বছরের ২১ মার্চ প্রথম চিঠি দেয় মদিনা স্কয়ার ভবনের কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া মেলেনি। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৮ জুন চিঠি দেয়, এবারও কোনো সাড়া দেয়নি মদিনা গ্রুপ।

তৃতীয় দফায় ২২ আগস্ট চিঠি দিয়েছে ডিএসসিসি। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া দেয়নি তারা। এরপর নতুন করে আর কোনো চিঠিও দেয়নি তারা। ওই ভবনে যেতেও সাহস পাচ্ছেন না ডিএসসিসির রাজস্ব কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিএসসিসির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনির চৌধুরী সড়ক, সেন্ট্রাল রোড, ঢাকা-১২০৫-এ অবস্থিত মদিনা গ্রুপের কর্পোরেট অফিস বা মদিনা স্কয়ার ভবন।

৬৪/এ ওই হোল্ডিংয়ের তথ্য-উপাত্ত চেয়ে তারা আবেদন করলেও মদিনা গ্রুপ কোনো তথ্য দেয়নি। এ কারণে ওই ভবনেরও সঠিক কোনো হিসাব ডিএসসিসির কাছে নেই।

তবে ডিএসসিসির মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব কর্মকর্তারা ওই ভবনের আশপাশের এলাকা ঘুরে জানতে পেরেছেন, ওই ভবনের প্রতি ফ্লোরের আয়তন হবে ন্যূনতম ১০ হাজার বর্গফুট।

নকশা অনুমোদনের হিসাব অনুযায়ী, ওই ভবনের ১ তলা বেইজমেন্টসহ ৯ তলাবিশিষ্ট এ ভবনের পঞ্চম তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক দেখানো হয়েছে। আর ষষ্ঠতলা থেকে ৯ তলা পর্যন্ত আবাসিক দেখানো হয়েছে।

এ হিসাব ধরলে প্রথম পাঁচতলার মোট আয়তন ৫৭ হাজার ৫০০ বর্গফুট। ডিএসসিসির ওই এলাকার বাণিজ্যিক ট্যাক্স ১৫ টাকা ৫০ পয়সা। সে হিসাবে এ অংশের বার্ষিক ট্যাক্স দাঁড়ায় প্রায় ৯ লাখ টাকা।

গত ৩ বছরে ডিএসসিসি পাওনা হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। আর ষষ্ঠতলা থেকে ৯ তলা পর্যন্ত আবাসিক অংশের মোট আয়তন দাঁড়ায় ৪৬ হাজার বর্গফুট।

ডিএসসিসির ওই এলাকার আবাসিকের বর্গফুট প্রতি বার্ষিক ট্যাক্স ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। সে হিসাবে এ অংশের বার্ষিক ট্যাক্স দাঁড়ায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

গত ৩ বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ লাখ টাকা। গত তিন বছরে ডিএসসিসি এ ভবন বাবদ মদিনা গ্রুপের কাছে ট্যাক্স পাওনা হয়েছে মোট ৪৭ লাখ টাকা।